চলারপথে রিপোর্ট :
বেসরকারি কেজি স্কুলের মেধাবিকাশ বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৪ অত্যন্ত আরম্ভরপূর্ণ আনন্দঘন পরিবেশে আজ ১ ডিসেম্বর রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ফুলকলি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুন্টা, পানিশ্বর, চাতলপাড়, পাকশিমুল ও অরুয়াইল সহ মোট ৫ ইউনিয়নের ১৮টি কেজি স্কুলের ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। প্রথম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ২শত শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন অরুয়াইল ফুলকলি কিন্ডার গার্টেন এর অধ্যক্ষ আব্দুল হামীম। প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপী এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সার্বিক তদারকি ও পৃষ্ঠপোষকতায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম, পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ তাহের উদ্দিন, অ্যাড. জালাল উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, উত্তম ঘোষ, এ কে এম আল আমিন, অরুয়াইল কলেজের প্রভাষক রেহান উদ্দিন, হিরা মাস্টার প্রমুখ। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানান, শিশুদের মেধাবিকাশে ছোট বেলা থেকেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী পৃথিবীর বৃহৎ পরিসরের প্রতিযোগিতার জন্য নিজেকে তৈরী করার প্রয়াস পাবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
আজ ১৩ মে সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে এক মা তাঁর মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই ছেলেকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন। ওই নারীর ছেলের নাম আজমল শাহ (৩৭)।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে কয়েক বছর আগে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। বছরখানেক ধরে তিনি উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করে আসছেন। নেশার টাকার জন্য আজমল নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি নেশার টাকার জন্য আজমল আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আজমলের মা-বাবা সব চেষ্টাই করেছেন। কয়েক মাস ধরে আজমলের অত্যাচারে মা-বাবা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তিন বছর আগে স্ত্রীও আজমলকে ফেলে চলে যান।
বাধ্য হয়ে মা এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে কয়েক দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হন আজমল। এর জের ধরে গতকাল সকালেও আজমল ঘরের আসবাব ভাঙচুর করতে থাকেন। ছেলের অত্যাচার-নির্যাতন সইতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় অসহায় মা মনেজা বেগম দুপুর ১২টার দিকে আজমলকে আটক করেন। পরে পুলিশে সোপর্দ করেন।
সোমবার বেলা দুইটার দিকে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেসবা উল আলম ভূঁইয়া ছুটে যান বুড্ডা গ্রামে। সেখানে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আজমল শাহকে ১২ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। মনেজা বেগম ইউএনওর কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। তার অপকর্মে আমরা অতিষ্ঠ হইয়া পড়ছি, আমরার জীবন শেষ কইরা ফালাইছে। তার কাছ থেকে আমারে বাঁচান।’
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও মেসবা উল অলম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাদকাসক্ত ওই যুবকের অত্যাচারে মা-বাবা ও স্ত্রী অতিষ্ঠ হয়ে গেছেন। তিনি নিয়মিত মা-বাবাকে মারধরও করতেন। তাঁকে আমরা হাতেনাতে মাদকাসক্ত অবস্থায় পেয়েছি। তিনি দোষ স্বীকার করেছে। তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
চলারপথে রিপোর্ট :
অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার মোঃ মেহেদী হাসান আরাফাত (২৫) নামের এক যুবকের কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী হৃদয় হোসেন ওরফে রিফাত (২৫) নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। ঘটনার চার মাস পর ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি দল ঢাকার কদমতলী থানার নুরপুর-দনিয়া এলাকার নাজমা মঞ্জিলের পঞ্চম তলার ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে প্রতারক হৃদয় হোসেন ওরফে রিফাতকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যক্তির নামে করা ৩টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১০টি অচল মোবাইল ফোন এবং ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকের ১৮টি ভিসা ডেবিট কার্ড উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত হৃদয় হোসেন ওরফে রিফাত ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল থানার হোসেনগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে সে ঢাকার কদমতলী থানার নূরপুর এলাকার নাজমা মঞ্জিলের পঞ্চম তলার ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাটে বসবাস করছে।
১ অক্টোবর বুধবার বিকেলে গ্রেফতার হওয়া হৃদয় হোসেন ওরফে রিফাতকে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র বিচারিক হাকিম জহিরুল হকের আদালতে হাজির করা হলে, তিনি দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ পরিদর্শক বেলাল উদ্দিন জানান, সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দটুলা গ্রামের যাদব আলীর ছেলে মোঃ মেহেদী হাসান আরাফাতের সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমে হৃদয় হোসেন ওরফে রিফাতের পরিচয় হয়। এরপর রিফাত তাকে জানায়, অনলাইনে টাকা বিনিয়োগ করলে বিপুল পরিমাণ লাভ পাওয়া যাবে।
রিফাতের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে মেহেদী প্রথমে “ডব্লিউ ডব্লিউ ডট ওয়ে ফেয়ার ডট কম” নামের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে ৫০০ টাকা বিনিয়োগ করেন। এরপর তাকে ১১০০ টাকা দেওয়া হয়। পরে তিনি ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে ১৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। আরও আস্থা পেয়ে মেহেদী ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে তা আটকে দেওয়া হয়। তখন রিফাত জানায়, বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এরপর মেহেদী গত ৩১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত বিভিন্নভাবে মোট ৩৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন, যা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।
এ ঘটনায় মেহেদী হাসান আরাফাত বাদী হয়ে গত ১৮ জুলাই সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-২৩, তারিখ ১৮/০৮/২০২৫ ইং।
পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআই-এর ওপর তদন্তভার দেওয়া হলে, পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশ পরিদর্শক বেলাল উদ্দিনকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রযুক্তি ও সোর্সের সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে প্রতারক হৃদয় হোসেন ওরফে রিফাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত হৃদয় হোসেন ওরফে রিফাত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধান। তিনি ও তার সহযোগীরা অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছে। শুধু সরাইলের মেহেদীর কাছ থেকেই ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি এবং সে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
সরাইলে চার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার ও শুক্রবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আবদুল হাকিম মোতাঈদের ছেলে সুবেল মোতাঈদ (২৫), একই ইউনিয়নের মোঃ আবু ছিদ্দিকের ছেলে মোঃ রাসেল মিয়া (২৪), হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শাহপুর গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মিজান মিয়া ও একই উপজেলার বেঙ্গাডোবা গ্রামের অহিদুল্লাহর ছেলে মোঃ আনু মিয়া।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসলাম হোসেন জানান, শনিবার রাতে উপজেলার উচালিয়াপাড়া এলাকা ৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী মিজান মিয়া আনু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অপরদিকে শুক্রবার রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের জলিল শাহ’র মাজারের পশ্চিম পাশ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী সুবেল মোতাঈদ ও রাসেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। গত শনিবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
দুলাল মিয়া :
মাঝখানে আর মাত্র ৩দিন বাকি। নির্বাচনি জ্বরে কাঁপছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের আংশিক) আসনের গ্রামীণ জনপদ। এর মধ্যে সরে দাড়ালেন জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এড. জিয়াউল হক মৃধা। ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণার শুরু হওয়ার আগে ও পর থেকে এখন পর্যন্ত মাঠে-ঘাটে, চায়ের দোকানে, বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে দোকানপাট, বাড়ি বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় গিয়ে ভোট চাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে নির্বাচনের প্রচারণা ও ভোট প্রার্থনা।
প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের যার যার অবস্থান থেকে নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীরা রাত-দিন অবিরামভাবে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলে নির্বাচনি জ্বরে কাঁপছে উপজেলার গ্রামীণ জনপদ। এই নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীরা তাদের স্ব-স্ব অবস্থান এবং ভোটারদের মন জয় করতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে।
শেষ মূহুর্তে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুর গাছ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (হাঁস) এর মধ্যে মূল লড়াই হবে।
তাদের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবে বিএনপির আরেক বিদ্রোহী এস এন তরুণ দে (কলার ছড়ি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন মাহদি (শাপলা কলি) । শেষ দুজন যেকোনো মূহুর্তে ফলাফল পাল্টে দিতে পারে। প্রবাস অধ্যুষিত এই আসনে মূল ফ্যাক্টর হবে নারী ভোটার। নতুন তরুন ভোটারাও প্রভাব ফেলবে।
দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের আংশিক) আসনে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু হতেই উপজেলার রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে গতি ফিরে এসেছে। মাইকিং স্লোগান, আর ব্যানারে মুখরিত হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদের উপজেলার হাট-বাজার, গ্রাম-মহল্লাগুলোতে। প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। উপজেলার চায়ের দোকান, বাজারের মোড়ের দোকানে এখন চলছে নির্বাচনের আমেজ। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না থাকায় এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নতুন করে আগ্রহ বাড়লেও তবে অধিকাংশ ভোটার এখনো নীরব।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতাই সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থীদের পক্ষে। নীরব ভোটারই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। একটি বিষয় স্পষ্ট ভোটার কম কথা বলছেন, তবে ভোট নিয়ে তাদের আগ্রহ কম নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ দিন ভোট না দিতে পারায় শেষ মুহুর্তে ভোটের হিসেব পাল্টে দিতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুর গাছ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (হাঁস) শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তবে নীরব ভোটার ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত এবং শেষ মুহুর্তের কৌশলই এই আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। শীতের মৌসুমেও এই আসনে পুরোদমে বইছে নির্বাচনি গরম হাওয়া। বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দলের একাধিক প্রার্থীরা জোরে সোরে চালাচ্ছেন নির্বাচনি প্রচারণা।
নিয়মিত জনসভা ও উঠান বৈঠকে জুনায়েদ আল হাবিব বলছেন, এবারের নির্বাচন অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণের ভোটের লড়াই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুর গাছ) বিএনপি-সমর্থিত ভোটে এগিয়ে আছে।
এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে খেজুর গাছ মার্কায় বিএনপি–জমিয়ত জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় বিশিষ্ট আলেম, ওয়ায়েজ ও হাকিমুন নফস মাওলানা মুফতি মুশতাকুন নবী কাসেমী এর সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা এবং অংশ গ্রহণ নেয়ায় ভোটারদের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
তরুণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাওলানা মুফতি মুশতাকুন নবী কাসেমী এর হুজুরের অংশগ্রহণ এবং বিএনপি–জমিয়ত জোট মনোনীত প্রার্থীই তাদের পছন্দের প্রার্থী। যেহেতু হুজুর তাই দুর্নীতি করার কোন সুযোগ থাকবে না। যতটুকু উন্নয়নই হয় তা হবে শতভাগ বা ১০০%।
সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বাসিন্দা মনির মিয়া বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারাই দেশের ক্ষমতায় এসেছে, তারা শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে। চেত্রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করে দেয়নি। তিনি আরো যোগ করেন, অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এবার প্রার্থীদের কাছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই আমাদের প্রধান দাবি।
এদিকে, অরুয়াইল বাজারসংলগ্ন তিতাস নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে ইঞ্জিন নৌকা ও বাল্কহেড নির্মাণ শিল্প। পরিসর ছোট হলেও সম্ভাবনাময় শিল্পটি প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া তিতাস নদী ড্রেজিং করে অরুয়াইল বাজারে নৌবন্দর স্থাপনের দাবিও ভোটারদের কণ্ঠে। যার মাধ্যমে বদলে যাবে সরাইল অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের আংশিক) আসনে সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের অন্তরায় গ্রাম্য দাঙ্গা। দুই উপজেলায় যুগ যুগ ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, গোষ্ঠিগত বিরোধ ও জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধসহ তুচ্ছ ঘটনার জেরে চলছে দাঙ্গা। অভিযোগ রয়েছে, গ্রাম্য সর্দাররা নিজেদের আর্থিক ফায়দা হাসিলের জন্য দাঙ্গা উসকে দেন। দাঙ্গা পরবর্তী মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন সর্দাররা। তাই গ্রাম্য দাঙ্গা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন ভোটাররা।
ভোটারদের অতিপ্রয়োজনীয় দাবিগুলোকে প্রাধান্য দিয়েই প্রার্থীরা ইশতেহার সাজাচ্ছেন। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে ছুটছেন।
বিএনপি শরিক জোটের মনোনিত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনাইদ আল হাবিব বলেন, সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের মানুষ আমাকে আপ্রাণ ভালোবাসা দিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল দিতে পারব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঐক্যের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে। ঐক্য ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকি, তাহলে সামনে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। সরাইল-আশুগঞ্জে খেজুর গাছ মার্কাই ধানের শীষ।
একই সঙ্গে এই আসনে সক্রিয় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য জেলা জামায়াতের আমীর, মাওলানা মোবারক হোসেন। সম্প্রতি তাঁর নেতৃত্বে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, উঠান বৈঠক, সভা সমাবেশ, গণমিছিল ও সাংগঠনিক তৎপরতা এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদী।নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে তিনি তরুণ ভোটারদের টার্গেট করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এদিকে, কয়েকজন প্রার্থীর সাথে যোগযোগ করার চেষ্টা করা হলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তাই বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে রুমিন ফারহানা ও তরুণ দে দল থেকে বহিষ্কার হন। তাদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়ে সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। এদিকে, বহিষ্কার আতঙ্কে অনেক নেতাকর্মী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের পক্ষ প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন এমনকি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে লাইভে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে সমর্থন করেছেন।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দলীয় ও জোট সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই আসনে সরাইলের ৯ টি, আশুগঞ্জের ৮ টি ও বিজয়নগরের ২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ জন। পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ২শত ৪৫ জন। নারী ভোটার ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ২শত ০১ জন, হিজড়া ভোটর ২জন। ৯৮টি কেন্দ্রের ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সরাইল প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান, সরাইল উপজেলার নীচ সরাইলের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমেদ তফছিরের স্মরণে সরাইলে শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এলাকাবাসীর উদ্যোগে ২৮ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা জাসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন সাঈদ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও আশরাফুল ইসলাম শাব্বিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোকসভায় বক্তব্য রাখেন-সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুর রাশেদ, সরাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আইয়ুব খান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুব খান, আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, জাপা নেতা অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, শিক্ষক নেতা মোঃ শামছুল আলম, উদীচী সরাইল শাখার সভাপতি মোঃ মোজাম্মেল পাঠান, শিক্ষক ও সংস্কৃতি কর্মী দেওয়ান রওশন আরা লাকী, প্রভাষক জাকির আহমেদ আকছির, ন্যাপ নেতা আবদুল জব্বার, সমাজকর্মী আবদুস সুবহান মাখন, সমাজ সেবক শাহ সিরাজ, মোঃ বিল্লাল হোসেন প্রমুখ।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, হোসাইন আহমেদ ছিলেন সৎ নিষ্ঠাবান, নিঃস্বার্থ ও পরোপকারী চিত্তের মানুষ। স্বল্প সময়ের জীবনে তিনি শুধু মানুষ ও সমাজের জন্যই কাজ করেছেন। নীতিতে আপোষহীন তফছির বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সামাজ গড়তে নির্ভয়ে রাজনীতি করে গেছেন। অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতি কখনো তফছিরকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি একজন নৈতিকতা সম্পন্ন আদর্শ মানুষ ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সমাজ ও সরাইলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আলোচনা সভা শেষে তফছিরের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।