চলারপথে রিপোর্ট :
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আখাউড়ায় শোকসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নস্থ রাবিয়া খাতুন স্মৃতি পাঠাগার কক্ষে রাবিয়া খাতুন স্মৃতি পাঠাগার ও আকছির চৌধুরী চ্যারিটি ট্রাস্ট স্কুলের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ অর্ধশতাধিক মানুষ।
আকছির চৌধুরী চ্যারিটি ট্রাস্ট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মো. ফরিদ আহমেদ।
দোয়া শেষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রাবিয়া খাতুন স্মৃতি পাঠাগার ও আকছির চৌধুরী চ্যারিটি ট্রাস্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এডভোকেট আকছির এম চৌধুরী, আখাউড়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাজী হান্নান খাদেম, কবির হোসেন কানু, মনির হোসেন মুন্না, রনি চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, তোফায়েল চৌধুরী, শিউলি আক্তার, তাসলিমা আক্তার প্রমুখ।
চলারপথে রিপোর্ট :
লক্ষ্মী রানী দাস। তিনি ভারত থেকে স্বামী ও সন্তান নিয়ে আগরতলা স্থলবন্দর দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে আসেন।
যাত্রাকালে আগরতলা ইমিগ্রেশনে সুষ্ঠু ও স্বাচ্ছন্দ্যে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে এলেও আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনে এসে রীতিমত অবাক হক তিনি। বসারও সুব্যবস্থা নেই এখানে।
ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করতে গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়ালেও ছোট কক্ষটিতে নেই কোনো ফ্যান। হঠাৎ ১২ বছর বয়সী ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেবা করার জন্য কোনো স্থান না পেয়ে ইমিগ্রেশন ভবনের এক কোনায় বসে তার সেবা যত্ন করেন। আশেপাশে ছিল না কোনো টিউবওয়েল। যাও বা ট্যাংকের পানি জুটেছে, তাও তীব্র তাপদাহে তপ্ত। তা দিয়েই ছেলেকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান।
লক্ষ্মী রানী দাসের বলেন, আগরতলা ইমিগ্রেশনে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ও সুন্দর পরিবেশে আরামে সব কাজ করে এসেছি। বন্দর থেকে গাড়িতে আমাদের ফ্রি চেকপোস্ট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। অথচ আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনে এসে নাজেহাল হতে হলো। এখানে কোনো কিছুরই সুব্যবস্থা নেই। একতলা পুরোনো ভবনের ছোট্ট কক্ষে শত শত লোক ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে। এখানকার ইমিগ্রেশনের অব্যবস্থাপনা দেখে খুবই খারাপ লেগেছে। এখানে যাত্রীদের জন্য পরিষেবা বাড়ানো উচিত। আশা করব, বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের যাত্রীদের কথা বিবেচনায় এনে ইমিগ্রেশন উন্নত করবে।
আগরতলা থেকে আসা আরেক যাত্রী খোকন মিয়া বলেন, আমি গত ছয় বছর ধরে এ চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করছি। ইমিগ্রেশনটি যে হালতে দেখেছিলাম, সে হালতেই আছে। একজন রোগী এলে যে বসবে, সে উপায় নেই। এখানে যে পরিমাণ জায়গা দরকার, সে তুলনায় খুবই কম আছে।
বন্দরটি ঘুরে দেখা গেছে, মূলফটক পার হলেই একতলা বিশিষ্ট তিন রুমের একটি ভবন। এর মধ্যে দুটি ছোট রুম ও একটি মাঝারি রুম। একটিতে ইমিগ্রেশন ইনচার্জ বসেন, আরেকটি হচ্ছে ব্যারাক। মাঝারি কক্ষটিতে চলে অফিসের কার্যক্রম। পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে গেছে। প্রতিদিন যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে, তাই গাদাগাদি করেই চলে কার্যক্রম। যাত্রীদের মালপত্র বারান্দায় রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বসার জন্য ইমিগ্রেশন কক্ষে কোনো জায়গা নেই। আর বাইরে টিনের একটি ছাউনি আছে, যেখানে ১৫/২০টি চেয়ার থাকলেও কোনো টেবিল নেই। অথচ ফরম পূরণ করতে টেবিল প্রয়োজন। ফরম পূরনের জন্য দেখা গেছে কেউ বারান্দার মেঝেতে বসে, আবার কেউ কেউ বিদ্যুৎতের জেনারেটরের ওপরে ফরম রেখে পূরণ করছেন। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিশ্রামের জন্যও জায়গা নেই। কক্ষটিতে এসির ব্যবস্থা থাকলেও ভিড় থাকায় যাত্রীদের লাইন কক্ষের বাইরে বারান্দায় চলে যায়। ফলে এসিগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় গরমে কষ্ট সহ্য করে ইমিগেশনের কাজ শেষ করতে হয়।
তবে বিড়ম্বনা এখানেই শেষ নয়। কাস্টমসের কাজ করতে পাড়ি দিতে হচ্ছে অন্তত দুইশ গজ দূরবর্তী অন্য আরেকটি ভবনে। মূলত এক ভবন ও এক ছাদের নিচে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ করতে না পারায় তাদের দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে চালু হয় আখাউড়া স্থলবন্দরের কার্যক্রম। সুবিধাজনক ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় এ বন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট থেকে অনেকেই আখাউড়া ইমিগ্রেশন ব্যবহার কররে ভারতে যাতায়াত করছেন।
কাস্টমস সূত্র জানায়, এ ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে প্রতিদিন অত্যন্ত এক হাজার যাত্রী দুই দেশে যাতায়াত করছেন। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক যাত্রী ভারতে যান। যা থেকে প্রতি মাসে ৭৫ লাখ টাকা আয় হয়ে থাকে সরকারের। বিগত ছয় মাসে চার কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
এদিকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আখাউড়া চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ২০১৭ ও ২০১৯ সালে সীমান্ত আইনের অজুহাতে বিএসএফ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।
মৌলভীবাজার জেলা থেকে ভারতগামী বাংলাদেশি যাত্রী সুমন আহমেদ বলেন, আমি ইমিগ্রেশনের পরিবেশ দেখে হতবাক হয়ে গেছি। এখানে লাইনের কোনো শৃঙ্খলা নেই। কোনো ধরনের আধুনিকায়ন নেই। অথচ আগরতলা ইমিগ্রেশনের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ফারহানা মিলি নামে এক নারী চিকিৎসক তার বাবার চিকিৎসা জন্য ভারতে যাওয়া সময় আক্ষেপ করে বলেন, আগরতলা ইমিগ্রেশন ও আখাউড়া ইমিগ্রেশনের মধ্যে অনেক পার্থক্য। আমাদের এখানে ভালো ব্যবস্থা নেই। মালপত্র রাখার জায়গা পাই না। আরেকজনের কাছে পাহারা দিয়ে রাখতে হয়। বছরের কয়েকবার যেতে হয়। তবে এর উন্নতি দেখছি না। এখানে দ্রুত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগুক সেই কামনা করি।
মুক্তি খান নামে এক যাত্রী বলেন, বর্তমানে আখাউড়া ইমিগ্রেশন ভবন নামেমাত্র টিকে আছে। জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হচ্ছে। স্থায়ী ভবন তৈরির পর এক ছাদের নিচে সব পরিষেবা পাওয়া গেলে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশিদের আসা যাওয়া আরও বেড়ে যাবে। যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও লাঘব হবে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি যাত্রী পারাপার হচ্ছেন। তবে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালানোর জন্য যে ধরনের সুযোগ সুবিধা আছে, তা খুবই অপ্রতুল। নতুন ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে সেবার মান বাড়বে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, এ ইমিগ্রেশন দিয়ে দুই দেশের বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করলেও ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের পর্যাপ্ত সুবিধার কমতি রয়েছে। আমাদের নতুন একটি ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণ কাজ চলছিল, তা বিএসএফের বাধায় বন্ধ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কথা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেলে আমরা ভবনটির কাজ আবার শুরু করতে পারব। এছাড়া বলে রাখি, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখানে একটি আধুনিক বন্দর নিমার্ণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৩.৫৭ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ হাতে নিয়েছি। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। তখন স্থলবন্দর, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে।
তিনি আরো বলেন, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চারলেন সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হলে এবং আধুনিক স্থলবন্দরটি তৈরি হলে আখাউড়াই হবে বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য স্থলবন্দর।
মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, আখাউড়া থেকে :
আখাউড়া উপজেলায় অস্ত্রসহ দুই ডাকাত গ্রেফতার হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার তন্তুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আজ ২৭ এপ্রিল রোববার দুপুরে গণমাধ্যমকে পুলিশের দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত পোনে ২টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর ব্রিজ এলাকায় ডাকাত বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দুইটি ছুরি, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি হাতুরীসহ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে মো: ফাহাদ (৩২) ও রাফিকুল (২৮) নামে দুই ডাকাতকে পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ডাকাত মো: ফাহাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার আহরন্দ গ্রামের হাসান আলীর পুত্র ও রাফিকুল আখাউড়া উপজেলার ভাটামাতা গ্রামের সাইদ মিয়ার পুত্র।
পুলিশ আরো জানায়, ১২/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল দেশীয় অস্ত্রসহ সড়ক পথে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অস্ত্রসহ দুইজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও বাকীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আজ দুপুরে গ্রেফতারকৃত দুই ডাকাত সদস্যকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি প্রস্তুতির মামলা হয়েছে থানায়।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন জানান, ডাকাতসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারা পালিয়েছে তাদের গ্রেফতার করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত বলেও তিনি জানান।
চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়া পৌরশহরের খড়মপুস্থ প্রখ্যাত আউলিয়া হযরত শাহ্ সৈয়দ আহাম্মদ গেছু দারাজ (র.) প্রকাশ্য শাহ্পীর কেল্লা শহীদ (র.) মাজার শরীফের বার্ষিক ওরশের বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৩ মিনিটে বিশ্ববাসীর কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাজার শরীফ জামে মসজিদের খতীব হাফেজ মাওঃ মোঃ লুৎফুর রহমান খাদেম।
প্রায় ২৫ মিনিট ধরে চলা মোনাজাতে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেয়। মোনাজাতে ওরশে এসে ট্রেন দূর্ঘটনায় নিহত ৪ জনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। এসময় ১৫ আগষ্ট কালরাতে শাহাদাৎবরনকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদের জন্য দোয়া কামনা করা হয়। দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং বিশ^বাসীর কল্যাণ কামনা করা হয়। আগামী ১৬ আগস্ট ওরশের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
এর আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইফুল ইসলাম, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাজার কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি অংগ্যজাই মারমা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, মাজার কমিটির সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম খাদেম মিন্টু, মাজার কমিটির সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর তাকদির খান খাদেম প্রমুখ। এদিকে ১০ আগস্ট ওরশে এসে ট্রেন দুর্ঘটায় নিহত হওয়া ৪ মাজার ভক্তের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিবে মাজার কমিটি। ওরশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতদের পরিবারের হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হবে।
নিহতরা হলেন নরসিংদী জেলার মাধবদি থানার নোয়াকান্দি গ্রামের গাজী মিয়ার পুত্রে শুকুর মিয়া (৬০), একই জেলার পলাশ উপজেলার মোতালেব মিয়ার পুত্র মোজাম্মেল, (২০), নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজার উপজেলার চিলকান্দি গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলেমতি ভূইয়া (৫৫) এবং নোয়াখালি জেলার দক্ষিণ হাতিয়ার পূর্ব সোনাদিয়া গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে কামাল উদ্দিন হৃদয় (৪০)।
এ ব্যপারে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাজার শরীফ পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি অংগ্যজাই মারমা বলেন, প্রথমেই নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ১৬ আগষ্ট ওরশ শেষ হবে। তারপর নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে সহায়তার অর্থ হস্তান্তর করা হবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়া পৌর এলাকায় ১০ বছর আগে হাদিস মিয়া নামে একজন গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নিহত হাদিসের ভাই ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা বাহার মিয়া এই অভিযোগ দায়ের করেন।
আজ ৪ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। এতে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজলসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ২০০-৩০০ জনের কথা অভিযোগে বলা হয়।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ তারাগন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপজেলা পরিষদের ভোট চলাকালে বিকেলে গুলিবিদ্ধ হন হাদিস। পরে তিনি মারা যান। বিজিবির পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, ভোটকেন্দ্র দখলে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা হয়। এ সময় একজন গুলিবিদ্ধ হন। তবে হাদিসের পরিবার জানায়, বিনা কারণেই হাদিসের ওপর গুলি চালানো হয়।
এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছেন। শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ছয়টি দেশীয় অস্ত্রসহ আমিনুল ইসলাম ওরফে তুফান (৩১) নামে এক ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার নয়াদিল ব্রীজের উপর থেকে পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। আজ ১২ এপ্রিল শনিবার গণমাধ্যমকে দেয়া পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ শুক্রবার রাত ৩টার দিকে আখাউড়া-ধরখার সড়কের নয়াদিল ব্রীজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় দুইটি দা, একটি কুড়াল, একটি ছুরি, দুইটি লাঠিসহ তুফানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আজ দুপুরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ আরো জানায়, এসময় ১০/১২ জনের একটি ডাকাত দল এই সড়কে গাড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন জানান, ডাকাত দলের বাকী সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পাবেনা বলেও তিনি জানান।