দুলাল মিয়া :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ৭নং তালশহর পূর্ব ইউনিয়নে এক নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের প্রতিটি পরিবারকে কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলোকে আড়াই হাজার টাকার মূল্যের প্রয়োজনীয় মালামাল সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই আমার রাজনীতির মূল প্রেরণা। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলেই এলাকার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।” নির্বাচিত হলে তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নির্বাচনী সভা ও গণসংযোগকালে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় স্থানীয় জনগণ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা তাঁর কাছে তুলে ধরেন। তিনি মনোযোগ সহকারে সেসব কথা শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তালশহর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা ফাইজুর রহমান ফয়েজ ও জামির হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি জহিরুল হক খোকন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সহ সভাপতি এ.বি.এম. মমিনুল হক, জসিম উদ্দিন রিপন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী আজম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক ভিপি আবু শামীম মোহাম্মদ আরিফ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানু রহমান, জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ময়নুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সহ সভাপতি আশিকুল ইসলাম সুমন, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জিয়াউল হক, সদস্য সচিব তানভীর রুবেল, মহিলা নেত্রী নাজনীন বেগম প্রমুখ।
এছাড়াও স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাতশালা স্টেশনের কাছে আজ ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবপ জানা যায়নি।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একরু সূত্র জানায়, ফায়ার সার্ভিসের একটি দল সকাল ১১টার দিকে আহত অবস্থায় নিয়ে আসেন। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, ভাতশালা এলাকায় একজন ট্রেনে কাটা পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ওই ব্যক্তি কোন ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে পুকুরের পানিতে ডুবে আরিয়ান নামে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের কুড়াবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আরিয়ান একই গ্রামের ভূইয়া বাড়ির কামরুল ভূইয়ার ছেলে।
নিহত শিশু আরিয়ানের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, আরিয়ান দুপুরে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে কয়েকজন শিশুর সাথে খেলাধুলা করছিল। এর কিছুক্ষণ পর আরিয়ানকে আর পাওয়া যায়নি। বাড়ির লোকজন প্রতিবেশীদের বাড়িতে খুঁজে না পেয়ে পুকুরে খোঁজাখুজি করে একপর্যায়ে পুকুর থেকে আরিয়ানের লাশ উদ্ধার করে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে কন্টেইনার ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় আপ লাইনে (ঢাকা অভিমুখে) ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আজ ১৯ নভেম্বর রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন আউটার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন স্টেশনে কর্তব্যরত সহকারী স্টেশন মাস্টার শাকির জাহান।
সহকারী স্টেশন মাস্টার জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ৬০৭ নম্বর কন্টেইনার ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে ঢাকার দিকে যাওয়ার পথে তিন নম্বর লাইনে পেছন দিকের একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়।
তিনি আরো জানান, লাইনচ্যুতির কারণে রেললাইনের পাত বাঁকা হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।দুর্ঘটনা কবলিত বগি উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন আসার জন্য আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে খবর দেওয়া হয়েছে।
দুলাল মিয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর উপজেলার ৮ ইউনিয়ন) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল তার ১৯ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
আজ ২১ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ইশতেহার তুলে ধরেন।
ইশতেহারে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—পৌরসভা ও গ্রামীণ এলাকার সব রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন ও ভাঙা সড়কের টেকসই মেরামত, ৬ লেন বিশিষ্ট মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন আধুনিকায়ন এবং ঢাকা রুটে নতুন কমিউটার ট্রেন চালু।
এছাড়া তিতাস নদী খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, শহরের খাল পরিষ্কার, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করা, নারী ও শিশুদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রকল্প গ্রহণ, মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
ইশতেহারের অন্যান্য দফার মধ্যে রয়েছে—শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানে জব ফেয়ার ও চাকরি মেলার আয়োজন, শিশু-কিশোর ও যুবকদের জন্য খেলাধুলার মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রাম পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও জলাশয় সংরক্ষণ।
শীতকালে গ্যাস সংকট নিরসনে নতুন গ্যাস সংযোগ ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষিপণ্য বিপণন কেন্দ্র স্থাপন, সদর ও বিজয়নগরের প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক করা, নগর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে নতুন বাইপাস ও বিকল্প সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও শয্যা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংকট নিরসন, যুব সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনসহ একটি সুশাসনভিত্তিক মানবিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের ভোট নিজেরা দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। ধানের শীষ প্রতীকে একটি ভোটই সদর ও বিজয়নগরবাসীর ভবিষ্যৎ বদলের হাতিয়ার হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জহিরুল হক খোকন, সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সহ-সভাপতি এবিএম মোমিনুল হক, জসিম উদ্দিন রিপন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী আজম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন চপল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান শাহীন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্মের পর নবজাতক বদলে ফেলার অভিযোগে চিকিৎসক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক পরিবার। বৃহস্পতিবার (০৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এক আদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক আরেফিন আহমেদ হ্যাপি মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
এরআগে, একই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার অজান্তা আক্তার নামে এক নারী। এতে বিবাদী করা হয়েছে জেলা শহরের মৌড়াইলের খ্রিস্টান মেডিকেল সেন্টার (মিশন হাসপাতাল) এর চিকিৎসক কামরুন্নাহার ও হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক দুলাল দাসকে।
মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী মো. জাকারিয়া বলেন, জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার ছাল ছাবিল আক্তার রিয়া নামে এক প্রসূতি গত ২ ডিসেম্বর মিশন মেডিকেল সেন্টারে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। নবজাতকটি জন্ম গ্রহণের পরই শিশুটিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিকাল ৪টার দিকে নবজাতক কন্যা সন্তানটিকে তার মায়ের কাছে হাসপাতালের স্টাফরা দিয়ে যায়। এর কিছুক্ষন পর তারা এসে বলে যে, এই কন্যা সন্তানটি আপনার না, আরেকটি কন্যা সন্তান দিয়ে বলে এটি আপনার। আবার এর কিছুক্ষন পর এসে বলে এটিও আপনার না, আরেকটি শিশু কন্যা সন্তান এনে দিয়ে বলে এটি আপনার। এভাবে তিনবার নবজাতক শিশু দিয়ে বদল করে বলে তাদের সন্তান নয়। ৪র্থবারের মাথায় শিশু তারা দেয়। এতে প্রসূতির পরিবারে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এতে ওই পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, যোগসাজসে প্রতারনা ও শঠতার আশ্রয় নিয়ে তাদেরকে আসল শিশু না দিয়ে অন্য শিশু দিয়েছে। তাই এই ঘটনায় প্রসূতির বোন অজান্তা আক্তার বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ডিবির ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবাদী চিকিৎসক কামরুন্নাহার বলেন, ‘এই প্রসূতি আমার অধিনে চিকিৎসাধীন ছিল। নবজাতক জন্ম হওয়ার পর শিশু চিকিৎসককে দেখানো হয়। এরপর তার পরিবারের সদস্যরা কানে আজান দিয়েছে। নবজাতক বদল হওয়ার মতো কোন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা নেই। আমার কাছে যেহেতু চিকিৎসাধীন ছিল, আমাকেও এমন কিছু জানায়নি, শুনেছি মামলা হয়েছে। তদন্তে সত্য উদঘাটন হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।’