চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়ায় আনুমানিক ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও ইমিটেশন সামগ্রী উদ্ধার করেছে বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) সদস্যরা।
গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জেলার আখাউড়া উপজেলার ছয়ঘরিয়া নামক এলাকা থেকে এসব পন্য উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ৫৭ পিস, মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে ৯৭২ পিস, বিভিন্ন প্রকার ইমিটেশন গহনা নেকলেস- ৭৩ পিস, চুড়ি -১১৩ পিস, টিকলী-৫৫ পিস, আংটি-১১ পিস ও দুল ৮৬ পিস।
বৃহস্পতিবার রাতে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এ.এম জাবের বিন জব্বার, পিএসসি,এসি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ধারকৃত ভারতীয় পণ্যের আনুমানিক মূল্য সাতষট্টি লাখ বাহাত্তর হাজার টাকা। বিজিবির টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা অবৈধ চোরাচালানী মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়।
চলারপথে রিপোর্ট :
টিউবওয়েলের মাথা (মাটির উপরের অংশ) নেই ৬/৭ মাস ধরে। কে বা কারা খুলে নিয়ে। এরপর আরলাগানো হয়নি। টিউবওয়েল না থাকায় পানি পানে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের দুতলায় পানির ব্যবস্থা রাখা হলেও অনেকটা হেঁটে সিঁড়ি ভেঙ্গে দুতলায় গিয়ে পানি পান করা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর। আবার অনেক সময় জগে পানিও থাকে না। ফলে তৃষ্ণা পেলে বিদ্যালয় গেইটের বাইরে চা-দোকানে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। তবে ছাত্ররা বাইরে যেতে পারলেও ছাত্রীরা পারে না। ফলে তৃষ্ণা চেপেই ক্লাশে বসে থাকতে হয়। পানির অভাবে বিড়ম্বনায় পড়েন বিদ্যালয়ে অপেক্ষমান অভিভাবকরা। এমন চিত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের। দ্রুত টিউবওয়েল স্থাপনের দাবী ছাত্রছাত্রীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীণ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির বয়স শত বছরেরও বেশি। আখাউড়া রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানের পাশাপাশি স্থানীয় ছেলে-মেয়েরাও এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। উপজেলার একমাত্র সরকারি স্কুল এবং ফলাফল ভালো হওয়ায় এ স্কুলে পড়ার জন্য ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের আগ্রহ বেশি। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে এক হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এত বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী পানির পানের জন্য একটি টিউবওয়েল নেই। বিগত ৬/৭ মাস আগে টিউবওয়েলের উপরের অংশটি কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। এর পর আর মাথা লাগানো হয়নি। এজন্য পানি পান সহ অন্যান্য প্রয়োজনে পানি ব্যবহার করতে পারছে না ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা। পানি পানের জন্য বিদ্যালয়ের বাইরে চা-স্টল এবং মসজিদের টিউবওয়েল ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু মেয়েরা বাইরে যেতে না পারায় পানির জন্য বেশি কষ্ট করছে। তবে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুতলায় জগে পানি রাখা হয়। ছাত্রছাত্রীরা প্রয়োজনে দুতলায় গিয়ে পানি খেয়ে আসতে পারে। তবে ছাত্রছাত্রীর তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। অনেক সময় জগের পানি শেষ হয়ে গেলে পানির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আবার অনেক সময় পানি না পেয়ে ফিরে আসতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। এদিকে, তীব্র গরমে হঠাৎ একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে গেলে দ্রুত পানি দেওয়ার মত কোন ব্যবস্থা নাই।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টিউবওয়েলের উপরের অংশটি নাই। জানতে চাইলে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী বলে, ৬/৭ মাস ধরে টিউবওয়েল নষ্ট। পানি খেতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। খেলাধুলা করার পরে হাত-পা ধুতে পারি না। দুতলায় গিয়ে অনেক সময় পানি পাই না। এসময় এক নারী অভিভাবক বলেন, গরমের মধ্যে খুব পানি তৃষ্ণা পায়। কিন্তু স্কুলের টিউবওয়েল না থাকায় পানি খেতে পারি না। হঠাৎ একটা ছেলে মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যে পানি দেওয়া তবে সে রকম ব্যবস্থাও নাই। একটা সরকারি স্কুলে এতদিন যাবত টিউবওয়েল নষ্ট। এটা কি শিক্ষকদের নজরে পরে না। তিনি দ্রুত টিউবওয়েল মেরামতের জন্য দাবী জানা।
এদিকে পানির পানের গুরুত্ব বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হিমেল খান বলেন, পানির অপর নাম জীবন। পানির অভাবে শরীরে পানি শূণ্যতা দেখা দিতে পারে। হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। প্রস্রাব জ্বালাপোড়া ইনফেকশন হতে পারে। কিডনি ফেইলিউরও হতে পারে। তাছাড়া এখন তীব্র গরমে প্রচুর ঘাম বের হচ্ছে। তাই এসময় প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। এ ব্যাপারে রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমরা ছেলেমেয়েদেরকে বলেছি বাড়ি থেকে বোতলে করে পানি নিয়ে আসার জন্য। তাছাড়া দুতলায় জগে পানি রাখা থাকে। ছাত্রছাত্রীরা এসে পানি পান করে। টিউবওয়েলটি কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। আবারও করব।
চলারপথে রিপোর্ট :
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ডাকাতের গুলিতে মো. সোহাগ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় ১ এপ্রিল শনিবার রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহাগ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার ৬ নং নাটেশ্বর ইউনিয়নের নজরপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম ট্যান ডলার বাড়ির মো. কোবাদ মিয়ার ছেলে। সোহাগের মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
ছয় ভাই-বোনের মধ্যে ছোট ছেলেকে হারিয়ে সবাই পাগল প্রায়। কোনোভাবে সোহাগের এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের লোকজন। মৃত্যুর খবরে সোহাগের স্ত্রী এক বাচ্চা নিয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় প্রবাসীরা জানান, রাত আটটার দিকে জোহানেসবার্গে সোহাগের কনফেকশনারী দোকানে ডাকাত দল অতর্কিত গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। বর্তমানে সোহাগের মরদেহটি আফ্রিকার হিলব্র ক্লিনিকে রাখা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক :
ভারতে বিতর্কিত মুসলিম ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন মুসলিমরা। শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের উদ্যোগে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হায়দরাবাদে এই বিক্ষোভ করেন তারা।
এছাড়া সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) দলের প্রধান এবং হায়দরাবাদের প্রভাবশালী রাজনীতিক আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, এই আইনটি বাতিল করতেই হবে, কারণ এটি সংবিধানের চেতনার বিরুদ্ধে।
আজ ২০ এপ্রিল রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সাম্প্রতিক ওয়াকফ আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে ভারতের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড দক্ষিণ ভারতের হায়দরাবাদ শহরে এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করে। শনিবার হাজার হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। ইতোমধ্যে ডজনখানেক পিটিশনও সুপ্রিম কোর্টে দাখিল হয়েছে নতুন আইনের বিরুদ্ধে।
ভারতীয় সংসদ সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে “ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে ঐক্যের প্রতীক” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি বলেন, “এই আইন ভারতের সংবিধানের মূল চেতনার বিরুদ্ধে, এটি বাতিল করতেই হবে। বহু সংগঠনের নেতৃত্ব এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।”
ওয়াইসি তার বক্তব্যে জানান, যতদিন না এই আইন প্রত্যাহার করা হয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া ওয়াকফ আইনের সংশোধনী নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে অ-মুসলিমদের ওয়াকফ বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গে হিংসাত্মক সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সরকার সুপ্রিম কোর্টকে আশ্বাস দিয়েছে, আগামী মে মাসে মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াকফ বোর্ডে অ-মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। তবে মুসলিম সম্প্রদায় ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই আইন সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থি।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ওয়াকফ সংশোধনী বিলটি ভারতীয় পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই বিরোধীদের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও পাস হয়ে যায়, যার ফলে হায়দরাবাদ ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের আহ্বানে এবং ওয়াইসির নেতৃত্বে এই আন্দোলন এখন সারা ভারতব্যাপী শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের রূপ নিচ্ছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায় নিজ হাতে গড়া স্কুল মাঠে শেষ বিদায়ের জানাজা হলো শিক্ষা অনুরাগী আবুল বাশার মোবারকের (৭০)। তিনি উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ছয়গড়িয়া শাহআলম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূমি দাতা ও সাবেক সভাপতি ছিলেন।
আজ ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল মাঠে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। মোবারক হোসেনের জানাযায় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।
অশ্রুসজল নয়নে বিদায় জানায় শিক্ষা অনুরাগী সমাজ সেবক মোবারক হোসেনকে। এর আগে বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানাযার পূর্বে মোবারকের হোসেনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ. মতিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মনির হোসেন বাবুল, যুবলীগ নেতা আব্দুল মমিন বাবুল, বাজার পরিচালনা কমিটির আহবায়ক বাবুল পারভেজ, শিক্ষক নেতা কাজী মোঃ ইকবাল, স্কুল কমিটির সাবেক সদস্য মোঃ সহিদ মিয়া প্রমুখ।
এসময় বক্তারা স্কুল প্রতিষ্ঠায় মোবারক হোসেনের অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি মূল্যবান সম্পদ (ভূমি) দিয়েছেন। তিন বার বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সীমান্ত এলাকায় শিক্ষা প্রসারে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এসময় বক্তারা আরো বলেন, মোবারক হোসেনের মৃত্যুটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। বিদ্যালয়ের সদ্য বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাঃ সেলিনা বেগম তার বিরুদ্ধে কমিটির অনুমোদন ছাড়া আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। মামলার কারণে তিনি মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। বক্তারা মোবারক হোসেনের মৃত্যুর জন্য ওই শিক্ষিকাকে দায়ী করে বিচার দাবী করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি অনিয়মের অভিযোগে মোছাঃ সেলিনা বেগমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। বুধবার সকালে ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি জানার জন্য মোবারক হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য বিদ্যালয়ে যায়। হঠাৎ তিনি অসুস্থবোধ করলে বাড়িতে চলে আসেন। পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদও হাসপাতালে নিয়ে যায। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতু ঘোষণা করেন।
নিহত মোবারক হোসেনের মেয়ে রেখা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক সেলিনা বেগমের মামলার কারণে আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। আমি আমার বাবার মৃত্যুর বিচার চাই। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মোছাঃ সেলিনা বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অনলাইন ডেস্ক :
যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিককে দেশটির নগরমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টানা চতুর্থবারের মতো লেবার দলীয় এমপি হিসেবে নির্বাচিত টিউলিপকে ৯ জুলাই মঙ্গলবার মন্ত্রী নিয়োগের তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নগরমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটেনের আর্থিক পরিষেবা খাত তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করবেন। গত ৪ জুলাই ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে লেবার পার্টি। দেশটির ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে বামপন্থি লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন।
দেশটির রাজধানী লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড-কিলবার্ন আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন টিউলিপ। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ডন উইলিয়ামসের চেয়ে ৮ হাজার ৪৬২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।
২০১৫ সালে প্রথম হ্যাম্পস্টেড-কিলবার্ন আসনের প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন টিউলিপ। সেবারই প্রথম হাউস অব কমন্সে তার প্রবেশ ঘটে। তারপর ২০১৭ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনেও এই আসন থেকে জয় পান তিনি। ওই বছর যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১ হাজার রাজনীতিবিদের তালিকায় তার নামও উঠেছিল।
২০২১ সাল থেকে লন্ডনের সিটি অব ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টের ‘দ্য সিটি’ নামে পরিচিত আর্থিক পরিষেবা শিল্পের নীতি তৈরিতে লেবার পার্টির নেওয়া পদক্ষেপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ৪১ বছর বয়সী সিদ্দিক। তবে তাকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় ব্রিটেনের লেবার দলীয় সরকার।
এর আগে, লন্ডনের ফাইন্যান্সিয়াল সিটির ছায়া মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। ২০১৬ সালে লেবার পার্টির শ্যাডো মিনিস্টার ফর আর্লি ইয়ার্স এডুকেশন নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় শিশু কল্যাণ ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করেন টিউলিপ।
এছাড়াও লেবার পার্টির সাবেক প্রধান জেরেমি করবিন নেতত্বাধীন প্রথম ছায়া মন্ত্রিসভার সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়াবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল ডাগারের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। রিজেন্ট পার্কের কাউন্সিলর এবং ক্যামডেন কাউন্সিলের কালচার অ্যান্ড কমিউনিটির সদস্যও ছিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপের শৈশব কেটেছে বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরে। ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি লন্ডনের হ্যামস্টেড ও কিলবার্নে বসবাস করছেন তিনি। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে তিনি পলিটিকস, পলিসি ও গভর্নমেন্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টির সদস্য হওয়া টিউলিপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গ্রেটার লন্ডন অথরিটি ও সেভ দ্য চিলড্রেনের সঙ্গেও কাজ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী ক্রিস পার্সির সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনে বসবাস করেন। তাদের সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। টিউলিপ সিদ্দিকের মেয়ে আজালিয়া জয় পার্সি ও ছেলে রাফায়েল মুজিব সেন্ট জন পার্সি।
উল্লেখ্য, ব্রিটেনের এবারের নির্বাচনে লেবার পার্টির অপর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী রুপা হকও ইলিং সেন্ট্রাল-অ্যাকটন আসনে টানা তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেমস উইন্ডসরকে ৮ হাজার ৩৪৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি। তার মোট ভোটের সংখ্যা ২২ হাজার ৩৪০ বা শতকরা হিসেবে ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
রুপা হক ইলিং সেন্ট্রাল-অ্যাকটন আসনে প্রথম জয় পেয়েছিলেন ২০১৫ সালে। তারপর ২০১৯ সালেও বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি।