স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ১৫০জন শীতার্তের গায়ে শীতবস্ত্র কম্বল জড়িয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অংগ্যজাই মারমা। তিনি গত সোমবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে উপজেলার মোগড়া বাজার, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন, খড়মপুর মাজার, আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনে থাকা অসহায় ও ছিন্নমূল ১৫০ জন শীতার্তের শরীরে কম্বল জড়িয়ে দেন। এ সময় শীতার্তরা কম্বল পেয়ে সরকার ও ইউএনও’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। কম্বল বিতরণকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী জানান, গত ৪-৫ দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট বেড়ে যায়। তাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আসা কম্বল রাতের বেলা বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, সোমবার রাত পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় তিন হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ভাগ্য বদলের আশায় ১৭ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফায়েজ মিয়া। সেখানে দাম্মাম শহরে তিনি একটি বড় কোম্পানিতে কাজ করতেন। এবার দেশে এসে কোরবানির ঈদ করার কথা ছিল। এরই মধ্যে গত ১৪ মে কর্মস্থল সৌদি আরবের দাম্মামে হঠাৎ স্ট্রোক করে তিনি মারা যান। বুক ভরা আশা নিয়ে বিদেশ পাড়ি দেওয়া ফায়েজ বাড়ি ফিরেছেন ঠিকই কিন্তু জীবিত নয় কফিনবন্দি হয়ে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২১ দিনের মাথায় আজ ৪ জুন মঙ্গলবার দুপুরে তার মরদেহ নিজ জন্মভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ার তারাগনে আসলে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় দেন আত্মীয়স্বজনসহ প্রতিবেশী।
বাদ আছর আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিনগর বাইতুল মামুর জামে মসজিদ মাঠে বাদ আসর জানাযা শেষে সাতপুকুরপাড়ে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে, ভোরে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখান থেকে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর সড়ক পথে নিহতের মরদেহ লাশবাহী একটি অ্যাম্বুল্যান্স করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। নিহতের মরদেহ দুপুরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় শোকের মাতম। পরিবার-পরিজন আর স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতের মরদেহ এক নজর দেখেতে পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয়স্বজনসহ এলাকার শত শত লোকজন তার বাড়িতে ভিড় করেন। ফায়েজ আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী, ৩ মেয়ে ১ ছেলে রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে ফয়েজ মিয়া সৌদি আরব পাড়ি জমান। সেখানে দাম্মাম শহরে তিনি একটি বড় কোম্পানিতে কাজ করতেন। সর্বশেষ গত প্রায় ৫ বছর আগে দেশে আসেন। এবার কোরবানির ঈদের আগে দেশে আসার কথা ছিল। গত ১৪ মে স্ট্রোক করে মায়াভরা এ পৃথিবী থেকে না ফেরার দেশে চলে যান।
চাচাতো ভাই আলাউদ্দিন বলেন, ফায়েজ একজন কর্মঠ লোক ছিল। দেশে থাকতে কাজ ছাড়া কিছুই বুঝতো না। পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে অনেক কষ্ট করে বিদেশে যায়। এরপর এই পরিবারটা ভালই চলছিল। হঠাৎ করে এভাবে সে মারা যাবে তা কখনো ভাবতে পারছি না। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে নিহতের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এসেছে। বাদ আসর জানাযা নামাজ শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
মাওলানা হাফেজ নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, ফায়েজ খুব ভালো একজন মানুষ ছিল। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতো বড় হওয়ার। এভাবে চলে যাবে তা কখনো ভাবতে পারিনি।
চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়ায় বিশ্বজিৎ পাল নামের এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার রাধানগরের দাসপাড়ার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত বিশ্বজিৎ পাল উপজেলার রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দেবগ্রামের বাসিন্দা সুমন ভূঁইয়া তার স্ত্রীসহ ছয় মাসের শিশুকে চিকিৎসক দেখাতে রাধানগরের দাসপাড়ার দি কমফোর্ট অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। চিকিৎসক কাজী মাজহারুল ইসলামের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে চেম্বার থেকে বের হন সুমন। এ সময় ক্লিনিকের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকা সালমা আক্তার সুমনের কাছে চিকিৎসকের পরামর্শ ফি হিসেবে ৪০০ টাকা চান। এতে ক্ষিপ্ত হন সুমন। একপর্যায়ে সালমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা আশিষ সাহা নামের আরও একজনের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন। পরে ফি না দিয়েই ক্লিনিকের মালিককে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান সুমন।
এদিকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসক দেখাতে যান সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুমন ভূঁইয়া ২০-২৫ জন লোক নিয়ে ওই ক্লিনিকে যান। এ সময় সুমনের নেতৃত্বে ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক সালমা আক্তারকে জোর করে তুলে নিতে গেলে বিশ্বজিৎ পাল বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনের নেতৃত্বে তার লোকজন সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পালের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে বাঁচাতে গেলে তার দুই চাচাতো ভাই আনন্দ পাল (২৮) ও প্রসেনজিৎ পালকে (২৮) তারা মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হামলায় বিশ্বজিৎ পাল মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান। পরে আহতদের উদ্ধার করে রাত পৌনে ৮টার দিকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ক্লিনিক থেকে একটি মেয়েকে (সালমা আক্তার) তারা তুলে নিতে আসে। আমি তখন নিজেকে ওই মেয়ের অভিভাবক হিসেবে পরিচয় দিলে তারা আমাকে ‘তুই গার্ডিয়ান, দাঁড়া’ বলে আমার ওপর হামলা করে। এ সময় রাধানগর মোড়ে থাকা আমার দুই ভাই ঘটনা শুনে আমাকে বাঁচাতে আসে। পরে তাদেরকেও মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে আখাউড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখে এসেছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের জন্য আট কর্মকর্তাকে ভোট গ্রহণের দায়িত্ব না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
গতকাল ১৪ মে মঙ্গলবার সকালে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আক্তারের কাছে লিখিতভাবে এ আবেদন জানান চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মনির হোসেন। অভিযোগে পৌর মেয়র তাকজিল খলিফার নিয়ন্ত্রিত চারটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও তাঁর ঘনিষ্ঠ আট কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জনই সরকারি কর্মকর্তা।
দ্বিতীয় ধাপে ২১ মে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান মনির হোসেন (ঘোড়া প্রতীক) এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুরাদ হোসেন ভূঁইয়া (আনারস প্রতীক)। ইতিমধ্যে মুরাদকে সমর্থন দিয়েছেন আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা। তাঁর অনুসারীরা মুরাদকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলে এলাকায় প্রচারণাও চালাচ্ছেন।
লিখিত আবেদনে মো. মনির হোসেন অভিযোগ করেন, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. তাকজিল খলিফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুরাদ হোসেন ভূঁইয়াকে সমর্থন দিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন। আচরণবিধি ভঙ্গ করে পৌরসভা কার্যালয়েও সভা করছেন। সভা-সমাবেশে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির হোসেন সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। মেয়র তাকজিল খলিফার নিয়ন্ত্রণাধীন চার প্রতিষ্ঠান হলো আখাউড়া পৌরসভা, জাহানারা স্কুল অ্যান্ড স্কুল, নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও সিরাজুল হক উচ্চবিদ্যালয়। তিনি উপজেলার ওই তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। মেয়রের নিয়ন্ত্রিত এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মুরাদ হোসেন ভূঁইয়ার পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভোটের দিন নিজেরা যেন সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ভরেন, সে বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করছেন বলে তথ্য রয়েছে। সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেকে গোপনে এসে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনির হোসেনের কাছে তথ্য দিচ্ছেন। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বোধ করছেন বলেও জানিয়েছেন।
পৌর মেয়রের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পেলে নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারেন বলে মনির হোসেন আশঙ্কা করছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তাকজিল খলিফার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনকে নির্বাচনের দায়িত্বে না দেওয়ার জন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন তিনি।
লিখিত আবেদনে যে আট কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন আখাউড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী তানভীর হাসান, উপসহকারী প্রকৌশলী ফয়ছেল আহাম্মদ খান, নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী মো. ইকবাল, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মোসলেহ উদ্দিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস কুমার চক্রবর্তী, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হাসেন ও উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ইউসুফ নুরুল্লাহ। তাঁরা অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে নাম উল্লেখ করা সরকারি ছয় কর্মকর্তার মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বিব্রত। তাঁরাও চান না, নির্বাচনের দিন তাঁদের কোনো দায়িত্বে রাখা হোক। আর রাখা হলেও প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমে কিংবা তাঁদের বাদ দেওয়া হোক।
চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির হোসেন বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুরাদ হোসেনের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। প্রতিনিয়ত সরকারিসহ দলীয় প্রতিষ্ঠানে সভা-সমাবেশ হচ্ছে। ভূরিভোজসহ আচরণবিধির তোয়াক্কা করছেন না মেয়রের অনুসারীরা।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আখাউড়ার ইউএনওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির হোসেন। সেখানে আমাদের কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার নাম রয়েছে। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়া উপজেলাতে বন্যায় ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন ৩০ পরিবার পেয়েছেন আর্থিক সহায়তা।
আজ ২৭ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে আখাউড়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ৩০টি পরিবারের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এছাড়া বন্যায় মারা যাওয়া সুবর্ণ আক্তারের স্বামীকেও সম পরিমাণ টাকা দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি।
এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস কুমার চক্রবর্তী, কালের কণ্ঠের সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বাবু, আয়োজকদের পক্ষে সুজন চৌধুরী, মো. মাসুম, শিক্ষার্থী আসিফ খান, ফখরুল হাসান সরকার প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, বন্ধুদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে তারা এই টাকা বিতরণ করেছেন। বন্যার্তদের পাশে থাকতে পেরে তারা খুবই খুশি। সহায়তা পাওয়া বঙ্গেরচর গ্রামের আয়েশা আক্তার বলেন, বন্যায় আমার মাটির ঘরের ক্ষতি হয়। পানি কমলেও ভয়ে ঘরে উঠতে পারছি না। এই সহায়তার টাকা ঘর মেরামতের কাজে লাগাবো।
চলারপথে রিপোর্ট :
দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় দ্বিতীয় দফায় গেল ২ হাজার ৩২০ কেজি ইলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার বিকালে দুটি পিকআপে করে এসব ইলিশ ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় পাঠানো হয়।
খুলনার এসএস করপোরেশন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স সাকিয়াত কনস্ট্রাকশন ও প্রীতম এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে মাছগুলো ত্রিপুরার আগরতলায় রপ্তানি করে। চলতি মাসে আখাউড়া দিয়ে আরো একাধিক ইলিশের চালান রাজ্যের আগরতলায় যাওয়ার কথা রয়েছে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সাকিয়াত কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. ইদন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ত্রিপুরায় ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সোমবার বিকালে ১০০টি কার্টনে মাছগুলো ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় পাঠানো হয়। প্রতি কেজি ইলিশ মাছের রফতানি মূল্য ১০ মার্কিন ডলার; যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় এক হাজার ১১৩ টাকা।
এদিকে গত শুক্রবার প্রথম চালানে ১৪৩টি কার্টনে করে ৩ হাজার ২২৫ কেজি ইলিশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা রফতানি করা হয়েছে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এ সময়ের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করতে পারবেন।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে ভারতে ৩ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দেশের ৭৯টি প্রতিষ্ঠান এই অনুমতি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ৫০ মেট্রিক টন করে ইলিশ রপ্তানি করতে পারবে। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এ অনুমতি কার্যকর থাকবে।