অনলাইন ডেস্ক :
‘আমাদের কাছে পাবেন অরিজিনাল (এ জে এস কাগজের) গ্লেজিং প্রিন্টের সুতা জলছাপসহ নিখুঁত কাজের মাল। আমাদের কাছে ৫০, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট আছে, যা ব্যাংকের মেশিন ছাড়া খালি চোখে বোঝা অসম্ভব।’ ফেসবুকের একটি গ্রুপে এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে চলছিল জাল টাকার কারবার। এই চক্রটি জাল টাকা তৈরির টিকটক ভিডিও বানিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে প্রচারণা চালাত। তবে মূলত জাল টাকা সরবরাহের নামে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে আসছিল তারা।
সম্প্রতি এই চক্রের অন্যতম সদস্য সিফাত শেখকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে জাল টাকার কারবার ও এই চক্রের বিস্তারিত।
ডিবির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, সিফাত ও তার সহযোগীরা নিখুঁত জাল টাকা সরবরাহের বিজ্ঞাপন দিয়ে আগ্রহীদের আকৃষ্ট করত। এরপর অগ্রিম টাকা নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিত। ক্রেতাদের দেখানোর জন্য কিছু জাল নোট তারা নিজেদের কাছে রাখত। তবে সেগুলো কাউকে সরবরাহ করত না। এই চক্রে ১০ জনের বেশি সদস্য রয়েছে। তারা কেউ জাল নোট বানায়, কেউ ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়, কেউ ক্রেতার কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে।
উপকমিশনার জানান, চক্রের সদস্যরা সবাই সাধারণ পরিবার থেকে আসা তরুণ। তবে তারা ফ্যাশনেবল ও বিলাসী জীবনযাপনের চেষ্টা চালায়। মাঝেমধ্যেই তারা কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যায়। জাল নোট বিক্রির নামে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ তারা মূলত ‘ফূর্তি’র জন্য ব্যয় করে। সিফাতকে গত ২৯ এপ্রিল কক্সবাজার থেকে ফেরার পথেই গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে ফুটপাতে ছয় হাজার টাকা বেতনে পোশাক বিক্রেতা হিসেবে কাজ করে সিফাত। সে ইউটিউবসহ অনলাইনে বিভিন্ন সাইট ঘেঁটে জাল টাকা তৈরি করা শিখেছে। পরে নিজেরা জাল টাকা বানানোর সময় তা ভিডিও করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছে। মূলত সহজে অধিক অর্থ উপার্জন করতে চাওয়া লোভী ব্যক্তিরা তাদের টার্গেট। তারা এক হাজার টাকার ১০০টি জাল নোটের জন্য ১০ হাজার টাকা, ৫০০ টাকার ১০০টি নোটের জন্য ১২ হাজার টাকা, ১০০ ও ২০০ টাকার এক লাখ জাল নোটের জন্য ২০ হাজার টাকা দাম নিত। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
এই চক্রের একটি ফেসবুক গ্রুপে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে জাল টাকার বান্ডিলের ছবি-ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে, জাল টাকায় আসল টাকার সব নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে হঠাৎ করে কারও পক্ষে সেটাকে জাল হিসেবে ধরা সম্ভব নয়। গত মাসের একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে এ-গ্রেডের নিখুঁত জাল নোট তৈরি করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের যে কোনো এলাকায় হোম ডেলিভারি দেওয়া হবে। সেজন্য ৫০ ভাগ টাকা অগ্রিম দিতে হবে। কুরিয়ার সার্ভিস বা নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে পাঠানো জাল টাকার চালান হাতে পাওয়ার পর বাকি টাকা দিতে হবে। যোগাযোগের জন্য একটি ফোন নম্বরও দেওয়া আছে।
একটি ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, ‘মালের (জাল টাকা) স্যাম্পল নিজ হাতে চেক করে তারপর অর্ডার করবেন।’
চারদিন আগে লেখক আফসান চৌধুরী ফেসবুকে জাল টাকা বিক্রির বিজ্ঞাপনের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন– ‘পুলিশ এত কিছু জানে, এটা জানে না? রেট এত ভালো। এক টাকার বদলে নকল আট টাকা।’ তাঁর শেয়ার করা স্ক্রিনশটে লেখা রয়েছে– ‘এক লাখ মালের দাম ১২ হাজার টাকা। সব রকমের নোট। সর্বনিম্ন অর্ডার ৫০ হাজার টাকা।’
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর দক্ষিণ গোড়ান থেকে ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে জাল নোটের কারবারে জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
চলারপথে রিপোর্ট :
বগুড়ায় বেশি দামে ডাব বিক্রি করায় চার ব্যবসায়ীকে সাড়ে সাত হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ ২৬ আগস্ট শনিবার বেলা ১২টায় শহরের কালিতলা ও জজকোর্ট চত্বর এলাকায় এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে কালিতলায় এক পাইকারী ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার, লাইন বাজারে দুইজন ব্যবসায়ীকে ২ হাজার এবং জজকোর্ট চত্বরে এক খুচরা ডাব বিক্রেতাকে ৫০০ টাকাসহ মোট সাড়ে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী জানান, বগুড়া শহরে চড়া দামে ব্যবসায়ীরা ডাব বিক্রি করছেন এমন সংবাদে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সদরের কালিতলা ও জজকোর্ট এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছে মতো দামে ডাব বিক্রি করছেন। ৫০ থেকে ৬০ টাকার দরের ডাব ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা। সঠিক মূল্যে ডাব বিক্রি ও ভাউচার সংরক্ষণ করতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। অভিযানে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের নেতৃত্বে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩ টায় নতুন জাতীয় রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার সন্ধ্যা ৭ টায় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং পরে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির সংগঠকেরা এই দল তৈরি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, সদস্য আকরাম হোসেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল ও মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আত্মপ্রকাশের কথা থাকলেও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দলটি আত্মপ্রকাশ করতে পারে। দলটির আয়োজনে নানান কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তবে দলের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অনলাইন ডেস্ক :
দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরাকে পদ থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হয়েছে। ১৪ আগস্ট মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়।
এর আগে ৭ জুলাই জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ১৪ জন সদস্যদের অবমূল্যায়ন, খারাপ আচরণ, হস্তান্তরিত বিভাগের প্রধান ও কর্মচারীদের সাথে অবমূল্যায়ন, স্বেচ্ছাচারিতাসহ শিক্ষক বদলি বাণিজ্য, ঠিকাদার বিলের ফাইল আটকিয়ে রেখে ঘুস বাণিজ্য এবং চরম দুর্নীতির অভিযোগ দাখিল করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগের পর মন্ত্রণালয় যুগ্ম সচিব অতুল সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গত ৩০ জুলাই খাগড়াছড়িতে পরিষদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং ৩১ আগস্ট অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর তদন্ত সভা করে। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় জিরুনা ত্রিপুরাকে স্থায়ীভাবে পদচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় জিরুনা ত্রিপুরাকে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার মুখে পড়েন জিরুনা ত্রিপুরা।
উল্লেখ্য, বর্তমান পরিষদ সদস্য শেফালিকা ত্রিপুরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চলারপথে রিপোট
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ ফার্মেসিকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে উপজেলার বসুরহাট বাজারের কলেজরোড ও হাসপাতাল গেইট এলাকায় উপজেলা কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পিয়াস চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায, দুপুরের দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের কলেজরোড ও হাসপাতাল গেইট এলাকার বিভিন্ন ওষুধ দোকানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা, অনিবন্ধিত ওষুধ মজুদ রাখা, খুচরা মূল্যে ঘষামাজা করার অপরাধে ৫ টি ফার্মেসি দোকারদারকে ১ লাখ ৩৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিক আদায় হয়। অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন ড্রাগ সুপার নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল।