চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদসহ শেখ আবুল হায়াত নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।
আজ ২২ নভেম্বর শুক্রবার সকালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা করাগারে পাঠানো হয়। এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে চার বোতল বিদেশি মদসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় ব্যাগে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
গ্রেফতারকৃত শেখ আবুল হায়াত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রাম থানার হাজেরাবাটি (মসজিদপাড়া) গ্রামের শেখ মনিরুলের ছেলে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিকেলে ভারতীয় ওই যুবক রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময় তার গতিবিধি দেখে টহল পুলিশের সন্দেহ হয়। একপর্যায় পুলিশ তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে চার বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারসহ তাকে গ্রেফতার করে। ওসি আরো জানান, এ বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও চোরাচালানের অভিযোগ একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সকালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা করাগারে পাঠানো হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো মূল্যে অপরাধ নির্মূল করা হবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
চলমান ইসকন ইস্যুতে আখাউড়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, আলেম ওলামা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজালা পারভীন রুহির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জয়নাল আবেদীন আব্দু, পৌর বিএনপির আহবায়ক মোঃ সেলিম ভূইয়া, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাঃ মোঃ বোরহান উদ্দিন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা ডাঃ হিমেল খান, সাব ইন্সপেক্টর মোঃ ওয়াসিম, ইমাম পরিষদের সভাপতি মাঃ কাজী মাইনুদ্দিন, হেফাজতে ইসলামের পনেতা মাঃ বিল্লাল হোসেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা চন্দন ঘোষ, রাধা মাধব আখড়া মন্দিরের আহবায়ক সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল প্রমুখ ।
হিন্দু নেতারা জানান, আখাউড়ায় ইসকনের সাংগঠনিক কার্যক্রম নাই। কিছু সংখ্যক ইসকনের ভক্ত আছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করে। তবে ইসকনের নামে কেউ অপরাধ করলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচার করা হোক।
বক্তারা বলেন, অপপ্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ফেক নিউজ শেয়ার না দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একটি সুযোগ সন্ধ্যানী মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আখাউড়াকে নিরাপদ রাখার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আইন হাতে তুলে না নেওয়ার আহবান জানানো হয়। বক্তারা চট্টগ্রামে এড. সাইফুল ইসলাম হত্যার বিচার দাবী করেন।
স্টাফ রিপোর্টার:
বিজয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের নো-ম্যানসল্যান্ডে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ’র) মধ্যে ‘জয়েন্ট রিট্রিট সিরিমনি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে মিষ্টি ও গাছ বিনিময় হয়। বেলা সাড়ে চারটার দিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিএসএফ’র হাতে মিষ্টি তুলে দেয় বিজিবি। ভারতীয় বিএসএফ’র পক্ষ থেকে বিজিবিকে দেওয়া হয় গাছের চারা। পরে বিউগলের সুরে দু’দেশের পতাকা একসঙ্গে নামানো হয়, যা ‘জয়েন্ট রিট্রিট সিরিমনি’ হিসেবে পরিচিত। দু’দেশের শত শত মানুষ এ সুন্দর আয়োজন উপভোগ করেন। এ সময় সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের যৌথ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, বিজিবি সরাইল রিজিওনের ডেপুটি রিজিওয়ন কমান্ডার কর্ণেল কাজী শামীম, বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মুহাম্মদ আশিক হাসান উল্লাহ, উপ-অধিনায়ক মেজর মুহাম্মদ নুরুল আবছার। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ ১২০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রাখনেশ কুমার, লঙ্কামোড়া কম্পানি কমান্ডার বিনদ সিং।
চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়া স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। আজ ৪ ডিসেম্বর বুধবার সকালে মাছ ও অন্যান্য পণ্যবাহী ২৪ টি ট্রাক আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা বন্দরে প্রবেশ করেছে। আখাউড়া ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপারও ছিল স্বাভাবিক।
আখাউড়া ইমিগ্রেশন ও স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেলা ২টা পর্যন্ত আখাউড়া ইমিগ্রেশন দিয়ে ৬৯ জন পর্যটক ভারতে গেছে। এরমধ্যে ৪৭ জন ভারতীয় এবং বাংলাদেশী নাগরিক ২২ জন। একই সময় আগরতলা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৫১ জন। অপরদিকে ১৩টি ট্রাকে করে ১২০ মেট্রিক টন মাছ ভারতে রপ্তানি হয়েছে। এছাড়াও তোশক, মশারি, সিমেন্ট ও অন্যান্য পণ্যের ১১টি ট্রাক ভারতে গেছে।
সরজমিনে দুপুরে আখাউড়া ইমিগ্রেশনে গিয়ে দেখা যায়, ২-৪ জন যাত্রী ভারতে যাওয়ার জন্য ইমিগ্রেশন কার্যক্রম করছেন। ইমিগ্রেশন অফিস অনেকটা ফাঁকা। দুইজন বাংলাদেশী নাগরিক ভারত থেকে ফিরেছেন।
ভারত থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশী নাগরিক সঞ্জয় সাহা বলেন, আমি ২২ নভেম্বর ত্রিপুরায় গিয়েছিলাম। আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলাম। আমার কোন সমস্যা হয়নি। আজ ফেরার সময় কোন অসুবিধা হয়নি। সড়কে কোন প্রতিবন্ধকতা ছিলনা।
আখাউড়া আর্ন্তজাতিক ইমিগ্রেশন চোকপোস্টের পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, সকাল থেকে যাত্রী পারাপার কার্যক্রম রয়েছে। তবে বাংলাদেশী যাত্রীর সংখ্যা কম ছিল।
আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান বলেন, মাছ ও অন্যান্য পণ্য বোঝাই ২৪টি ট্রাক ভারতে গেছে। ভারত থেকে কোন পণ্য আমদানী হয়নি। বন্দরের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট অপসারণ এবং বাজার মনিটরিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে ৯ ব্যবসায়ীকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ ৬ আগস্ট বুধবার সকালে পৌরশহরের সড়ক বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফয়সল উদ্দিন।
অভিযানকালে ঢাকা হোটেল ও টেস্টি ট্রিটসহ ৪টি প্রতিষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইনে জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে পঁচাবাসি খাবার রাখায় ঢাকা হোটেলকে ৩০ হাজার টাকা এবং টেস্টি ট্রিটকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় একটি ওষুধের দোকানকে জরিমানা করা হয়। কসমেটিক্সের অতিরিক্ত মূল্য লিখে রাখায় একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত এসময় ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান অপসারণ করেন ও ফুটপাতে দোকান নিয়ে না বসার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে সতর্ক করেন। পৌর প্রশাসনের সহযোগিতায় আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসন। এসময় থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শহরের সড়ক বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে অবৈধভাবে দখল করে ক্ষুদ্র দোকানীরা ব্যবসা করে আসছে। এতে বাজারে আগত সাধারণ মানুষের চলাচলের অসুবিধা হয়। তাছাড়া রাস্তায় যত্রতত্র মোটর সাইকেলসহ যানবাহন রাখায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে সড়ক বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযানে পরিচালনা করেন।
এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফয়সল উদ্দিন বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত, যানজট নিরসন এবং বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায় মোবাইল দেখা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্যের জেড়ে প্রাণ দিতে হলো নববধূ তাছলিমা আক্তারকে। নববধূকে হত্যাকারী ঘাতক স্বামী আব্দুল হামিদ (২৮) কে আটক করা হয়েছে।
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বেলা ১১টার দিকে আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর বড় মুড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে বিজিবি ও আখাউড়া থানা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে। আব্দুল হামিদ উজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামের মধ্যপাড়ার মৃত আব্দুল লতিফের পুত্র।
এর আগে বিয়ের ৫ দিনের মাথায় গলা কেটে মঙ্গলবার দুপুরে আব্দুল হামিদ তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে ছুড়ি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় ওই রাতেই নিহতের বড় ভাই আব্দুল কুদ্দুছ বাদী হয়ে আব্দুল হামিদকে আসামী করে থানায় মামলা করেন। মামলায় কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা দেখানো হয়েছে।
আব্দুল হামিদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে আখাউড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল হামিদ স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আব্দুল হামিদ জানিয়েছে তার স্ত্রী মোবাইলে টিকটক দেখতো ও ছেলে সাথে চ্যাটিং করতো বলে সন্দেহ ছিল। আব্দুল হামিদ তার স্ত্রীর মোবাইল দেখতে চাইলে তাকে তার স্ত্রী মোবাইল ধরতে বারণ করে। এনিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। ঘটনার দিন সকালে তাছলিমা বাবার বাড়িতে যেতে চাইলে হামিদ যেতে দেয়নি। এরপর স্বামী আব্দুল হামিদ বাজার থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে ছুঁড়ি কিনে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করে।
থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৭/৮ মাস আগে হীরাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ মিয়ার প্রবাসী পুত্র আব্দুল হামিদের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বাসুদেব গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জামের মেয়ে তাছলিমা আক্তারের বিয়ে হয় মোবাইল ফোনে। সম্প্রতি হামিদ দেশে ফিরে এসে গত শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠান করে স্ত্রী তাছলিমাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। মঙ্গলবার দুপুরে হামিদের বাড়িতে শোর চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা এসে দেখেন বিছানায় গলাকাটা রক্তাক্ত অবস্থায় নববধু তাছলিমার নিথর দেহ পড়ে আছে। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
২৫ বিজিবি (সরাইল) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক ল্যাঃ কর্ণেল আরমান আরিফ, পিএসসি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করার সময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা আসামীকে আটক করেছে। পরে থানায় সোপর্দ করা হয়।