দীর্ঘ ৮ বছর পর আখাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অংগ্যজাই মারমা। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ মে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।
এ নির্বাচনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪ ঘটিকা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে বিরতিহীনভাবে। উপজেলা কমান্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ২৩০ জন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কমান্ডের নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অংগ্যজাই মারমা গত ২৮ মার্চ মঙ্গলবার গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তফসিল ঘোষণা করেন। তথ্য অনুযায়ী আগামী ৫ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল বিকাল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল ১০ এপ্রিল বুধবার, মনোনায়নপত্র বাচাই ১১ এপ্রিল। প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ এপ্রিল। চুড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ হবে ১৮ এপ্রিল। প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২৭ ১৮ এপ্রিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিসে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার সৈয়দ জামসেদ শাহ বলেন, সবাই চায় একটা নির্বাচিত কমিটি হউক। কমিটি হলে ভালো হয়। দীর্ঘ দিন পর নির্বাচন হওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা খুশি। গত নির্বাচনে ১১টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
চলারপথে রিপোর্ট :
টিউবওয়েলের মাথা (মাটির উপরের অংশ) নেই ৬/৭ মাস ধরে। কে বা কারা খুলে নিয়ে। এরপর আরলাগানো হয়নি। টিউবওয়েল না থাকায় পানি পানে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের দুতলায় পানির ব্যবস্থা রাখা হলেও অনেকটা হেঁটে সিঁড়ি ভেঙ্গে দুতলায় গিয়ে পানি পান করা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর। আবার অনেক সময় জগে পানিও থাকে না। ফলে তৃষ্ণা পেলে বিদ্যালয় গেইটের বাইরে চা-দোকানে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। তবে ছাত্ররা বাইরে যেতে পারলেও ছাত্রীরা পারে না। ফলে তৃষ্ণা চেপেই ক্লাশে বসে থাকতে হয়। পানির অভাবে বিড়ম্বনায় পড়েন বিদ্যালয়ে অপেক্ষমান অভিভাবকরা। এমন চিত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের। দ্রুত টিউবওয়েল স্থাপনের দাবী ছাত্রছাত্রীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীণ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির বয়স শত বছরেরও বেশি। আখাউড়া রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানের পাশাপাশি স্থানীয় ছেলে-মেয়েরাও এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। উপজেলার একমাত্র সরকারি স্কুল এবং ফলাফল ভালো হওয়ায় এ স্কুলে পড়ার জন্য ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের আগ্রহ বেশি। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে এক হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এত বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী পানির পানের জন্য একটি টিউবওয়েল নেই। বিগত ৬/৭ মাস আগে টিউবওয়েলের উপরের অংশটি কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। এর পর আর মাথা লাগানো হয়নি। এজন্য পানি পান সহ অন্যান্য প্রয়োজনে পানি ব্যবহার করতে পারছে না ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা। পানি পানের জন্য বিদ্যালয়ের বাইরে চা-স্টল এবং মসজিদের টিউবওয়েল ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু মেয়েরা বাইরে যেতে না পারায় পানির জন্য বেশি কষ্ট করছে। তবে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুতলায় জগে পানি রাখা হয়। ছাত্রছাত্রীরা প্রয়োজনে দুতলায় গিয়ে পানি খেয়ে আসতে পারে। তবে ছাত্রছাত্রীর তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। অনেক সময় জগের পানি শেষ হয়ে গেলে পানির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আবার অনেক সময় পানি না পেয়ে ফিরে আসতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। এদিকে, তীব্র গরমে হঠাৎ একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে গেলে দ্রুত পানি দেওয়ার মত কোন ব্যবস্থা নাই।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টিউবওয়েলের উপরের অংশটি নাই। জানতে চাইলে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী বলে, ৬/৭ মাস ধরে টিউবওয়েল নষ্ট। পানি খেতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। খেলাধুলা করার পরে হাত-পা ধুতে পারি না। দুতলায় গিয়ে অনেক সময় পানি পাই না। এসময় এক নারী অভিভাবক বলেন, গরমের মধ্যে খুব পানি তৃষ্ণা পায়। কিন্তু স্কুলের টিউবওয়েল না থাকায় পানি খেতে পারি না। হঠাৎ একটা ছেলে মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যে পানি দেওয়া তবে সে রকম ব্যবস্থাও নাই। একটা সরকারি স্কুলে এতদিন যাবত টিউবওয়েল নষ্ট। এটা কি শিক্ষকদের নজরে পরে না। তিনি দ্রুত টিউবওয়েল মেরামতের জন্য দাবী জানা।
এদিকে পানির পানের গুরুত্ব বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হিমেল খান বলেন, পানির অপর নাম জীবন। পানির অভাবে শরীরে পানি শূণ্যতা দেখা দিতে পারে। হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। প্রস্রাব জ্বালাপোড়া ইনফেকশন হতে পারে। কিডনি ফেইলিউরও হতে পারে। তাছাড়া এখন তীব্র গরমে প্রচুর ঘাম বের হচ্ছে। তাই এসময় প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। এ ব্যাপারে রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমরা ছেলেমেয়েদেরকে বলেছি বাড়ি থেকে বোতলে করে পানি নিয়ে আসার জন্য। তাছাড়া দুতলায় জগে পানি রাখা থাকে। ছাত্রছাত্রীরা এসে পানি পান করে। টিউবওয়েলটি কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। আবারও করব।
চলারপথে রিপোর্ট :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৫ দিন ব্যাপী সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা আগামী ২০ অক্টোবর শুরু হবে। পুজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপন উপলক্ষে আজ ২ অক্টোবর সোমবার দুপুরে আখাউড়া থানা পুলিশের আয়োজনে মত বিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কসবা-আখাউড়া) সার্কেল মোঃ দেলোয়ার হোসেন। থানার হল রুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জনপ্রতিনিধি, পুজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ ২৩টি পুজা মন্দিরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ বছর আখাউড়ায় ২৩টি মন্ডপে দূর্গাপুজা উদযাপিত হবে।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আখাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ শফিকুল ইসলাম, উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান, মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ. মতিন, মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী দীপক, রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরের নির্বাহী সভাপতি চন্দন কুমার ঘোষ, উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির আহবায়ক দীপক কুমার ঘোষ প্রমুখ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিদু ভুষন বর্মন, সুভাষ দাস, ভজন দেব।
হিন্দু নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে পুজা মন্দিরে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দূর্গাপুজায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। নির্বিঘ্নে সুন্দর ভাবে পুজা উদযাপন করার আহবান জানানো হয়। প্রতিটি পুজা মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়ায় থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ বাবা-মেয়েকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের চরনারায়নপুর পাকা ব্রীজের উপর হতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম (৬০) ও তার মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার (৩০)।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় নিয়মিত মাদক মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়ায় ট্রাক্টর উল্টে সড়কের নিচে খাদে পড়ে চালক শেখ পারভেজ (২২) নিহত হয়েছেন।
১ মার্চ বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আখাউড়া-কসবা সড়কের মনিয়ন্দ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রাক্টরচালক শেখ পারভেজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মধ্যপাড়ার শেখ শাহ আলমের ছেলে।
নিহতের ছোট ভাই শেখ সবুজ জানান, ট্রাক্টরচালক শেখ পারভেজ মাটি সরবরাহের কাজ করতেন। মনিয়ন্দ এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি মাটি নিয়ে এক কৃষকের বাড়িতে ফেলছিলেন। মাটি নিয়ে দ্রুতগতিতে বাঁক ঘুরতে গিয়ে ট্রাক্টর উল্টে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। তবে এ সময় তার সঙ্গে কোনো হেলপার ছিল না।
আখাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়ায় মাদকসহ চারজন গ্রেফতার হয়েছে। আজ ১১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গণমাধ্যমকে দেয়া পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আখাউড়া পৌরসভার রাধানগর দাসপাড়া সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ৭০ বোতল ফেন্সিডিল জাতীয় স্কফ সিরাপসহ মো: আবু তাহের (২১), মো: ওসমান মিয়া (২৮) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি উপজেলার রামধননগর গ্রামে। এদিকে উপজেলার ধরখার সিএনজি স্ট্যান্ডে অপর একটি অভিযানে পুলিশ ৪০ লিটার দেশীয় মদসহ তনিল সাইদ শ্রাবন (২৪) ও মো: আমির হোসেন (৪০) কে গ্রেফতার করে পুলিশ।গ্রেফতারকৃতরা কসবা উপজেলার কুটি এলাকার বাসিন্দা।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। গ্রেফতারকৃতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।