চলারপথে রিপোর্ট :
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় তিতাস নদীর জায়গা দখল করে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এই বাঁধের কারণে নদী সংকুচিত হয়ে নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রামকৃষ্ণপুর এলাকায় এই বাঁধ দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিতাস নদী হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্বীর মেঘনা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গিয়ে শেষ হয়েছে। এই নদী দিয়ে বাঞ্ছারামপুর, হোমনা, মুরাদনগর উপজেলার ব্যবসায়ীরা নৌপথে পণ্য আনা-নেওয়া করেন। তিতাস নদীর অংশটি দুই বছর আগে নৌচলাচলের সুবিধার জন্য খনন করে বিআইডব্লিউটিএ। এই নদী দিয়ে প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট ও নারায়ণগঞ্জে কয়েকটি লঞ্চ ও শতাধিক ট্রলার চলাচল করে।
সরেজমিন দেখা গেছে, চান্দেরচর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর আড়ালিয়াকান্দি গ্রামের রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে তিতাস নদীতে একটি পাকা ঘাটলা রয়েছে। এই ঘাটলায় প্রতিদিন শত শত মানুষ গোসল করে। ঘাটলাটি থেকে আরো ৩০-৪০ ফুট উত্তরে নদীর মধ্যে মাটি দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁধটি রক্ষার জন্য নদীর মধ্যে মুলির (বাঁশ) বেড়া ও বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে।
নৌকার মাঝি সোলেমান জানান, প্রতিদিন এই নদী দিয়ে শত শত নৌকা চলাচল করে। এই বাঁধের কারণে নৌকা চলাচল সমস্যা হবে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাঁধ নির্মাণকারীদের একজন মাসুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘যে জায়গায় বাঁধ দেওয়া হয়েছে, সেটি আমাদের বাড়ির অনেকের জমি। আমারও ৩০ শতক জমি আছে বাঁধের মধ্যে। মাছ চাষ করতে এই বাঁধ দেওয়া হয়েছে।’
চান্দেরচর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আমান উল্লাহ জানান, তিতাস নদীতে বাঁধ দেওয়ার খবর পেয়ে তাকে ঘটনাস্থলে পাঠান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তাঁর সঙ্গে আলাপ করে জায়গাটি পরিমাপ করা হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইউসুফ হাসান জানান, নদীতে কোনো রকম বাঁধ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। জমির মালিকরা বলছে এটা তাদের জায়গা, কিন্তু নদীর প্রবাহ ব্যাহত হয় এমন কাজ করা যাবে না। বাঁধ অপসারণ করতে বলা হয়েছে। তা না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলারপথে রিপোর্ট :
চট্টগ্রামের রাউজানে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মাংস কিনতে গিয়ে সড়কে রাখা বিকল ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ২ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বৈজ্জাখালী গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- জয় চৌধুরী (৩২) ও অন্তু তালুকদার (২৮)। জয় বোয়ালখালী গোমদন্ডরী মন্টু চৌধুরী ছেলে। তিনি কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ছিলেন। আর অন্তু তালুকদার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দৌলন তালুকদারের ছেলে। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মুরগি কিনতে বের হন জয় ও অন্তু। পথে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বৈজ্জাখালী গেট এলাকায় বিকল ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটর সাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। রাত ৯টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রাফিক পুলিশ নুরুন বলেন, বিকল ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক টুটন মজুমদার বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক :
অবশেষে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১০ মে শনিবার রাতে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
গণহত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে চলমান বিক্ষোভের দু’দিনের মাথায় সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এলো। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা হয়।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে। একইসাথে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তথ্য এবং সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের ঘোষণা আসার পর সারা দেশে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সবাইকে রাজপথ না ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা কেউ রাজপথ ছাড়বেন না। সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা আমাদের মতামত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব। সে পর্যন্ত অবস্থান ত্যাগ করবেন না।’ এর দুই ঘণ্টা আগে তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘তিন দফার একটি দফাও বাস্তবায়ন না হলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’
গত বুধবার সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশ ছাড়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে আওয়ামী লীগের বিচার ও রাষ্ট্রদ্রোহী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করাসহ তিন দফা দাবিতে রাজপথে গণজমায়েত ও বিক্ষোভ শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-জনতা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন এনসিপি নেতারা। ইসলামী ছাত্রশিবির, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ), হেফাজতে ইসলাম, জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন।
এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিটি সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে। সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে তিন দফা দাবি আদায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রাখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-জনতা। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার রাত ৮টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠকে বসে উপদেষ্টা পরিষদ। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, এক ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ঘোষণা না এলে আবারও ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এক ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা না আসায় রাত ৯টার কিছু আগে যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে আন্দোলনকারীরা। পুলিশের বাধায় তারা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নেন। তখনো উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক চলছিল। সাড়ে ৮টার মধ্যে সিদ্ধান্ত আসার কথা থাকলেও বৈঠক চলে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত। ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়টি জানান আইন উপদেষ্টা।
এদিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার সরকারি ভবন যমুনায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। শনিবার সাড়ে ৮টার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়তে দেখা যায়। প্রধান ফটকের ভিতরে সেনাবাহিনী ও তার সামনে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়। পাশে ছিল র্যাব। গেটের বাইরেও ছিল কড়া প্রহরা। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচুর সদস্য ঘুরতে দেখা যায়। এদিন দিনভর সচিবালয় এলাকায়ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগকে দ্রুত নিষিদ্ধের উদ্যোগ নিতে সন্ত্রাস দমন আইনের প্রয়োগ হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা পাওয়া মাত্র দ্রুতগতিতে তা বাস্তবায়ন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, জামায়াতকে যেভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, দ্রুত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে একই আইন প্রয়োগ করা হবে। সব প্রস্তুতি আছে, ওপরের গ্রিন সিগন্যাল পেলে প্রজ্ঞাপনের উদ্যোগ নেবে। তবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ব্যবহারের ইঙ্গিতও দেন কেউ কেউ।
এর আগে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে। কারণ হিসেবে দলটির গঠনতন্ত্র দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশব্যাপী আন্দোলনের সময় সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে জামায়াতকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করে। একই বছর জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরও নিষিদ্ধ হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রমাণের অভাবে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
অনলাইন ডেস্ক :
সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী ও তার স্বামী সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম তালুকদার লাবুর বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং আইনে দুদক ঢাকা ও পাবনা কার্যালয়ে মামলা দুইটি দায়ের করা হয়েছে।
দুদক ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ আলম সেখ বাদী হয়ে আজ ২৩ ডিসেম্বর সোমবার পাবনা জেলা কার্যালয়ে এবং দুদক ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ বাদী হয়ে রবিবার ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পৃথক মামলা দুইটি দায়ের করেন।
বাদী শাহ আলম সেখ এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের করবর্ষে শামীম তালুকদার লাবু’র আয়কর নথি ও অন্যান্য রেকর্ড পর্যালোচনা করে স্থাবর ও অস্থাবর বৈধ সম্পদের হিসাবের চেয়ে ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৩৩ হাজার ২১৫ টাকা বেশি সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। যার বৈধ কোনো ও গ্রহণযোগ্য উৎস তিনি প্রদর্শন করেননি। এ ছাড়াও লাবু’র নিজ নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ১২টি এবং তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লাম টান্সপোর্টের ২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৩০৬ কোটি ৬৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব কর্মকাণ্ডে লাবু’র স্ত্রী সাবেক এমপি জান্নাত আরা হেনরী তাকে সহযোগিতা করেছেন। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা মোতাবেক এই দুইজনকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
অপর মামলার বাদী আসিফ আল মাহমুদ এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের করবর্ষে জান্নাত আরা হেনরীর আয়কর নথি ও অন্যান্য রেকর্ড পর্যালোচনা করে স্থাবর ও অস্থাবর বৈধ সম্পদের হিসাবে চেয়ে ৫৭ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ২২৩ টাকা বেশি সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। যার কোনো বৈধ উৎস ও গ্রহণযোগ্য তথ্য প্রদর্শন করতে পারেননি তিনি। এ ছাড়াও নিজের ৩৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ড এবং তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাম এন্টারপ্রাইজের ৯টি এবং তার ৩টি কোম্পানির অ্যাকাউন্ডের মাধ্যমে ২০০২ কোটি ৬৬ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭৭ টাকা এবং ১৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪৬ মার্কিন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এ কারণে হেনরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০১ এর ২৭ (১) ও ১৯৪৭ এর ৫ (২) এবং মানিলন্ডারিং আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা মোতাবেক মামলা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি জান্নাত আরা হেনরী ও তার স্বামী সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান শামীম তালুকদার লাবু সরকার পতনের পর গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত যুবদল ও ছাত্রদলের ৩ নেতাকর্মী হত্যাসহ আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক :
মালয়েশিয়ায় ই-পাসপোর্ট সেবার উদ্বোধন আজ ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার করা হয়েছে। দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের সাউথগেটে অবস্থিত কমার্শিয়াল সেন্টারের আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের অফিসে এই সেবা উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী। তার কাছ থেকে ১ জন নবজাতক ও ২ জন তরুণ বাংলাদেশির আবেদন স্লিপ নেওয়ার মাধ্যমে এই সেবার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে ২০২০ সালে প্রথম ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হয়। এ পাসপোর্টে রয়েছে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা কোড। এখন পর্যন্ত এক কোটি ৩০ লাখ ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ায় ই-পাসপোর্ট চালু করা হলো।’
তিনি আরো বলেন, ‘এর মাধ্যমে মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবার মান বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর ন্যায় স্মার্ট ও দ্রুততর হবে। এক্ষেত্রে পাসপোর্ট সেবায় গুনগত পরিবর্তন আসবে। এ পাসপোর্টের মাধ্যমে উন্নত দেশের নাগরিকদের মতো বাংলাদেশিরাও শিগগিরই নিজে স্ক্যান করে অভিবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ হওয়ার পথে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন। সংখ্যার বিচারে যা সৌদি আরবের পর বিশ্বে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কমিউনিটি। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ই-পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা হাইকমিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে ক্রমান্বয়ে দাবি জানিয়ে এসেছেন। যা বাস্তবে এখানে একটি বড় দাবিতে পরিণত হয়েছিল।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ই-পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহম্মদ নুরুস ছালাম, ডেপুটি হাইকমিশনার খোরশেদ আলম খাস্তগীর ও ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর লেফটেনেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ।