সরাইলে জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন

সরাইল, 13 May 2023, 804 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
সরাইলে জাতীয় পার্টির উপজেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

১১ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের কালীকচ্ছ বাজারে জাতীয় পার্টির স্থানীয় কার্যালয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়।

সরাইল উপজেলা সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ফজলুল হক মৃধা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মো. আলী নেওয়াজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ মিয়া, উপজেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি হুসেইন মুহম্মদ শাওন, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মো. মামুন, কালীকচ্ছ ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবুল ফাতেহ মুহম্মদ ভুট্টো, নোয়াগাঁও ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি আবু তাহের, কালীকচ্ছ ইউনিয়ন জাতীয় যুব সংহতির যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জয় দত্ত প্রমুখ।

সভায় আগামী ১৭ মে কর্মী সম্মেলনকে সফল করার জন্য হাফেজ মো. আলী নেওয়াজকে আহ্বায়ক ও মাহফুজ মিয়াকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিয়াউল হক মৃধা তাকে সিলেট অঞ্চলের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ায় বেগম রওশন এরশাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা রওশন এরশাদ ও জিয়াউল হক মৃধার প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন।

Leave a Reply

কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা…

চলারপথে রিপোর্ট : নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে জাতীয় কবি Read more

কুটি ইউপি উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ফারুক…

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবায় স্থগিত হওয়া কুটি ইউনিয়ন Read more

কসবায় জাল ভোট দেওয়ায় চেষ্টাকালে কসবায়…

চলারপথে রিপোর্ট : কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাল Read more

নবীনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জীবন মিয়া Read more

তিন দিনব্যাপী বেসিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

চলারপথে রিপোর্ট : দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর তত্ত্বাবধানে MIPS Read more

মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

চলারপথে রিপোর্ট : সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মহিলাদের অবহিতকরণ ও Read more

সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

অনলাইন ডেস্ক : দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার Read more

মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর -চট্টগ্রাম ও…

অনলাইন ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আজ ২৫ মে Read more

কথা, কবিতা ও গানে জাতীয় কবি…

চলারপথে রিপোর্ট : কথা, কবিতা ও গানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্মরণ করা Read more

সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য বার্তা বিতরণ

চলারপথে রিপোর্ট : কয়েকদিন ঝড়ো হাওয়ার সাথে হালকা হতে মাঝারী Read more

তিতাসের ১৪ নম্বর কূপ থেকে জাতীয়…

চলারপথে রিপোর্ট : আড়াই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর Read more
ফাইল ছবি

কাল কসবায় স্থগিত হওয়া কুটি ইউপি…

চলারপথে রিপোর্ট : কসবায় আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিত হবে স্থগিত হওয়া Read more

সরাইলে বেপরোয়া ট্রাক্টর চাপায় নিহত ১

সরাইল, 3 February 2024, 224 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
সরাইলে বেপরোয়া গতির ট্রাক্টর চাপায় মো. আবদুর রহিম মিয়া (৫০) এক মাদ্রাসার কর্মচারী নিহত হয়েছে। আজ ৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার বেলা ১টার দিকে সরাইল- নাসিরনগর- লাখাই আঞ্চলিক সড়কের সরাইল সদরের বড্ডাপাড়া এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ ঘাতক ট্রাক্টরটি আটক করলেও পালিয়ে গেছে চালক ও হেলপার।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সরাইল রাহমাতুল্লিল আল আমীন মাদ্রাসার অফিস সহায়ক আবদুর রহিম। তার বাড়ি মাদ্রাসা সংলগ্ন বড্ডাপাড়া গ্রামে।

শনিবার বেলা ১টার দিকে তিনি সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছনের দিক থেকে বালু বোঝাই বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক্টর রহিমকে চাপা দেয়। ট্রাক্টরের চাপায় ঘটনাস্থলেই রহিম মারা যান। এসময় ট্রাক্টরটি ফেলে চালক ও হেলপার দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাক্টরটি আটক করে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, এই সড়কে হাল চাষের ট্রাক্টর গুলো এখন ইট, বালু ও মাটি টানছে। অধিকাংশ চালক ও ট্রাক্টর গুলোর কোন বৈধ কাগজ বা অনুমতি নেই। শিশু ও কিশোর চালকরা কানে মুঠোফোন লাগিয়ে বেপরোয়া গতিতে ট্রাক্টর চালিয়ে থাকে। এমন অনিয়ম যখন নিয়ম তখন তো ট্রাক্টর গুলো মানুষকে চাপা দিবেই।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাক্টরটি আটক করা হয়েছে। চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

বিজিবি-বিএসএফ সম্মিলিতভাবে সীমান্তে হত্যা বন্ধ করবে : বিজিবি মহাপরিচালক

জাতীয়, সরাইল, 3 January 2023, 1483 Views,
স্টাফ রিপোর্টার:
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বলেছেন, সীমান্তে যে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটছে, এগুলো অনাকাঙ্খিত। এগুলো আমরা সম্মিলিতভাবে বন্ধ করব। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব নেই। আমারা ডিজি, রিজিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের আলোচনায় এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলি। আমরা আশা করি এ বিষয়ে আমরা সামনে আরও ভালো ফলাফল পাব। সোমবার (০২ জানুয়ারি) দুপুর দুইটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ পাঠশালা বিদ্যালয় মাঠে দুঃস্থ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের উদ্যোগে সরাইল উপজেলার ৫০০ দুঃস্থ মানুষকে কম্বল দেয়া হয়েছে।
বিএসএফের বাধায় আখাউড়া ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধের ব্যাপারে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তের দেড়শ গজের মধ্যে কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আমরা বা বিএসএফ যারাই করি; পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে হয়। আখাউড়ার কাজটি শীঘ্রই শুরু হবে। এটা নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। যে কারণে কাজ বন্ধ ছিল, সেটি সমাধান হয়েগেছে।
তিনি আরও বলেন, সরাইল রিজিয়নে প্রায় ৪ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে এবং সাড়ে ৬ হাজার দুঃস্থ মানুষকে আমরা স্বাস্থ্য সেবা দিয়েছি। আমাদের এ কার্যক্রম সবসময় অব্যাহত থাকবে।
এ সময় বিজিবি মহাপরিচালকের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল ইসলাম ও ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ আরমান আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মেঘনায় অবৈধ ড্রেজিংয়ে বালু উত্তোলন, প্রশাসন নীরব

সরাইল, 31 May 2023, 628 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে লাখ লাখ ফুট বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি চক্র। কোনোরকম সরকারি ইজারা ছাড়াই প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি করে প্রায় এক মাস ধরে চলছে বালু তোলার মহোৎসব। কিন্তু নীরব ভূমিকায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় ছয়টি ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলে তাদের কাজ।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা অবৈধভাবে কাজটি করে যাচ্ছেন। এতে পানির প্রবাহে গতি পরিবর্তন হওয়ায় নদীর পাড় ভেঙে এলাকার ফসলি জমিসহ বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। তবে বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ভৈরবের সাদেকপুর ইউনিয়নের মেন্দিপুর গ্রামের মেঘনা নদীর অংশ থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নাম করে মাসখানেক ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা অংশ থেকেও নিয়মিত বালু তোলা হয়। ফলে এর প্রভাব পড়ছে উপজেলার ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের ওপর।

জানা গেছে, এ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ভৈরব পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোশারফ হোসেন মিন্টু ও সেখানকার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন মুসা। যদিও বালু উত্তোলনের জন্য তাদের কাছে কোনো ধরনের অনুমতি নেই। এতে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর মাঝখানে ও কূল ঘেঁষে ছয়টি ড্রেজার মেশিন বসানো। এর প্রতিটি মেশিনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একেকটি বাল্কহেড। প্রতিটি বোটে ১২/১৩ জন লোকের পাহারা। বেলা ১২টার দিকে দেখা গেল মেন্দিপুর এলাকার মেঘনা নদীর কূল ঘেঁষে ছয়টি ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে দেদারচ্ছে তোলা হচ্ছে বালু। সেই বালু বাল্ডহেডের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে তারা নড়েচড়ে বসে। ছবি তুললে তাদের অনেককেই ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের পিছু নিয়ে ধাওয়া করতে থাকে। তারা তাদের স্পিডবোট দিয়ে সাংবাদিকদের স্পিডবোটকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরক্ষণেই প্রভাবশালী মহলটি সাময়িক সময়ের জন্য বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিনগুলো বন্ধ করে দেয়।

সরাইল উপজেলার কয়েকটি গ্রামের একাধিক গ্রামবাসী বালু উত্তোলনের কারণে দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, এই অবৈধ বালু উত্তোলন আমাদের সর্বস্বান্ত করে ছাড়বে। আমাদের গ্রাম নদী গ্রাস করে নিচ্ছে।

প্রবীণ বাসিন্দা নিজাম মিয়া বলেন, আমার তিন কানি জমি ছিল। এর মধ্যে দুই কানি জমির মাটি ভেঙে নদীতে চলে গেছে। আমি ছাড়াও অন্যান্য মানুষের ফসলি জমিও চলে গেছে। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা করে তাহলে আমাদের জীবনটা বাঁচব।

আজব গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা কাজী লিয়াকত মিয়া বলেন, নদীটা অনেক দূরে ছিল। আমরা নদীর অনেক দূরে গিয়ে গবাদি পশু গোসল করতাম। ড্রেজারে বালু তোলার ফলে ধীরে ধীরে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রায় আধা মাইল পর্যন্ত চলে এসেছে। এখন হুমকির মুখে আমাদের কয়েকটি গ্রাম রয়েছে।

নদীর পাড়েই দু’তলা ভবনের মালিক জুনায়েদ মিয়া বলেন, প্রতিদিন একটু একটু করে পাড় ভেঙে চলছে। মূলত অবাধে বালু তোলার কারণে সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন জানে আমাদের ভবন পানিতে চলে যায়। প্রভাবশালী চক্রটি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবাধে বালু উত্তোলন করছে।

সরাইলের অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. আবুল বাশার বলেন, ‘ভৈরবের মুসা মিয়ার (মোশারফ হোসেন) নেতৃত্বে অনুমতি ছাড়াই এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা হলে গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। ’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভৈরব পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন মিন্টু মোবাইল ফোন বলেন, ‘বৈশাখ মাস পর্যন্ত আমি নদী ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করেছি। আমার সঙ্গে ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকজনও ব্যবসায়িক অংশীদার ছিল। এখন কে বা কারা বালু তুলছে জানি না। ’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ড্রেজারগুলো বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বালু তোলে। আমার কাজের সময় ব্যবহার করা একই রকম ড্রেজার যদি তুলে থাকে তাহলে তো আমার কিছুর করার নেই। ’

এ বিষয়ে ভৈরবের আওয়ামী লীগ নেতা মো. মুসার মোবাইল ফোন নম্বরে বেশ কয়েকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদেকুর রহমান সবুজ বলেন, ‘নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। মন্ত্রণালয় থেকেও এই বিষয়ে আমাদের চিঠি দিয়েছে। শুনেছি কখনো তারা মেন্দিপুর আবার কখনো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের অংশে বালু তুলে। আমাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পেরও কাজ শেষ। বালু উত্তোলনকারীরা আসলে আমাদের কথা বলে সুবিধা নিতে চায়। যারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমানের সঙ্গে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারিভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বর্তমানে বন্ধ আছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ভাঙন রোধে সরাইল, পানিশ্বরসহ বিভিন্ন ভাঙনপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে সম্ভাব্যতা প্রকল্পের কাজ চলছে। সম্ভাব্যতা প্রকল্পের সুপারিশের আলোকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে ওই অঞ্চলগুলোতে স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

র‌্যাবের অভিযানে সরাইল থানার আলোচিত অপহরণ মামলার ভিকটিম উদ্ধার ॥ গ্রেফতার ১

জাতীয়, সরাইল, 1 April 2023, 1582 Views,

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র‌্যাব এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে ধর্ষণ, অপহরণ, মাদক উদ্ধার, মানব পাচার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাদাঁবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। নরহত্যাসহ যে কোন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম মোছাঃ সাদিয়া আক্তার কালিকচ্ছ কলেজ পাড়া মহিলা মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সে তার নানার বাড়ী নোয়াগাঁও (রাজু খার বাড়ী) হতে প্রতিদিন মাদ্র্রাসায় আসা যাওয়া করত। আসামী কৃষ্ণ কর্মকার নোয়াগাঁও গ্রামের জনৈক শাহিন এর ফার্মেসিতে কাজ করত। ভিকটিম মোছাঃ সাদিয়া আক্তার মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে আসামী কৃষ্ণ কর্মকার তাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল কথাবার্তা বলে উত্যক্ত করতঃ প্রেমের প্রস্তাব দিত। ভিকটিম আসামী কৃষ্ণ কর্মকারের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বাড়িতে তার পিতাকে ঘটনা জানালে তার পিতা আসামী কৃষ্ণ কর্মকারকে সাবধান করে। তারপরেও আসামী কৃষ্ণ কর্মকার ভিকটিমের সাথে কথা বলে নানাভাবে প্রলোভন দেয় এবং আসামীর কথা না শুনলে সে ভিকটিমকে সমাজে কলঙ্কিত করার হুমকি দেয়। আসামী কৃষ্ণ কর্মকারের ভয়ে ভিকটিম ঘটনার আগের দিন নোয়াগাঁও হতে তার নিজ বাড়িতে চলে আসে। ভিকটিম মোছাঃ সাদিয়া আক্তারকে গত ১৬ মার্চ ভোর অনুমান ৫টায় কৃষ্ণ কর্মকার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ও প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মোঃ ফারুক মিয়া (৪০) বাদী হয়ে গত ৩০ মার্চ সরাইল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৭/৫৮, তারিখ-৩০/০৩/২০২৩ খ্রিঃ, ধারা-৭, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)। আলোচিত এ ঘটনাটি মিডিয়ার মাধ্যমে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভিকটিম মোছাঃ সাদিয়া আক্তারকে উদ্ধার ও অপহরণকারী কৃষ্ণ কর্মকারকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব তার গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল গত ৩১ মার্চ ৮টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর বহদ্দারহাট থানাধীন বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম মোছাঃ সাদিয়া আক্তারকে উদ্ধার ও অপহরণকারী কৃষ্ণ কর্মকার (২৬), পিতা- চিত্ত কর্মকার, সাং- ধিতকুরা (কর্মকার পাড়া), থানা- মাধবপুর, জেলা- হবিগঞ্জ’কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে, গ্রেফতারকৃত আসামী ও ভিকটিমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার মামলা নং-১৭/৫৮ তারিখ-৩০/০৩/২০২৩ খ্রিঃ, ধারা-৭, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

নৈশপ্রহরীর অবহেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির অভিযোগ

সরাইল, 21 May 2024, 13 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
সরাইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফটকের তালা কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা সদরের সৈয়দটুলা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত রবিবার দিবাগত রাতে দেড় লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন, নৈশ প্রহরী রাসেল মিয়া নিয়মিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে আসছেন। নৈশ প্রহরী রাসেল বলছেন রাত ১২টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে বাড়িতে চলে যান। তার বদলে ঝাঁড়- দেন সামছু বেগম।

প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে মঙ্গলবারে ঘটনাস্থল সরজমিনে তদন্ত করে শেষে জিডি গ্রহনের কথা জানিয়েছেন পুলিশ। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, অন্যান্য দিনের মত গত রবিবারও বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ অন্যান্য কাজ শেষ করে দরজা জানালা বন্ধ করে প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন সকল শিক্ষক শিক্ষিকা। পরের দিন অর্থাৎ গতকাল সোমবার সকালে যথা নিয়মে যথা সময়ে বিদ্যালয়ে হাজির হন শিক্ষকরা। তারা বিদ্যালয়ের নীচতলার তালা কাটা দেখতে পেলেও বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ বন্ধ দেখতে পান। কিন্তু পাশের একটি কক্ষে রক্ষিত সোলারে ব্যবহৃত বড় ১টি ব্যাটারী ও একটি পানির পাম্প নেই। পরে দ্বিতীয়তলায় গিয়ে দেখেন গেইটের তালা কাটা। সেখানে ১টি কক্ষে রক্ষিত বড় ব্যাটারিও নেই। অর্থাৎ ২টি ব্যাটারীসহ প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা।

তবে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ পাওয়া রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। কর্তৃপক্ষ বলছেন সঠিক সময়ে নিয়মিত ভাবে দায়িত্ব পালন করেন না নৈশপ্রহরী। দিনে রাতে যখন মন চায় বিদ্যালয়ে আসেন। ইচ্ছেমত আবার বাড়ি চলে যান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কথা শুনেন না। নৈশ প্রহরী রাসেল নিজেই মুঠোফোনে বলেন, আমি রাত ১২টা কোন সময় ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে থাকি। এরপর বাড়িতে গিয়ে ঘুমায়। কারণ আবার মাঝে মধ্যে সকালে আসতে হয়। বিদ্যালয় ঝাঁড়- মুছার কাজটি আমি বদলি দিয়ে রেখেছি সামছু আপাকে। আমি মাস শেষে ১৬ হাজার ১ শত টাকা পায়। সামছু আপাকে ২ হাজার টাকা দেয়। দায়িত্ব ঠিক মতই পালন করছি। কে বা কাহারা চুরি করেছে বলতে পারছি না। তবে খোঁজ খবর নিয়ে চোর ধরা পড়তে পারে।

প্রধান শিক্ষক মাহবুবা আক্তার শাপলা চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রায় ১১ বছর আগে বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত নৈশ প্রহরী মো. রাসেল মিয়া দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করে আসছেন। তার অবহেলার বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে একাধিকবার লিখিত ভাবে অবহিত করেছি। রবিবারের চুরির বিষয়টি এসএমসিকে জানিয়েছি। জিডি করার জন্য সরাইল থানায় গিয়েছিলাম। পুলিশ বলেছেন মঙ্গলবারে সরজমিনে ঘটনাস্থল তদন্ত করে জিডি নথিভুক্ত করবেন।

বিষয়টি দেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই মো. রহমান খান পাঠান বলেন, মঙ্গলবার এসে জিডিতে স্বাক্ষর করে জমা দিতে বলেছি। তারপর চেষ্টা করে দেখি বের করতে পারি কিনা।