চলারপথে রিপোর্ট :
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থেকে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার পথে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সুমাইয়া খাতুন (২৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে ঝিনাইদহ–চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের বুড়াই এলাকার মাঠের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমাইয়া খাতুন হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে এবং একই উপজেলার জুড়াপুকুরিয়া গ্রামের সেলিম রেজার স্ত্রী। তিনি ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, দুপুরে সুমাইয়া তার স্বামীর সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার আক্কাস লেকভিউ পার্কে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সাধুহাটী মোড় অতিক্রম করে বুড়াই মাঠ এলাকায় পৌঁছালে তার পরনে থাকা ওড়না ইজিবাইকের চাকার সঙ্গে পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অনলাইন ডেস্ক :
মাগুরার সদর উপজেলার টিলা গ্রামে রাইস কুকারে ভাত রান্না করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক নারী ও তার সাত মাস বয়সী কন্যা সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ জুন মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত নারী আওয়াল মোল্লার স্ত্রী সেতু (৩০)। শিশুর নাম আনিশা (৭ মাস)।
মৃতের ভগ্নিপতি মো. রিপন বিশ্বাস জানান, সকালে নিজ বাড়িতে রাইস কুকারে ভাত রান্না করছিলেন সেতু। এ সময় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। কোলে থাকা শিশুকন্যা আনিশাও মায়ের সঙ্গে বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসে।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী জানান, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী রাইস কুকারে রান্নার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তারা মৃত্যুবরণ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৫টি ক্যাডারের সংগঠন “আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ” এর উদ্যোগে সারা দেশের ন্যায় আজ ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়ও বিভিন্ন অফিসে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালিত হয়েছে।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত উপসচিব পুলে কোটা পদ্ধতি বহাল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিসের বহির্ভূতকরণের প্রতিবাদ এবং কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত সকল অফিসে এক ঘণ্টার ‘কলম বিরতি’ পালন করা হয়। প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া বাকি ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। কলম বিরতি পালনকালে কর্মকর্তাগণ বলেন, উপসচিব পুল কোনো বিশেষ ক্যাডারের পদ নয়।
সার্ভিস এক্ট ১৯৭৫ অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতে সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডারের কর্মকর্তাগণকে উপসচিব ও তদুর্ধ্ব পদে নিয়োগের কথা থাকলেও বিভিন্ন অপকৌশল ও অজুহাতে এ সকল পদে নিজেদের জন্য কোটা পদ্ধতি চালু রেখেছে প্রশাসন ক্যাডার। ২০১৮ এর নির্বাচনের পর সার্ভিস এক্ট ১৯৭৫ রহিত করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর ২০ ফেব্রুয়ারি এ সকল পদ নিজেদের তফসিলে বসিয়ে নিয়েছে প্রশাসন ক্যাডার। এরূপ কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসকে ভারসাম্যহীন ও অকার্যকর করার মাধ্যমে দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথে গভীর ষড়যন্ত্র ও মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির নামান্তর।
এসময় কর্মকর্তাগণ বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন উপসচিব পুলে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০% কোটা রেখে অন্যান্য ২৫টি ক্যাডারের জন্য ৫০% পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ সুপারিশ করবে বলে জানিয়েছে যা মৌলিক অধিকার ও জুলাই-বিপ্লবের সাথে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক। যেহেতু প্রশাসন ক্যাডার নাগরিকদের কোনো অনগ্রসর অংশ নয়, সেহেতু উক্ত ক্যাডারের জন্য উপসচিব পুলে কোটা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানেরও সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিস হতে আলাদা করার সুপারিশ করার কথাও জানানো হয়েছে যা উদ্দেশ্যমূলক। “আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ” এর সাথে কোনো রকম আলোচনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরিষদ কলম বিরতি ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২৬ ডিসেম্বর সকাল ১১ থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত সকল অফিসে স্ব-স্ব কর্মস্থলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি, ৪ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশ।
দুলাল মিয়া :
মেয়াদোত্তীর্ণ বন রুটি ব্যবহার করে স্যান্ডউইচ প্রস্তুত করার দায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। অভিযানে সুইট গ্রিন রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আজ ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের হালদারপাড়া এলাকায় অবস্থিত সুইট গ্রিন রেস্টুরেন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টে ২৯ জানুয়ারি মেয়াদ শেষ হওয়া বন রুটি দিয়ে স্যান্ডউইচ প্রস্তুত করা হচ্ছিল। যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর লঙ্ঘন।
এ ঘটনায় আইনটির বিভিন্ন ধারায় সুইট গ্রিন রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, জনস্বার্থে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
কক্সবাজারের টেকনাফ সদরের উপকূলীয় এলাকা থেকে কোস্টগার্ড সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৭ লক্ষ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে। এ সময় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আজ ৯ আগস্ট বুধবার দুপুরে কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুর রহমান (বিএন) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বুধবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ থানাধীন মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মিঠা পানির ছড়া ঘাট হয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান মায়ানমার থেকে টেকনাফ এলাকায় প্রবেশ করবে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিজি স্টেশন টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এইচ এম লুৎফুল লাহিল মাজিদ এর নেতৃত্বে উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন সময়ে একটি ফিশিং বোট সমুদ্র থেকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মিঠাপানির ছড়া ঘাটে ভিড়ে এবং ৪টি বস্তাসহ ৪ জন ব্যক্তিকে ঘাটে নামিয়ে দিয়ে ফিশিং বোটটি পুনরায় সমুদ্রে চলে যায়। বোট থেকে নামা ব্যক্তিদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদেরকে থামার সংকেত দিলে তারা বস্তাগুলো ফেলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় কোস্ট গার্ড সদস্যরা উক্ত ব্যক্তিদের ধাওয়া করলে তারা দ্রুত ঝাউবনের গহীনে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া বস্তাগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালিয়ে ৭ লক্ষ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। পাঁচারকারীরা গভীর অন্ধকারের সুযোগে ঝাউবনের গহীনে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
চলারপথে রিপোর্ট :
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের আওতায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। আজ ২৩ আগস্ট শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার আমরুল খালের ব্রিজ থেকে রঙ্গিলা ঘাট হয়ে বাঙালি নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ৩২টি চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জালগুলো আমরুল খালের ব্রিজ এলাকায় জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশেদ হাসান। এসময় থানার এসআই রাসেল আহমেদ, স্থানীয় পুলিশ সদস্য, উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মচারী ও স্থানীয় জনগণ সহায়তা করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশেদ হাসান বলেন, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই অভিযান চালিয়ে এসব জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।