বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সারা দেশে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে পরিবর্তনের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি দিশাহারা হয়ে সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে।
আজ ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণসংযোগ ও সভা করতে গেলেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, শেরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করে শহীদ করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনী প্রচারণার ইতিহাসে এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা শহীদ হলেন।
তিনি আরও বলেন, ভোটারদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হবে না বলে ভয় দেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই সময়ের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না। এরপর হাট-বাজার, দোকানপাট ও বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, তা দেশবাসী জানে। সংখ্যালঘুদের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও সবার সামনে ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক জোনায়েদ হাসান, জকসুর সাবেক ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং সাবেক জিএস আব্দুল আলিম আরিফ।
এ সময় উপজেলা সেক্রেটারি শামীম নুর ইসলামসহ খেলাফত মজলিস ও জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরে গরু চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে মুমিন (৩৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
আজ ৬ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ভোরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের একটি গাছে বাঁধা অবস্থায় মুমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মুমিন উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের ফরদাবাদ গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মো. সিরাজুল ইসলাম স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ভোরে ফরদাবাদের একটি বাড়িতে গোয়ালঘরে গরু চুরি করতে চোর ঢুকে। চোরে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি গরু ডেকে ওঠে। গরুর ডাকে বাড়ির লোকজন সজাগ হয়ে এসে দেখে চোর। তাদের চিৎকারে আশপাশের বাড়িঘরের লোকজন চোরকে গণপিটুনি দিয়ে গাছে বেঁধে রাখে। ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছে বাঁধা অবস্থায় মুমিন নামে এক চোরকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, নিহত মুমিনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। তাকে স্থানীয়রা মুমিন চোরা বলে ডাকতেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
দাবি করা চাঁদা না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার একটি বাসায় প্রবাসী স্ত্রীর শাহীনূর আক্তারকে (২৫) হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সুজন মিয়া নামের এক ব্যক্তি আদালত ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা জানিয়েছে। ওই নারীর কাছ থেকে সুজন ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিল। আজ ৩১ জুলাই বৃহস্পতিবার পিবিআই থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, শাহীনূর আক্তারের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সাথে আরো দুইজন জড়িত আছে। ঘটনার পর থেকে ঘাতকরা পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এর মধ্যে সুজন ৩০ জুলাই বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এর আগে গত ২৭ জুলাই ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের চাঁন মসজিদ বাগান বাড়ি রোড এলাকা থেকে সুজনকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে তাকে রিমান্ডে আনা হলে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
শাহীনূর উপজেলার ছলিমাবাদ গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। গত ১৮ জুলাই পৌর এলাকার কলোনি স্টিল ব্রিজসংলগ্ন নজরুল ইসলামের বাসা থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে বাঞ্ছারামপুর থানায় মামলা করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দড়ি বাঞ্ছারামপুর এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে সুজন মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করতেন। গত ১৭ জুলাই সুজনসহ আরো তিনজন শাহীনূরের বাসায় এসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় শাহীনূরের একমাত্র মেয়ে বাসায় ছিল না। চাঁদা না পেয়ে সুজনসহ অন্যরা শাহীনূরকে চাকু নিয়ে খুন করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে যান।
মামলা তদন্তকালে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পিবিআই।
চলারপথে রিপোর্ট :
সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) টহলদল কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কমলা এবং কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার আমতলী বাজারে সন্দেহজনক কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে ১১,১৪০ কেজি কমলা জব্দ করা হয়েছে। এসময় কমলা বহনকারী একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।
সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত কমলার বাজার মূল্য ৯৮ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে জব্দকৃত কমলা আখাউড়া কাস্টমস কর্মকর্তা কর্তৃক নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুরা হলো শান্তিপুর গ্রামের আনাথ মিয়ার মেয়ে চাঁদনি (৯) ও চরমরিচাকান্দি গ্রামের সাদ্দাম মিয়ার মেয়ে নিঝুম (৭)। সম্পর্কে দুজনে মামাতো-ফুফাতো বোন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে খেলাধুলার সময় অসাবধানতাবশত ওই দুই শিশু বাড়ির পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাদের পুকুর থেকে উদ্ধার করে। দ্রুত বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বাঞ্ছারামপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের টিএসআই ডা. রঞ্জন বর্মন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়। আমাদের কিছুই করার ছিল না।
চলারপথে রিপোর্ট :
ইটভাটার পুরোনো ইট ও মাটি ফেলে মেঘনা নদী দখলের অভিযোগ উঠেছে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দশানী গ্রামের খেয়াঘাট এলাকার এম এইচ কে ইটভাটার লোকজন কয়েক বছর ধরে নদীটি ভরাট করছে। এ কারণে নদী সংকুচিত হয়ে নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে এই ভরাট কাজ চললেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দশানী গ্রামের পশ্চিম পাশ দিয়ে এক সময় মেঘনা নদীর প্রবাহ ছিল। কালের বিবর্তনে গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে নদীটি অন্যদিকে চলে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় মেঘনার গতিপথ সংকুচিত হলেও দশানী এলাকায় ৪০০-৫০০ ফুট চওড়া রয়ে গেছে। এই নদী দিয়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে নদী পথে দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। প্রতিদিন শত শত নৌযান চলাচল করছে।
সরেজমিন দশানী গ্রামের পশ্চিম-উওর প্রান্তে বাজার-সংলগ্ন ইটভাটা এলাকায় দেখা গেছে, এম এইচ কে এই ভাটা-সংলগ্ন মেঘনা নদীর প্রায় কয়েক বিঘা নিচু জায়গায় পুরোনো ইট ও মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। ভরাট করা জায়গায় বিক্রির জন্য নতুন ইট রাখা হয়েছে। কয়েকটি নৌকা থেকে মাটি তুলে এখানে রাখা হচ্ছে। দখল করা জায়গায় ভাটার শ্রমিকদের থাকার জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ইটভাটার শ্রমিক শাহ আলম বলেন, ‘ইটভাটার বাতিল ইট দিয়া জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরেই একটু একটু কইরা ভরাট করা হচ্ছে।’
দশানী গ্রামের কালন মিয়া বলেন, ‘হুমায়ুন চেয়ারম্যান ইট-মাটি ফালাইয়া গাং (নদী) ভইরা ফালাইছে। চার-পাঁচ বছর ধইরা হেরা নদীডা ভরতাছে। হেরার জোর বেশি হের লাইগা কেউ কিছু কইতে চায় না।’
কৃষক ইদ্রিছ আলীর ভাষ্য, যেভাবে ইট, মাটি ফেলে নদী ভরাট করছে কয়দিন পরে নদীর অর্ধেক পর্যন্ত ভরাট হয়ে যাবে। ২-৩ কানি (বিঘা) জায়গা ভরাট করে ফেলেছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় এম এইচ কে ইটভাটার ম্যানেজার মোতালিব হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি এই ভাটায় চাকরি করছি ১০ বছর হলো। অনেক আগে থেকে নদীর পাশে পুরাতন ইট ফেলা হচ্ছে, ইট বানানোর মাটিও রাখা হচ্ছে নদীর তীরে। জায়গা না থাকায় নদীর তীরে মাটি ও পুরাতন ইট রাখতে হয়।’
এম এইচ কে ইটভাটার স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবির জানান, নদী দখল করেছেন বলে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন ইউএনও। এগুলো তাঁর নিজের জমি, তাই ইট ও মাটি রাখছেন।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন, ‘ইট ফেলে নদী ভরাট করা হচ্ছে কিনা আমার জানা নেই।’
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী আতিকুর রহমান জানান, কিছু দিন আগে ইটভাটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখে মনে হয়েছে নদী ভরাট করা হয়েছে। বিষয়টি দেখতে নায়েবকে পাঠানো হবে। তাঁকে নদী ভরাট বন্ধ করতে নিষেধ করা হবে।