গাড়ির ফি আত্মসাৎ, ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আখাউড়া, 15 May 2023, 901 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া স্থলবন্দরের সাবেক ট্রাফিক পরিদর্শক আব্দুল কাদের জিলানীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১৪ মে রবিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

ট্রাফিক পরিদর্শক আব্দুল কাদের জিলানী বর্তমানে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত রয়েছেন। তিনি কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার আমড়াতলী গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম আলী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদের জিলানী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া স্থলবন্দর বন্দরে ট্রাফিক পরিদর্শক ছিলেন। আখাউড়া স্থলবন্দরে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবেশ করে ২২ হাজার ৮৯০টি গাড়ি। কিন্তু অভিযুক্ত আব্দুল কাদের জিলানী ১১ হাজার ৯৮৩টি গাড়ির হিসাব রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি করেছেন। বাকি ১০হাজার ৯০৭টি গাড়ি প্রবেশের তথ্য এন্ট্রি করেননি। গাড়িগুলো রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি না করে এর ফি ১২ লাখ ৬২ হাজার ৯০২টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না করে আত্মসাৎ করেন।

এ ঘটনায় রবিবার দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০ ধারা সহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দুদক স্থলবন্দর ট্রাফিক পরিদর্শক আব্দুল কাদের জিলানীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

Leave a Reply

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা কম

চলারপথে রিপোর্ট : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার Read more

ছুরিকাঘাতে যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার…

চলারপথে রিপোর্ট : আশুগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী মো. রুবেলের ছুরিকাঘাতে হৃদয় Read more

লাইব্রেরিতে বই পড়ে পুরস্কার পেলেন ১৫…

চলারপথে রিপোর্ট : নাসিরনগরে মে মাসে সর্বাধিক দিন লাইব্রেরিতে উপস্থিত Read more

মানুষ গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত সড়কে পুলিশ…

অনলাইন ডেস্ক : এবারের ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় অধিকসংখ্যক মানুষ Read more

আখাউড়া চেকপোস্টে ভারতগামীদের উপচে পড়া ভিড়

চলারপথে রিপোর্ট : ঈদুল আযহার আর মাত্র দুদিন বাকি। ইতোমধ্যে Read more
ফাইল ছবি

পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

চলারপথে রিপোর্ট : আখাউড়ায় পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় মো. জুনায়েদ Read more

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জন বাংলাদেশি…

অনলাইন ডেস্ক : সৌদি আরবের আল নাজাদ অঞ্চলের আপিপ শহরে Read more

তুলশীগঙ্গার তীরে ঘুড়ির মেলা

চলারপথে রিপোর্ট : জয়পুরহাটের তুলশীগঙ্গা নদীর তীরের সন্যাসীতলা মন্দিরের পাশে Read more
ফাইল ছবি

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবার জিরা আমদানি

চলারপথে রিপোর্ট : পাঁচ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর Read more
ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরলেন ওবায়দুল…

অনলাইন ডেস্ক : স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরেছেন আওয়ামী লীগের Read more
ফাইল ছবি

বিরোধী দলীয় নেতা, উপনেতা ও রওশনকে…

অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা জি এম Read more
ফাইল ছবি

আশুগঞ্জ ও নবীনগরে বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ ও নবীনগরে বজ্রপাতে দুইজন Read more

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস মিয়ার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

আখাউড়া, 2 June 2023, 688 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
চোখের জলে ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চির বিদায় নিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার ১নং মনিয়ন্দ ইউনিয়নের পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, ১নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, মনিয়ন্দ গ্রামে কৃতিসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস মিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২ টায় জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ৭ ছেলে, ৪ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আজ ২ জুন শুক্রবার বাদ আসর মনিয়ন্দ বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠ প্রাঙ্গণেই জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী ভূমি কমিশনার প্রশান্ত চক্রবর্তী পুষ্প অপর্ণ করেন। এরপর পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

এসময় আখউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব আলম দীপক, সাবেক চেয়ারম্যান কামাল ভুঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহার মালদার, আখউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সেলিম ভুঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলি নেওয়াজ খান, ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক মিয়া,ওয়ার্ড মেম্বার তাজুল ইসলাম, ১ং মনিয়ন্দ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণীর পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

ওরশে এসে ট্রেনে কাটা পড়ে ৪ জনের প্রাণহানি

আখাউড়া, 11 August 2023, 485 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়ায় খড়মপুর কল্লা শহীদ (র.) বার্ষিক ওরসে এসে ট্রেনের ধাক্কায় ৪ জন নিহত ও ১ জনত আহত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আখাউড়া-সিলেট বাইপাস রেলপথের খড়মপুর মাজার শরীফ এলাকায় সেতু পারাপারের সময় এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

তারা হলেন- নরসিংদী জেলার মাধবদি থানার নোয়াকান্দি গ্রামের গাজী মিয়ার পুত্রে শুকুর মিয়া (৬০), একই জেলার পলাশ উপজেলার মোতালেব মিয়ার পুত্র মোজাম্মেল, (২০), নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজার উপজেলার চিলকান্দি গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে মতি ভূঁইয়া (৫৫)। অপর ১ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম নামে আহত একজনকে উদ্ধার করে রাতেই আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় পুলিশ।

আজ ১১ আগস্ট শুক্রবার সকালে তার স্বজনরা এসে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর রাত্র থেকে আখাউড়া পৌরশহরের খড়মপুর কল্লা শহীদ (র.) ৭ দিন ব্যাপী বার্ষিক ওরস শুরু হয়েছে। উরস উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে মাজার এলাকায়। রাত্র সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-সিলেট রেলপথের মাজার সংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের থাক্কায় এবং ঝাঁপ দিয়ে পানিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাতেই ২টি মরদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা এবং দুপুর ১২টার দিকে আরও ২ টি মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়াস সার্ভিসের কর্মীরা।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ট্রেনের গতি বেশি ছিল এবং ট্রেনটি সেতুর কাছাকাছি এসে হুইসেল দেওয়ায় সেতু পার হতে না পারায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শুক্কর আলীর ছোট ভাই সামসুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নৌকা দিয়ে ৪০/৪৫ জন লোক খড়মপুর আসেন। মাজারের পশ্চিমে রেললাইনের পাশে নৌকা রেখে তারা কয়েকজন পায়ে মাজারের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ ট্রেন চলে আসলে ভাই ট্রেনের ধাক্কা খেয়ে পানিতে পরে যায়। পরে তার লাশ দেখে সনাক্ত করি।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাজার শরীফে আসা লোকজন রেলসেতু পারাপার হচ্ছিল। এসময় ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন এলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন আসার সংকেত দেয়। লোকজন তাড়াহুড়া করে রেলসেতু পারাপার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় সেতু থেকে নদীতে ছিটকে পড়ে নিহত হয়। খবর পেয়ে আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস নদী থেকে ২টি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে শুক্রবার ভোরে এবং দুপুরে আরো ২টি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদের মধ্যে দু’জনকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আখাউড়া থানার ওসি মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন, অজ্ঞাত একজনকে ময়না তদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঠানো হয়েছে। আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মুনিম সারোয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ২টি এবং শুক্রবার ২টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। এখনও খোঁজাখুজি চলছে।

উল্লেখ্য, খড়মপুর মাজার শরীফে সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক ওরশ চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত।

আখাউড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতে বেশি ফেল

আখাউড়া, 13 May 2024, 56 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলায় অকৃতকার্য হয়েছে ৪৩৩ জন। ১২ মে রবিবার সারাদেশের ন্যায় আখাউড়ায় এসএসসি সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীর বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী ইংরেজি ও গণিতে ফেল করেছে। এছাড়া অন্যান্য বিষয়েও কেউ কেউ ফেল করেছে। কয়েজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে এবং কিছু ফলাফল পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
কয়েকজন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে ইংরেজি ও গণিতে বেশি ফেল করার কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখা। কোভিড- ছাত্রছাত্রীদের অমনোযোগিতা, নিয়মিত ক্লাশ না করা, অভিভাবকের সচেতনতার অভাবসহ আরও কিছু অজুহাত দিচ্ছেন শিক্ষকরা। অভিভাবকদের দাবী, শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে পাঠদান করে না। ইংরেজি ও গণিতে মান সম্মত শিক্ষকের অভাব। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকের স্বল্পতা। যোগ্য ম্যানেজিং কমিটির অভাবসহ রয়েছে আরও কিছু সমস্যা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার ৬২৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১ হাজার ১৯৫ জন। শতকরা পাশের হার ৭৩.৪০।
সাকিবুল হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, স্কুলে স্যারেরা ঠিকমতো পড়ায় না। প্রায়ই স্কুল বন্ধ থাকে।
কাউসার হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষকরা ঠিকমত ক্লাশ করায় না। প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে ব্যস্ত থাকে। স্কুলে সময় দেয় না। তাছাড়া শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং। এসব কারণেও ছাত্রছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

কাজী সুহেল নামে আরেক অভিভাবক বলেন, অনেকগুলো স্কুলে দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নাই। এসব স্কুল চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে। ফলে প্রশাসনিক দক্ষতার অভাবে পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম বলেন, করোনার কারণে এই ছেলে মেয়েরা নিচের ক্লাশ থেকে দুর্বল হয়ে এসেছে। তাছাড়া ছেলেমেয়েরা নিয়মিত ক্লাশে না আসার কারণেও পড়ার ক্ষতি হয়েছে। আমাদের অভিভাবদেরকে আরও সচেতন হতে হবে।

জানতে চাইলে দেবগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, অংক এবং ইংরেজি অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে তুলনামূলক কঠিন। এবিষয়গুলোতে শিক্ষকরা যতটুকু আন্তরিকতা দেখান ছাত্ররা সেরকম দেখায় না। ভবিষ্যতে এ দুটি বিষয়ের প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবক সবাইকে মিলে গুরুত্ব দিলে আশা করি আরও ভালো করতে পারব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল হোসেন বলেন, ইংরেজি ও গণিত তুলনামূলক কঠিক সাবজেক্ট। তারপরও আমরা বিষয়টি পর্যালোচা করে দেখছি।

আখাউড়ার বাজারে আড়াই কেজি ওজনের মুলা

আখাউড়া, 27 January 2024, 246 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ার সড়ক বাজারের আজ ২৭ জানুয়ারি শনিবার বিক্রি হয়েছে আড়াই কেজি ওজনের মুলা। সাদা রঙের এই মুলাটির উচ্চতা আড়াইফুট, ব্যস চার ইঞ্চি।

দুপুরে সড়ক বাজারের সবজি ব্যবসায়ী বাবুল সাহার কাছ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে ৯০ টাকায় মুলাটি কিনেন আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের বাসিন্দা মোঃ ইয়াছিন চৌধুরী। তার বাসায় মুলাটা আনার পর অনেকেই আগ্রহ নিয়ে ইয়াছিন চৌধুরীর বাসায় যান মুলাটি দেখতে।

অতোবড় মুলা দেখে রীতিমতো সবাই অবাক হয়েছেন। বাসায় আনার পর ইয়াছিন চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরাও অবাক হন। এর আগে কখনো এত বড় মুলা দেখেননি তারা।

মোঃ ইয়াছিন চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে তিনি সড়ক বাজারের সবজি ব্যবসায়ী বাবুল সাহার কাছ থেকে মুলাটি কিনেছেন। এতো বড় মুলা দেখে তিনি লোভ সামলাতে পারেননি। তাই ৩৫ টাকা কেজি দরে আড়াই কেজি ওজনের মুলাটি ৯০ টাকা দিয়ে মুলাটি কিনে আনেন।

সবজি ব্যবসায়ি বাবুল সাহা জানান, তাহের মিয়া নামে একজন আড়ৎদারের কাছ থেকে তিনি বেশ কয়েকটি বড় মুলা আনেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই দেড় ও দুই কেজি ওজনের। সবচেয়ে বড় মুলাটি ছিলো আড়াই কেজির বেশি। এত বড় মুলা দেখে অনেকেই তার দোকানে আসেন ও খোঁজ নেন কোথা থেকে আনা। তিনি জানান, মূলত নরসিংদী জেলা থেকে এসব মুলা আখাউড়ার বাজারে আসে।

আখাউড়া বন্দরে বাড়ছে রাজস্ব, কমছে না শুধু দুর্ভোগ

আখাউড়া, 22 September 2023, 447 Views,
ফাইল ছবি

চলারপথে রিপোর্ট :
উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে স্থলপথে বাংলাদেশের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর। ভারতে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি যাত্রী পারাপারও হয়ে থাকে এ বন্দর দিয়ে। ধীরে ধীরে যাত্রীদের কাছে পছন্দের রুট হয়ে উঠছে আখাউড়া স্থলবন্দর। ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ছে। তবে যাত্রীর সঙ্গে রাজস্বের পরিমাণ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা মিলছে না আখাউড়া স্থলবন্দরে। আন্তর্জাতিক এই স্থলপথের যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৪ সাল থেকে আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে পণ্য রপ্তানি বাণিজ্য চলছে। পরবর্তীতে বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়ায় ২০০৮ সালে স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে আখাউড়া স্থলবন্দর। বর্তমানে প্রতিদিন এক থেকে দেড় কোটি টাকার বরফায়িত মাছ, রড, সিমেন্ট, পাথর, তুলা, প্লাস্টিক ও কাঠের ফার্নিচারসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। রপ্তানিকৃত পণ্য ত্রিপুরা থেকে সরবরাহ করা হয় উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্য রাজ্যগুলোতেও।
পণ্য রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি সরকার যাত্রীদের ভ্রমণ কর বাবদও বিপুল রাজস্ব পায় আখাউড়া স্থলবন্দর থেকে। চিকিৎসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন আটশ থেকে এক হাজার যাত্রী আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারত গমন করে থাকেন। বিভিন্ন উৎসবের সময় এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ হয়।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আখাউড়া স্থলবন্দর পার হলেই আগরতলা শহর। সেখান থেকে মাত্র মিনিট বিশেকের পথ পাড়ি দিলেই আগরতলা বিমানবন্দর। এছাড়া রেলস্টেশনও শহরের কাছাকাছি। এর ফলে আকাশ ও রেলপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশি যাত্রীরা সহজে কলকাতা, গৌহাটি, দিল্লি, চেন্নাই, জয়পুর, গ্যাংটক ও শিলংসহ দেশটির পর্যটন শহরগুলোতে যাতায়াত করতে পারেন। এতে খরচও সাশ্রয় হয়। মূলত এসব কারণেই আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার বাড়ছে। এছাড়া আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত নির্মাণাধীন চার লেনের জাতীয় মহাসড়কের কাজ শেষ হলে আখাউড়া স্থলবন্দর যাত্রী পাপারের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম রুট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পারাপার হয়েছেন দুই লাখ ৫৭ হাজারের কিছু বেশি যাত্রী। এ সময় যাত্রীদের ভ্রমণ কর বাবদ সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় আট কোটি টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৩ হাজার। সরকার রাজস্ব পেয়েছে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকার কিছু বেশি। বিগত অর্থবছরে যাত্রীর ভ্রমণ কর পাঁচ শ টাকা থাকলেও চলতি অর্থবছর থেকে তা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে। ভারতীয় যাত্রীরা বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্যও এই কর দিতে হয়। তবে বন্দরে কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

জরাজীর্ণ কাস্টমস ভবনের ছোট্ট এক কক্ষে কাস্টমসের কাজ শেষ করে যাত্রীদের আরেক ভবনে যেতে হয় ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের জন্য। এরপর সেখান থেকে বিজিবি চৌকি পার হয়ে যেতে হয় ইমিগ্রেশন ভবনে। রুগ্ণ ইমিগ্রেশন ভবনটিও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে আরও কয়েক বছর আগেই। তবুও ঝুঁকি নিয়ে এই ভবনে যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের কাজ করা হয়।

ছোট্ট ইমিগ্রেশন ভবনের বেশির ভাগ অংশের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থাও নেই।

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী আবুল কাশেম জানান, ঢাকা থেকে ভারতের সব শহরে ফ্লাইট সুবিধা নেই। এছাড়া ঢাকা থেকে ফ্লাইটে খরচও বেশি। এক্ষেত্রে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আগরতলা থেকে আকাশপথে ভারতের বিভিন্ন শহরে সহজেই যাতায়াত করা যায়। এতে সময় যেমন বাঁচে, তেমনি খরচও লাগে কম। ফলে আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবহার করেন তিনি। তবে আগরতলা স্থলবন্দরের তুলনায় আখাউড়া স্থলবন্দরে যাত্রীদের জন্য তেমন কোনো সেবা নেই।

ফজলে রাব্বি নামে আরেক যাত্রী জানান, ট্রলি সুবিধা না থাকায় যাত্রীদের লাগেজ বহনে সমস্যা হয়। এছাড়া ইমিগ্রেশন ভবনে যাত্রীদের জন্য সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নেই। এতে করে নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অথচ আগরতলা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এবং ব্যাগেজ স্ক্যানিং সুবিধা মিলে একই ছাদের নিচে। সেখানে যাত্রীদের জন্য আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী মাহাবুবুর রহমান নামের এক যাত্রী জানান, ছোট্ট ইমিগ্রেশন ভবনে একসঙ্গে অনেক যাত্রী বসার সুবিধা নেই। ফলে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে গরমের সময় ভোগান্তি বাড়ে। এছাড়া বৃষ্টি হলে জমে হাঁটুপানি। এসব সমস্যা নিরসন করলে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার আরও বাড়বে এবং সরকারও বেশি রাজস্ব পাবে বলে জানান তিনি।

যাত্রী দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আখাউড়া স্থলবন্দরে আধুনিক ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্টরা। ২০১৬ সালে পুরাতন ইমিগ্রেশন ভবনের পাশে শুরু হয় ছয়তলা বিশিষ্ট নতুন ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজ। তবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন জটিলতায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তিতে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভবনের নকশা পরিবর্তন এবং দুইতলা ভবন নির্মাণের শর্তে নির্মাণকাজ শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু একতলা করার পর ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে আবারও বাধা আসে বিএসএফের তরফ থেকে। ফলে এখনো বন্ধ রয়েছে নতুন ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হাসান আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, আমরা নিজেরাও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশ সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন ইমিগ্রেশন ভবনটি হয়ে গেলে যাত্রীরা এক ছাদের নিচেই সব ধরনের সেবা পাবেন। তখন আর দুর্ভোগ থাকবে না। তবে সীমান্ত আইন জটিলতায় ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ ফের শুরু হবে।