পুরোহিত ও সেবায়েতদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা

চলারপথে রিপোর্ট :
বরিশালের উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীর শাখা কঁচা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ছাত্রী তাসনিম তানহার (১৬) মরদেহ ২১ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়েছে। আজ ৩০ আগস্ট বুধবার সকাল ৯টায় বানারীপাড়ার কালিবাজার সংলগ্ম সন্ধ্যা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা।
তানহা ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকে এবার এসএসসি’তে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। সে উজিরপুর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ওটরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকার ব্যবসায়ী কামরুল হাসান নাসিম মোল্লার মেয়ে।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার কলিমউল্লাহ বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে ভবানীপুর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল তানহা। গত মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ভবানীপুর গ্রামে কঁচা নদীতে গোসল করতে যায় সে। এ সময় পা পিছলে নদীতে পড়ে স্রোতের টানে ভেসে নিখোঁজ হয় তানহা। ছোট ভাইয়ের ডাক চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পাননি।
সকাল ৯টায় বানারীপাড়ার কালিবাজার সংলগ্ম সন্ধ্যা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস তার লাশ উদ্ধার করে। পরে তানহার স্বজনরা তার লাশ শনাক্ত করে।
উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মু. তৌহিদুজ্জামান জানান, তানহার লাশ শনাক্ত করে তার বাবা কামরুল হাসান নাসিম মোল্লা নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক :
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ ৬ অক্টোবর রোববার সেনাবাহিনী সদরদপ্তরে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ছাত্র-শ্রমিক-জনতার বিপ্লবে সিক্ত নতুন বাংলাদেশে সবাইকে স্বাগত জানান। এসময় জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
তিনি আরো স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীর শহীদসহ সকল বীর সেনানীদের, যাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
ড. ইউনূস বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী, চিফ অব জেনারেল স্টাফ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই বাইরের কোনো হস্তক্ষেপের কাছে মাথা নত করবে না।
স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ দরবার (সমাবেশ) অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। সূত্র : বাসস
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কারো হস্তক্ষেপের কাছে মাথা নত করব না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।’
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ‒ একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন জাতি। আমরা যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের দেশ অর্জন করেছি।’
বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রণীত ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বৈরিতা নয়’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার গুরুত্বপূর্ণদের সাথে বন্ধুত্ব করতে কাজ করছে। দেশের উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন তা করছে।
তিনি বলেন, অনেক বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ বারবার প্রতিবন্ধকতা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু সফলতার সঙ্গে সেগুলো কাটিয়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনও অনেক বাধা এবং ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। কারণ একটি দেশ যখন দ্রুত অগ্রগতি করে, তখন অনেকেই তা সহ্য করতে পারে না। তারা বিভিন্ন ঝামেলা শুরু করে।’
একটি স্বাধীন ও বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দেশের সকল মানুষকে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা নিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো (বাধা-বিপত্তি) নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান তার স্বাগত বক্তব্যে বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে এসএসএফ এবং এর কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান সংকলিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭৫টি বাণী সম্বলিত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর উক্তি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
১৯৮৬ সালের ১৫ জুন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বাহিনী (পিএসএফ) গঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর ১৯৯১ সালে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) নামে নামকরণ করা হয়।
রাষ্ট্রপতি যেখানেই থাকুন না কেন এবং ভিআইপি, রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান বা সরকার কর্তৃক ভিআইপি হিসেবে ঘোষিত যে কোনও ব্যক্তিসহ উভয় ভিআইপিকেই ‘শারীরিক নিরাপত্তা’ প্রদানের উদ্দেশ্যে এই বাহিনী গঠন করা হয়।
সংসদীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর এটির প্রাথমিক কাজ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য ভিআইপিদের সুরক্ষা দেওয়া।
অনলাইন ডেস্ক :
রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৫টি মরদেহের মধ্যে অন্তত ৩৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। এদিকে আজ ১ মার্চ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ২৯ জনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মোস্তফা আবদুল্লাহ আল নূর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ২৯ জনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাত ২টা থেকে মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অজ্ঞাত মরদেহের বিষয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে ছয় জনের মরদেহ এখনো কেউ দাবি করেনি। তাদের চেহারা বোঝা যাচ্ছে। তবে একটি মরদেহ পুড়ে একেবারে অঙ্গার হয়ে গেছে। সেই মরদেহটি ডিএনএ টেস্ট ছাড়া হস্তান্তর করা সম্ভব হবে না।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢামেক হাসপাতালের হেল্প ডেস্কে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের একজন নূর বলেন, পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করলে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তান্তর করা হচ্ছে। চেহারা, জামাকাপড় দেখে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন। গুরুতর আহত ১০ জনকে বার্ন ইনস্টিটিউটের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডে ছয়তলা ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে এবং রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
চলারপথে রিপোর্ট :
বাঞ্ছারামপুরে শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা যুবদল ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা।
আজ ১৪ আগস্ট বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুবদল ও পৌর যুবদলের আয়োজনে এ মিছিল হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদের সামনে এসে শেষ হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে শত শত প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে দেশব্যাপী দুই দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর দেশকে অন্ধকারে রেখেই গোপনে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। ছাত্র জনতার উপর গুলি চালিয়ে হত্যাকারী শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আজ আমরা সারা দেশের ন্যায় বাঞ্ছারামপুরেও বিক্ষোভ প্রতিবাদ মিছিল করেছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট জিয়াউদ্দিন, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি মান্নান, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক হারুন অর রশিদ, সদস্য সচিব জিসান সরকার, যুগ্ম আহবায়ক মীর মোশাররফ হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক ভিপি মুজিব, সাধারণ সম্পাদক শুকরি সেলিম, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ছালে মুসা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ওমর ফারুক, সদস্য সচিব আওলাদ হোসেন মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মোঃ লিটন প্রমুখ।