চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সরাইল উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগে সামাজিক সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সরাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হিন্দু মুসলিম এক হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। সবার মুখে একই কথা, আমরা যে যেই ধর্মেরই মানুষ হই-আমরা সবাই বাংলাদেশী। আমরা আমাদের দেশেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এবং আমরা সব ধর্মের মানুষ একই সমাজে মিলেমিশে বসবাস করে আসছি আর আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ, বিবাদ নেই।
সভায় সরাইল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন, ভূমি অফিসার সিরাজুম মুনিরা সরাইল উপজেলা ও অফিসার ইনচার্জ, সরাইল থানা।
মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ার হোসেন মাস্টার, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, আবদুল জব্বার চেয়ারম্যান, সরাইল বাজার সেক্রেটারি বাবুল মিয়া, নুর আলম মিয়া, মাওলানা মঈনুল ইসলাম, হোসেন মিয়া, আব্দুল বারিক ও কামাল খন্দকার। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবু প্রমথনাথ, দেবদাস সিংহ রায়, বাউল দুর্গা চরণ দাস, দীলিপ বাবু প্রমুখ।
এসময় সরাইল উপজেলার সকল স্তরের জনগণের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সবারই শ্লোগান ছিল আমরা সবাই ভাই ভাই, আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ নাই। হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, মিলেমিশে বাঁচতে চাই। দেশ এক জাতি এক, দেশ আমাদের বাংলাদেশ।
জেলাপরিষদ চেয়ারম্যান, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার এক বিবৃতিতে, জাতীয় সংসদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তারের বিজয়কে ‘ষড়যন্ত্র ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের বিজয় হিসাবে’’ উল্লেখ করে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন উপহার দেওয়ায় তিনি সরাইল ও আশুগঞ্জ নির্বাচনি এলাকার ভোটার এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি উপ-নির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতির বিষয় উল্লেখ করে বলেন, উপ-নির্বাচনটিতে রাজনৈতিক দল ভিত্তিক প্রার্থী বা প্রতিযোগীতা এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় নির্বাচনে উত্তাপ ছিলনা। সে কারণে ভোটারদের আগ্রহ ও কাক্সিক্ষত উপস্থিতি ছিলনা।
তবে, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ফলে ‘বিএনপি’র নির্বাচন বর্জন বা প্রতিহতের ঘোষণা’ জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখাত হয়ে বিএনপি একটি জনসমর্থন বিহীন ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক দল হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চলারপথে রিপোর্ট :
২৪ হেক্টরেরও অধিক ইরিবোরো ধানের জমি ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কৃষি অফিস বলছেন, পোকা মাকড় জীবাণুর আক্রমণ বা ব্লাস্ট রোগ।
কৃষকরা বলছেন, ধানে চাল আসার আগেই ছড়াগুলো জ্বলে পুড়ে লালচে হয়ে ঝরে পড়ছে। কোথাও সাদা পাউডারের মতো হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার জয়ধরকান্দি, দেওড়া, মলাইশ, নিয়ামতপুর, ধাউরিয়া, চুণ্টা, বিটঘর গ্রামের ফসলি মাঠে ও কালিকচ্ছের ধর্মতীর্থ এলাকায় আকাশী হাওর বিলে বি আর-২৮ ধানের জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছে।
সরাইল উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরাইল উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে ইরিবোরো ধানের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২৪ হেক্টর জমি। তবে কৃষকদের দেয়া তথ্য মতে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫-৪০ হেক্টর জমির ধান। অধিকাংশ এলাকায় বিআর-২৮ জাতের ধান আক্রান্ত হয়েছে। এই জাতের ধান চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করে কৃষি অফিস। কারণ এগুলো অনেক পুরাতন মডেল।
তাই ২৮ জাতের ধানে দ্রুত পোকা মাকড় ও জীবাণু আক্রমণ করে ক্ষতি করে থাকে। এর পরিবর্তে নতুন উন্নত জাতের ধান এখন বিআর-৮৮, ৮৯ জাত। জয়ধরকান্দি গ্রামের কৃষক সেলিম মিয়া (৪০) ও ইমরান মিয়া (৩৫) বলেন, বিঘা প্রতি ৭-৮ হাজার টাকা খরচ করেছি। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ধানে এখনো চাল হয়নি। এরই মধ্যে ছড়া লাল বা সাদা রঙ ধারণ করে নিচ দিয়ে ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। আবার সাদা পাউডারের মতো হয়ে পড়ছে। এই এলাকায় শতাধিক বিঘা জমি আক্রান্ত হয়েছে। কেটে আনলে হাঁস মোরগের খাবার হবে। গ্রামের দোকানদার থেকে ১০ কেজি ওজনের বীজ ধানের প্যাকেট ৬ থেকে ৭শ’ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছিলাম। প্যাকেটের উপরে লেখা ছিল ‘কুমিল্লা’ও ‘চুয়াডাঙ্গা’। ধান নেই তারপরও এক কানি জমি কাটতে ৩৬শ’ টাকা লাগে। এবার কি খেয়ে বাঁচবো জানি না? দেওড়া গ্রামের কৃষক মো. জয়নাল মিয়া, ধাউরিয়া গ্রামের কৃষক ক্ষিরোদ মজুমদার, লিল মহন সরকার, নিরঞ্জন সরকার, জগদিশ সরকার বলেন, আমাদের এখানে প্রায় দেড় শতাধিক বিঘা জমি শেষ। এখন কেটে গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে। কালিকচ্ছ বাজারের ‘কৃষকবন্ধু’ দোকানের মালিক মো. সেলিম মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় কৃষকরা লাইন ধরে পোকা মাকড় ধ্বংস ও আগাছা নাশক ওষুধ ক্রয় করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরাম হোসেন ২৮-২৯ জাতের ধান আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অনেক পুরাতন হওয়ায় প্রকৃতিগতভাবেই এই জাতের ধানে জীবাণু আক্রমণ করে থাকে। এই ধান চাষে আমরা কৃষকদের নিরুৎসাহিত করে থাকি। লেটেস্ট ও ভালো বীজ হচ্ছে ৮৮, ৮৯ জাতের ধান। আমরা প্রণোদনায়ও আধুনিক বীজ দিয়ে থাকি।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা ছাত্র-জনতা উদ্যোগে “এসো নবীন রুখে দাঁড়ায়” ধর্ষণকারীর কোন দল নাই” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশে গণহারে ধর্ষণের প্রতিবাদে ও ন্যায় বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে ছাত্র জনতা ব্যানারে একটি মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলা বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরাইল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধর্ষকের কোনো পরিচয় নাই, যে দলের হোক তার টাই বাংলাদেশে হবে না। আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্র জনতা সরাইল উপজেলা সারাদেশের বৈষম্যর বিরুদ্ধে ড্রাইরেক অ্যাকশনে গিয়েছি। আমরা যেখানে পাই প্রতিকার চেয়ে প্রতিরোধ করব। এখন আমরা দেখছি যে ধর্ষককারী তার কোন শাস্তি হয় না। কিন্তু যে ধর্ষককারীকে হত্যা করে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। আমরা অতি সত্যে আমাদের উপদেষ্টাকে বলবো আপনারা যদি ছিনতাই, ধর্ষণকারী, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারেন তাহলে পদত্যাগ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মো. ইফরান খান, আলিফ মাহমুদ নাহিদ, আল-আমিন, রিয়াদুল ইসলাম, মৃদুল, সাইফুল, আমিরুল, আরাফ, তামিম, সানিয়া প্রমুখ।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাটিহাতা (বিশ্বরোড) গোলচত্বর নামক এলাকায় চাঁদাবাজির সময় তিন জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। ২৪ জুন মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার খাটিহাতা (বিশ্বরোড) গোলচত্বর এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট সাইফের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি করার সময় তিনজনকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ হাবিব মিয়া ছেলে মোঃ মোকলেস মিয়া (৫৫), মৃত শামসু মিয়ার ছেলে নয়ন (৩০) এবং আব্দুল আলীর ছেলে মোঃ আরাফাত আলী।
অভিযানে গ্রেফতার করার পর তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ অভিযানকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।
খাটিহাতা এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন যানবাহন থেকে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি চাঁদা তুলে আসছে। একাধিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, চাঁদাবাজি সড়ক দখল সন্ত্রাসী প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান আব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড (খাটিহাতা) নামক স্থানে চাঁদা আদায় করার একটি ভিডিও ধারণ করে সোস্যাল মিডিয়ায় আপলোড দেওয়া হয় এবং সাথে সাথে এই ভিডিওটি সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়। ভিডিওতে এক চাঁদাবাজকে বলতে শোনা যায় ৪০ বছর ধরে এভাবেই গাড়ি থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টিতে আসলে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এদের পিছনে কারা এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে এটি খতিয়ে দেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার (খাটিহাতা) বিশ্বরোডের গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটিকে চাঁদাবাজমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও যাত্রী সাধারণ।
