চলারপথে রিপোর্ট :
নবীনগরে লাইফ জ্যাকেট বিহীন স্পীডবোট চালানোসহ অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে নৌ-যান চলাচলের অভিযোগে ৮টি মামলায় ১৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় উপজেলার মধ্যপাড়ায় একটি অবৈধ খনন যন্ত্র জব্দ করা হয়।
২ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও নবীনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা জাহান এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন নবীনগর লঞ্চঘাট থেকে স্পীডবোট ও নৌ-যানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর, নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, বাঞ্ছারামপুর, আশুগঞ্জ, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় যাতায়ত করে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। প্রতিনিয়তই নবীনগর লঞ্চঘাট থেকে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায় চালকেরা। এছাড়া লঞ্চঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে বিভিন্ন ধরণের নৌযান চলাচল করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা জাহান নবীনগর লঞ্চঘাটে অভিযান পরিচালনা করে। এসসয় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে নৌযান চলাচল এবং লাইফ জ্যাকেটবিহীন যাত্রী বহনের দায়ে ৮টি মামলায় আটজনকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই দিন বিকেলে উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকায় অবৈধ খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলনে দায়ে একটি খনন যন্ত্র জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে উপজেলার লঞ্চঘাট থেকে অতিরিক্ত মালামাল ও যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রলার নরসিংদী জেলার মির্জারচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বেলা তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের তিতাস নদের সীতারামপুর এলাকার সেতুর পিলারের সাথে ধাক্কা লেগে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে এক তরুনীসহ দুই যাত্রী মারা যায়।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা জাহান বলেন, অভ্যন্তরীন নৌ চলাচাল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী আটটি মামলায় সাড়ে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই দিন বিকেলে একটি অবৈধ খননযন্ত্র জব্দ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে একটি জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২২ নভেম্বর শনিবার বিকেলে নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে নবীনগরের সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং ‘ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করো’, ‘এম.এ মান্নানকে চাই’-এই শ্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।
নবীনগর পৌর বিএনপির সভাপতি উবায়দুল হক লিটন সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী, সাবেক আহ্বায়ক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি ও নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম.এ মান্নান।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাসার, সহ-সভাপতি এবং নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস. কে. হেলাল, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. আর. মজিব, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম হোসেন টিটু এবং উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক প্রফেসর নাইলা ইসলাম প্রমুখ।
সমাবেশে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম.এ মান্নান বলেন, যদি নির্বাচনে বিজয়ী হই, তাহলে নবীনগরের দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ চক্র এবং বালুমহলের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। নবীনগর–ঢাকা ও নবীনগর–আশুগঞ্জ সড়ক দ্রুত সংস্কার করে জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করা হবে। একই সঙ্গে নবীনগরে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরো বলেন, সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক ও বিরূপ মন্তব্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমি উন্নয়ন, ন্যায়নীতি ও জনস্বার্থের রাজনীতি করতে চাই। তাই নেতিবাচক অপপ্রচারে নয়, জনগণের ভালোবাসা ও বিশ্বাসেই আমি এগিয়ে যেতে চাই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং এই দেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তারেক রহমানের ৩১ দফা কোনো দলীয় প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি জাতীয় রূপকল্প। জনগণ পরিবর্তন চায়, গণতন্ত্র চায়, ন্যায়বিচার চায়। ধানের শীষই সেই প্রত্যাশার প্রতীক।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনে জনগণ ন্যায়ের অধিকার হারিয়েছে। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গুম-খুন এবং দমন-পীড়ন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। জনসমাগমে পুরো মাঠ এবং আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সমাবেশ শেষে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একযোগে শ্লোগান ও মিছিল হয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
বিটঘরে ধর্ষক সন্দেহে আব্দুল খালেক নামে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৪ মার্চ সোমবার সকাল ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিলটি বিটঘর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে বিটঘর বাজার প্রদক্ষিণ করে বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিটঘর গ্রামের মোঃ জসিম, এনামুল ইসলাম, মাসুক মিয়া, ইকবাল হোসেন, মোঃ দুলাল, জেসমিন আক্তার, ইয়াছমিন আক্তার, ফাতেমা বেগম, সাজেদা বেগম, রোজিনা আক্তার ও শেফালি আক্তার। বক্তারা বলেন, আব্দুল খালেক একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আব্দুল খালেককে গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ঢেকে এনে ধর্ষক সন্দেহে স্থানীয় ছাত্র-জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। তারা বলেন, ঐদিন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খালেককে ছাত্র-জনতার গণপিটুনি থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে তুলে দেয়। বর্তমানে সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আব্দুল খালেককে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী জাফর দস্তগীর জানান, ঐদিন ধর্ষণ চেস্টার ঘটনাটি শুনে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই ছাত্র-জনতা খালেককে ধরে এনে গণপিটুনি দেন। বিষয়টি নিয়ে ধোয়াশা আছে। আমি চাই প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ঘটনাটি বেরিয়ে আসুক।
চলারপথে রিপোর্ট :
নবীনগরে মুক্তি প্রাইভেট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: পারভেজ আহমেদকে হাত-পা বেঁধে ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের মালিক মো: হাবিবুর রহমান খন্দকার ও পরিচালক জসিম উদ্দিন সরকারের এর বিরুদ্ধে। ১৩ অক্টোবর রবিবার দুপুরে হাসাপতালের একটি রুম থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নবীনগর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় হাসপাতালের মালিক মো: হাবিবুর রহমান খন্দকার ও পরিচালক জসিম উদ্দিন সরকারসহ আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন চিকিৎসক পারভেজ আহমেদ।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ডাক্তার পারভেজ আহমেদ দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নির্ধারিত ডিউটি শেষ করে তার রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ওই সময় মুক্তি হাসপাতালের মালিক হাবিবুর রহমান খন্দকার ডাক্তার পারভেজ আহমেদকে ডাকাডাকি করলে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন। এসময় বিবাদী জসিম উদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ রুমে জোরপূর্বক ঢুকে ডাক্তার পারভেজ আহমেদকে এলোপাথারি পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে হাত-পা বেধেঁ রাখে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক জসিম উদ্দিন সরকারকে গ্রেফতার করে আজ ১৪ অক্টোবর সোমবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃত জসিম উদ্দিন সরকার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের রফিক উদ্দিন সরকারের ছেলে।
হাসপাতালের ম্যানেজার ঝরনা ঘোষ জানান, একজন রোগী এলে আমি রিসিট কেটে ডাক্তার সাহেবকে গিয়ে বলি, স্যার একজন রোগী এসেছে, তখন ডাক্তার সাহেব উত্তেজিত হয়ে আমাকে জানান, আমার এখন কোন ডিউটি নেই, আমি যেতে পারবো না, তোমার মালিককে জানিয়ে দাও, পরে হাসপাতালের মালিক হাবিব স্যার এসেও ডাক্তার সাহেবকে অনুরোধ করেন রোগী দেখার জন্য। কিন্তু ডাক্তার সাহেব কারও কোন কথাই মানতে নারাজ। এনিয়ে ডাক্তার সাহেব ও হাবিব স্যার তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরে তাদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় হাবিব স্যারও আহত হয়েছেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, আমাকে একজন ফোন করে জানান মুক্তি প্রাইভেট হাসপাতালে মারামারি হয়েছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে হাসপাতালে যায়। হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিচালক জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করলেও হাসপাতালের মালিক হাবিবুর রহমান পালিয়ে যাই। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
নবীনগর উপজেলার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল নদীপথ। তখন তিতাস ও বুড়ি নদী পানিতে ছিলো টইটম্বুর। বর্ষা মৌসুমে দু’কূল উপচে পানি খালবিল, মাঠঘাট, হাওড় বিলে গিয়ে পড়ত। বারো মাসই এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল নৌযান। কিন্তু এখন ভরা বর্ষা মৌসুমেও সেই নদীতে পানি থাকে না বললেই চলে। পলি জমে কোথাও কোথাও ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও আবার ধান চাষ হচ্ছে। হাট-বাজার ও বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে এক সময়ের প্রমত্তা তিতাস ও বুড়ি নদী এখন মরা খাল আর ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। একসময় দিনরাত তিতাস ও বুড়ি নদীতে উত্তাল ঢেউ আর জাহাজের সাইরেন শোনা গেলেও এখন এর অস্তিত্বই হারিয়ে যেতে বসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সহ নবীনগর উপজেলায় উন্নয়নের নামে ফসলি জমি ও খাল-বিল দখল করে সড়ক, স্থাপনা, বসতবাড়ি, হোটেল ও ফল ব্যবসায়ীরা বর্জ্য ফেলার কারনে তিতাস ও বুড়ি নদী এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরী নবীনগর উপজেলায় যোগদান করার পর নবীনগর উপজেলা সহ নবীনগর পৌর প্রশাসকের দ্বায়িত্ব নেয়ার পর তিতাস ও বুড়ি নদী রক্ষায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যোগদানের মাত্র কয়েক মাসেই সামাজিক নানা ইস্যুতে কাজ করছেন তিনি। নবীনগর সদরের তিতাস ও বুড়ি নদীকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে তিনি এলাকার স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে, আবার কখনো একাই তিতাস ও বুড়ি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে যান। নবীনগর সদর বাজারের ঘুরে ঘুরে নদী রক্ষায় জনসচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরন করে বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরছেন জাতীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।
সম্প্রতি ইউএনও রাজীব চৌধুরী কে দেখা যায়, নবীনগর পৌর সভার উদ্যোগে তিতাস ও বুড়ি নদীর পৌর সদরের শহর রক্ষা বাধে ফেলা ময়লা পরিস্কার করছেন। এবং নদীর পাড়ে জনসচেতনতামূলক ব্যনার টানিয়ে পৌর ডাস্টবিনে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছেন।
স্থানীয় সূধি সমাজের নেতৃবৃন্দরা জানান, তিতাস ও বুড়ি নদীর নাব্যতা সংকটে যখন হারিয়ে যেতে বসেছে তখন ইউএনও রাজীব চৌধুরী সদরের শহর রক্ষা বাধের ময়লা আবর্জনা স্তূপ পরিস্কার করে বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন স্থাপন করে সচেতনা মূলক লিফলেট বিতরণ করছেন। তিনি একাই দায়িত্ব নিয়ে নদী রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের উচিত ইউএনও রাজীব চৌধুরীর পাশে দাঁড়ানো।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক রাজীব চৌধুরী বলেন,‘নদী বাঁচলে নবীনগর বাঁচবে’ প্রতিপাদ্যকে উপজীব্য করে নবীনগর পৌরসভার উদ্যোগে তিতাস নদীকে দূষণমুক্ত করতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিতাস পাড়ের ময়লা প্রতিদিন পৌরসভার ডাম্পিং স্পটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নদী পাড়ে সরবরাহ করা হয়েছে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন। সচেতনতামূলক কার্যক্রম হিসেবে ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছি। বিভিন্ন জায়গায় তিতাসকে দূষণমুক্ত রাখতে সচেতনতামূলক ব্যানার টাঙানো হয়েছে। তিতাস ও বুড়ি নদী রক্ষার কার্যক্রমকে টেকসই করতে নদীর পাড়ে স্থাপন করা হচ্ছে ১৬ টি সিসি ক্যামেরা। তিতাস ও বুড়ি নদী রক্ষায় নবীনগর উপজেলা ও পৌরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
নবীনগর উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক, বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান মুকুল দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন। আজ ২৪ অক্টোবর শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর পৌর সদর এলাকার পদ্মপাড়ায় তাঁর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। তাঁকে আহত অবস্থায় নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
জানা যায়, নবীনগর উপজেলার বিটঘর ও শিবপুর ইউনিয়নে দলীয় কর্মসূচি শেষে রাতে নবীনগর সদর পদ্মপাড়ায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। বাড়ির কাছাকাছি আসলে পেছন থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তিনটি গুলি করে পালিয়ে যায়।
হাসপাতাল স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, মফিজুর রহমান মুকুলের শরীরের পেছনে তিনটা গুলি লেগেছে। পিঠের মাঝ বরাবর দুটি গুলি এবং শরীরের নিচের অংশে আরেকটি গুলি লেগেছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর ইসলামকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি।এবং আমাদের ইনভেস্টিগেশন চলছে। অপরাধী যেই হোক আমরা খুঁজে বের করবই।
নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এম এ মান্নান এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের দলের মাঝে রাজনৈতিক কোন দ্বন্দ্ব নেই,মুকুল অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র ছেলে,কারোর সাথে কোনদিন তার কোন দ্বন্দ্ব ছিল বলে শুনিনি।নবীনগর আমরা সকল দল রাজনৈতিক দল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রাজনীতি করে আসছি।
এ ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করেন। দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।