চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬২ জন পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। আজ ১৮ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ এই বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জন্মগ্রহণকারী ৬২ জন পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এসব বীর পুলিশ সদস্যরা তাঁদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগ, অসম সাহসীকতা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান আরো বলেন, আজকের এই সংবর্ধনা আমাদের ঋণ শোধের ক্ষুদ্র একটি প্রয়াস। মুক্তিযুদ্ধের বীর পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগের জন্য দেশের জনগণ চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা।
স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গভ. মডেল গার্লস হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তির ফলাফলে তাহিয়া নামের এক শিক্ষার্থীর নাম ১৪ বার উঠেছে। এর মধ্যে মেধা তালিকায় ১০ বার ও অপেক্ষমান তালিকায় চারবার তার নাম উঠে। একইভাবে ফারিয়া জামান জেসি ও ফারিয়া আরফা নামে এক শিক্ষার্থীর নাম পাঁচবার উঠে। একই ছবি ও জন্মনিবন্ধন নম্বরে ফারিয়া জামান জেসি ও ফারিয়া আরফা নামে পৃথক নাম রয়েছে তালিকায়। এ ধরণের ‘অদ্ভুত’ ফলাফলে নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরাও বিষয়টি নিয়ে হতবাক। তবে কি কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে এ বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গভ. মডেল গালর্স হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১৪১ জন ভর্তির জন্য আবেদন নেওয়া হয়। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের তালিকা সোমবার বিকেলে স্কুলের ফটকে লাগিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফলাফল দেখতে ভীড় জমে। ফলাফল ঘেঁটে দেখা যায়, তাহিয়া নামে এক শিক্ষার্থীর নাম মেধা তালিকায় আটবার ও অপেক্ষমান তালিকায় ছয়বার রয়েছে। ফলাফলে তাহিয়ার একই ছবি রয়েছে। তবে একাধিক জায়গায় জন্মনিবন্ধন ও মোবাইল নম্বর ভিন্ন। তাহিয়ার বাবার নাম রুবেল মিয়া ও মা লাভলী বেগম। তাহিয়ার নাম মেধা তালিকার ৫, ১৩, ১৭, ২৪, ৩২, ৩৬, ৬৬, ৬৭, ৯৮, ১১৬ তে রয়েছে। অপেক্ষমান তালিকার ৮১, ১০৮, ১১৬ ও ১১৮ তে রয়েছে। একইভাবে ফারিয়া জামান জেসি নামে আরেক শিক্ষার্থীর নাম মেধা তালিকায় তিনবার ও ফারিয়ার আরফা দুইবার রয়েছে। ফারিয়ার ক্ষেত্রে সব ছবি এক থাকলেও নামের ক্ষেত্রে কোথাও ফারিয়া জামান জেসি, ফারিয়া আরফা রয়েছে। তবে জন্মনিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বর একই রয়েছে।

ফারিয়ার বাবার নাম আবু জামিল ও মায়ের নাম তানিয়া আক্তার। ফারিয়ার জামানের নাম ১, ১০৮, ১৩৩, ফারিয়া আরফা নাম মেধাতালিকার ৯৩ ও ১৩৫ এ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক পারভীন আক্তার বলেন, ‘ফলাফল দেখার সময় বিষয়টি আমাদের চোখে পড়ে। তাহিয়া নামে শিক্ষার্থীর নাম দুই তালিকায় ১৪ বার উঠেছে। তবে কিভাবে কি হয়েছে সেটা আমাদের জানা নেই।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই।’
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত ঠিকাদার ও জেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক গণপূর্তমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহচর হামিদুল হক ভূইয়া হামদুকে (৬৫) গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানার পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৯ অক্টোবর বুধবার রাতে চট্টগ্রামের চক-বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আজ ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
হামিদুল হক ভূইয়া হামদু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমান ভূইয়ার ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হামদু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব সরকারি অফিসের ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হামদু আত্মগোপনে চলে যান। বুধবার রাতে সদর মডেল থানার পুলিশ চট্টগ্রামের চক-বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, হামদুর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হত্যা মামলা, একটি গুম ও একটি বিষ্ফোরক মামলা। রাতে তাকে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার বিকেলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে আলোচনা সভা আয়োজন করে ভাসানী চর্চা কেন্দ্র। সংগঠক অ্যাডভোকেট আবদুন নূরের সভাপতিত্বে ভাসানীর কর্মময় জীবনের নানাদিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বণিক।
সভার শুরুতে মজলুম জননেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। বক্তারা বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের আপসহীন কণ্ঠস্বর। তিনি আজীবন সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, সামন্তবাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন।
সভায় আইনজীবী ও জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মো. জামাল, সিপিবির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আহমেদ হোসেন, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমুর রেজা মো. শাহজাদসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ ৭ অক্টোবর সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর-আখাউড়া আঞ্চলিক সড়কের বাসুদেব ইউপির কোট্টা সড়কের পাশ থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিকেলে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউপির কোট্টা সড়কের পাশে লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে সেখান থেকে একজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মর্গে প্রেরণ করে। ওসি আরো জানান, অজ্ঞাত নারীর বয়স আনুমানিক ২৫। তার নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। নিহতের শরীরে গোলাপী রঙের বোরখা ছিল। লাশের বিভিন্ন অংশে পিঁপড়া ও পোকামাকড় কামড়ে মাংস তুলে ফেলেছে। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রোববার দিবাগত রাতে যে কেউ তাকে হত্যা করে ফেলে যায়। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।