চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতি চর্চার প্রধান অঙ্গন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে দেয়াল ভেঙ্গে, জানালার লোহার রড কেটে দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গীতপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র তিতাস ললিতকলা একাডেমিতে গত বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। সকালে দরজা খুলে দেখা যায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পশ্চিম দিকের জানালার লোহার রড কাটা এবং পেছনের একটি দেয়াল ভাঙ্গা, চোর জানালা কেটে প্রবেশ করে ম্যান্ডোলিন,তবলা, টেবিল ফ্যান, ঝুলানো ফ্যান সহ বিভিন্ন বাদ্য যন্ত্র নিয়ে যায়। এর পূর্বেও এই অঙ্গনের জেলা স্কাউটস ভবন সহ পাশের ভবনে জানালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ভাষা চত্বরে একাধিক সঙ্গীত নাটক চিত্রকলা সংস্কৃতিচর্চা, পাঠাগার, স্কাউট ভবন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল এর অফিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সাধারণত সন্ধ্যার পর এই মাঠে একশ্রেণীর নেশাসক্ত বখাটে মাস্তানদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। রাতের বেলায় এই নীরব এলাকায় মাঠে, ছাদে, বারান্দায় নেশাসক্তরা আড্ডা দেয় বলে আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানাকে অবগত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে বলে জানা গেছে।
স্টাফ রিপোর্টার:
শখে কবুতর পালন করে ওরা। সৌখিন কবুতর পালনকারীরা সংগঠিত হয়ে আয়োজন করে প্রতিযোগিতার। তেমনই একটি সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসার এন্ড হাই-ফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব। ২০১৬ সালে ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। জেলায় ২০২১ ও ২০২২ সালে গ্রীষ্মকালীন কবুতর উড়ানোর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ১৫২ জন। মঙ্গলবার রাতে শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসার এন্ড হাই-ফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব সভাপতি মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা হাই-ফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাবের সভাপতি নূরে আলম, খুলনা ফাইভ-টি পিজিয়ন ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মন্নাফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রসক্লাবের সাবেক তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক মজিবুর রহমান খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসার এন্ড হাই-ফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব সাধারণ সম্পাদক কাজী রিমন, বিজয়নগর রেসার এন্ড হাই-ফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাবের সভাপতি সুমন রেজা।
অনুষ্ঠানে ২০২১ সালের গ্রীষ্মকালীন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী ৬৭ জন এবং ২০২২ সালে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৮৫ জনকে ক্রেষ্ট এবং প্রতিযোগীদের মধ্যে ২ জন চ্যাম্পিয়ন ও ৪ জন রানার আপকে ট্রফি প্রদান করা হয়। ২০২১ সালের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন মো: রায়হান। তার কবুতর আকাসে উড়ে ৮ঘন্টা ৪৮ মিনিট। আর ২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হন রাকিব আহসান মেহেদী। তার কবুতরের উড়ার সময় ৭ ঘন্টা ৪৮ মিনিট।
২০২১ সালে প্রথম রানার আপ মো: নাহিদুল ইসলাম বাবু, ২য় রাকিব আহসান মেহেদী, ৩য় মিয়া মাসুক, ৪র্থ মো: আলামগীর হোসেন, ২০২২ সালে প্রথম রানার আপ নাহিদুল ইসলাম বাবু, ২য় রানার আপ মিজান মিয়া সনু, ৩য় হারিছুজ্জিমান সরকার, ৪র্থ কাজী রিমন। তাদের প্রত্যেকের কবুতর ৫ ঘন্টা থেকে সাড়ে ৭ ঘন্টা আকাসে উড়ে।
আয়োজকরা জানান, বছরের এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসব্যাপী এই প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী একেকজন তাদের নিজ বাসা থেকে পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কবুতর আকাসে উড়িয়ে দেন। এর আগে প্রতিযোগি কবুতরের ডানায় ক্লাবের সীল দেয়া হয়। পরে কার কবুতর কতো সময় ধরে আকাসে উড়লো সেই সময় ধরে প্রতিযোগীতার বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ী নির্ধারন করা হয়। আয়োজকরা আরো জানান,সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে কবুতর উড়াতে হয়। কবুতর ফেরার সময় থাকে সন্ধ্যা অর্থাৎ মাগরিবের আযান পর্যন্ত। এ সময় পর্যন্ত প্রতিযোগিতার জন্যে উড়ানো কবুতরটিকে চোখের দৃষ্টি সীমার মধ্যে রেখে পর্যবেক্ষন করা হয়। মাগরিব পর্যন্ত কবুতরটি নিচে নেমে না এলে ডিসকোয়ালিফাইড হিসেবে গন্য করা হয়।
অনলাইন ডেস্ক :
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির (বিজিএফসিএল) আওতাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৪ নম্বর কূপ থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে ৷
একসময় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা এই কূপ থেকে আজ ৯ জুন শুক্রবার সকাল ১১টার পর দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. শোয়েব।
তিনি জানান, পরিত্যক্ত হওয়ার পর কূপটির ওয়ার্কওভার (সংস্কার) করে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্স ৷ ৪৫ দিনে ওয়ার্কওভার কাজ শেষ হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কূপটি খনন করেছিল চীনের কোম্পানি সিনো প্যাক।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী তার ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘তিতাস-২৪নং কূপ থেকে আজ (শুক্রবার) হতে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘বাপেক্সসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবিরাম প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।’
“অন্নদা উৎসব ২০২২” অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বিদ্যাপীঠ অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৫৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী উপলক্ষ্যে গতকাল রোববার দিনভর “অন্নদা উৎসব-২০২২” অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, স্মৃতিচারণ, মধ্যাহ্নভোজ, সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মেতে উঠেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
এ উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ডঃ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বহু বছর পর এই পরিণত বয়সে এসে আজকে মিশ্র অনুভূতি হয়েছে। এ স্মৃতি সুখ স্মৃতি। নস্টালজিয়ায় স্মৃতিকাতর হয়ে তিনি গেয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথের গান ‘পুরনো সেই দিনের কথা ভুলবে কিরে আয়…’ তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমাদের সময়ে নিয়মিত অ্যাসেম্বলি হতো না। শিক্ষা বিভাগের কোন কর্তা ব্যক্তি, মন্ত্রী, ডিসি কিংবা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আসলে অ্যাসেম্বলি হতো। একদিন একজন অতিথির প্রশ্নের উত্তর দিলে বিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ওয়াহিদুন্নবী খান (শিশু মিয়া) স্যার তা লক্ষ্য করে পরে আমাকে বলেছিলেন গুরুজন কিংবা বিশিষ্ট কোন লোকের সাথে পকেটে হাত রেখে কথা বলতে নেই। স্যার নেই কিন্তু তার কথা এখনো মনে আছে।
অন্নদা উৎসবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন, সাবেক সচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এস.এম শফি সামি, সাবেক নির্বাচন কমিশনের সচিব ও কমিশনার স.ম জাকারিয়া, সাবেক শিক্ষার্থী ও নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আতিকুল ইসলাম, সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর, লেঃ জেঃ সাজ্জাদুল হক, পিএসসির সদস্য ডঃ দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী, প্রবীণ আইনজীবী এ.কে.এম শামসুদ্দিন, সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাবেক পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন, উৎসবের আহবায়ক ডাঃ আবু সাঈদসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।
উৎসবে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার সাখাওয়াৎ হোসেন। বক্তব্য রাখেন অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা নাজমীন। অন্নদা উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুণ আল রশীদ। সন্ধ্যার পর অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আয়োজিত কনসার্টে ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশন করে ব্যান্ডদল মাইলস।

উৎসবে অংশগ্রহণ করতে আসা বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, এই উৎসবটি সকলের অংশগ্রহণে একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে যেন সকলেরই পুরানো স্মৃতি ভেসে উঠছে। আমাদের অনেক বন্ধু সুদূর অ্যামেরিকা, অস্ট্রোলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে এসেছে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য। সবাই সবার পুরানো বন্ধুদের পেয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে। আয়োজকদের কাছে সবার দাবি এই ধরনের মিলন মেলা যেন প্রতিবছরই হয়।
উৎসবের প্রথম ধাপে রোববার সকাল ৯টায় অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে শহরের লোকনাথ উদ্যান, পুরাতন জেল রোড-কুমারশীল মোড়-হাসপাতাল রোড- পুরাতন কাচারী পাড়-হালদারপাড়া অতিক্রম করে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। শোভা যাত্রায় বিদ্যালয়ের ছাত্ররা বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে আনন্দ উৎযাপন করেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান।
নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এস আর এম ওসমান গণির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন, জেলা শিক্ষক অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সাহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের শারিরীক ও মানুষিক বিকাশে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। ক্রীড়া প্রতিযোগীতা আয়োজনের মাধ্যমে নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
এছাড়া অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, সাবেরা সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদিউজ্জামান, আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জামাল সহ অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ। ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় বিভিন্ন ইভেন্টে খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে প্রধান অতিথি পুরস্কার তুলে দেন।