চলারপথে ডেস্ক :
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় করা হত্যা, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি ফের পিছিয়েছে। আগামী ১৫ জুন শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
খালেদা জিয়ার পক্ষে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম আছাদুজ্জামান আজ ১৫ মে সোমবার এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আজ মামলার চার্জ গঠনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার পক্ষে অধিকাংশ মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকায় ফের সময় চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। আদালত তা মঞ্জুর করে শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন। খালেদা জিয়া এসব মামলায় বর্তমানে জামিনে আছেন।
মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার ৮টি, যাত্রাবাড়ী থানার দু’টি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা। খালেদা জিয়ার পক্ষে হাইকোর্ট এসব মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন।
চলারপথে রিপোর্ট :
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের রোয়াচালা গ্রামে ব্রিজ স্থাপনের দুই বছর পার হলেও সড়ক যোগযোগা এখনো বিচ্ছিন্ন। ফলে বাধ্য হয়ে তিন গ্রামের মানুষ ব্রিজে উঠানামায় ব্যবহার করতে হচ্ছে বাঁশের সাঁকো।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে এলজিএসপি-৩ এর আওতায় রোয়াচালা আহাদ মিয়ার বাড়ির সামনে কুড়াখাল রাস্তার ওপর ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। যা ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নের পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল বাহার। তবে ওই বরাদ্ধে ব্রিজের দুই পাশের সড়ক সংযোগের জন্য মাটির খরচ ধরা থাকলেও সেখানে মাটি ফেলা হয়নি। ফলে এপার-ওপার যেতে বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
রোয়াচালা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, শুধুমাত্র এই ব্রিজটির সংযোগ সড়ক না থাকায় রোয়াচালা বাজারে আসতে ও কুড়াখাল বাজারে যেতে প্রায় তিন কিলোমিটার হাটতে হয় আমাদের। পাশাপাশি কুড়াখাল ও কুরুন্ডি গ্রামে যে ৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানে যেতে শিক্ষার্থীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল বাহার মুঠো ফোনে জানান, ব্রিজটির দুই পাশে খুব গভীর হওয়ায় বরাদ্দের সময় সংযোগের জন্য যে টাকা ধরা হয়েছিল তা দিয়ে সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বর্ষার পানির জন্য দূর থেকে মাটি আনা যাচ্ছে না। আগামী কিছুদিনের মধ্যে পানি কমলেই সেখানে মাটি ফেলে ব্রিজের সঙ্গে সংযোগ করে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন ভূঞা জনী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খুব দ্রুতই সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে সড়কের সঙ্গে ব্রিজটির সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।
অনলাইন ডেস্ক :
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থেকে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ১৪ কেজি বন্যহাতির দাঁত ও হরিণের চামড়াসহ আবদুল মালেক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আজ ২৭ মে শনিবার তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
মালেক মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার দীতেশ্বর এলাকার মৃত হাজী আবদুল আলীর ছেলে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় নগরের শুলকবহরের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার জানান, শুলকবহর এলাকার একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় হাতির দাঁত ও হরিণের চামড়া বিক্রি হচ্ছে- এমন খবরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আবদুল মালেককে আটক করা হয়। এ সময় তার রুমের খাটের নিচে প্লাস্টিকের বস্তায় চারটি হাতির দাঁত, ছোট বড় ও মাঝারি আকারের ২০টি হাতির দাঁতের খণ্ডাংশ পাওয়া যায়, যার ওজন ১৪ কেজি। এ ছাড়া একটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা মো. নূরুল আবছার জানান, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাতির দাঁত ও হরিণের চামড়া সংগ্রহ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিলেন আবদুল মালেক। তার কাছ থেকে উদ্ধার মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
র্যাব জানায়, ১৯৭৬ সালে বাবার সঙ্গে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি এলাকায় হাতির দেখভাল করার জন্য যান তিনি। তার বাবার কয়েকটি হাতি ছিল। ১৯৯৮ সালে তার বাবা মারা গেলে হাতির ব্যবসা দেখভাল করার জন্য তিনি ছয় বছর ধরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির মারিশ্যা এলাকায় থাকতেন। তিনি একজন লাইসেন্সধারী হাতির পালক। ২০১০ সালের পরে লাইসেন্স প্রভিশন হলে তিনি পুনরায় লাইসেন্স করেন। তবে তিনি স্থায়ীভাবে তখন বাঘাইছড়ি থাকতেন না। দু’চার দিন থেকে আবার মৌলভীবাজার চলে যেতেন। তার বৈধভাবে ছোট বড় ১২টি হাতি আছে। তবে স্থানীয় তথ্যানুযায়ী তার আরো ২৪/২৫টি রেজিস্ট্রেশনবিহীন হাতি রয়েছে, যা দিয়ে তিনি বিয়ে বাড়িতে ভাড়াসহ পাহাড়ি এলাকায় গাছ টানার কাজ করেন। পাহাড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন বন্যপ্রাণির চামড়া, হাতির দাঁত সংগ্রহ করে অবৈধভাবে বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করে আসছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক :
৮ মে বিশ্ব রেডক্রস-রেড ক্রিসেন্ট দিবস। যুদ্ধে কাতর দুস্থদের সেবার উদ্দেশ্যে ১৮৬৩ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল রেডক্রস বা রেড ক্রিসেন্টের। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুইজারল্যান্ডের নাগরিক হেনরি ডুনান্ট। ১৮২৮ সালের আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। মূলত ১৯১০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর জন্মদিন ৮ মে তারিখে ‘বিশ্ব রেডক্রস-রেড ক্রিসেন্ট’ দিবস হিসেবে পালন করা শুরু হয়। এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত। রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের কিছু মূলনীতি রয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৭ মিলিয়ন স্বেচ্ছাসেবী, সদস্য ও কর্মী নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশে রেডক্রসের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। সে সময় ১৫টি স্কুলে জুনিয়র রেড ক্রস কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১৯৭৮ সালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যুব রেড ক্রস কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরেও এর সূচনা ঘটে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ও ৪টি সিটি করপোরেশনে রেড ক্রস-রেড ক্রিসেন্টের মোট ৬৮টি ইউনিট রয়েছে, যারা দেশের যেকোনো প্রয়োজনে সেবা দিতে প্রস্তুত। তাদের সাতটি মূলনীতির মধ্যে রয়েছে মানবতা, পক্ষপাতহীনতা, নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা, স্বেচ্ছামূলক সেবা, একতা ও সর্বজনীনতা।
চলারপথে রিপোর্ট :
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম গত মে মাসের ৬ তারিখ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া স্থল শুল্ক ষ্টেশনে স্থাপিত ব্যাগেজ স্ক্যানার উদ্বোধন করেন। আখাউড়া চেকপোস্ট দিয়ে আগত এবং বহিঃগমণকারী যাত্রীদের ব্যাগেজ চেকিং করার জন্য এই যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়। ব্যাগেজ চেকিংয়ের পাশাপাশি কেউ মাদক কিংবা অবৈধ পণ্য বহন করছে কিনা সেটিও চিহ্নিত করা এর উদ্দেশ্য। কিন্তু উদ্বোধনের পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও স্ক্যানার মেশিনে ব্যাগেজ চেকিং করা হয় না। স্ক্যানার বসানো কক্ষটি বেশির সময়ই থাকে তালাবদ্ধ। এতে এ চেকপোষ্ট দিয়ে পারাপার হওয়া যাত্রীদের ব্যাগেজ স্ক্যানিং কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। শুল্ক কর্মকর্তাদের ইচ্ছার উপরও নির্ভর করছে চেকিংয়ের কার্যক্রম। ফলে কেউ মাদক বা অবৈধ কোন পণ্য নিয়ে আসা যাওয়া করছে কিনা তা চিহ্নিত হয় না।
আখাউড়া ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার পর্যটক আসা যাওয়া করে। এতদিন স্থল শুল্ক স্টেশনে ব্যাগেজ চেকিংয়ের কোন যন্ত্র না থাকায় শুল্ক কর্মকর্তারা যাত্রীদের ব্যাগেজ চেকিং করে আসছেন। সঠিকভাবে চেকিং কার্যক্রম করার লক্ষ্যে এক মাস আগে ব্যাগেজ স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করা হয়। কিন্তু স্ক্যানার মেশিন উদ্বোধনের পরও এক মাস ধরে অজ্ঞাত কারণে ব্যাগেজ চেকিং কার্যক্রম করা হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্ক্যানার মেশিনের কক্ষটি তালাবদ্ধ। এক ঘন্টা অবস্থানকালে কোন যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যান করতে দেখা যায় নি।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে আখাউড়া স্থল শুল্ক ষ্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ খান বলেন, স্ক্যানার কক্ষের রংয়ের কাজসহ কিছু কাজ এখনও শেষ হয়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিল্ডিংটি আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়নি। তবে স্ক্যানার মেশিন ঠিক আছে। আমরা মাঝে মধ্যে স্ক্যান করি। বিল্ডিংটি বুঝিয়ে দিলে আশা করি আগামী মাস থেকে পুরোপুরি স্ক্যানিং করতে পারব।
অনলাইন ডেস্ক :
সীমান্তবর্তী এলাকায় ছাগল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে একটি ছাগল ভারতীয় বিএসএফ নিয়ে যাচ্ছে এমন দৃশ্য ধারণ করছে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজারো মানুষ এতে প্রতিক্রিয়া জানান।
ক্যামেরার ঝাপসা ফুটেজে দেখা যায়, ছাগলটি ধীরে ধীরে ভারতীয় অংশের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পেছন থেকে ভিডিও করা ব্যক্তি বলছেন আমাদের ছাগলটা এভাবে নিয়ে যাচ্ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ঘটনা আমরা চোখের সামনে দেখেছি। ভিডিওটা দেখে সবাই রেগে গেছে। সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে থাকে।