চলারপথে রিপোর্ট :
ইজতেমা ময়দানে নিরীহ মুসল্লিদের ওপর সাদ পন্থীদের হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে এবং দেশব্যাপী সাদ পন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উলামা মাশায়েখ ও তৌহিদি জনতা।
আজ ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার জুম্মা নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসার তৌহিদী জনতা শহরের টেংকের পাড় মাঠে এসে সমাবেত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কুমারশীল মোড়, হাসপাতাল রোড, কোর্টরোড ও মাদরাসা মোড়সহ বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদিক্ষিন করে কাউতলী মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, হেফাজত ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি মুফতি মুবারকুল্লাহ্, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম, দফতর সম্পাদক মাওলানা বেলাল হোসাইন প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ইজতেমা ময়দানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাদপন্থীদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবি জানান। পাশাপাশি দেশ ব্যাপী সাদ পন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধেরও দাবি তুলেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
নওমুসলিম মো. আলী আকবরের লাশ গ্রহণ করেনি পরিবার। দাফন করেছে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের কাছ থেকে বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন লাশ গ্রহণ করে আজ ২৫ নভেম্বর শনিবার বাদ আছর মেড্ডা সার গোডাউন চত্বরে জানাযার পর বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
গত বছরের জুলাই মাসের ৩ তারিখে ধর্মান্তরিত হয়ে ঘর ছাড়েন মো. আলী আকবর (৪৫)। অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর পাড়স্থ খেয়াঘাটের গাছের নীচে অবসান ঘটে তার জীবন সংগ্রামের।
২৪ নভেম্বর শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বড় বাকাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বপাশের তিতাস নদীর পাড়স্থ খেয়াঘাটের গাছের নীচে শারিরীক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে মো. আলী আকবরের মৃত্যু হয়। সদর মডেল থানার পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মর্গে পাঠান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসাইন জানান, মো. আলী আকবরের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার উত্তর কামলা বাজার এলাকায়। তার নাম প্রেমাংশু রঞ্জন রায়, বাবা-হিমাংশু শেখর রায় ও মা-ফনী বালা রায়। প্রেমাংশু রঞ্জন রায় বিয়ে করেনি। সে গত বছরের জুলাই মাসের ৩ তারিখ ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তার সঙ্গে সম্পর্কছেদ করে।
ওসি আরো জানান, মো. আলী আকবরের মৃত্যুর খবর তার চাচা সিতু চন্দ্র রায় ও দুই ভাইকে জানালে এবং লাশ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করলে তারা লাশ গ্রহণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে আলী আকবরের লাশ গ্রহণ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তারপর বেওয়ারিশ লাশ দাফনকাজের সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিনকে লাশ দাফনের চিঠি পাঠায়। তিনি লাশ গ্রহণ করে শনিবার বাদ আছর মেড্ডা স্যার গোডাউন চত্বরে জানাযার নামাযের পর তিতাস পাড়ের বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে দাফন করেন।
নওমুসলিম আলী আকবরের জানাযার নামায ও মোনাজাত করেন মেড্ডা বিএডিসি স্যার গোডাউন জামে মসজিদ ইমাম মাওলানা আবির উল্লাহ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর বেওয়ারিশ লাশ দাফনকাজ ও মানবিক কাজ দিয়ে জেলায় যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে তারা জেলায় টেলি-মেডিসিন সেবা, বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা ও ২৪ ঘণ্টা ফ্রিতে রক্তদান করে যাচ্ছে। যা এই প্রথম কোন সংগঠন এত গুলো কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ১২৫টি বেওয়ারিশ লাশ দাফনকাজ সম্পন্ন করেছে বাতিঘর।
চলারপথে রিপোর্ট :
অমর কথাশিল্পী তিতাসপাড়ের শ্রেষ্ঠতম সন্তান অদ্বৈত মল্লবর্মণের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে তাঁর জন্মভিটায় নানা কর্মসূচি পালন করেছে তিতাস সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ।
আজ ১ জানুয়ারি বুধবার সকাল ১০ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্ণঘাটে প্রধান সড়ক থেকে অদ্বৈত জন্মভিটায় সংগঠনের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রা, আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা ও শিশুদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এসময় তিতাস সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি এস সি তাপসী রায়ের সভাপতিত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারদিয়া আশরাফি নাওমী, কার্যকরী সদস্য আনিসুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, মোজাম্মেল হোসেন ও প্রিয়ন্তি।
সাহিত্য একাডেমির পরিচালক রম্য-লেখক পরিমল ভৌমিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ স্মৃতি পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্রের আহ্বায়ক শাহ মো. সানাউল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন শাহীন, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সহসভাপতি ডা. অরুনাভ পোদ্দার, নারী নেত্রী নন্দীতা গুহ, ফজিলাতুন্নাহার, ফারুক আহমেদ ভূইয়া, কবি শিরীন আক্তার, কবি আমির হোসেন, এম. এ হানিফ, কবি শাহজাদা জালাল, নেলী আক্তার, অদ্বৈত মল্লবর্মণ স্মৃতি পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য সচিব মো. হুমায়ূন কবীর, কবি মো. ইউনুছ সরকার, মাসুদ আহমেদ, জামিনুর রহমান, মো. মঈন উদ্দিন, নির্জয় হাসান সোহেল, নির্মল বর্মণ প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন সাহিত্য একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন এবং সদস্য নুসরাত জাহান বুশরা।
অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামের ধীবর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৩৭ বছরের জীবনে অদ্বৈত মল্লবর্মণ সামান্য কটি উপন্যাস, গোটা চারেক গল্প এবং গোটা কয়েক প্রবন্ধ রচনা করলেও তার রচনার প্রসাদ গুণের কারণে তিনি বিদগ্ধ পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে পিকআপ ভ্যান ও ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. ফজলুল হক নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনা ঘটে ৭ মার্চ শুক্রবার সকালে উপজেলার নন্দনপুর এলাকায়।
নিহত ফজলুল হক ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার বাঁশহাটি গ্রামের মো. আব্দুল লতিফের ছেলে। আহতরা জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার এসআই মো. সজিব মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের নন্দনপুর বিসিকের সামনে দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পিকআপ ভ্যানে থাকা ফজলুল হক ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আরো দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে ফ্রি ডায়াবেটিস চেক-আপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
আজ ১১ অক্টোবর শুক্রবার সকালে শহরের বর্ডার বাজারে ব্রাদার্স ক্লাব প্রাঙ্গনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন।
ক্লাবের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট লায়ন প্রফেসর ডাঃ মো রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্লাব সেক্রেটারি লায়ন এটিএম ফয়েজুল কবির এমজেএফ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাব ট্রেজারার লায়ন শরিফুল হক, যুগ্ম ট্রেজারার লায়ন স্বপন কুমার দেবনাথ, লিও এডভাইজর লায়ন আর্কিটেক্ট মো রুবেল মিয়া। সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত ১২৫ জনের ডায়াবেটিস চেক-আপ করা হয়। এই কাজে সহযোগিতা করেন ঐশী, আরশী, আরিয়ান, মুতাসিম বিল্লাহ ও আবুল খায়ের। এছাড়াও স্থানীয় বয়োজেষ্ঠ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।