“৯৯৯” কল পেয়ে অপহৃত তিন যুবককে উদ্ধার, এক অপহরণকারী গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, 19 May 2023, 812 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আদালত চত্বর থেকে অপহরণ হওয়া তিন যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় এক অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় যুবকদের কাছ থেকে নেয়া ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

জরুরি সেবা সার্ভিস ৯৯৯-এ কল পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৌর এলাকার ভাদুঘর রেললাইনের পাশ থেকে অপহৃত তিন যুবক সোহাগ মিয়া (৩০), হিমেল মিয়া (১৯) ও মুন্না মিয়া (৩৫) কে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশ অপহরণকারী লাল মিয়া (২৯) কে গ্রেফতার করতে পারলেও অন্যান্য অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।

উদ্ধার হওয়া সোহাগ মিয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের জাহের মিয়ার ছেলে, হিমেল একই গ্রামের নেসার উদ্দিনের ছেলে ও মুন্না মিয়া আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের নোয়ামোড়া গ্রামের ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে। গ্রেফতারকৃত লাল মিয়া কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে।

উদ্ধার হওয়া হিমেল, সোহাগ ও মুন্না এবং পুলিশ জানায়, কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে লাল মিয়ার সাথে তাদের বিরোধ চলে আসছিলো। এই বিরোধের জেরে লাল মিয়ার সাথে কয়েকদিন আগে তাদের ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় লাল মিয়া তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তারা আদালতে আত্মসমর্পন করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন। পরে আদালত তাদেরকে জামিন দিলে দুপুর দেড়টার দিকে তারা আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় আদালতের সামনের রাস্তা থেকে মামলার বাদি লাল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের তার ভগ্নিপতি ও খালাতো ভাই সাহস মিয়াসহ ৬/৭ জন যুবক তাদেরকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের মোটর সাইকেলে তুলে নেয়। পরে তাদেরকে প্রথমে শহরের ওয়াপদার ভেতরে ও পরে ভাদুঘর রেললাইনের পাশে বাঁশ ঝাড়ের নিচে নিয়ে বেধরক মারধোর করে। পরে লাল মিয়া ও সাহস মিয়া তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে তাদেরকে ট্রেনের নীচে ফেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

পরে তিন যুবক তাদের স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা লাল মিয়ার বিকাশ নম্বরে এনে দেয়। পরে সুযোগ বুঝে অপহৃত যুবকদের একজন জরুরি সেবা সার্ভিস ৯৯৯ কল করে পুলিশের সহায়তা চাইলে বিকেল সাড়ে ৪ টার সময় পুলিশ ভাদুঘর এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে তিন যুবককে উদ্ধার ও অপরহনকারী লাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে লাল মিয়ার কাছ থেকে বিকাশের মাধমে নেয়া ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, জরুরি সেবা সার্ভিস ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে আমরা তিন যুবককে উদ্ধার করি ও অপহরণকারী লাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সোহাগ মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আমরা বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। আজ ১৯ মে শুক্রবার গ্রেফতারকৃত লাল মিয়াকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা…

চলারপথে রিপোর্ট : নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে জাতীয় কবি Read more

কুটি ইউপি উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ফারুক…

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবায় স্থগিত হওয়া কুটি ইউনিয়ন Read more

কসবায় জাল ভোট দেওয়ায় চেষ্টাকালে কসবায়…

চলারপথে রিপোর্ট : কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাল Read more

নবীনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জীবন মিয়া Read more

তিন দিনব্যাপী বেসিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

চলারপথে রিপোর্ট : দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর তত্ত্বাবধানে MIPS Read more

মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

চলারপথে রিপোর্ট : সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মহিলাদের অবহিতকরণ ও Read more

সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

অনলাইন ডেস্ক : দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার Read more

মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর -চট্টগ্রাম ও…

অনলাইন ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আজ ২৫ মে Read more

কথা, কবিতা ও গানে জাতীয় কবি…

চলারপথে রিপোর্ট : কথা, কবিতা ও গানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্মরণ করা Read more

সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য বার্তা বিতরণ

চলারপথে রিপোর্ট : কয়েকদিন ঝড়ো হাওয়ার সাথে হালকা হতে মাঝারী Read more

তিতাসের ১৪ নম্বর কূপ থেকে জাতীয়…

চলারপথে রিপোর্ট : আড়াই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর Read more
ফাইল ছবি

কাল কসবায় স্থগিত হওয়া কুটি ইউপি…

চলারপথে রিপোর্ট : কসবায় আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিত হবে স্থগিত হওয়া Read more

কবুতর উড়ানোর ১৫২ প্রতিযোগিকে ক্রেস্ট-ট্রফি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, 28 December 2022, 948 Views,
স্টাফ রিপোর্টার:
শখে কবুতর পালন করে ওরা। সৌখিন কবুতর পালনকারীরা সংগঠিত হয়ে আয়োজন করে প্রতিযোগিতার। তেমনই একটি সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসার এন্ড হাই-ফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব। ২০১৬ সালে ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। জেলায় ২০২১ ও ২০২২ সালে গ্রীষ্মকালীন কবুতর উড়ানোর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ১৫২ জন। মঙ্গলবার রাতে শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসার এন্ড হাই-ফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব সভাপতি মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা হাই-ফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাবের সভাপতি নূরে আলম, খুলনা ফাইভ-টি পিজিয়ন ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মন্নাফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রসক্লাবের সাবেক তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক মজিবুর রহমান খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসার এন্ড হাই-ফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব সাধারণ সম্পাদক কাজী রিমন, বিজয়নগর রেসার এন্ড হাই-ফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাবের সভাপতি সুমন রেজা।
অনুষ্ঠানে ২০২১ সালের গ্রীষ্মকালীন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী ৬৭ জন এবং ২০২২ সালে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৮৫ জনকে ক্রেষ্ট এবং প্রতিযোগীদের মধ্যে ২ জন চ্যাম্পিয়ন ও ৪ জন রানার আপকে ট্রফি প্রদান করা হয়। ২০২১ সালের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন মো: রায়হান। তার কবুতর আকাসে উড়ে ৮ঘন্টা ৪৮ মিনিট। আর ২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হন রাকিব আহসান মেহেদী। তার কবুতরের উড়ার সময় ৭ ঘন্টা ৪৮ মিনিট।

২০২১ সালে প্রথম রানার আপ মো: নাহিদুল ইসলাম বাবু, ২য় রাকিব আহসান মেহেদী, ৩য় মিয়া মাসুক, ৪র্থ মো: আলামগীর হোসেন, ২০২২ সালে প্রথম রানার আপ নাহিদুল ইসলাম বাবু, ২য় রানার আপ মিজান মিয়া সনু, ৩য় হারিছুজ্জিমান সরকার, ৪র্থ কাজী রিমন। তাদের প্রত্যেকের কবুতর ৫ ঘন্টা থেকে সাড়ে ৭ ঘন্টা আকাসে উড়ে।

আয়োজকরা জানান, বছরের এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসব্যাপী এই প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী একেকজন তাদের নিজ বাসা থেকে পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কবুতর আকাসে উড়িয়ে দেন। এর আগে প্রতিযোগি কবুতরের ডানায় ক্লাবের সীল দেয়া হয়। পরে কার কবুতর কতো সময় ধরে আকাসে উড়লো সেই সময় ধরে প্রতিযোগীতার বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ী নির্ধারন করা হয়। আয়োজকরা আরো জানান,সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে কবুতর উড়াতে হয়। কবুতর ফেরার সময় থাকে সন্ধ্যা অর্থাৎ মাগরিবের আযান পর্যন্ত। এ সময় পর্যন্ত প্রতিযোগিতার জন্যে উড়ানো কবুতরটিকে চোখের দৃষ্টি সীমার মধ্যে রেখে পর্যবেক্ষন করা হয়। মাগরিব পর্যন্ত কবুতরটি নিচে নেমে না এলে ডিসকোয়ালিফাইড হিসেবে গন্য করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র ৩৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, 6 March 2023, 898 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
আজ ৬ মার্চ সোমবার বেলা ১১ টায় জামে মসজিদ রোডস্থ চেম্বার ভবনের তৃতীয় তলায় ফরিদ উদ্দিন আহমেদ মিলনায়তনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র ৩৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি আলহাজ্ব আজিজুল হক।

সভায় ২০২২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চেম্বারের সভাপতি আলহাজ্ব আজিজুল হক।

২০২২ সালের অডিট রিপোর্ট উপস্থাপন করেন চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কাজী জাহাঙ্গীর।

২০২৩ সালের বাজেট উপস্থাপন করেন চেম্বারের সহ-সভাপতি হাজী মোঃ বাবুল মিয়া ও বিগত সভার কার্যবিবরণী পেশ করেন চেম্বারের সচিব মোঃ আজিম উদ্দিন।

সভায় বিগত অর্থ বছরের কার্যবিবরণী, বার্ষিক প্রতিবেদন, অডিট রিপোর্ট, সম্ভাব্য বাজেট উপস্থিত সদস্যদের অকুণ্ঠ সমর্থনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

অন্যান্যবারের ন্যায় ২০২৩ সালের অডিট রহমান কাসেম এন্ড কোম্পানীকে করার অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কাজী জাহাঙ্গীর এর মমতাময়ী মাতাসহ জানা অজানা যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের সকলের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

সভায় অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি তানজীল আহমেদ, সাবেক ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি সুভাষ চন্দ্র পাল, চেম্বার পরিচালক মোঃ শাহজাহান মিয়া, মোঃ কামাল মিয়া, মোঃ আজিজুর রহমান শামীম, সুব্রত পাল, জাবেদুল ইসলাম সোহাগ, মোঃ জসিম উদ্দিন, তানভীর আহমেদ, মোঃ আল মামুন, মোঃ বাবুল মিয়া, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ জুয়েল খান, প্রদীপ চন্দ্র সাহা, আলহাজ্ব হারুনুর রশিদসহ চেম্বারের সাধারণ সদস্যবৃন্দ।

সভা পরিচালনা করেন পরিচালক আলহাজ্ব মমিনুল আলম বাবু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ভতুর্কি মূল্যে পণ্যসামগ্রী বিক্রয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, 12 March 2024, 175 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রমজান মাস উপলক্ষে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে মাসব্যাপী ভর্তুকিমূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে তেল, চিনি, ডাল, বুট ও পেঁয়াজসহ পণ্যসামগ্রী বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ ১২ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে তিনটার দিকে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে প্রধান ফটকের সামনে এই বিক্রয় কাজের উদ্বোধন করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু প্রধান অতিথি হিসেবে বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের পিপি মাহবুবুল আলম খোকন, সদর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ.এইচ. মাহবুব আলম, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ মিজানুর রেজা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন ও সাধারণ শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে বর্তমান পেঁয়াজ ৮০টাকা কেজি, চিনি ১৩০টাকা, সয়াবিন তেল ১৬০ থেকে ১৬৫টাকা লিটার, ছানা বুট ১১৫ টাকা কেজি, খেসারী ডাল ১৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কিন্তু ছাত্রলীগের উদ্যোগে পেঁয়াজ ৫০টাকা কেজি, চিনি ১০০টাকা, সয়াবিন তেল ১২০টাকা লিটার, ছানা বুট ৮০ টাকা, খেসারী ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন বলেন, বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ও ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে এসব পণ্যের ভর্তুুকির মূল্য পরিশোধ করব। পরে পরিচিতি ব্যক্তিদের সহায়তা নিব। আমরা মাসব্যাপী এই কর্মসূচী চালিয়ে যেতে চাই।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, রমজানের প্রথম দিন থেকে রমজানের পণ্যসামগ্রী বিক্রি শুরু করেছি। প্রথমদিনে আমরা পেঁয়াজ ৫০০ কেজি, তেল ৫০০ লিটার, বুট ৮০০ কেজি, ডাল ১০০০ কেজি ও চিনি ১০০০ কেজি এনেছি। মাসব্যাপী আমরা এই কর্মসূচী চালিয়ে যেতে চাই। মানুষের কাছ থেকে সাড়া মিলছে। ৪১০ টাকায় এক কেজি করে বুট, চিনি, ডাল, পেয়াজ ও এক লিটার তেল কিনতে পারছে। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ভেতরে এসব বিক্রি করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাধ্যমিকে ৭০, প্রাথমিকে ১৩ ভাগ বই এসেছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, 3 January 2023, 759 Views,
স্টাফ রিপোর্টার:
শিক্ষার্থীদের কারো হাতে দু’টি, কাউকে দেওয়া হলো তিনটি বই। তবুও খুশি তারা। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে পারাটাই যেন আলাদা আনন্দ। কিছু বই তুলে দিতে পেরে সংশ্লিষ্টরাও বেশ খুশি। সবাই আশায় আছেন এ মাসের মধ্যেই বই পাওয়ার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জন্য মাধ্যমিকের ৭০ ভাগ ও প্রাথমিকের ১৩ ভাগ বই এসেছে। জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে মোট চার লাখ ৯২ হাজার ৮০১ ও প্রাক প্রাথমিকের ৭৭ হাজার ৬শ ৫৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৫২ জন শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে নতুন বছরের প্রথম দিন রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরসহ সর্বত্র বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টায় শহরের গভ. মডেল গার্লস হাই স্কুলে আয়োজিত বই উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জিয়াউল হক মীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বই উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোজাম্মেল হক রেজা, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খোরশেদ আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়ামিন হোসেন, অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা নাজমীন, মডেল গভ. মডেল গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক (অব.) পারভীন আক্তার।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে ২৪ লাখ তিন হাজার ৫৭৪টি বইয়ের চাহিদার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ ভাগ বই পৌঁছেছে।’
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৫২ জন শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত ৭০ ভাগ বই চলে এসেছে।’ কিছুদিনের মধ্যে বাকি বই পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, 27 November 2023, 331 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এরইমধ্যে গ্রামাঞ্চলের ধান কাটা শুরু হয়েছে। সোনালী ধানের ফলন হওয়ায় অনেকটাই খুশি প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকেরা। তাদের দাবি সারসহ আনুসাঙ্গিক কৃষি পণ্যের দাম কমানো হলে ধান-চালের ন্যায্য মূল্য পাবে কৃষক। এতে করে অনাবাদি জমি গুলো সোনালী ধানের আভায় ভরিয়ে তুলবেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে ব্রি-৭৫, ব্রি-৯০ বীনা-৭, বীনা-১৭, বিআর-২২ ও হাইব্রিড জাতিয় ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। আবাহাওয়া অনুকূলে থাকায় সোনালী ধানে ভরে উঠেছে ফসলি মাঠ। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা।
কৃষকরা জানান, জমিতে সার, কীটনাশক, নিরানী, মই দেওয়াসহ সর্বশেষ ফসল কাটতে গিয়ে তাদের উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়েছে।

কৃষকদের দাবি সার এবং কীটনাশকের দাম কমানো হলে ধানের উৎপাদন খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে ধান-চাল বিক্রি করে কিছুটা হলেও লাভবান হবেন তারা। এছাড়া অনাবাদি জমি গুলোতেও বাড়বে ধানের উৎপাদন।

সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের নদ্দাপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আমিন মিয়া বলেন, এবার জমিতে ধান অনেক ভালো হয়েছে। সারের দাম কমিয়ে চালের দামটা কিছুটা বৃদ্ধি করে দিলে কৃষকেরা অনেকটা লাভবান হতে পারবেন।

ঘাটুরার মো. ইয়াসিন নামে আরেক কৃষক বলেন, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ার কারণে আমরা কোনো রকম বেঁচে আছি। সার এবং কীটনাশকের দাম একটু কম হলে আমাদের যে অনাবাদি জমিগুলো আছে সেগুলোতে আমরা ধান চাষ করবো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুশান্ত সাহা জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে ৫১ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ২০১০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এবার আবাদ হয়েছে ৫৩ হাজার ৫১০ হেক্টর। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা। যাতে উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভজনক ফসল করার জন্য আমরা কাজ করছি।

তিনি আরো জানান, এ বছর রোপা আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৬৫ কোটি টাকা।