চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বার্ষিক কর্মসম্পাদন চূক্তির (এপিএ) এর এবং শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের (জিওবি) আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিজেশ্বর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ ইউনিয়নের সাতবর্গ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আজ ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পৃথক উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠান সমূহে জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ভিডিও কলে প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (মাঠ প্রচার) ফাহিমা জাহান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপপরিচালক (মাঠ প্রচার) ফাহিমা জাহান, ডেঙ্গু, শিশুকে মাতৃদুগ্ধ দান, শিশু ও নারীর অধিকার, শিশুর যথাযথ বিকাশ, অটিজম, ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা ও দুর্যোগকালীন নারী- শিশুর সচেতনতা, জেণ্ডার সমতা, নিরাপদ মাতৃত্ব, বাল্য বিবাহ, ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে উন্মুক্ত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠান সমূহে বিজেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তা রাণী রায়, সহকারী শিক্ষক হাসনা বেগম , সহকারী শিক্ষাক ঝুনু রানী বণিক, সহকারী শিক্ষক মোছাঃ ফারজানা আক্তার, সহকারী শিক্ষক আফরোজা আঞ্জুম, সহকারী শিক্ষক খাদিজা আক্তার তুলি এবং সাতবর্গ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম, সহকারি শিক্ষক ফুল রানী আশ্চর্য, জমি দাতা উদয় রায়, এসএমসি সদস্য আঞ্জুমান আরা বেগম সহ প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী ও পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল ছয় মাসের শিশু নুসরাত জাহান তিথি। পাশের খাটে ঘুমিয়ে ছিল বাবা। গভীর রাত, দরজা-জানালা বন্ধ। এরমধ্যে বিছানায় নেই শিশু তিথি। বাবা-মায়ের দাবি, জিন-ভূত এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। শিশুকে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন মা স্বপ্না বেগম।
জানা গেছে, গত ৩০ জুন রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এরপর ১ জুলাই রাতে বাড়ির পাশের খাল থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ আজ ২ জুলাই মঙ্গলবার জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল তিথি। পাশের খাটে শুয়ে ছিল তার বাবা। তিথি রাতে কান্নাকাটি শুরু করলে বিরক্ত হয় তার মা স্বপ্না বেগম। এক পর্যায়ে স্বপ্না বেগম তিথির মুখে কাপড় চেপে মেরে ফেলে। এরপর তিথির বাবাকে ডেকে তার লাশ ফেলে দিতে বলে। স্ত্রীর কথা মতো লাশ খালে ফেলে দিয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়ে জিল্লুর রহমান। সকালে উঠে জিল্লুর রহমান ও স্বপ্না দম্পতি সন্তান নিখোঁজ হওয়ার কথা বলতে থাকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে মা-বাবার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। তারা এসে সন্তান নিখোঁজের কথা বলে থানায় জিডি করে। এ দম্পত্তির দুই ছেলে প্রবাসে থাকে। ১০ বছরের তাদেরকে আরেকটি মেয়ে রয়েছে।’
১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য তাদেরকে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি, টেলিভিশন জার্লালিষ্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর এবং দৈনিক জনকণ্ঠের ষ্টাফ রিপোর্টার রিয়াজ উদ্দিন জামির অকাল মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি এফ এস জামিল পাভেল ও সাধারন সম্পাদক প্রবীর চৌধুরী রিপন এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দরা জামীর মৃত্যুতে ৫ দিনের শোক কর্মসুচি ঘোষণা করেনএবং কালো ব্যাচ ধারন করেছেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে সাধারণ ছাত্র জনতা।
২৩ অক্টোবর বুধবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কালীবাড়ি মোড় থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথ সভায় ছাত্র জনতার পক্ষে বক্তব্য রাখেন, সাব্বির আহমেদ উসমানি, মোহাইমিনুল আজবীন, ইকরামুল মারজান চৌধুরী ও মোহাম্মদ হানিফসহ শিক্ষার্থীরা।
এ সময় বক্তরা ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আওয়ামী লীগসহ তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠন গুলোকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। সমাবেশ শেষে ছাত্র জনতার পক্ষ থেকে উপস্থিত জনতার মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার :
বিশ্বের সর্ববৃহৎ আত্মনির্ভরশীল ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান আশার নিজস্ব অর্থায়নে দরিদ্র, সুবিধা বঞ্চিত শীতার্ত মানুষের মাঝে প্রতি বছরের ন্যায় চলতি বছরেও সারাদেশব্যাপী আশার পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার আশা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মোঃ শফিকুল ইসলাম চৌধুরী আনুষ্ঠানিক ভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলমের নিকট ৩৫০ পিস কম্বল হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রণয় চাকমা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আরজু। এছাড়াও আশার এসডিএম মোঃ নজরুল ইসলাম, আঞ্চলিক কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দীন আলী, মোঃ মিজানুর রশীদ চৌধুরী, মোঃ আবুবকর সিদ্দিক আরএম (এগ্রি), এএসই ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোজাম্মেল হক ও মোঃ সামসুল হক, আশার অরুয়াইল স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ শাহ কামালসহ আশার অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
দুলাল মিয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের মৌলভীপাড়ায় বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে অগ্নিকাণ্ডে শাহ ফরহাদ উদ্দিন আহমদ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আজ ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের মৌলভী পাড়ায় ৬ তলা বিশিষ্ট দেওয়ান প্লাজা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহ ফরহাদ উদ্দিন আহমদ আখাউড়া উপজেলার আজমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে শহরের মৌলভী পাড়ায় ওই ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক নিউটন দাস জানান, ভোর ৪টায় ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ফ্ল্যাটের ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষটি থেকে শাহ ফরহাদ উদ্দিন আহমদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে রাত প্রায় ৩টায় আগুন লেগেছিল।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে বিলম্বে খবর দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিরাপদে বের হলেও কক্ষের ভেতরেই আটকা পড়েন শারীরিকভাবে অসুস্থ শাহ ফরহাদ উদ্দিন আহমদ।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, ফরহাদ উদ্দিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। তাই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
ঘটনার খবর শুনে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত মোঃ ইশতিয়াক ভূঁইয়া। এ সময় তিনি বলেন, ঘটনাটি আসলেই দুর্ঘটনা এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।