চলারপথে রিপোর্ট :
বিজয়নগরে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় উন্নতমানের ব্লেজারের থান কাপড় জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ ২৭ নভেম্বর বুধবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)।
বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কামালমুড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার মিটার ভারতীয় উন্নতমানের ব্লেজারের থান কাপড় আটক করেন। যার আনুমানিক মূল্য ৮৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৫০ টাকা।
বিজিবি ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল ফারাহ্ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে কোন কিছু যেন প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে বিজিবি বদ্ধপরিকর। উদ্ধার হওয়া কাপড়গুলো আখাউড়া কাস্টমস অফিসে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
চলারপথে রিপোর্ট :
বিজয়নগর উপজেলার ছতরপুর জামিয়া রশিদীয়া মাদরাসার ছাত্র মুজাহিদ। বয়সমাত্র ৯বছর। আর এই অল্প বয়সেই হাফেজে কুরআন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই বালক। তার এ কৃতিত্বে অভিভাবকসহ শিক্ষক ও সহপাঠীরা আনন্দিত। তার উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার।
মুজাহিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মহেষপুর পাক্কাবাড়ীর ইসমাঈল ভুঁইয়ার ছেলে। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই কোরআন হিফজের বিষয়ে মুজাহিদের প্রবল ইচ্ছা ও আকর্ষণ ছিল। মাদরাসায় ভর্তির জন্য মুজাহিদ নিজেই বায়না ধরলে তাকে ২০২২ সালে জামিয়া রশিদিয়া ছতরপুর মাদ্রাসার (নুরানি) বিভাগে ভর্তি করানো হয়। শুরুতে তাকে বাংলার পাশাপাশি পবিত্র কোরআনের রিডিং পড়ানো হয়। এর পরে হিফজের উপযুক্ত হলে আল্লাহর রহমতে ১৪ মাসের মধ্যেই কোরআনের হাফেজ হয়ে ওঠে।
তার শিক্ষক হুসাইন আহমাদ বলেন, মুজাহিদের বাবা পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রি। দিন এনে দিন খাওয়া পরিবার। তার লেখা পড়ার যাবতীয় খরচ আমাদের পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে। সে অত্যন্ত মেধাবী ছেলে। সঠিক পরিচর্যা হলে সে জগত বিখ্যাত একজন আলেম হতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমাদের মাদ্রাসায় মুজাহিদ সহ আরো অনেক এতিম ও গরীব অসহায় মেধাবীদের যাবতীয় খরচ আমরা বহন করে থাকি।
হাফেজ মুজাহিদ বলেন, আমি চেষ্টা করেছি, আল্লাহ সহায় ছিলেন বলেই মহাগ্রন্থ কোরআন আয়ত্ত করতে পেরেছি। ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার জন্য আলেম হওয়ার স্বপ্ন তার।
মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমীর কাছে জানতে চাইলে বলেন, ছেলেটি অত্যন্ত নম্র-ভদ্র। পড়ালেখার সমস্ত খরচ তার বিভাগীয় প্রধান শিক্ষক হুসাইন আহমাদ এর বড় ভাই বহন করেছেন। আল্লাহ পাক ওনার এই সহযোগিতা কে কবুল করুন এবং তাকেও দ্বীনের দায়ী হিসেবে যেন আমরা গড়ে তুলতে পারি সকলের নিকট দোয়া চাই।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগরে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ ১৫ মে বুধবার ভোরে উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বাগিদয়া গ্রাম থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বাগদিয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় মাদক ব্যবসায়ি মতি মিয়া ও জলফু মিয়া পালিয়ে যায়। পরে রাস্তার উপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
বিজয়নগর উপজেলা থেকে প্রায় ২৭ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। আজ ৬ ডিসেম্বর শনিবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকা থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। আটক হওয়া পণ্য আখাউড়া কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে।
বিজিবি ২৫ ব্যালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল জব্বার আহমেদ জানান, অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় কসমেটিকস ৪১৪ পিস, চকলেট ১০,৫২৪ পিস, ভারতীয় ফুড সাপ্লিমেন্ট ট্যাবলেট ১২১ প্যাকেট, পাঞ্জাবী ১০০ পিস, শাড়ি ১৫ পিস, শাল চাদর ১২১ পিস এবং সোয়েটার ৯০ পিস জব্দ করা হয়।
আটককৃত ভারতীয় চোরাচালানী মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ২৭ লাখ ৮২ হাজার ৮০০ টাকা। সীমান্ত দিয়ে যেন ভারত থেকে মাদকদ্রব্যসহ যে কোন ধরণের চোরাচালানী মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) বদ্ধপরিকর। পৃথক অভিযানে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাশিনগর এলাকা থেকে ৭১ বোতল ভারতীয় মদ, নোয়াবাদী এলাকা থেকে ২৪ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
বিজয়নগরে বিলের পানিতে গোসল করতে নেমে জুঁই আক্তার (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ ১৪ জুলাই শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সিংগারবীল ইউনিয়নের আলিনগর বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন নরিন্দা বিলে এ ঘটনা ঘটে। জুঁই আক্তার পশ্চিম মিরাশানী এলাকার বাদল মিয়ার মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের নরিন্দা বিলের পানিতে ডুবে যায় শিশু জুঁই আক্তার। পরে পরিবারের লোকজন ঘটনাটি টের পেয়ে মৃত অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রাজু আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
‘১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০ বছর পবিত্র কুরআনের শিক্ষকতা করেছেন হাফেজ মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। দীর্ঘকাল গৌরবময় শিক্ষকতার পাশাপাশি একাধারে সমাজ চিন্তা ও পরিবর্তনে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। কয়েক সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় সংস্কারমূলক কাজেও নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি।’
গতকাল শনিবার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর খেলার মাঠে আয়োজিত স্মরণ সভায় দেশের বিশিষ্ট আলেম ও হাফেজ মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেছেন। হাফেজ নূরুজ্জামানের গৌরবময় শিক্ষকতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রয়াত হাফেজ নূরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু-সহকর্মী দারুল উলুম ইসলামিয়া হরষপুর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সিরাজুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে ‘গৌরবময় শিক্ষকতার ৫০ বছর: রঈসুল হুফফাজ হাফেজ মোহাম্মদ নূরুজ্জামান রহ. স্মারকগ্রন্থ জীবন ও সংগ্রাম’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
এর আগে গত ২৭ মে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার নিজ গ্রামের বাড়ি গোবিন্দপুরে আনুমানিক ৭৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন হাফেজ মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। মৃত্যুর আগে বেশ কিছুদিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় শায়িত ছিলেন তিনি।
সভায় বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব ও জামিয়া রাহমানিয়া আজিজিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, হাফেজ নূরুজ্জামান কুরআনের দীর্ঘদিনের খাদেম ছিলেন। মরহুম হাফেজ নূরুজ্জামান সাহেবের পরিবারের সঙ্গে আমার বহু বছর আগে সম্পর্ক হয়েছিল। তার শিক্ষাদানের মাধ্যমে দেশের বহু এলাকায় কুরআনের আলোয় আলোকিত হয়েছেন অনেকে। যিনি হাজার হাজার হাফেজ তৈরির শিক্ষক ছিলেন। তিনি যখন হেফজ পড়ানো শুরু করেন, তখন আজকের মতো সুবিধাজনক পরিস্থিতি ছিল না।
আলোচনা সভায় হাফেজ নূরুজ্জামানের ছাত্র, ভক্ত ও অনুরাগীসহ বিপুল লোকের সমাগম হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে তার শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতি, সমাজ সংস্কার, সমাজচিন্তা, ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা এনায়েতুল্লাহর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আলোচনা সভা।
এতে আরো বক্তব্য দেন হেফাজত মহাসচিব ও হাইয়াতুল উলিয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমান, বসুন্ধরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আরশাদ রাহমানী, মাওলানা নুরুল ইসলাম খান, হেফাজত নেতা মুফতি মুবারকুল্লাহ, শায়খুল হাদিস পরিষদের সভাপতি মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আবদুর রহিম কাসেমী, শায়খুল হাদিস পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, মাওলানা মহসিনুল হাসান, মাওলানা এহসানুল হক, মাওলানা আল আবিদ শাকির ও পীর ইয়ামেনি মার্কেট মসজিদের খতিব মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী প্রমুখ।