আখাউড়ায় দুই আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

আখাউড়া, 14 November 2024,

চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়ায় পৃথক স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ২ আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌর শহরের ১নং দুর্গাপুর এলাকার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মৃত আহাম্মদ আলীর ছেলে মো. মোসলেম মিয়া ও উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃত ফায়েজ মিয়ার ছেলে আলফাজ মিয়া।

গ্রেফতারকৃতদের আজ ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়। পুলিশ জানায়, পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আখাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতাকৃতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Leave a Reply

কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌথবাহিনীর সমন্বিত মহড়া

দুলাল মিয়া : সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় Read more

ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের পক্ষে…

দুলাল মিয়া : ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের পক্ষে লিফলেট Read more

আখাউড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি এয়ারগান উদ্ধার

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের নোনাসার Read more

নির্বাচনি জ্বরে কাঁপছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, আলোচনায় খেজুর…

দুলাল মিয়া : মাঝখানে আর মাত্র ৩দিন বাকি। নির্বাচনি জ্বরে Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে কোরআন শরিফ বিতরণ

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর এবং কুমিল্লার Read more

বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল ঐতিহাসিক…

অনলাইন ডেস্ক : সামাজিক বৈষম্য দূর করে ‘ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার Read more

ক্ষমতায় এলে সবার আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা…

অনলাইন ডেস্ক : ক্ষমতায় এলে সর্বপ্রথম তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব Read more

বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি…

দুলাল মিয়া : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিনে পৌঁছেছে ৯ হাজারের…

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পোস্টাল ভোট সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক Read more

যে দেশকে বিশ্বাস করে না, সে…

অনলাইন ডেস্ক : স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করা সম্ভব Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের প্রধান গ্রেফতার

দুলাল মিয়া : আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দারকে গ্রেফতার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া Read more

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

চলারপথে রিপোর্ট : ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি Read more

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা যাবে ভুটানে উৎপাদিত সকল পণ্য

আখাউড়া, আন্তর্জাতিক, 4 January 2023, 3188 Views,
স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানে উৎপাদিত সকল পণ্য (আলু ও সুতা ব্যতিত) আমদানির অনুমতি দিয়ে আমদানিযোগ্য পণ্যের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বুধবার (০৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত তালিকায় নতুন আরও কিছু পণ্য যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্য মার্বেল চিপস, তিল ও ফ্লাই অ্যাশসহ আরও কয়েকটি পণ্য রয়েছে। এর ফলে আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি বাণিজ্য চাঙা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই চাহিদা সম্পন্ন আরও কিছু পণ্য আমদানির অনুমতি চেয়ে আসছিলেন। তবে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ স্থলবন্দরটি দিয়ে আগের মতোই সব ধরনের পণ্য রপ্তানি করা যাবে। আখাউড়া স্থলবন্দরটিকে মূলত রপ্তানিমুখী বন্দর ধরা হয়। প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে বরফায়িত মাছ, রড, সিমেন্ট ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয় উত্তর-পূর্ব ভারতে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এনবিআরের নতুন তালিকা আমরা পেয়েছি। ভুটানে উৎপাদিত পণ্য আমদানির অনুমতি পেয়ে আমরা আনন্দিত। নতুন আরও কিছু পণ্য আমদানির অনুমতি দিয়েছে এনবিআর। ভারতের আসাম দিয়ে ভুটান থেকে পণ্য আমদানি করা যাবে’।
‘তবে দেশে ভুটানের কোন পণ্যগুলোর চাহিদা আছে এবং আমদানি ব্যয় কেমন হবে- সেগুলো পর্যালোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব কখন এবং কোন পণ্য আমদানি করব’- উল্লেখ করেন শফিকুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমদানিযোগ্য পণ্যের নতুন তালিকা আমাদের কাছে এখনও আসেনি। তবে পণ্য আমদানি বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় বাড়বে’।

মেয়েকে উদ্ধারের দাবিতে আখাউড়ায় মায়ের সাংবাদিক সম্মেলন

আখাউড়া, 26 July 2023, 1329 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
৬ দিন ধরে মাকে দেখছে না দেড় বছরের শিশু সন্তান আইয়ুব। সারাক্ষণ মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছে। অবুঝ শিশুকে কোন কথা বলে বুলাতে পারছে না বৃদ্ধ নানা-নানি, দাদা-দাদু। আর মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে হতভাগ্য মা-বাবা।

অবশেষে মেয়ের সন্ধান পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্বজনরা। এমন ঘটনায় ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায়।

আজ ২৬ জুলাই বুধবার দুপুরে আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের বড় কুড়িপাইকা গ্রামে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিল্লাল ভূঁইয়ার স্ত্রী বিলকিছ বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ জুলাই মেয়েকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত থেকে ফেরার সময় আদালতের গেইট থেকে মনির মাস্টার আমার মেয়েকে জোর পূর্বক সিএনজিতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। সে একই ইউনিয়নের হীরাপুরের মৃত জানু মিয়ার ছেলে।

এরপর থেকে আমার মেয়ের কোন খোঁজ পাচ্ছি না। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

নাতিকে কোলে নিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ছোট্ট শিশুটির মাকে না দেখে কান্নাকাটি করে। তাকে কেন মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মনির মাষ্টার তার মেয়েকে আটকে রেখেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরো বলেন, মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির মাস্টার (৩৭) এক সময় আমার মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতো। এসময় সে আমার মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করে। আমরা মান সম্মানের কথা চিন্তা করে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেই। কিন্তু বিয়ের পরেও মনির মাষ্টার আমার মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখতে চাইলে আমরা তাকে নিষেধ করি।

এ কারণে সে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দেয়। সেদিন আমরা তার মামলায় হাজিরা দিতে গিয়েছিলাম। মেয়েকে উঠিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। তারা আমার বিরুদ্ধে থানায় এবং কোর্টে একাধিক মামলা করেছেন। আমিও মামলা করেছি। সেখানে ব্যর্থ হয়ে আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্য এসব ষড়যন্ত্র করছেন। আমি তাকে আটকে রাখার প্রশ্নই আসে না।

আখাউড়ায় টয়লেটের গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু

আখাউড়া, 7 April 2025, 457 Views,

মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, আখাউড়া থেকে :
আখাউড়া উপজেলায় টয়লেটের গর্তে পড়ে আলী আহাদ নামে এক দেড় বছর বয়সি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে আখাউড়া উপজেলার চাঁনপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। শিশু আলী আহাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের আলী আকবরের পুত্র।

শিশুর চাচা আব্দুর রকিব জানান, আজ ৭ এপ্রিল সোমবার দুপুরে ঘরের বাইরে আলী আহাদ খেলাধুলা করছিল। এসময় সবার অজান্তে পাশের বাড়ির টয়লেটের খোলা গর্তে পড়ে যায়। ঘন্টাখানেক খোঁজাখুজির পর এই গর্ত থেকে তাকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. লুৎফর রহমান বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শিশুটি মারা যায়। পরে পরিবারের লোকজন শিশুকে নিয়ে যায়।

আখাউড়া ইমিগ্রেশনের কাজ চলে ছোট্ট কক্ষে, নেই বসার সুব্যবস্থা

আখাউড়া, 16 May 2023, 1800 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
লক্ষ্মী রানী দাস। তিনি ভারত থেকে স্বামী ও সন্তান নিয়ে আগরতলা স্থলবন্দর দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে আসেন।

যাত্রাকালে আগরতলা ইমিগ্রেশনে সুষ্ঠু ও স্বাচ্ছন্দ্যে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে এলেও আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনে এসে রীতিমত অবাক হক তিনি। বসারও সুব্যবস্থা নেই এখানে।

ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করতে গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়ালেও ছোট কক্ষটিতে নেই কোনো ফ্যান। হঠাৎ ১২ বছর বয়সী ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেবা করার জন্য কোনো স্থান না পেয়ে ইমিগ্রেশন ভবনের এক কোনায় বসে তার সেবা যত্ন করেন। আশেপাশে ছিল না কোনো টিউবওয়েল। যাও বা ট্যাংকের পানি জুটেছে, তাও তীব্র তাপদাহে তপ্ত। তা দিয়েই ছেলেকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান।

লক্ষ্মী রানী দাসের বলেন, আগরতলা ইমিগ্রেশনে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ও সুন্দর পরিবেশে আরামে সব কাজ করে এসেছি। বন্দর থেকে গাড়িতে আমাদের ফ্রি চেকপোস্ট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। অথচ আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনে এসে নাজেহাল হতে হলো। এখানে কোনো কিছুরই সুব্যবস্থা নেই। একতলা পুরোনো ভবনের ছোট্ট কক্ষে শত শত লোক ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে। এখানকার ইমিগ্রেশনের অব্যবস্থাপনা দেখে খুবই খারাপ লেগেছে। এখানে যাত্রীদের জন্য পরিষেবা বাড়ানো উচিত। আশা করব, বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের যাত্রীদের কথা বিবেচনায় এনে ইমিগ্রেশন উন্নত করবে।

আগরতলা থেকে আসা আরেক যাত্রী খোকন মিয়া বলেন, আমি গত ছয় বছর ধরে এ চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করছি। ইমিগ্রেশনটি যে হালতে দেখেছিলাম, সে হালতেই আছে। একজন রোগী এলে যে বসবে, সে উপায় নেই। এখানে যে পরিমাণ জায়গা দরকার, সে তুলনায় খুবই কম আছে।

বন্দরটি ঘুরে দেখা গেছে, মূলফটক পার হলেই একতলা বিশিষ্ট তিন রুমের একটি ভবন। এর মধ্যে দুটি ছোট রুম ও একটি মাঝারি রুম। একটিতে ইমিগ্রেশন ইনচার্জ বসেন, আরেকটি হচ্ছে ব্যারাক। মাঝারি কক্ষটিতে চলে অফিসের কার্যক্রম। পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে গেছে। প্রতিদিন যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে, তাই গাদাগাদি করেই চলে কার্যক্রম। যাত্রীদের মালপত্র বারান্দায় রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বসার জন্য ইমিগ্রেশন কক্ষে কোনো জায়গা নেই। আর বাইরে টিনের একটি ছাউনি আছে, যেখানে ১৫/২০টি চেয়ার থাকলেও কোনো টেবিল নেই। অথচ ফরম পূরণ করতে টেবিল প্রয়োজন। ফরম পূরনের জন্য দেখা গেছে কেউ বারান্দার মেঝেতে বসে, আবার কেউ কেউ বিদ্যুৎতের জেনারেটরের ওপরে ফরম রেখে পূরণ করছেন। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিশ্রামের জন্যও জায়গা নেই। কক্ষটিতে এসির ব্যবস্থা থাকলেও ভিড় থাকায় যাত্রীদের লাইন কক্ষের বাইরে বারান্দায় চলে যায়। ফলে এসিগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় গরমে কষ্ট সহ্য করে ইমিগেশনের কাজ শেষ করতে হয়।

তবে বিড়ম্বনা এখানেই শেষ নয়। কাস্টমসের কাজ করতে পাড়ি দিতে হচ্ছে অন্তত দুইশ গজ দূরবর্তী অন্য আরেকটি ভবনে। মূলত এক ভবন ও এক ছাদের নিচে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ করতে না পারায় তাদের দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে চালু হয় আখাউড়া স্থলবন্দরের কার্যক্রম। সুবিধাজনক ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় এ বন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট থেকে অনেকেই আখাউড়া ইমিগ্রেশন ব্যবহার কররে ভারতে যাতায়াত করছেন।

কাস্টমস সূত্র জানায়, এ ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে প্রতিদিন অত্যন্ত এক হাজার যাত্রী দুই দেশে যাতায়াত করছেন। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক যাত্রী ভারতে যান। যা থেকে প্রতি মাসে ৭৫ লাখ টাকা আয় হয়ে থাকে সরকারের। বিগত ছয় মাসে চার কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।

এদিকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আখাউড়া চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ২০১৭ ও ২০১৯ সালে সীমান্ত আইনের অজুহাতে বিএসএফ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

মৌলভীবাজার জেলা থেকে ভারতগামী বাংলাদেশি যাত্রী সুমন আহমেদ বলেন, আমি ইমিগ্রেশনের পরিবেশ দেখে হতবাক হয়ে গেছি। এখানে লাইনের কোনো শৃঙ্খলা নেই। কোনো ধরনের আধুনিকায়ন নেই। অথচ আগরতলা ইমিগ্রেশনের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ফারহানা মিলি নামে এক নারী চিকিৎসক তার বাবার চিকিৎসা জন্য ভারতে যাওয়া সময় আক্ষেপ করে বলেন, আগরতলা ইমিগ্রেশন ও আখাউড়া ইমিগ্রেশনের মধ্যে অনেক পার্থক্য। আমাদের এখানে ভালো ব্যবস্থা নেই। মালপত্র রাখার জায়গা পাই না। আরেকজনের কাছে পাহারা দিয়ে রাখতে হয়। বছরের কয়েকবার যেতে হয়। তবে এর উন্নতি দেখছি না। এখানে দ্রুত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগুক সেই কামনা করি।

মুক্তি খান নামে এক যাত্রী বলেন, বর্তমানে আখাউড়া ইমিগ্রেশন ভবন নামেমাত্র টিকে আছে। জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হচ্ছে। স্থায়ী ভবন তৈরির পর এক ছাদের নিচে সব পরিষেবা পাওয়া গেলে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশিদের আসা যাওয়া আরও বেড়ে যাবে। যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও লাঘব হবে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি যাত্রী পারাপার হচ্ছেন। তবে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালানোর জন্য যে ধরনের সুযোগ সুবিধা আছে, তা খুবই অপ্রতুল। নতুন ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে সেবার মান বাড়বে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, এ ইমিগ্রেশন দিয়ে দুই দেশের বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করলেও ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের পর্যাপ্ত সুবিধার কমতি রয়েছে। আমাদের নতুন একটি ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণ কাজ চলছিল, তা বিএসএফের বাধায় বন্ধ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কথা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেলে আমরা ভবনটির কাজ আবার শুরু করতে পারব। এছাড়া বলে রাখি, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখানে একটি আধুনিক বন্দর নিমার্ণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৩.৫৭ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ হাতে নিয়েছি। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। তখন স্থলবন্দর, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে।

তিনি আরো বলেন, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চারলেন সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হলে এবং আধুনিক স্থলবন্দরটি তৈরি হলে আখাউড়াই হবে বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য স্থলবন্দর।

আখাউড়ায় ডোবা থেকে মর্টারশেল উদ্ধার

আখাউড়া, 21 January 2023, 1880 Views,

আখাউড়া প্রতিনিধি :
আখাউড়ায় আজ ২১ জানুয়ারি শনিবার দুপুর বেলায় ডোবা থেকে একটি মর্টারশেল উদ্ধার করা হয়েছে। আবু মিয়া নামের এক ব্যক্তি দু’দিন আগে মাটি কাটার সময় একটি টিলা থেকে মর্টারশেলটি উদ্ধার করে তারপর ডোবায় ফেলে রাখে।

উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান মিয়া জানান, উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের আবু মিয়া দু’দিন আগে তার বাড়ির সামনে ছোট্ট একটি টিলা থেকে মাটি নিচ্ছিলেন। এ সময় শেলটি পাওয়া যায়। তবে এটি কি ধরণের জিনিস সেটা নিয়ে নিজেই বিভ্রান্তিকর অবস্থায় ছোট্ট একটি ডোবায় ফেলে রাখেন।

শাহজাহান আরো জানান, শনিবার বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি সেখানে যান। এরপর এই মর্টারশেলটি ডোবা থেকে তোলার ব্যবস্থা করে থানা পুলিশকে খবর দেন।

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। এটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ব্যবহার হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।