দুলাল মিয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে আমরাই থাকব। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। ভোট নিরাপদ করতে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আনসার ও ভিডিপি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রথম সারির প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যান্য সহায়ক বাহিনী থাকবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে। প্রতিটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ আরও বলেন, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেড় বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচন করা হয়েছে। একটি আধুনিক অ্যাপের মাধ্যমে ১৩ জনের টিম গঠন করা হয়েছে। আজকের এই সমাবেশ মূলত আমাদের প্রস্তুতির চূড়ান্ত মূল্যায়নের অংশ।
তিনি জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে তিনজনের কাছে থাকবে অস্ত্র। এবারই প্রথমবারের মতো প্রিজাইডিং অফিসারের কাছেও অস্ত্র প্রদান করা হচ্ছে, যাতে ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কুমিল্লা রেঞ্জের রেঞ্জ কমান্ডার (পরিচালনা) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমান্ড্যান্ট মো. মনিরুজ্জামান।
সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক আনসার ও ভিডিপি সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সদস্যদের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সমাবেশ শেষে সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও প্রস্তুতি যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সংক্ষিপ্ত কুচকাওয়াজ ও ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ছাত্রদল কর্মী মো. সাদ্দাম (৩৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলীপের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৪ ডিসেম্বর রবিবার দুপুরে সদর উপজেলা পৌর এলাকার কান্দিপাড়া থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে গিয়ে অংশ নেয়।
আজ রবিবার দুপুরে সদর উপজেলা পৌর এলাকার কান্দিপাড়া থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে যোগ দেয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজীবুর রহমান সজীব, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শাহীনুর রহমান শাহীন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত, নিহত সাদ্দামের মা খোদেজা বেগম, স্ত্রী ফারজানা আক্তার তৃণাসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, সাদ্দামকে রাতের আঁধারে ঘর থেকে ডেকে এনে জবাই ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ দীলিপকে গ্রেফতার করলেও এখনো হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। দ্রুত অস্ত্র উদ্ধার ও দীলিপকে রাজনৈতিক দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। তাকে সঠিক বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
অনলাইন ডেস্ক :
জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ছাত্র-জনতার ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়ন সকলের সামনে তুলে ধরতে হবে। দেশ গড়ার যে সুযোগ পাওয়া গেছে সেটি সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে হবে।
আজ ৮ সেপ্টেম্বর রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের জন্ম থেকে এই সুযোগ আর আসেনি। শিক্ষার্থীদের দেখছি আর ভাবছি, কী একটা স্বপ্ন আমাদের সামনে, জাতির সামনে তোমরা নিয়ে এসেছ। যে সুযোগ তোমরা আমাদের হাতে তুলে দিয়েছ, এটা যেন হাতছাড়া না হয়। এই সুযোগ হাতছাড়া হলে বাংলাদেশ আর রাষ্ট্র থাকবে না। এটা শুধু রাষ্ট্র না, পৃথিবীর সম্মানিত রাষ্ট্রে যেন পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছে তাদের স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যারা শহীদ হয়েছে আজকে তারা আমাদের সঙ্গে বসতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ তাদের দেওয়া হয়নি। যখন হাসপাতালে আহতদের দেখার জন্য যাই, তাদের দিকে তাকাতে কষ্ট হয়।
ড. ইউনূস বলেন, একজন তরুণকে যখন দেখতে যাই তখন সে জিজ্ঞেস করে স্যার, ক্রিকেট খেলব কীভাবে? ক্রিকেট খেলার কথা তার মাথা থেকে সরছে না। যতবার দেখি, মনে প্রশ্ন জাগে এটাই আমরা বাংলাদেশ বানিয়েছি? কালকে একটা হাসপাতালে গেলাম, আবার সেই দৃশ্য। তরুণ প্রাণ, অনেকের মাথার খুলি উড়ে গেছে। অনেকের শরীরে গুলি রয়ে গেছে। বেঁচে আছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যতবার শুনি, যতবার দেখি, আবার নতুন করে প্রতিজ্ঞা করতে হয়, যে স্বপ্নের জন্য তারা প্রাণ দিয়েছে সেই স্বপ্নকে আমরা বাস্তবায়ন করব। এটা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, আমি সাক্ষাতের সময় যে দৃশ্য দেখছি সেটা তো সবাই দেখছে না। যারা হাসপাতালে আসছেন তারা হয়তো অনুধাবন করতে পারছে। মানুষকে জানাতে হবে, বোঝাতে হবে। কী নৃশংসতা ছিল।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় শাপলা হলে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত মতবিনিময় সভা চলে।
ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর গত ৮ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের অনুরোধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর তিনি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পত্রিকার সম্পাদক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এরই অংশ হিসেবে আজ নিজ কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ড. ইউনূস।
চলারপথে রিপোর্ট :
অষ্টগ্রাম ক্রীড়া সংঘের উদ্যাগে ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ ৬ জুলাই রবিবার বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোজাফ্ফর হোসেন।
অষ্টগ্রাম ক্রীড়া সংঘের সভাপতি হাজী মোঃ আবদুস সালাম সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফায়েজুর রহমান (ফয়েজ) এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অষ্টগ্রাম হাই স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি এডভোকেট আমিনুল হক, আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ রাশেদ কবির আখন্দ, অষ্টগ্রাম হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষক সত্যেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী, অষ্টগ্রাম হাই স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান, অষ্টগ্রাম ক্রীড়া সংঘের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, অষ্টগ্রাম ক্রীড়া সংঘের উপদেষ্টা হাদিম মিয়া, অষ্টগ্রাম ক্রীড়া সংঘের সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ, অষ্টগ্রাম ক্রীড়া সংঘের সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম।
চলারপথে রিপোর্ট :
অভিনব কায়দায় এক জেলায় চুরি করে অন্য জেলায় বিক্রি করতেন এমন আন্ত:জেলা গরু চোর চক্রের মূল হোতাসহ ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সিপিসি-২ পাবনা ক্যাম্পের সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তৌহিদুল মবিন খান এতথ্য জানান। এর আগে গত কয়েকদিন ধরে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো: ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার আলগাদিয়া এলাকার চাঁন মোল্লার ছেলে আব্দুর রহিম (৩৪), একই এলাকার হারেস মুন্সীর ছেলে শফিকুল মুন্সী আদিল (২৫), কোতয়ালী থানার বাটিলক্ষীপুর এলাকার মোতালেব মোল্লার ছেলে গাফফার মোল্লা ((২২), রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার ভবানীপুর এলাকার মৃত রফিজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে আব্দুল রাজ্জাক (৩৮), ফরিদপুর জেলার সালথা থানার রামকান্তপুর এলাকার আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে জামাল (২৩), বোয়ালমারি থানার শিরগ্রাম ধোপাপাড়া এলাকার ইয়াসিন মোল্লার ছেলে বাগানে মোল্লা (২০), নাগদি এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে মফিজুল ইসলাম (২২), মধুখালী থানার ডুমাইন এলাকার হারুন বিশ্বাসের ছেলে অনিক বিশ্বাস, বোয়ালমারীর সাতুর বাজারের মজিবুর রহমানের ছেলে মো: মিল্টন (২৪), নগরকান্দা থানার সন্তোষী এলাকার ইউনুছ মিয়ার ছেলে নাহিদ মিয়া (২৬), বোয়ালমারী থানার খামারপাড়া এলাকার আব্দুল বাকের শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ শেখ (২৫), রাজবাড়ীর পাংশা থানার ভবানীপুর এলাকার রফিজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মো. মুন্না (১৯) এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার কোলদিয়ার ভুরকাপাড়া এলাকার মল্লিক সরদারের ছেলে মো: নুতফার (৪৯)।
তৌহিদুল মবিন খান আরো জানান, তাদের বাড়ি ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলায় কিন্তু তারা ওই এলাকায় চুরি করে না। তারা মাদারীপুর, নড়াইল, মাগুড়া, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলায় গরু চুরি করে। সেইসব গরু আবার অন্য আরেক জেলায় স্থানান্তর করে বিক্রি করতো। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি ভাড়া করা বাসা থেকে মুলহোতা আব্দুর রহিমসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করি। পরে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৪টি গরু উদ্ধার করা হয়।