অনলাইন ডেস্ক :
সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে এবার তুরস্কে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে রাশিয়ান ও মার্কিন কূটনীতিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
কাতার সফররত ল্যাভরভ আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশ তাদের দুই দেশের দূতাবাস পরিচালনায় ‘পদ্ধতিগত সমস্যা’ নিয়ে আলোচনা করবে।
জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে উভয় দেশই নিজ নিজ ভূখণ্ড থেকে অন্য দেশের দূতাবাস কর্মীদের বহিষ্কার করেছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই মস্কো ও ওয়াশিংটন কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ও রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে গত সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রথমবারের মতো উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে বসেন দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ইউক্রেন ইস্যুতে তিন বছর ধরে চলা বৈরিতার পর, এই বৈঠক ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রথম সরাসরি প্রচেষ্টা।
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ওই বৈঠকের পর পরবর্তী বৈঠকের জন্য ‘তুরস্ক আদর্শ স্থান’ হতে পারে বলে প্রস্তাব দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, “তুরস্ক রাশিয়া-ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়াকে সফল করতে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
আগামীকাল বৃহস্পতিবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সংকটের সমাধানে নজর দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার জন্য পুতিনকে ফোন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ট্রাম্পের সরাসরি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, আল-জাজিরা
অনলাইন ডেস্ক :
মক্কার ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো পবিত্র রমজান মাসে রমজানের দ্বিতীয় জুমার তারাবির নামাজে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তারাবির নামাজে মুসল্লিদের সংখ্যা বাড়ার কারণে কাবার গ্র্যান্ড মসজিদ পেরিয়ে নামাজের কাতার গিয়েছিল সাড়ে তিন কিলোমিটারেরও বেশি দূরের মাআলা এলাকায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে দেখা যায় মাআলা এলাকায় মুসল্লিদের ভিড়ের দৃশ্য। সাথে সাথে ড্রোন থেকে তোলা ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয় নেট দুনিয়ায়।
পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লি পবিত্র নগরী মক্কায় ভিড় করেন।
এছাড়া রমজান মাস ওমরা পালনের জন্য আদর্শ মৌসুম এবং এ মাসেই রয়েছে ইতিকাফ করার সুযোগ। এজন্য রমজান মাস জুড়ে মক্কা মদিনায় ভিড় লেগেই থাকে। সূত্র: গালফ নিউজ
অনলাইন ডেস্ক :
নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
আজ ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজ বাসভবনে প্রায় ১ ঘণ্টা বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে৷ গত ৯ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতি খুবই সন্তোষজনক৷ আমাদের আলোচনায় কানেক্টিভিটি, বাণিজ্যিক সংযুক্তি এবং আরও অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার দুপুরে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ৯ এবং ১০ সেপ্টেম্বর জি-২০ এর দুটি পৃথক অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
অনলাইন ডেস্ক :
ভারতে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব দুই বন্ধুর হাতে। তাঁরা হলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এবং অ্যাডমিরাল দিনেশ ত্রিপাঠি। এমন ঘটনা ভারতে এই প্রথম।
অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠি গত ১ মে নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। আর আগামীকাল (১ জুলাই) সোমবার লেফটেন্যান্ট জেনারেল দ্বিবেদী সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
দুজন ১৯৭০–এর দশকের প্রথম দিকে ভারতের মধ্যপ্রদেশের সৈনিক স্কুল রেওয়ায় লেখাপড়া করতেন। ওই স্কুলে তাঁরা পঞ্চম শ্রেণি থেকে এ-লেভেল পর্যন্ত একসঙ্গে লেখাপড়া করেছেন। তাঁদের দুজনের রোল নম্বরও কাছাকাছি ছিল। লেফটেন্যান্ট জেনারেল দ্বিবেদীর রোল নম্বর ছিল ৯৩১ এবং অ্যাডমিরাল দিনেশ ত্রিপাঠির রোল নম্বর ছিল ৯৩৮।
স্কুলের প্রথম দিকে তাঁদের দুজনের মধ্যে বেশ ভালো বন্ধুত্ব ছিল। স্কুলের পরেও দুই বন্ধু একে অন্যের খোঁজ নিতেন। যোগাযোগ রাখতেন। দুজনকেই চেনেন এমন একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, সামরিক বাহিনীতে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব দুই বাহিনীর সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
দুই বন্ধুর দুই বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সময়ও প্রায় কাছাকাছি। ব্যবধান মাত্র দুই মাসের।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল দ্বিবেদী দীর্ঘদিন ভারতের সেনাবাহিনীর নর্দান আর্মি কমান্ডার ছিলেন। এএনআই এর তথ্য মতে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল দ্বিবেদী ১৯৮৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর জম্মু ও কাশ্মীর রাইফেলসে যোগ দেন।
অনলাইন ডেস্ক :
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ইস্যুতে সৌদি আরবের অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে রিয়াদ। এক বিবৃতিতে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রশ্নে সৌদির অবস্থান আগের মতোই আছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদেনে এমন খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করতে গতকাল ওয়াশিংটন গিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শুরুর আগে ওভাল অফিসেই এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন করেন দুই দেশের সরকারপ্রধান।
সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রসঙ্গ তোলা হয়। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সৌদি যদি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দাবি করে, সেক্ষেত্রে ট্রাম্প কী করবেন।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, না, তারা দাবি করবেন না। কারণ সবাই একটি ব্যাপারই চায়- শান্তি।
নিকট ভবিষ্যতে সৌদির সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে- এমন ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের জন্য আমাদের একজন সঠিক নেতা রয়েছেন। তিনিও শান্তি চান।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিবৃতি দিয়ে এ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইস্যুতে সৌদির যে অবস্থান, তা দৃঢ় এবং অবিচল। কোনো অবস্থাতেই এর পরিবর্তন ঘটবে না।
“মহামান্য ক্রাউন প্রিন্স এবং সৌদির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদ ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর শুরা কাউন্সিলের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীনভাবে এ ইস্যুতে দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পরে গত ১১ নভেম্বর আরব-ইসলামিক সম্মেলনেও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ইস্যুতে সৌদি আরবের প্রতিশ্রুত অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ১৯৬৭ সালে নির্ধারিত সীমান্তের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনকে ইসরায়েলের দখলমুক্ত করতে হবে। তাই এ ইস্যুতে সৌদি আরবের অবস্থান অটল এবং কোনোভাবেই এখানে আপোস হবে না। আন্তর্জাতিক রেজোল্যুশন মেনে ফিলিস্তিনের জনগণের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া না হলে কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপন সম্ভব নয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ৭৫ সদস্য দেশ ত্যাগ করেছেন। তারা লেবাননের নেশন্স ইন্টারিম ফোর্স ইন লেবাননে (ইউনিফিল) যোগ দিতে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেছেন।
আজ ১৩ অক্টোবর শুক্রবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লেবাননগামী নৌ সদস্যদের বিদায় জানান চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী। বাংলাদেশ নৌ বাহিনী কন্টিনজেন্ট ‘ব্যানকন-১৪’-এর আওতায় লেবাননে মোতায়েন করা নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘সংগ্রাম’-এ নৌ সদস্যরা যোগদান করবেন।
এর আগে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বানৌজা ঈসা খানে লেবাননগামী নৌ সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান। তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সততা, নিষ্ঠা এবং পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী তথা দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত ও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করতে একযোগে কাজ করতে হবে।’
২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। ভূমধ্যসাগরে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে নিয়োজিত সংগ্রাম যুদ্ধজাহাজ লেবাননের ভূখণ্ড অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি লেবানিজ জলসীমায় মেরিটাইম ইন্টারডিকশন অপারেশন পরিচালনা, সন্দেহজনক জাহাজ ও উড়োজাহাজের ওপর নজরদারি, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে উদ্ধার তৎপরতা এবং লেবানিজ নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করছে।