চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগরে বিশেষ অভিযানে যুবলীগের নেতা মো: কাউছারকে গ্রেফতার করেছে বিজয়নগর থানার পুলিশ। ১১ জানুয়ারি রবিবার রাতে গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর এলাকায় সহদেবপুর নামক সড়ক থেকে যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেন পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত মো: কাউছার বিজয়নগর উপজেলা যুবলীগের একজন নেতা হিসেবে বেশ পরিচিতি ছিলেন, তিনি উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা যায়।
থানার পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কাউছারকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার রাতে গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে মো: কাউছারকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় গ্রেফতারকৃত আসামীকে আইনগত অনুসারে আজ সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
৬ দফা দাবিতে আজ ১৬ এপ্রিল বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় দুই ঘণ্টা ওই মহাসড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ ছিল। এসময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চান্দুরা থেকে মাধবপুর কলেজ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এসময় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পরে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের ছয় দফা দাবি মানতে হবে। এরমধ্যে জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের অবৈধ পদোন্নতির রায় হাইকোর্টের মাধ্যমে বাতিল করতে হবে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে যেকোনো বয়সে ভর্তির সুবিধা বাতিল করতে হবে, উপ-সহকারী পাশকৃতদের সংরক্ষিত পদের বিপরীতে নিয়োগসহ ছয় দফার সব দাবি মানতে হবে। শিক্ষার্থীরা বলেন, মহামান্য হাইকোর্ট ৩০% পদ ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের পদোন্নতির পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে তারা প্রমোশন পেয়ে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হবে। আর এই পদটি হচ্ছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য। ফলস্বরূপ যারা ডিপ্লোমা পাস করে বের হবে তাদের চাকরির শূন্য পদ ৩০% কমে গেল। আর ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা জন্মলগ্ন থেকেই আন্দোলন সংগ্রাম করতে হচ্ছে। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর আনোয়ার হোসেন জানান, ছাত্ররা যৌক্তিক দাবি করেছেন। আদালত তাদের দাবি বিবেচনা করে সুষ্ঠু সমাধান করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানোর ব্যবস্থা করবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মোহসিনুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ করেছে। আমি ঢাকায় ট্রেনিংয়ে আছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজের সবাই কাজ করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে ১১টার পর থেকে প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী মহাসড়কে অবস্থান নেয়। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে কলেজের সামনে মহাসড়ক হওয়ায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অবরোধ তুলে নেয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
মাদকের টাকার জন্য বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে মো. রিপন মিয়া (২৮) নামের এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি তাকে একশ টাকা জরিমানা করা হয়। আজ ১৩ আগস্ট বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সোনামুড়া গ্রামে এই অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা। দন্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া উপজেলার সোনামুড়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিপন নিয়মিত মাদক সেবন করেন। আর নেশার টাকার জন্য বাবা ইদ্রিস আলী ও মা রেজিয়া বেগমসহ স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের প্রায় মারধর করেন তিনি। তার অত্যাচারে বাবা-মা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
আজ বুধবার দুপুরে বাবা ইদ্রিস আলী ও মা রেজিয়া বেগম বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরার কার্যালয়ে স্বশরীরে হাজির হয়ে ছেলের অত্যাচারের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা দুপুরে সোনামুড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে রিপনকে মাদকাসক্ত অবস্থায় পান। নিজের দোষ স্বীকার করায় রিপনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ ১০০ টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা বলেন, ওই যুবক মাদকাসক্ত। প্রায় বাবা-মাসহ পাড়া প্রতিবেশীকে মারধর করেন। অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের অপরাধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ (৫) ধারায় তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাকে একশ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জায়েদুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর:
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ির দেওয়ালিয়াবাড়ির কাঁঠালতলা এলাকায় একটি ঝুটের গুদামে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট কাজ করছে। আজ ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ওই গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ প্রতিবেদন লেখার সময় রাত পৌনে ৭টায়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে গুদাম থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের কয়েকটি গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়লে সারাবো ও ডিবিএল ফায়ার স্টেশন থেকে আরও চারটি ইউনিট যোগ দেয়।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। গুদামগুলো পাশাপাশি থাকায় কয়েকটি গুদাম পুড়ে গেছে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।
দুলাল মিয়া :
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ৩৫ কিলোমিটার জুড়ে টানা দুই দিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ১ অক্টোবর বুধবার ভোর ছয়টা থেকে ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল উপজেলার বেড়তলা, সরাইল বিশ্বরোড মোড় ও শাহবাজপুর সেতু হয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকা পর্যন্ত যানজট দেখা গেছে। মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে সরাইল থানার পুলিশ ও সরাইল খাটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠে থাকতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে গত দুই দিন দেখা যায়, বিশ্বরোড় মোড় গোলচত্বরের চারপাশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গোলচত্বরের তিন–চতুর্থাংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
জায়গাটি অতিক্রম করার জন্য চালকদের অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। ফলে দূরপাল্লার যানবাহন মহাসড়কের গোলচত্বর এলাকায় এসে থেমে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরপর সেখানে গর্তে যানবাহন আটকে যাচ্ছে, কোনোটি আবার বিকল হয়ে পড়ছে। ঢাকা থেকে সিলেটগামী পণ্যবাহী একটি ট্রাককে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গোলচত্বর এলাকায় বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার পর থেকে বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বর থেকে যানজট সৃষ্টি হয়। বুধবার ভোর ছয়টার পর থেকে যানজট বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে বিশ্বরোড মোড় ও শাহবাজপুর সেতু হয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের বিস্তৃতি ঘটে।
সরাইল খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃষ্টির কারণে উক্ত যানজটের সৃষ্টি। ভোর ছয়টা থেকে রোডে আছি, পা ফুলে গেছে। কিছুক্ষণ পর পর গর্তে যানবাহন আটকে যাচ্ছে। এক একটি যানবাহন ওঠানে ৫ থেকে ১০ মিনিটও সময় লাগে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি মহাসড়কটিকে যানজটমুক্ত রাখতে। কিন্তু পারছি না। কয়েক দিন পরপর ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করেছি। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। বৃষ্টি হলেই গর্ত খালে পরিণত হয়। ইট–বালু, কাদায় পরিণত হয়। এর শেষ কোথায় জানি না।’
অনলাইন ডেস্ক :
শহরের একটি বাসা থেকে আমিনুল ইসলাম (৩০) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ ৮ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের নিউটাউন এলাকায় ভাড়াবাসা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার গঙ্গানগর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হামিদের ছেলে আমিনুল। তিনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের শ্যালক ইয়াসিন মিয়া জানান, ৭ এপ্রিল সোমবার দুপুরে সর্বশেষ মা ও স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন আমিনুল। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা কিশোরগঞ্জের পুলিশকে জানালে তারা গিয়ে বাসার দরজা বন্ধ পান। ডাকাডাকি করেও তার সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতর প্রবেশ করে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, ঈদের ছুটিতে স্ত্রী ও তার ৪ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলেন। ৭ দিন থেকে স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়িতে রেখে আবারও কর্মস্থলে ফিরে আসেন আমিনুল।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।