দুলাল মিয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আজ ১৩ জানুয়ারি সোমবার দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দোয়া মাহফিলে প্রধান মেহমান ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শীর্ষ উলামা-মাশায়েখ সমর্থিত ও বিএনপি–জমিয়ত জোট (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২) এর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।
এছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভা শেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দুলাল মিয়া :
শাহজাদাপুর এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শীর্ষ উলামা-মাশায়েখ সমর্থিত ও বিএনপি–জমিয়ত জোট (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২) এর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার খোঁজখবর নেন।
গণসংযোগকালে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে ইনশাআল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনকে একটি শান্তিপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবেন। তিনি আসন্ন নির্বাচনে খেজুর গাছ মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
গণসংযোগে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, তিনি সবসময় মুরব্বি ও প্রবীণ আলেমদের দিকনির্দেশনায় রাজনীতি ও সমাজসেবায় বিশ্বাসী। তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের সুস্পষ্ট ও নির্ভীক ভাষ্যকার এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এক নির্ভরযোগ্য কণ্ঠস্বর। নাস্তিক ও মুরতাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার হিসেবেও তিনি পরিচিত।
স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মাইশা আফরিন সুবর্ণা (১৪) নামের এক কিশোরী বিয়ের তিনমাসের মাথায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রোববার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে কিশোরীর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাইশা আফরিন সুবর্ণা উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের বীরপাশা গ্রামের নাসির উদ্দিনের মেয়ে। নাসির উদ্দিন বলেন, তার কিশোরী মেয়ে সুবর্ণা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পার্শ্ববর্তী বিন্নিঘাট এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (২২) তার মেয়েকে পছন্দ করতেন। পরে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য তার মেয়ে সুবর্ণাকে অত্যাচার করতো মনির। বিয়ের সময় মনিরকে ১ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার পর সে আরও যৌতুককের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তার মেয়েকে তালাক দিবে একথা বলেন মনির। সে কথা শুনে সুবর্ণা শনিবার বিকেলে শোবার ঘরের বাশের তীরের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। তিনি আরও বলেন, মনিরের চাপের কারণে তার মেয়ে সুবর্ণাকে বিয়ে দিতে হয়। মনিরের কারনে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এক কিশোরী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
সরাইলে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় বাদশা মিয়া নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে।
আজ ২৯ জুলাই সোমবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কুট্টাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাদশা মিয়া (৭০) উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের শাহজাদাপুর গ্রামের জোর আলীর ছেলে।
খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশীষ কুমার স্যানাল গণমাধ্যমে জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কুট্টাপাড়া এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও কাভার্ড ভ্যানটিকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনসুর আহমেদের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট নির্মাণ ও বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে বারিউড়া গ্রামবাসীর লোকজন জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
এদিকে বিষয়টির তদন্তে গিয়ে সরকারি জায়গায় স্থাপনা থাকার বিষয়টি ধরা পড়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তার নজরে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ বিগত কয়েক বছর ধরে তার পুলিশ অফিসার ছেলে ও নিজের প্রভাব খাটিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপদ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা বারিউড়া মৌজায় এস এ দাগ নাম্বার ১৭২এর বেশ কিছু অংশ জোরপূর্বক দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে রেখেছে। এছাড়া অনেকের কাছে দোকানের পজিশন বিক্রি করেছে। তার এই অবৈধ জায়গা দখলের কারণে ওই মহাসড়কের মধ্য দিয়ে বারিউড়া গ্রামে চলাচলকারী ভোক্তা, ক্রেতা ও জনসাধারণের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। এমনকি বাসস্ট্যান্ডের জায়গা দখল করায় লোকাল বাস ও দূরপাল্লার বাস নির্দিষ্ট স্থানে না থেমে বাজারের মাঝখানে থামতে হচ্ছে। যার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী ও জনসাধারণ।
এ অবস্থায় জনস্বার্থে মহাসড়ক ও এর আশেপাশের জায়গা দখলমুক্ত করতে মনসুর চেয়ারম্যানের দখল করা মার্কেট ও দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য গ্রামবাসী প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
এ বিষয়ে গ্রামবাসীরা জানান, ছোটবেলায় আমরা দেখেছি এখনে একটা ব্রিজ ছিল। ব্রিজের নিচ দিয়ে পণ্যবাহী নৌকা চলাচল করত। রাস্তার কাজ করতে গিয়ে ব্রিজের নিচের অংশ বন্ধ হয়ে যায়। পরে চেয়ারম্যান এই সরকারি জায়গা দখল করে এখানে মার্কেট নির্মাণ করেন। দখল করা মার্কেটের বিভিন্ন দোকানের পজিশন বিক্রি করেছেন তার কাছের আত্মীয় স্বজনের কাছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনসুর আহমেদ বলেন, আমি কোনো সরকারি জায়গা দখল করি নাই। গ্রামের কিছু লোকজন উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে আমাকে হেও করার জন্য আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছে।
ছেলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সে ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ছেলে এ বিষয়ে কোনো জায়গায় কোনো ফোন করেনি। তার বিষয়ে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা মিথ্যা। সে তার কর্মস্থলে চাকরি করছে।
এদিকে, শনিবার দুপুরে দখল করা জায়গা পরিদর্শন করতে যান উপজেলা কৃষি অফিসার মো. একরাম হোসেন। এ সময় তিনি সরকারি জায়গায় স্থাপনা থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের যে অভিযোগটি উঠেছে আমরা সে বিষয়টি তদন্ত করতে এসেছি। তদন্ত কাজ চলমান। জায়গার পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রশাসন ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে তদন্তের প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
দুলাল মিয়া :
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা এবং কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে চিঠি দিয়েছেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার।
১৭ জানুয়ারি শনিবার কসবার সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের নির্বাচনী বিচারিক কমিটির প্রধান আশরাফুল ইসলামের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়।
ইউএনওর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে রুমিন ফারহানা কর্তব্যরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তিনি বারবার বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ও আঙুল উঁচিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।
ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, “এক্সকিউজ মি স্যার, দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্ন ইউ। আই উইল নট লিসেন টু দ্যাট।”
জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়। তখন রুমিন ফারহানা বলেন, “সব জায়গায় হচ্ছে।” পাশ থেকে এক ব্যক্তি মন্তব্য করলে রুমিন ফারহানা আঙুল উঁচিয়ে হুমকিসূচক ভঙ্গিতে কথা বলেন।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ওই সময় মব তৈরি করে বিচারিক কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত রুমিন ফারহানার এক সমর্থক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
প্রসঙ্গত, সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় রুমিন ফারহানার সমাবেশ চলাকালে স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেটের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রুমিন ফারহানা। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান দাবি করেন, ওই সময় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।