চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দেড় কোটির বেশি টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ২০ মিনিটে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) কসবা উপজেলার রঘুরামপুর এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব শাড়ি জব্দ করে।
জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে মোট ১ হাজার ৬৩৪ পিস ভারতীয় শাড়ি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি ৫৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, এএসসি বলেন, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবি সবসময় সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ভারতীয় মালামাল জব্দ করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায় প্রথমবারের মতো নারী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন নাজনীন সুলতানা। কসবার দীর্ঘ প্রশাসনিক ইতিহাসে এটি নতুন এক অধ্যায় রচনা করল।
কসবার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :
ঐতিহাসিক প্রাক-সমর কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত কসবা উপজেলার শিকড় বহু প্রাচীন। মোগল যুগে কসবা ছিল যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বিশেষ করে সড়কপথে ঢাকা–চট্টগ্রাম বাণিজ্য রুটের জন্য। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে প্রশাসনিক প্রয়োজনেই কসবা থানা প্রতিষ্ঠা পায়।
১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলা থেকে আলাদা হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গঠিত হলে কসবা নতুন জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় পরিণত হয়। বর্তমানে জেলার ৯টি থানার মধ্যে কসবা অন্যতম জনবহুল ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ থানা। স্বাধীনতার পর বহু ওসি দায়িত্ব পালন করলেও নারী হিসেবে নাজনীন সুলতানাই প্রথমবারের মতো এই দায়িত্ব পেলেন।
নারী ওসি হিসেবে নতুন সূচনা : এর আগে নাজনীন সুলতানা কুমিল্লার লাকসাম থানায় দায়িত্ব পালন করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। লাকসামের বাসিন্দারা তাঁর দৃঢ়তা, মানবিকতা ও কর্মদক্ষতার জন্য তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণ করছেন। তাঁর সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে কুমিল্লা রেঞ্জের বিভিন্ন থানায় আরও নারী ইন্সপেক্টর পদায়নের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বছরের ৮ অক্টোবর তিনি লাকসাম থানার ইতিহাসে প্রথম নারী ওসি হিসেবে যোগদান করেন এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
নাজনীন সুলতানার জীবন ও কর্মজীবন: চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার পূর্ব সৈয়দপুর গ্রামের ফজলুল হক ভূঁইয়ার কন্যা নাজনীন চার ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি তিনি এলএলবি ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।
২০০৭ সালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর ফেনী সদর, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি, ডবলমুরিং, খুলসী, এসবি, ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে অপারেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে দেশের সুনাম বয়ে আনেন।
লাকসাম থানা (প্রতিষ্ঠা ১৯৮২) এর ৪০তম ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর এবার তিনি কসবা থানায় নতুন দায়িত্ব নিলেন—এবারও প্রথম নারী হিসেবে।
কসবার জন্য নতুন প্রত্যাশা : নাজনীন সুলতানার দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে কসবাবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যেই নতুন আশা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নারী-শিশুর নিরাপত্তা এবং সেবামুখী পুলিশিং–এ তাঁর নেতৃত্ব নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবায় ৩০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার ভোর রাতে উপজেলার কালামুড়িয়া গ্রামের রাস্তা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলার জাগরঝুলি গ্রামের মোঃ জামান হোসেন ও ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার বাগাইতলা গ্রামের আবদুর রহমান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) রাজু আহমেদ বলেন, শনিবার ভোররাতে কালামুড়িয়া গ্রামের রাস্তার উপর থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।পরে তাদের সাথে থাকা বস্তা তল্লাশী করে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের পর দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
কসবায় ১শ ৩০ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে কসবা থানা পুলিশ। আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় এসব গাঁজা।
এ সময় বস্তাভর্তি গাঁজা ফেলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় মাদককারবারিরা। এ ঘটনায় পাচারে জড়িত তিন মাদক কারবারিকে আসামি করে মাদক আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
আজ দুপুরে এক প্রেস বিপ্ততিতে জানায় কসবা থানা পুলিশ। জানা যায়, বুধবার রাতে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের দীঘিরপাড় ও খুড়াইসার এলাকা দিয়ে ভারত থেকে আসা গাঁজার বড় চালান পাচার হওয়ার সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে পাচারের অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ দেখতে পায় মাথায় করে তিন মাদককারবারি বস্তাভর্তি গাঁজা নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে গাঁজা ফেলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে ফেলে যাওয়া গাঁজা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল কাদের জানান, আজ ভোররাতের দিকে পাচারের সময় এসব গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পাচারকারীরা পালিয়ে গেলেও তাদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
কসবায় যাত্রী বেশে গাঁজা পাচারের সময় মো. জসিম (৪৭) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল ১৫ জুলাই সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কসবা উপজেলার কুটি চৌমুহনী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গাঁজাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজু আহাম্মেদ।
গ্রেফতার মো. জসিম কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের কালতা (দিঘিরপাড়) গ্রামের শিরু মিয়ার ছেলে।
ওসি রাজু আহাম্মেদ বলেন, সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাই উপজেলার কুঠি চৌমুহনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিছু লোক যাত্রী বেশে গাঁজা বহন করছে। পরে বাসস্ট্যান্ডের কাজি পরিবহন বাস কাউন্টারের সামনে থেকে মো. জসিমকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও বস্তা তল্লাশি করে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সোহাগ সরকার, সোহেল মিয়া ও নজু মিয়া নামে তিন জন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
২১ মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা ও আখাউড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন।
দুই উপজেলার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ২৩৬ জন।
ইতিমধ্যেই ভোট গ্রহনের সকল প্রস্ততি গ্রহন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আজ ২০ মে সোমবার দুপুরে কসবা ও আখাউড়া উপজেলার ১২৯ টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। স্ব স্ব উপজেলার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন থেকে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ সময় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে দুটি উপজেলার ১২৯ টি ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালট বাক্স, সীলসহ নির্বাচনী সরাঞ্জাম বুঝিয়ে দেয়া হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এসব সরাঞ্জাম পৌছে দেয়া হয়।
তবে ২১ মে মঙ্গলবার ভোর থেকে কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার পৌছে দেয়া হবে। দুই উপজেলার ১২৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬ টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে কসবা উপজেলার ৮৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি এবং আখাউড়া উপজেলার ৪৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
জেলা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অফিসারসহ দুই উপজেলায় ১০২৯জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও কসবা উপজেলায় মোবাইল টীম ৩৩টি, স্ট্রাইকিং টীম ২টি, স্ট্যান্ডবাইটীম ১টি স্পেশাল মোবাইল টীম ১৫টি থাকবে।
আখাউড়া উপজেলায় মোবাইল টীম ২০টি, স্ট্রাইকিং টীম ২টি, স্ট্যান্ডবাইটীম ১টি স্পেশাল মোবাইল টীম ১২টি থাকবে। এছাড়াও র্যাব, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ব্যাপারে নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষায় বিপুল পরিমান পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট এবং জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেটগণ দায়িত্ব পালন করবেন।