চলারপথে রিপোর্ট :
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পি বলেছেন, অদ্বৈতের তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাস এখনও একক এবং তুলনাহীন।’ ‘অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নাম মূলত জেলে জীবনের পাঁচালি। জেলে জীবনভিত্তিক যে যে উপন্যাস রচিত হয়েছে, এদের কোনোটিই তিতাসের সমতুল্য নয়। নদীপাড়ের কৈবর্তজীবনের অনুপুঙ্খ দলিল বলা যেতে পারে তিতাসকে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে অদ্বৈত মল্লবর্মণ ছিলেন অকৃতদার। স্বল্প আয়ের অদ্বৈত মল্লবর্মণ নিজের সাহিত্য আর জীবন দিয়ে তুলে এনেছিলেন নিম্নবর্গের মানুষদের আত্মকথা। ক্ষুদ্র জীবনে তিনি হয়ে উঠেছেন সাহিত্যে নিম্নবর্গের মানুষদের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি।
তিনি আজ ২০ ফেব্রুয়ারি সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর এলাকার গোকর্ণঘাটে কালজয়ী ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ এর জন্মভিটায় অদ্বৈত মল্লবর্মণ স্মৃতি গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে তিনব্যাপী “অদ্বৈত গ্রন্থমেলা ২০২৩” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র মিসেস নায়ার কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ রুহুল আমিন, সাহিত্য একাডেমির সভাপতি জয়দুল হোসেন, ভারতের ত্রিপুরার কবি বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আঃ কুদ্দূস।
এ সময় পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশনা করেন তিতাস সাহিত্য- সংস্কৃতি পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সঙ্গীত পরিবেশন করবেন আনন্দলোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
চলারপথে রিপোর্ট :
আমাদের নদীগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী পালিত হলো আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস ২০২৫। এই দিবসটি উপলক্ষে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন তরী বাংলাদেশ এর আয়োজনে নদী রক্ষায় দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা ‘ শীর্ষক এক আলোচনা সভা আজ ১৪ মার্চ শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে হয়েছে।
সভায় বক্তারা নদী সুরক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন,মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম সাধারণ সম্পাদক এবিএম মমিনুল হক, জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি পীযুষ কান্তি আচার্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি দীপক চৌধুরি বাপ্পি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হুরায়রা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ।
সভায় বক্তারা নদী রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের আহবান জানান। সোহেল রানা ভূইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক কমিটির সদস্য খালেদা মুন্নী। আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি নদীরক্ষায় করনীয় সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশ এর সদস্য মাহবুব খাঁন ও সফিউল আলম সুমন, মোহাম্মদ জাবেদ হোসাইন, মো. সাবের হোসাইন, শাহ আলম পালওয়ান।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি আরো উপস্থিত ছিলেন তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক কমিটির সদস্য নাফিজ আহমেদ সেলিম, হৃদয় কামাল, মোস্তফা দেলোয়ার, সদস্য সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর হোসাইন, শাকিল আহমেদ, শাহগীর মৃধা, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, আব্দুল হেকিম, জুবাইদুর রহমান মেহেদী প্রমুখ।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ ২ অক্টোবর সোমবার সকাল ৮.২৫ মিনিটে তিনি শহরের বাগানবাড়ি এলাকায় তাঁর শ্বশুর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে যান।
আল-মামুন সরকারের শ্যালক তানভীর আহমেদ জানান, সোমবার সকাল সাতটার দিকে তিনি ঘুম থেকে উঠে শৌচাগারে যান। পরে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর স্ত্রী জিনাত আখতার তাঁকে ডাক দেন। কিন্তু তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে চিকিৎসক ডাকলে তিনি এসে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আল-মামুন সরকার দীর্ঘদিন ধরে হার্ট, কিডনি, ফুসফুসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আল-মামুন সরকার দশম শ্রেনীতে পড়ার সময় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও জেলা কৃষকলীগের আহবায়ক ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
“নির্লোভ রাজনীতিবিদ ও সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত আল-মামুন সরকার বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সাথে যুক্ত ছিলেন। সমাজসেবায় তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে মানবকল্যান পদক লাভ করেন।
এদিকে আল-মামুন সরকারের মৃত্যুর খবর শুনে সকালেই তার বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবির, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা, নবীনগর পৌরসভার মেয়র শিব শংকর দাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বাদ আছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজার আগে মরহুমের কর্মময় জীবনের প্রতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আহমদ হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এমপি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অবঃ) এ.বি তাজুল ইসলাম এমপি, জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, মরহুমের শ্যালক তানভীর আহমেদ। নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন জেলা জামে মসজিদের খতিব সিগবাতুল্লাহ নূর। নামাজে জানাযার আগে জেলা পুলিশের একটি দল রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করে।
পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তক অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহরের শেরপুর কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়।
এদিকে আল-মামুন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এমপি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসনের এমপি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অবঃ) এ.বি তাজুল ইসলাম এমপি, জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেইনার ট্রেনের বগি লাইনচ্যুতের ঘটনার আট ঘণ্টা পর ঢাকামুখী আপ লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
আজ ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. জসিম উদ্দিন জানান, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে রিলিফ ট্রেনের উদ্ধারকারী দল ভোর রাত ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কনটেইনার ট্রেনের ক্ষতিগ্রস্ত একটি বগির দুটি চাকা মেরামত করে চালিয়ে নিয়ে যায়। পরে এক কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের বিভিন্ন অংশ মেরামত করা হয়। প্রায় আট ঘণ্টা পর ঢাকামুখী আপ লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
প্রঙ্গগত, ৮ এপ্রিল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি কনটেইনার ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দাড়িয়াপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক মঞ্চ নাটক ”সাজন মেঘ” মঞ্চায়িত হয়েছে। সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মঞ্চ নাটক প্রচারের অংশ হিসেবে ৫ জুলাই শুক্রবার রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকটি রচনা করেন বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক শান্তুনু কায়সার। নিদর্শনায় ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চন্দন রেজা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবির, অতিরিক্ত পুলিশ মোঃ ইকবাল হোসাইন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম শফিকুল্লাহ, উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান শিশির, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নাটকের নির্দেশক চন্দন রেজা, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দ মুহাম্মদ আয়াজ মাবুদ, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি আবদুল মান্নান, সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পীঠস্থান, সংস্কৃতির রাজধানী। এই সংস্কৃতির রাজধানীতে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড চলমান থাকবে। জেলা প্রশাসন সব সময় সংস্কৃতির পক্ষে, শিল্প সাহিত্যের পক্ষে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সবাইকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতি কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে যেতে হবে।
নাটকটির মূল সার সংক্ষেপ ছিল শান্ত-স্নিগ্ধ ছায়া সুনিবিড় গ্রাম “সাজন মেঘ”। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর অযাচিত বর্বরতায় তাদের শান্ত জীবনে নেমে আসে আতংক, ভয়। আক্রান্ত হয় গ্রাম-হাট-ঘাট, প্রান্তর, লোকালয়। সম্ভ্রম হারায় কিশোরী-তরুণী-গৃহবধূ। রুখে দাঁড়ায় গ্রামের তরুণ, তরুণী, কৃষক, কামার-কুমার, আপামর জনতা। ধর্ম আর সমাজের সংস্কার ভেঙ্গে দেশের জন্য একাট্টা হয়ে লড়ে যায় প্রাণপনে।
নাটকটি নির্মাণ সম্পর্কে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নাটকের নির্দেশক চন্দন রেজা বলেন, “সাজন মেঘ” নাটকটি মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি খন্ডচিত্র। এই নাটকের মাধমে নাট্যকার সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। সংলাপে গেঁথেছেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। সময়ের বাস্তবতা ও নাট্য নির্মাণের প্রয়োজনে মূল নাটকে কিছু সংযোজন বিয়োজন করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সমাজের গোড়ামী, কুসংস্কার, কূপমন্ডকতা, ধর্মান্ধতা আর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে যখন শকুনেরা জেঁকে বসেছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নাটকের মাধ্যমে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মানুষের মনে জাগ্রত করার প্রয়াসে দেশের সকল জেলায় নাট্যযজ্ঞ শুরু করেছে। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে ২৩ জন শিল্পী অভিনয় করেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
কয়েক মাস ধরে সরকারি জায়গাসহ ফসলি জমি কেটে ট্রাক্টরে করে মাটি নিয়ে কাঠবাড়িয়ার পুকুর ভরাট করেছে প্রভাবশালী এই চক্র।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবাসন প্রকল্প করে প্লট আকারে জায়গা বিক্রি করতে শত বছরের পুরোনো পুকুর ভরাট করছেন যুবলীগ নেতা। কয়েক মাস ধরে সরকারি জায়গাসহ ফসলি জমি কেটে ট্রাক্টরে করে মাটি নিয়ে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের গৌতমপাড়ার কাঠবাড়িয়ার পুকুর ভরাট করেছে প্রভাবশালী এই চক্র। পুকুরের প্রায় ৯০ শতাংশ ভরাট করে ফেললেও স্থানীয় প্রশাসন নীরব রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মাহিন খন্দকার শত বছরের পুরোনো ওই পুকুর ভরাট করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার সরকারি দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা পরোক্ষভাবে যুবলীগ নেতাকে মদদ দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি জায়গা থেকে বালু উত্তোলন এবং সরকারি কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় যুবলীগ নেতা মাহিনকে আসামি করে সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন তালশহর পূর্ব ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা পংকজ কুমার বর্ধন।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা এর শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না।
তবে ইউএনও মোহাম্মদ সেলিম শেখ বলেন, ‘পুকুর ভরাট করার কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ কোনো প্রয়োজনে পুকুর ভরাট করতে হলে অনুমতি নিতে হবে। সেখানে আগেও একবার অভিযান চালানো হয়েছিল। নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য খোঁজ নেওয়ার সুযোগ হয়নি। আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পুকুর থেকে সম্পূর্ণ মাটি উত্তোলন করে নিলামে বিক্রি করা হবে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার ঘাটুরা গৌতমপাড়ার কাঠবাড়িয়া এলাকায় শত বছরের পুরোনো একটি পুকুর রয়েছে। একসময় পুকুরটির মালিক ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। পরে পুকুরটির মালিক হন শহরের পৈরতলা এলাকার জাহাঙ্গীর কবির। তিনি সম্পর্কে এরশাদ সরকারের সময়ের সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবিরের আপন ভাই। জাহাঙ্গীর কবির থেকে আবাসন প্রকল্প করে প্লট আকারে জায়গা বিক্রি করতে পুকুরটি কেনেন মাহিন খন্দকার ও স্থানীয় কাজী রানু মিয়া। তিন–চার মাস ধরে তাঁরা মাটি দিয়ে পুকুরটির ভরাটকাজ শুরু করেন। প্রথমে তাঁরা খননযন্ত্র দিয়ে পুকুর ভরাট করেন। পরে তাঁরা পুকুর থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে গৌতমপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের সামনের পশ্চিম দিকের ফসলি জমি খননযন্ত্র দিয়ে কেটে মাটি উত্তোলন শুরু করেন। সেই মাটি ট্রাক্টরে ভরে ফসলি জমির ওপর দিয়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে ভরাট করছেন। পাশাপাশি অষ্টগ্রাম মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৩৫ শতক সরকারি নাল জায়গা থেকে অবৈধভাবে খননযন্ত্রের সাহায্যে মাটি কেটে ভরাটের জন্য কাঠবাড়িয়ার পুকুরে ফেলেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে যুবলীগ নেতা মাহিনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা হয়।
সদর উপজেলার অষ্টগ্রাম মৌজার ১ নম্বর বিএস খতিয়ানের ‘ক’ তফসিলভুক্ত একটি ইজারা মামলার বিএস ৭৩৪৯ দাগে ১১ শতক, ৭৩৫০ দাগে ১২ শতক, ৭৩৫১ দাগে ১২ শতক মোট ৩৫ শতক ভূমি থেকে অবৈধভাবে খননযন্ত্রের মাধ্যমে মাটি কেটে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন মাহিন খন্দকার। তিনি সরকারি সম্পত্তি ব্যাপকভাবে আত্মসাৎ করেছেন। ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় বাধা দিলে মাহিন ও তাঁর লোকজন অকথ্য গালিগালাজ করেন। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন মাহিন।
প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার, ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর বেআইনি। কোনো ব্যক্তি এ বিধান লঙ্ঘন করলে আইনের ৮ ও ১২ ধারা অনুযায়ী, ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দা বলেন, পুকুরটি মাহিন ও রানু মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন জাহাঙ্গীর। আবাসন প্রকল্পের জন্য তাঁরা পুকুরটি মাটি দিয়ে ভরাট করছেন। পরে ভরাটকৃত জায়গা প্লট আকারে বেশি দামে তাঁরা বিক্রি করবেন।
অভিযুক্ত সুহিলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মাহিন বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। এটি আমার পুকুর না।’ স্থানীয় বাসিন্দারা সবাই আপনার নাম বলছেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুকুরটি আমার ছিল। এক বছর আগে বিক্রি করে দিয়েছি।’