লেবানন–সিরিয়া সীমান্তে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪

আন্তর্জাতিক, 16 February 2026,

অনলাইন ডেস্ক :
লেবাননের সিরিয়া সীমান্তের কাছে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার ভোরে এ হামলা চালানো হয়। লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানায়, নিহতদের একজন সিরিয়ার নাগরিক খালেদ মোহাম্মদ আল আহমাদ।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা দাবি করেছে, লেবাননে সক্রিয় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে)-এর সদস্যদের লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি ইসরায়েল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননের মাজদাল আনজার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

এ ঘটনায় পিআইজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংগঠনটি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সক্রিয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা গাজায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হামাস-এর সঙ্গে লড়াই করছে। পিআইজে লেবাননের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেও পরিচিত।

২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে উত্তর ইসরায়েলে হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করে লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরবর্তী এক বছরে ইসরায়েলি বাহিনী ১০ হাজারের বেশি বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটির মানবাধিকার দফতরের হিসাবে, এ সময়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০৮ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে অন্তত ২১ জন নারী ও ১৬ জন শিশু।

এ ছাড়া একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ১১ জন লেবাননের বেসামরিক নাগরিককে আটক করে নিয়ে গেছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গত মাসে লেবানন জাতিসংঘে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে। এতে বারবার ইসরায়েলি হামলার কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলকে হামলা বন্ধ এবং লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Leave a Reply

লেবানন–সিরিয়া সীমান্তে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪

অনলাইন ডেস্ক : লেবাননের সিরিয়া সীমান্তের কাছে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি Read more

নদীর প্লাবনভূমি ও কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগে…

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীর প্লাবনভূমি ও কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু Read more

অপহৃত ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী উদ্ধার, শ্রীপুরে…

জায়েদুল কবির ভাঙ্গি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণীর এক Read more
ফাইল ছবি

মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ

অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সংসদ Read more

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন পরিচয়ে চাঁদা দাবির…

দুলাল মিয়া : বিজয়নগরে র‌্যাব সদস্য পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র দোয়া…

দুলাল মিয়া : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপার্সন ও সাবেক Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যারা এমপি নির্বাচিত হলেন

দুলাল মিয়া : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬টি Read more

হেরে গেলেন যেসব হেভিওয়েট প্রার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাবশালী ও আলোচিত Read more

গাজীপুর জেলার ৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী…

জায়েদুল কবির ভাঙ্গি, গাজীপুর: গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনে চারটিতে Read more

ভোটের দিন ধানের শীষের পক্ষে ভোটার…

দুলাল মিয়া : ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের ধানের শীষ Read more

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে পোলিং কর্মকর্তার মৃত্যু

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনরত Read more

মেক্সিকোয় ভয়াবহ আগুন, নিহত ৩৯

আন্তর্জাতিক, 28 March 2023, 1863 Views,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মেক্সিকোয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি বন্দিশিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরো অনেকে। স্থানীয় সময় ২৭ মার্চ সোমবার দেশটির যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তবর্তী সিউদাদ জুয়ারেজ শহরের একটি অভিবাসনকেন্দ্রে আগুন ছড়িয়ে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

মেক্সিকোর ইতিহাসে বন্দিশিবিরে আগুনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা। ঘটনাস্থলের ছবিতে ধোঁয়ায় আচ্ছাদিত এলাকাজুড়ে অ্যাম্বুলেন্স, দমকলবাহিনী, মর্গের গাড়ি ও রূপালি চাদরে ঢাকা মরদেহের সারি দেখা গেছে।

মেক্সিকোর ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ইনস্টিটিউট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থাপনাটিতে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে যাওয়া ৬৮ জন পুরুষ বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে আগুনে অন্তত ৩৯ জন মারা গেছেন। এছাড়া আহত ২৯ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন তদন্তকারীরা।

হতাহতদের পরিচয় বা জাতীয়তা এখনো প্রকাশ করেনি মেক্সিকোর ন্যাশনাল মাইগ্রেশন ইনস্টিটিউট (আইএনএম)। আগুন কীভাবে লাগলো সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

সিউদাদ জুয়ারেজের ফেডারেল ডেপুটি আন্দ্রেয়া শ্যাভেজ আগুনের ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করে বলেছেন, আমরা অফিসিয়াল তথ্যের জন্য অপেক্ষা করবো। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সিউদাদ জুয়ারেজ শহরটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অন্যতম প্রধান রুট। সেখানকার বন্দিশিবিরগুলোতেও এ ধরনের লোকজনই বেশি।

তবে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে মেক্সিকোর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছিল।

অধিকাংশ ভেনিজুয়েলানসহ একদল অভিবাসনপ্রত্যাশী গত অক্টোবরে টিজুয়ানার একটি অভিবাসনকেন্দ্রের ভেতর দাঙ্গা শুরু করেছিল। গত নভেম্বরে গুয়াতেমালার সীমান্তের কাছে তাপাচুলায় মেক্সিকোর বৃহত্তম বন্দিশিবিরে দাঙ্গা হয়েছিল। যদিও এ দুটি ঘটনায় কেউ মারা যাননি।

তিন মাসের জন্য পাল্টা শুল্ক স্থগিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক, 10 April 2025, 506 Views,

অনলাইন ডেস্ক :
বেশিরভাগ দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সে সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছেন। তবে চীনা পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন তিনি।

পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, আমি ৯০ দিনের জন্য একটি শুল্ক বিরতি অনুমোদন করেছি এবং এই সময়ে পারস্পরিক শুল্ক হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ১০% করেছি, যা এখনই কার্যকর হচ্ছে।

তবে চীনের জন্য এর ব্যতিক্রম ঘোষণা করে তিনি বলেন, চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আরো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ট্রাম্প চীনের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫% করার ঘোষণা দেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তিনি এ সিদ্ধান্তের পেছনে চীনের “বিশ্ববাজারের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ”-কে দায়ী করেন।

হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের ওপর ১২৫% শুল্ক আরোপ এবং অন্যান্য দেশের জন্য ৯০ দিনের জন্য কমিয়ে আনা ১০% শুল্ক কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, “যখন কেউ যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জোরে জবাব দেন।” এজন্যই চীনের বিরুদ্ধে এই উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র প্রতিটি দেশের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনার মাধ্যমে এগোবে এবং আলোচনার সময় শুল্ক হার সর্বজনীনভাবে ১০% এ নামিয়ে আনা হবে।”

এই ঘোষণার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

দাফন সম্পন্ন
স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের লক্ষীমুড়া গ্রামের নিহত হারুন মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় মনিপুর বন্দরবাজার বালুর মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় হারুন মিয়ার আত্মীয় স্বজনসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। এর আগে শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে হারুন মিয়া নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন দুপুরে ময়নাতদন্তের পর হারুন মিয়ার মরদেহে এসে পৌঁছায় তার নিজ এলাকায়। মরদেহ পৌঁছার পর থেকেই স্থানীদের ভিড় বাড়ে তার বাড়িতে। এরপর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজু আহমেদ, পত্তন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা হৃদয় আহমেদ জালাল, সাবেক মেম্বার সেলিম মিয়া, হোসেন মিয়া, মাওলানা সিরাজ আকরামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা। নিহত হারুন মিয়ার ভাতিজা সোহেল বলেন, দুধ মিয়া সরাসরি করিম মিয়ার পক্ষে নিয়েছে। যার কারণে আমার চাচা হারুন মিয়া হত্যার শিকার হয়েছে। আমার চাচার হত্যার সাথে দুধ মিয়া জড়িত। দুধ মিয়াসহ যারা আমার চাচাকে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসির দাবি জানাই।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহমেদ জানান, শান্তিপূর্ণ ভাবে হারুন মিয়ার জানাযা সম্পন্ন হয়েছে। এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অভিযুক্ত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে তিনি জানান।

খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা, 6 February 2025, 1244 Views,

হাকিকুল ইসলাম খোকন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে :
মেয়ে ও নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের (রূপান্তরিত নারী) অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ আদেশে গতকাল বুধবার তিনি সই করেন।

নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ট্রান্সজেন্ডার (রূপান্তরিত নারী–পুরুষ) খেলোয়ারদের মেয়ে ও নারী শাখায় বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ এবং নারীদের লকার রুম ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়, সেসব প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার বিরত থাকবে। খবর- আল জাজিরা

শিক্ষা খাতে ১৯৭২ সালে প্রণীত লৈঙ্গিক বৈষম্য দূরীকরণ আইনের (টাইটেল নাইন) কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা করদাতাদের কাছ থেকে ডলার গ্রহণকারী প্রতিটি বিদ্যালয়কে নোটিশ দিচ্ছি, যদি আপনারা নারীদের খেলার দলে পুরুষদের (ট্রান্স নারী) নিয়ন্ত্রণ করতে দিতে চান এবং আপনাদের লকার রুমে প্রবেশ করতে দিতে চান, তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধে টাইটেল নাইন লঙ্ঘনের তদন্ত হবে। কেন্দ্রীয় তহবিল পাওয়া ঝুঁকিতে পড়বে।

ট্রাম্প আরো বলেন, মেয়েদের খেলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা তিনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সাথে কথা বলবেন যাতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ২০২৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আগেই লিঙ্গভিত্তিক অংশগ্রহণকে স্পষ্টভাবে সমর্থন করা যায়। অলিম্পিক কমিটি খেলাধুলায় ট্রান্স নারী–পুরুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছে। আমরা চাই, তারা অলিম্পিকের সঙ্গে সম্পর্কিত ও পুরোপুরি হাস্যকর এই বিষয়ের (মেয়েদের খেলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ) সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছু বদলে ফেলবে, যোগ করেন ট্রাম্প।

ট্রান্স নারীদের খেলায় অংশগ্রহণের বিষয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে; যদিও মেয়েদের খেলায় অংশ নেওয়া ট্রান্স নারীদের সংখ্যা বেশ কম।

ন্যাশনাল কলেজিয়েট অ্যাথলেটিকস অ্যাসোসিয়েশনের (এনসিএএ) প্রেসিডেন্ট চার্লি বেকার গত ডিসেম্বরে সিনেট প্যানেলের সামনে এক শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। তখন চার্লি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫ লাখ ২০ হাজার খেলোয়াড়ের মধ্যে ১০ জনেরও কম ট্রান্স নারী খেলোয়ারের কথা তিনি জানেন।

স্বৈরাচারের বুলেটের সামনে বুক পেতেছিল ছাত্র-জনতা : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আন্তর্জাতিক, জাতীয়, 27 September 2024, 1450 Views,

অনলাইন ডেস্ক :
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অদম্য সংকল্প ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা একটি স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি এনে দিয়েছে।

আজ সেপ্টেম্বর ২৭ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ভাষণে এ কথা বলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূস।

ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই আজ আমি বিশ্বসম্প্রদায়ের এ মহান সংসদে উপস্থিত হতে পেরেছি। আমাদের গণমানুষের, বিশেষ করে তরুণ সমাজের অফুরান শক্তি আমাদের বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল রূপান্তরের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমাদের ছাত্র ও যুব সমাজের আন্দোলন প্রথমদিকে মূলত ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। পর্যায়ক্রমে তা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর সারা পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে কীভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একনায়কতন্ত্র, নিপীড়ন, বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমাদের ছাত্রজনতা তাদের অদম্য সংকল্প ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি এনে দিয়েছে। তাদের এই সম্মিলিত সংকল্পের মধ্যেই আমাদের দেশের ভবিষ্যত নিহিত, যা এ দেশটিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি দায়িত্বশীল জাতির মর্যাদায় উন্নীত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই গণআন্দোলন রাজনৈতিক অধিকার ও উন্নয়নের সুবিধাবঞ্চিত বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারত্ব চেয়েছিল। আমাদের জনগণ একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, যার জন্য আমাদের নতুন প্রজন্ম জীবন উৎসর্গ করেছিল। আমাদের এই তরুণরা যে প্রজ্ঞা, সাহস ও প্রত্যয় দেখিয়েছে তা আমাদের অভিভূত করেছে।

বন্দুকের গুলি উপেক্ষা করেও তরুণরা বুক পেতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সোচ্চার হয়েছিলেন আমাদের তরুণীরা। স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরা নিঃশঙ্ক চিত্তে উৎসর্গ করেছিল তাদের জীবন। শত শত মানুষ চিরতরে হারিয়েছে তাদের দৃষ্টিশক্তি। আমাদের মায়েরা, দিনমজুরেরা ও শহরের অগণিত মানুষ তাদের সন্তানদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমেছিলেন রাজপথে। তপ্ত রোদ, বৃষ্টি, মৃত্যুভয় তোয়াক্কা না করে তারা সত্য ও ন্যায়সঙ্গত আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিচালনা করার অশুভ ষড়যন্ত্র পরাভূত করেছিল। জনগণের এই আন্দোলনে আমাদের জানা মতে আট শতাধিক জীবন আমরা হারিয়েছি স্বৈরাচারী শক্তির হাতে।