দুলাল মিয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় অবৈধ শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী কৈয়াপানিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব শাড়ি জব্দ করে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত শাড়িগুলোর বাজারমূল্য ৯২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা।
এ বিষয়ে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো. জিয়াউর রহমান বলেন, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা তৎপর। সীমান্তকে নিরাপদ ও আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিতভাবে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ীর আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১ শ ৭৯ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে কৃষি উপকরন বিতরণ করা হয়েছে।
আজ ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে কসবা উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এসব কৃষি উপকরন বিতরন করা হয়। প্রতি কৃষক কৃষাণীকে ২টি করে আম, লেবু, পেপের চারা, ৪৫ কেজি জৈব সার ও নেট, ঝাঝরি ও বীজ সংরক্ষন পাত্রসহ তিন মৌসুমের জন্য ৮ প্রকার শাক-সবজির বীজ প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি কর্মকতা হাজেরা বেগমের সঞ্চালনায় কৃষি উপকরন বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা রুহুল আমিন সরকার, কসবা প্রেসক্লাব সহ- সভাপতি নেপাল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের স্বপন প্রমুখ। এসময় কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাগন ও আশ্রয়ন প্রকল্পসহ উপজেলার উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীসহ গন্যমান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপজেলা চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান মানিক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা এক ইঞ্চি জায়গাও যেন খালি না থাকে সেই ঘোষনা বাস্তবায়ন উপলক্ষে উপজেলার কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে আজকের এই কৃষি উপকরন বিতরণ। আপনার সকলেই নিজ বাড়ির আঙিনায় চারাগুলো রোপন করবেন এবং তার উপকার ভোগ করবেন।
সভাপতির বক্তৃতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তার বলেন, পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা রয়েছে। কারো বসতবাড়িতে যেনো এক ইঞ্চি জায়গাও যেনো খালি না থাকে তারই অংশ হিসেবে পুষ্টিবাগান উপকরন দেয়া হচ্ছে। সকলের নিকট অনুরোধ থাকবে কৃষি উপকরণের যথাযথ কাজে লাগাবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পুর্ণ করার যে লক্ষ্য আপনারা যদি আজকের এই উপকরণগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগান তাহলে ২০৪১ সালে যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তা সফল হবে।
চলারপথে রিপোর্ট:
ট্রাক ও মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন এক ফায়ার ফাইটার মো. সজিবুল ইসলাম (২৩)। এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আজ ৪ মে রবিবার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার তিনলাখপীর এলাকায়।
সজিবুল ইসলাম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কান্দুঘর গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় কর্মরত ছিলেন তিনি। নিহত সজিবুলের পাঁচদিন বয়সী সন্তান রয়েছে।
খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে কুমিল্লাগামী একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটর সাইকেল চালক সজিবুল নামে একজন ফায়ার ফাইটার নিহত হয়েছেন। বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
আলোচিত ফারুক চৌধুরী হত্যা মামলার স্বাক্ষী আজারুল ইসলাম হৃদয় (২৬) কে পিটিয়ে আহত করেছে হত্যা মামলার আসামীরা। ৮ মার্চ বুধবার রাত ৯টায় কসবা পৌর এলাকার শাহপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আজারুলের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই আহতের চাচা মোঃ শাহ আলম চৌধুরী বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেন আনার (৪৫)কে প্রধান আসামী করে ৮ জনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ ও আহত আজারুল ইসলামের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে শাহপুর গ্রামের চাচার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ফারুক চৌধুরী হত্যা মামলার আসামীরা তার পথরোধ করে তাকে রড, লাঠি ও দা দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তার চিৎকারে পথচারীরা ও আশপাশের লোকজন তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আহত আজারুল ইসলামের মা আছিয়া বেগম জানান, আসামীরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে এসে তার স্বামী ফারুক চৌধুরী হত্যা মামলা তুলে নেয়ার জন্য জন্য বাদীকে হুমকী-ধামকী দিয়ে আসছে। গত বুধবার তারা তার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেদম মারধোর করে আহত করে। এ অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
উল্লেখ্য ২০২০ সালের ১৩ এপ্রিল বেলা ১১ টায় ফারুক চৌধুরী স্থানীয় একজনের নামাজে জানাজা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আসামীরা তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোঃ শাহ আলম চৌধুরী বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তদন্তনাধীন রয়েছে। এই হত্যা মামলার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী হলেন ফারুক মিয়ার ছেলে আজারুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, এই বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমরা আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, নিহত ফারুক চৌধুরী দৈনিক যায়যায়দিনের কসবা প্রতিনিধি মোঃ শাহ আলম চৌধুরীর ছোট ভাই।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবায় ৫০ কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ ৪ মার্চ সোমবার সকালে উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কালামুরিয়া ব্রিজের পাশ থেকে গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়। আটক মো. সোহেল (৩২) উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কালামুরিয়া এলাকার মো. শহীদ মিয়ার ছেলে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাজু আহমেদ জানান, সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কালামুরিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান কালে কালামুরিয়া ব্রিজের পাশ থেকে সোহেলকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মতে ব্রিজের পাশে ঝোপের মধ্যে থেকে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
চলারথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবায় কৃষক রহিজ মিয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে কসবা থানা পুলিশ। আজ ১১ জানুয়ারি রবিবার ভোর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পৌর এলাকার পৈরতলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত জজ মিয়া জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ী গ্রামের জমসেদ মিয়ার ছেলে। আজ দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামে পান্ডবের গোষ্ঠী ও কাবলি গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে মামলা মোকাদ্দমাসহ বিভিন্ন বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে ২০১৭ সালে ১০ এপ্রিল সকালে রহিজ মিয়া, নাবালক সরদার ও ফরিদ মিয়া বাদৈর বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে কাবলি গোষ্ঠীর লোকজন হামলা করেন। এ সময় রহিজ মিয়াসহ তার সাথে থাকা দু’জনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে রহিজ মিয়া মারা যান। এ ঘটনায় রহিজ মিয়ার স্ত্রী নার্গিছ বেগম কসবা থানায় ১৭ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় স্বাক্ষ্যগ্রহন শেষে গত মাসের ২৪ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আয়েশা আক্তার সুমি জমসেদ মিয়ার ছেলে জজ মিয়াকে ফাঁসি ও এক লাখ টাকা জরিমানা রায় প্রদান করেন। এছাড়া একই মামলায় জমসেদ মিয়ার আরও ৪ ছেলে ইয়াসিন মিয়া, খোকন মিয়া, মনির মিয়া ও পারভেজ মিয়া ও তাদের পক্ষের আওয়াল মিয়া ও তার ছেলে আশরাফুলকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশের পাশাপাশি ২ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত। মামলার প্রধান আসামী জমসেদ মিয়াসহ ৯ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন এবং জমসেদ মিয়ার অপর ছেলে আসামী খোকন মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত।