চলারপথে রিপোর্ট :
মজবুত হলে পুষ্টির ভিত, স্মার্ট বাংলাদেশ হবে নিশ্চিত’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ ৭ জুন বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সভা কক্ষে উদ্বোধন অনুষ্ঠানো উদ্বোধন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সপ্তাহ ব্যাপি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা।
উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. হিমেল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন সফিক আলেয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানা বেগম, একাডেমি সুপার ভাইজার মোঃ কফিলউদ্দিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ লুৎফর রহমান। পুষ্টি সপ্তাহ পালনের কার্যবিবরনী তুলে ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. হিমেল খান বলেন পুষ্টি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি সম্পর্কে অবহিত করন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
তৃতীয় দিন শুক্রবার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পুষ্টির বার্তা পৌঁছে দিবো। চতুর্থ দিনে হাসপাতালে আগত গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে মা সমাবেশ। পঞ্চম দিনে হাসপাতালের শিশু কর্ণারে শিশুদের নিয়ে শিশু পুষ্টির আলোচনা। ষষ্ঠ দিনে প্রবীন পুষ্টি, এই দিনে হাসপাতালের আগত প্রবিনদের প্রাথমীক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হবে। সপ্তম দিনে বিভিন্ন স্কুলে আয়োজিত প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণ। এভাবেই একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পুষ্টির যে চাহিদা তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবারের পুষ্টি সপ্তাহে পরিকল্পনা রয়েছে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. লুৎফর রহমান, ডা. ইকরাম চৌধুরী, সেনেটারি ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বাবু, জুটন বনিক, জালাল হোসেন মামুন, মো. অমিত হাসান আবির, হাসান মাহমুদ পারভেজ, রুবেল আহমেদ আশিষ সাহা প্রমুখ।
চলারপথে রিপোর্ট :
আখাউড়ায় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এঁর ৯৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ ৮ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পুষ্প স্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবনী নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অংগ্যজাই মারমার সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন সফিক আলেয়া, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হিমেল খান, পৌর কাউন্সিলর মোঃ বাবুল মিয়া প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬ জন দুঃস্থ ও অসহায় মহিলাকে আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেসিন বিতরণ করা হয়।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তী, উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবু ইউসুফ নুরুল্লাহ, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শিপ্রা নাথ, সমবায় কর্মকর্তা দুবরাজ রবি দাস, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ লুৎফুর রহমান।
উল্লেখ্য, মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল রেনু। তার পিতার নাম শেখ জহুরুল হক ও মাতার নাম হোসনে আরা বেগম।
চলারপথে রিপোর্ট :
অবসরের বিষণ্নতা কাটিয়ে ৪০ বছরের কর্মজীবন শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন আখাউড়া থানার পুলিশ সদস্য মো. মুজিবুল আলম ভূঁইয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই সংবর্ধনা দিলেন আখাউড়া থানার ওসি নূরে আলম।
৩ জানুয়ারি বুধবার সকালে থানা চত্বরে পুলিশ কনস্টেবল মুজিবুল আলম ভূঁইয়ার জন্য এই বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেন। পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়।
এ সময় আখাউড়া থানার ওসির গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজিয়ে কর্মস্থল থেকে তার নিজ বাস ভবন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এর আগে সহকর্মীরা ভালোবাসার সঙ্গে বিদায় দেন এই পুলিশ সদস্যকে। এ সময় এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ওসির এমন আয়োজনে খুশিতে আÍহারা পুলিশ কনস্টেবল মুজিবুল আলম ভূঁইয়া। এ আয়োজনে কর্মজীবনের শেষে এক সুখস্মৃতি দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
বিদায়ি অশ্রুসিক্ত পুলিশ কনস্টেবল মুজিবুল আলম ভূঁইয়া জানান, চাকরি জীবনে আমি কখনো দায়িত্বে অবহেলা করিনি। এতোদিন দেখে আসছি বড় বড় পুলিশ কর্মকর্তাদের ঢাকঢোল পিটিয়ে বিদায় দেওয়া হয়। কিন্তু একজন সাধারণ পুলিশ সদস্যকে এভাবে বিদায় জানাবে কল্পনাও করিনি। আমি ধন্য, আমি কৃতজ্ঞ।
চলারপথে রিপোর্ট :
বিশ্বকর্মাপূজা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ২ দিন বন্ধ থাকবে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। তবে বন্ধের সময় স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বিশ্বকর্মাপূজা উপলক্ষে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর দুইদিন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন। পূজার ছুটি শেষে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে যথারীতি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলবে।
উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম বৃহৎ ও রপ্তানিমুখী আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয় উত্তরপূর্ব ভারতে। রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছ, প্লাস্টিক, রড, সিমেন্ট ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ইত্যাদি।
চলারপথে রিপোর্ট :
৬ ডিসেম্বর আখাউড়াবাসীর জন্য স্মরণীয় দিন। ১৭৭১ সালের এই দিনে আখাউড়া এলাকার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে এই এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালের ২৩ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনী আখাউড়া উপজেলার গঙ্গাসাগরে গণহত্যা চালায়। ওই দিন একই গ্রামের ২৭ জনসহ ৩৩ জনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে হানাদাররা। ১৮ এপ্রিল আখাউড়া রণাঙ্গনে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামাল।
১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর উপজেলার আজমপুর ও রাজাপুর এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়। ৩ ডিসেম্বর হওয়া যুদ্ধে দখলদার বাহিনীর ১১ সেনা নিহত ও মুক্তিবাহিনীর ২ জন শহীদ হন। ৪ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী মিলে আখাউড়া আক্রমণ করে। ওই দিন আজমপুরে শহীদ হন লেফটেন্যান্ট ইবনে ফজল বদিউজ্জামান।
৫ ডিসেম্বর সারা দিন ও রাত যুদ্ধের পর ৬ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় আখাউড়া।
চলারপথে রিপোর্ট :
সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, আখাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজলসহ চারজনের নামে মামলা হয়েছে। ২০১৮ সালে হওয়া আমীর খা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আখাউড়া) আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার উপজেলার চানপুর গ্রামের আমীর খার স্ত্রী লাকী বেগম বাদী হয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য দু’জন আসামী হলেন আখাউড়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন তরফদার ও এস. আই আব্দুল হালিম। আদালত এক আদেশে এ সংক্রান্ত কোনো মামলা থানায় আছে কিনা এর নথি তলব করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, তাকজিল খলিফা কাজল চানপুর এলাকার তার মালিকাধীন একটি বাড়িতে প্রায়ই অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতেন। এ ঘটনায় বাঁধা দেন আমীর খা। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন। ২০১৮ সালের ২১ মে আনিসুল হক ও তাকজিল খলিফার নির্দেশে দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসে আমীর খানকে নিয়ে যান। ২৫ মে উপজেলার বনগজ এলাকায় আমীর খার লাশ পাওয়া যায়। দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি করে এ হত্যাকান্ড ঘটায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।