চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো: ইমরানুল হক ভূইয়ার সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আইন শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা ডাঃ রাফিউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ ফজলে ইয়াজ আল হোসাইন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুবিনা আক্তার, থানার অফিসার্স ইনর্চাজ (ওসি) মো: সোহাগ রানা, অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জামিল ফোরকান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: ইকবাল মিয়া, জেলা পরিষদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া হাকিম রাজা, গুনিয়াউক ইউপি চেয়ারম্যান মো: জিতু মিয়া, সদর ইউপি চেয়ারম্যান পুতুল রানী দাস, ফান্দাউক ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান ফারুক, কুন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দিন ভূইয়া, ধরমন্ডল ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, চাপরতলা ইউপি চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা কার্ত্তিক চন্দ্র দাস, প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি আদেশ চন্দ্র দেব, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আকতার হোসেন ভূইয়াসহ আইনশৃংখলা কমিটির সসদ্যগণ বক্তব্য রাখেন।
সভায় বক্তারা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি মাদক-জুয়া, চুরি-ডাকাতি বন্ধসহ আইনশৃংখলা বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
আগামী ৮ মে অনুষ্ঠিতব্য নাসিরনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার রায়। তিনি দোয়াত-কলম প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
আজ ৩ মে শুক্রবার দুপুরে উপজেলা সদরে তার বাসায় (প্রদীপ কুমার রায়) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তিনি অসুস্থ। তিনি নির্বাচন করবেন না এবং নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। তিনি বলেন আমার শারিরীক অসুস্থতার কারণে উন্নত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। সে জন্য ভোটারদের কাছে বিনীতভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন ডাক্তারসহ পরিবার ও এলাকাবাসীর পরামর্শক্রমে আমি চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। তবে আমি আমার আদর্শিক রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবো না। আপনারা আমার ডাকে সাড়া দিয়ে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন তা এ জীবনে ভুলবার নয়। আমার জন্য দোয়া করবেন দ্রæত চিকিৎসা নিয়ে আপনার কাছে সুস্থ হয়ে ফিরতে পারি। আমার সকল ভোটার ও স্বজনদের কাছ থেকে দোয়া চেয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিদায় নিচ্ছি।
উল্লেখ্য তিনি দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে প্রচারণার শুরু থেকে মাইকিং, পোস্টারিং, গণসংযোগ ও বিভিন্ন উঠান বৈঠক করছিলেন।
গত ২৭ এপ্রিল শনিবার বিকালে উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের বড়ইউড়ি গ্রামে উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেয়ার সময় বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হলে প্রথমে তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৫ দিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার নিজ এলাকায় আসেন এবং নিজের অসুস্থতা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য এলাকাবাসীসহ পারিবারিক সিদ্ধান্তে নিবার্চন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা আজ দুপুরে সাংবাদিকদের জানান তিনি। তবে তিনি কোন প্রার্থীকে সমর্থন দেননি।
নাসিরনগরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রদীপ কুমার রায়।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে ৫ শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ৭দিন কারাভোগের পর জামিনে এসেও পুলিশ আতঙ্কে ভুগছে ভুক্তভোগী শিশু সাকিবুল। সে সদর ইউনিয়নের টেকানগর গ্রামের উসমান মিয়ার ছেলে। শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভয়ে সাকিবুলের সহপাঠী এবং অন্য শিশুরাও এখন স্কুলে যেতে চাচ্ছে না। ঘটনাটি নাসিরনগর উপজেলা সদরের টেকানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
গত ৪ জুলাই নাসিরনগর থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগী এক শিশুর পিতা মো. জালাল উদ্দিনকে বাদী করে নাসিরনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে নাসিরনগর থানা পুলিশ। যদিও বাদীর দাবি পুলিশ তাকে থানায় ডেকে এনে মামলার বাদী হতে বলেছে।
এবিষয়ে মামলার বাদী মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “আমাকে থানায় ডেকে এনে বলছে তুমি মামলার বাদী হইবা। পরে আমারে বসাইয়া রাইখা মামলা লেইখা এরা আমার সই নিছে। আমার মেয়ে ছোট, নদীতে দল বেধে খেলাধুলা করে, গোছল করে। সময়ে কাপড় পড়ে আবার সময়ে কাপড় ছাড়াই গোছল করে।”
ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থী সাকিবুল মিয়া জানান, “আমি সকাল সাতটার সময় সহপাঠীর সাথে প্রাইভেট পড়তে নাসিরনগর যাই। সকালের প্রাইভেট শেষে স্কুলে যাই দশটার সময়। তখন আমাদের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা শেষে বিকাল চারটার দিকে অন্য আরেকটা প্রাইভেটে যাই। সেখান থেকে আমার বাবা আমাকে থানায় নিয়ে আসে। আমি কিছুই জানিনা অথচ থানায় নেওয়ার পর পুলিশ আমাকে জেলে দিয়ে দিল।”
সাকিব আরো বলে, “আমি অসুস্থ্য, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। জেলে থাকতে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে। নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। আমার গ্রামের স্কুলের ম্যাডামরা আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এখন আর স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে না। পুলিশ দেখলে ভয় লাগে আবার যদি ধরে নিয়ে যায়।”
মামলার স্বাক্ষী ও টেকানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রওশন আরা বলেন, ঘটনার দিন ছিল বন্ধের পর স্কুল খোলার প্রথম দিন। সকাল ৯টার সময় স্কুলে ঢুকে ৫জন মেয়ে বাচ্চাকে শ্রেণিকক্ষের ভিতরে দেখতে পায় আমার সহকারি শিক্ষক সালমা আক্তার। এদের কয়েকজনের পড়নে পোশাক ছিল না। কিন্তু কোনো ছেলেকে আমরা আশেপাশে দেখিনি।
তিনি আরো জানান, সাকিব আমার সাবেক ছাত্র। সে অনেক ভালো ছেলে। মামলার আরেক স্বাক্ষী সালমা আক্তার জানান, আমিই প্রথম বাচ্চাগুলোকে দেখতে পেয়ে ম্যাডামকে জানাই। আমরা সাকিব তো দুরের কথা, কোনো ছেলেকেই দেখি নাই।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে ৩ জুলাই সকাল সাড়ে আটটার সময় জাম্বুরার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের স্কুলে নিয়ে যায় সাকিব। অথচ প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি সেদিন প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে ৪৫ মিনিটের দূরত্বে সকাল সাতটার সময় সহপাঠীর সাথে সাকিব নাসিরনগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
এবিষয়ে নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. রওশন সিদ্দিক জানান, সাকিব আমার ছাত্র। গত ৩ জুলাই সকাল আটটায় আমার কাছে গণিত প্রাইভেট পড়তে আসে সাকিব। তার বাড়ি থেকে আমার এখানে আসতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে।
টেকানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মা ফাহিমা বেগম বলেন, আমার ছেলে স্কুলে যেতে চাচ্ছে না, বলে স্কুলে গেলে যদি পুলিশে ধরে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পাঁচ শিশুর একজনের মা বলেন, “ঘটনার দিন আমি দেখেছি আমাদের পাঁচজন বাচ্চা কাপড় ছাড়া নদীতে নেমে গোছল করতেছে। কতক্ষণ পরে দেখছি স্কুলের সিঁড়ি দিয়া উপড়ে গেছে। আমি আমার বাচ্চারে ডাক দিছি নিচে নামার জন্য।”
তিনি আরো বলেন, “আমার মেয়ের বয়স পাঁচ বছর। সে এখনও বিছিনায় প্রস্রাব করে, কাপড় ছাড়া নদীতে গোছল করে। ওসমানের পোলারে আমরা চিনি, হে ইতা করার পোলা না, বয়সও হয়নাই।”
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাকিবকে আটক করা হয়েছিল। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশ আতঙ্কের বিষয়টি সত্য নয়।
জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন জানান, “এরকম হওয়ার কথা না, আমার নজরে এসেছে এখন আমি দেখব।”
চলারপথে রিপোর্ট :
নাসিরনগরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের অপরাধে দুই ব্যক্তিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মোনাব্বর হোসেন উপজেলার কুন্ডা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার জিম্মায় দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মোনাব্বর হোসেন বলেন, উপজেলার কুন্ডা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে ভূ-গর্ভস্থ বালি/ মাটি উত্তোলনের দায়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই ব্যক্তিকে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ১৫(১) ধারায় প্রতিজনকে ৫ লাখ টাকা করে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি বলেন ইতি পূর্বেও নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষী ব্যক্তিদের অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মুরাদ মৃধা, নাসিরনগর :
নাসিরনগরে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালিত হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, “তরুণদের দেশ গড়ার অঙ্গীকার জনসেবা স্থানীয় সরকার,” এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এক বর্ণাঢ্য রেলি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ হল রুমে নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন নাছরীন সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহাবুব উল আলম, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাসুদ রাণা, গোকর্ণ ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহীন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান পুতুল রাণী দাস, প্রেসক্লাব সভাপতি আছমত আলী, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক সবুজ, সদর ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শাখায়াত হোসেন, বিশ্বজিৎ দাস, গুনিয়াউক ইউপি হিসাব সহকারী মোঃ নোমান মিয়া প্রমুখ।
চলারপথে রিপোর্ট :
নাসিরনগরে উপজেলা বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। বিএনপির একাংশ উপজেলা কেন্দ্রীয় অফিস দখল করে মহড়া দিচ্ছে।
আজ ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটার দিকে নাসিরনগর কলেজমোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে গুরুতর আহত অবস্থায় নাসির উদ্দিন ও রায়হানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির কমিটিকে কেন্দ্র করে সৈয়দ একরামুজ্জামান সুখন ও মামুনের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়। কমিটি গঠনের পর গত ২৬ এপ্রিল খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সৈয়দ একরামুজ্জামান সুখন দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে নাসিরনগরে আসেন। তার আগমন উপলক্ষে মামুনের পক্ষের লোকজন একরামকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ওই দিনই বিকেলে দলীয় অফিস দখল করে মহড়া চালায়। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে মহড়া। পরের দিন দুপুরে একরামুজ্জামান সদর ইউনিয়নের দাতমন্ডল গ্রামের একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়।
আহতরা হলেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন, সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো রায়হান, সদর ইউনিয়ন যুবদল সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ইসমাইল, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জামাল মিয়া ও উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব মো. সাদেক।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান মামুন বলেন, নাসিরনগর বিএনপিতে আমার কোনো গ্রুপ নেই। বরং কিছু পোষা লোকের সঙ্গে দলীয় কর্মকাণ্ড করছেন একরামুজ্জামান সাহেব। এসবের বিরোধীতা করছে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তিনি ঢাকায় বসে কমিটি করে রাজনীতি করতে চায়। মূলত কমিটি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ থাকতে পারে।
আহত ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান দাবি করে বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে একরামুজ্জামান সুখন ভাইকে প্রতিহত করতে চেয়েছে বিএনপির কিছু বিপদগামী কর্মী। আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান বলেন, উপজেলা বিএনপির কোনো নেতাকর্মী আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করেনি। আমাদের বিএনপির মধ্যে কোনো ফাটল নেই। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসিরের সঙ্গে ছাত্রদলের পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।