চলারপথে রিপোর্ট :
সরাইল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৩ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।
আজ ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি চেকপোস্ট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন আব্দুল্লাহ (২৯), আবুল কালাম (৪৭) এবং শাহ আলম (৪২)। তারা সবাই সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানের সময় চেকপোস্টে সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তাদের তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ‘মাদক নির্মূলে সরাইল থানার পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। আমরা মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি।” গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘মাদক ব্যবসা বন্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি এবং জনগণের সহায়তায় সমাজ থেকে মাদক নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।’
স্থানীয়রা পুলিশের এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মাদক নির্মূলে এমন অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৭ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৫ এপ্রিল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কের ধরন্তী দুল্লাই ব্রিজের পাশ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মো. ইব্রাহিম মিয়া জেলার সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা এলাকার সহিদ মিয়ার ছেলে, একই উপজেলার ইসলামাবাদ (গোগদ) এলাকার জমির আলীর ছেলে মো. হেলাল, ধরন্তী (মুলবর্গ) এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে মোখলেছ মিয়া, একই এলাকার ইসমাইল মিয়ার ছেলে অপু মিয়া, আ. হামিদের ছেলে মো. বিল্লাল মিয়া, জেলার সদর উপজেলার মালিহাতা এলাকার মো. আক্তার মিয়ার ছেলে মো. শামীম মিয়া ও একই এলাকার আনোয়ার মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কের ধরন্তী এলাকায় দুল্লাই ব্রিজের পাশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও ছোরা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। শনিবার দুপুরে কোর্টের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
সরাইলে ৭ বছরের শালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে ভগ্নিপতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ ২ জুলাই রবিবার দুপুরে উপজেলার শাহবাজপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতের নজরুল মিয়া (২৩)। তিনি সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর গ্রামের মধ্যপাড়ার মোঃ নূরুল ইসলামের ছেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসলাম হোসাইন বলেন, গত ২৫ জুন বিকেলে ৭ বছরের ওই শিশু তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়।
পরদিন ২৬ জুন বেলা ১১টার দিকে ভগ্নিপতি নজরুল মিয়া শিশু শালিকাকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। পরে তার চিৎকার শুনে বোনসহ বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে নজরুল মিয়া পালিয়ে যায়।
পরে বাড়ির লোকজন শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভর্তি করে।
এ ঘটনায় শিশুর পিতা বাদি হয়ে জামাতার বিরুদ্ধে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে পুলিশ নজরুলকে গ্রেফতার করে।
চলারপথে রিপোর্ট :
‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিস্কার হাত সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে উপজেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আয়োজনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত হয়েছে। ভার্কের সহযোগিতায় দিবসটি পালন উপলক্ষে আজ ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসন চত্বর থেকে ইউএনও’র নেতৃত্বে একটি র্যালি বের হয়।
র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রূপক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা: মো. কামরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সিফাত বিন রহমান, মৎস্য কর্মকর্তা মো. মকসুদ হোসেন, বিআরডিবি কর্মকর্তা মো. মাসুদ মিয়া, মাধ্যমিক শিক্ষার অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার ইতি বেগম, ‘তরী’ সরাইল শাখার আহ্বায়ক ও মহিলা কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ মাহবুব খান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার, নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনসুর আহমেদ, সরাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আহমেদ তফছির, উপলদ্ধির নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক মো. শরীফ উদ্দিন ও ভার্কের প্রতিনিধি চিত্তনঞ্জন শীল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মানুষের হাত ধোয়ার গুরুত্ব অনেক। কারণ হাত শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ স্পর্শ করে থাকে। ফলে হাতের জীবাণু মানবদেহের ভেতরে সহজেই প্রবেশ করে জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। তাই পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যকে খাবার আগে পরে লেট্রিন থেকে আসার পরে সাবান দিয়ে দুই হাত ভালভাবে ধৌত করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের মধ্যেও এই প্র্যাকটিস নিয়মিত করতে হবে। হাত ধোয়ার প্র্যাকটিস ও অভ্যাস মানব জাতিকে অনেক দূরারোগ্য ব্যাধিতে থেকে রক্ষা করবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের আজবপুর মেঘনা নদীর কিনার ঘেষা প্রায় ৫০০ (পাঁচ শত) মিটার দীর্ঘ এলাকা ২ এপ্রিল মেঘনা নদীর ভাঙ্গনের ফলে আনুমানিক মোট ৫,৪৮০০ একর ভূমি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে বর্তমানে সিকন্তি ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আরও বিলীন হওয়ার পথে ৬,৫৯০০ একর ভূমি ।
সূত্রে জানা যায়, আজবপুর মেঘনা নদীর তীরে আজপুর বাজারের সন্নিকটে অবস্থিত। আনুমানিক মোট ৫,৪৮০০ একর ভূমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে বর্তমানে সিকন্তি ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে ভূমি বিলীন হয়ে যাওয়া কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেরই বসতঘর, দোকান ও রেলডক ছিল। নদীর ভাঙ্গনে এসব নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী হাফিজ মোল্লা জানান, তার একটি রেলডক এবং একটি আধাপাকা ঘর ছিল যা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মজনু মিয়া বলেন, তার একটি রেলডক এবং একটি বসত ঘর ও একটি দোকান ঘর ছিল যা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। জাহিদ মিয়ারও একটি আধাপাকা বসত ঘর ও একটি দোকান ঘর ছিল যা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় ও আনোয়ার বলেন, তার ভিটি ভূমি ছিল যা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
গত ৭ এপ্রিল সোমবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমান ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোশারফ হোসাইন, সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাগণ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জনপ্রতিনিধি, ভুক্তভোগীসহ শত শত জনতার উপস্থিতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখে যান ।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সরাইল উপজেলা প্রশাসক মোঃ মোশারফ হোসাইন জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া’কে সাথে নিয়ে তিনি বিলীন হয়ে যাওয়া এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এলাকাবাসীকে ভাঙ্গনের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। আমরা স্থানীয়ভাবে আপাতত, জিও ব্যাগের মাধ্যমে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে বলে দিয়েছি। এব্যাপারে, উপজেলা প্রশাসনের ১% তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। আজ ৮ নভেম্বর বুধবার দুপুরে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বৈঠকের মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. রুহুল আমিন তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীকে শাহজাহান আলম ৬৬ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা কলার ছড়ি প্রতীকে পান ৩৭ হাজার ৫৫৭ ভোট।
তবে, আশুগঞ্জ উপজেলার বড়তল্লা, তালশহর পশ্চিম ও যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নূরানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট স্থগিত করে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন।
পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. রুহুল আমিনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে ৮ নভেম্বর বুধবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. জয়নাল আবেদীনসহ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বক্তব্য শুনতে বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
তবে তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. রুহুল আমিন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।