চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়ায় হুজুরের উপর হামলা মামলায় আটক সুমন ও রিমনের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। ১৪ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে চাওড়া দৌলতবাড়ি গ্রামে সুমনের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘটনায় সুমন ও রিমনকে নির্দোষ দাবি করেন তাদের স্বজনরা। শারীরিক প্রতিবন্ধি হওয়ায় মানবিক কারণে তাদের জামিন এবং মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সুমনের বৃদ্ধ পিতা-মাতা, স্ত্রী, শিশু সন্তান এবং রিপনের মা উপস্থিত ছিলেন। সুমন ও রিমন সম্পর্কে মামা-ভাগিনা।
এসময় সুমনের স্ত্রী লাকী আক্তার বলেন আমার স্বামী একটি হাত ও একটি পা ভেঙ্গে পঙ্গু অবস্থায় আছে। হুজুরের হামলার সাথে আমার স্বামী জড়িত নয়। চক্রান্ত করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার পঙ্গু স্বামীর জামিন এবং মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আমার সংসারে রোজগার করার মতো কেউ নাই। ৪ টি শিশু সন্তান, বৃদ্ধ শশুড়-শাশুড়িসহ ১০/১২ জন মানুষ নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। সুমন ও রিমনের স্বজনরা আহজারি করে বলেন তাদের জামিন না হলে অনাহারে বিষ খেয়ে মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।
এসময় রিমনের মা তাহমিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী নাই। ছেলে মেয়ে নিয়া বাবার বাড়িতে থাকি। হুজুরের হামলার ঘটনার সাথে আমার ছেলে জড়িত নয়। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের কাছে আমার ছেলের জামিন ও মামলা থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ শনিবার রাতে আখাউড়ার আজমপুর এলাকায় মুফতি শরীফুল ইসলাম নূরী নামে এক হুজুরের উপর হামলায় হয়। হামলা হুজুরের জিহ্বায় আঘাত লাগে। তিনি বিজয়নগর উপজেলার দৌলতবাড়ি একটি মাহফিল থেকে ফিরছিলেন। এ ঘটনায় সুমন ও রিমনসহ চারজনকে আটক করে র্যাব। বর্তমানে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের হাজতে আছে।
চলারপথে রিপোর্ট :
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য প্রায় ১ হাজার কেজি আনারস পাঠিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ১০০টি কার্টুনে ৭০০ পিস কিউ জাতের আনারস উপহার হিসেবে পাঠানো হয়। ত্রিপুরার একটি বাগান থেকে এসব সুস্বাদু আনারস সংগ্রহ করা হয়েছে।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হর্টিকালচার সেন্টারের পরিচালক ডাঃ ফনি ভূষন জমাইতিয়া এবং সহকারী পরিচালক দীপক বৈদ্য আখাউড়া-আগরতলা সীমান্তের শূন্যরেখায় আনারসগুলো নিয়ে আসেন। পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধি নবুল সানোয়ালের হাতে এগুলো তুলে দেন। ভারতীয় হাইকমিশন উপহারস্বরূপ আনারসগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেবেন।
এর আগে গত ১৫ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ৫০০ কেজি সুস্বাদু হিমসাগর জাতের আম পাঠিয়েছিলেন।
এসময় ত্রিপুরার হর্টি কালচারের সহকারী পরিচালক দীপক বৈদ্য বলেন, আমাদের ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য উপহারস্বরূপ আনারস পাঠিয়েছেন। কিউ জাতের এ আনারস খুবই সুস্বাদু ও রসালু।
আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য আনারস পাঠিয়েছেন আমরা এজন্য খুবই আনন্দিত। তিনি আরও বলেন, আমদানী রপ্তানীসহ অন্যান্যে ক্ষেত্রে ত্রিপুরার জন্য বাংলাদেশের অনেক অবদান আছে। ত্রিপুরা রাজ্যের হর্টিকালচার সেন্টারের পরিচালক ডাঃ ফনি ভূষন জমাইতিয়া বলেন, এর আগে বাংলাদেশের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আম পাঠিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে খেয়েছেন এবং অন্যদেরকেও খাইয়েছেন। আমগুলো খুবই সুস্বাদু ছিল। ভালো একটা উপহার আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর জান্য পাঠানো হয়েছে। এজন্য আমরা গবির্ত।
আনারসগুলো হস্তান্তরের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক দেবাশীষ নন্দী, আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ উদ্দিন, আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন পুলিশের এএসআই দেওয়ান মোর্শেদুল হক প্রমুখ।
চলারপথে রিপোর্ট :
পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিলেন বায়ান্নর ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। আজ ২১ অক্টোবর শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মিয়া আব্দুল মতিনের বাড়ি আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী টনকী গ্রামে। তার বাবার নাম মুত হাসিম ভূঁইয়া। তারা চার ভাই ও এক বোন ছিলেন। আর তার মধ্যে মিয়া আব্দুল মতিন ছিলেন সবার বড়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও ৫ মেয়ে রেখে গেছেন।
আব্দুল মতিন ভূঁইয়া তখন আখাউড়া উপজেলার মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তখন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য আটজনের মিছিলে আব্দুল মতিন নেতৃত্ব দেন। সেই মিছিলটি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া বাজার ও গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। ‘উর্দু ভাষায় লাথি মার, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চালু কর’, ‘রাষ্ট্রভাষা চাই’, ‘আমাদের ভাষা বাংলা ভাষা’ এমন প্লেকার্ড হাতে নিয়ে মিছিলটি এগিয়ে যেতে থাকে। সে সময় ওই মিছিলে বিদ্যালয়ের ৮০০-এর মতো শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল।
ভাষা আন্দোলনের জন্য মিয়া আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে শুরু করা আন্দোলনটি গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। আর সেই বিষয়টি জেনে যায় তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকার। নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আব্দুল মতিন ভূঁইয়াকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। টানা দুই মাস কারাভোগ শেষে জেল থেকে তিনি ছাড়া পান।
১৯৫৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা সৈনিক মিয়া মতিনসহ আরো কয়েকজনকে ঢাকায় ডেকে পাঠান এবং সাহসিকতার জন্য তাদের উপহার দেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
ঢাকার উত্তরায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের নিহত ও আহত ছাত্রছাত্রীদের স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায় আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আখাউড়া রেলওয়ে জেলা স্কাউটস্ অঞ্চলের অধীনস্থ অগ্নিবীণা রেলওয়ে মুক্ত স্কাউট গ্রুপের আয়োজনে মঙ্গলবার বিকালে আখাউড়া রেলওয়ে কুমারপাড়া কলোনীস্থ গ্রুপ কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে নিহততের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
গ্রুপের সহ- সভাপতি কাজী হান্নান খাদেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আখাউড়া রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোঃ রাকিব উদ্দিন খান খাদেম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আখাউড়া রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ নূরুন্নবী। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন গ্রুপের সহ-সভাপতি এস.কে খাদেম সেলিম।
আলোচনা শেষে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করে মিলাদ ও দোয়া পাঠ করা হয় এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার যেন ধৈর্য্য ধারন করতে পারেন আল্লাহর দরবারে সেই দোয়া কামনা করা হয়।
দোয়া পাঠ করেন রেলওয়ে স্কুল মসজিদের ইমাম মাওঃ অলিউর রহমান এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রুপের সম্পাদক মোহাম্মদ হালিম, স্কাউট ইউনিট লিডার আবির দাস আয়ুস।
অনুষ্ঠানে অর্ধশত গ্রুপের স্কাউট, গার্লস ইন স্কাউট, কাব, গার্লস ইন কাব উপস্থিত ছিলেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়ায় ৯ হাজার ৩৯৫ ইয়াবাসহ তাজুল ইসলাম নামে এক মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। আজ ১৩ নভেম্বর বুধবার সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন ৬০ বিজিবির টহল দল মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী খারকুট এলাকা থেকে তাকে ইয়াবাসহ তাকে আটক করে। আটক তাজুল ইসলাম মনিয়ন্দ ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা।
বিকেলে ৬০ বিজিবি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। এর আগে মামলা দায়ের করে থানায় সোপর্দ করে বিজিবি। এসময় একটি সিএনজি আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে মাদক বিরোধী অভিযানে উপজেলার ভারত সীমান্ত পিলার ২০২৫/২৫-এস থেকে আনুমানিক ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খারকোট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সিএনজি তল্লাশি করে ৯ হাজার ৩৯৫ ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল এ এম জাবের বিন জব্বার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায় মূল্য তালিকা না থাকায় ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ২৯ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে পৌর শহরের সড়ক বাজারে মুদিমাল ও কাঁচা মালের দোকানীকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আক্তার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তী। আদালতকে সহযোগিতা করেন আখাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো: শফিকুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে সোমবার শহরের সড়ক বাজারে মুদিমাল ও কাঁচা মালের দোকানে অভিযান চালানো হয়।
এসময় মূল্য তালিকা না থাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে লোকনাথ সবজি ভান্ডারকে ৫ হাজার ও মাসুদ স্টোরকে ৩ হাজার টাকা জরিমানাসহ সর্বমোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানকালে দোকানীদের বেশি দামে মুদিমাল বিক্রি না করতে মৌখিকভাবেও সতর্ক করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আক্তার বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।