অনলাইন ডেস্ক :
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে ৯ বছর বয়সী এক ছেলেকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। ছেলেটির বাবা একটি গাড়ি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ গুলি চালালে ছেলেটি মারা যায়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
শুশতার কাউন্টির পুলিশ প্রধান রুহুল্লাহ বিগডেলি পুলিশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানান, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ‘চুরি যাওয়া গাড়িটিকে গুলি করে’ থামানোর চেষ্টা করেছিলেন।
এতে ঘটনাস্থলেই ছেলেটির মৃত্যু হয়।
পুলিশ দাবি করছে, তারা গুলি শুরু করার আগে লোকটিকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছিল। গাড়ি চুরি এবং মাদক চোরাচালানসহ ওই ব্যক্তির অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ দাবি করেছে, তারা একটি গাড়ি চুরি সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছিল, যা এই পরিবারের গাড়ির সঙ্গে মিলে যায়।
কর্মকর্তাদের সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা গুলি শুরু করার আগে লোকটিকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছিল। কিন্তু চালক তা না মেনে দ্রুত চলে যান। ফলে পুলিশ গুলি চালায়।
ইরানি নিউজ ওয়েবসাইট জামারান ছেলেটিকে ৯ বছর বয়সী মোর্তেজা দেলফ জারেগানি বলে শনাক্ত করেছে। তারা ওই ছেলের বাবার সঙ্গেও কথা বলেছে। গুলি করার আগে পুলিশ তাকে সতর্ক করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
মোর্তেজার বাবা বলেছেন, পুলিশ কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই এবং গাড়ি চুরির মিথ্যা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুশতার শহরে তাদের গাড়িতে গুলি চালানো শুরু করে।
মোর্তেজার চাচার মতে, তারা তাদের পেছনে পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে থামতে চেয়েছিল, কিন্তু কোনো সতর্কতা ছাড়াই পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মোর্তেজা মারা যায়।
এদিকে মোর্তেজার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। লোকেরা তার মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
মোর্তেজার ঘটনাটি কিয়ান পিরফালাকের কথাও মনে করিয়ে দেয়। নভেম্বরে ৯ বছর বয়সী কিয়ান পিরফালাক গুলিতে নিহত হয়েছিল। তার মা ওই ঘটনার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করেছিলেন। দেশটির নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যু হয়েছিল। এরপর দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালীন খুজেস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইজেহ শহরের একটি রাস্তায় পিরফালাককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সে ওই রাস্তা দিয়ে তার মা-বাবার সঙ্গে যাচ্ছিল।
সূত্র : দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ইরান ইন্টারন্যাশনাল
চলারপথে রিপোর্ট :
বগুড়ায় শিশু অধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইয়েস বাংলাদেশের আয়োজনে আজ ১৩ জুন মঙ্গলবার সকালে শহরের মফিজ পাগলা মোড়ের রোচাস্ রেস্টুরেন্ট অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অপরাজেয় বাংলাদেশ ও প্লান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ওয়াই মুভস্ প্রকল্পের মাধ্যমে আয়োজিত ডায়লগ সেশনে জেলা পর্যায়ে শিশু অধিকার বাস্তবায়নে গণমাধ্যমকর্মীরা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে তৃণমূলে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগে ভূমিকা রাখা প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের ২০ জন সাংবাদিক।
ইয়েস বাংলাদেশের মিডিয়া উইংসের সদস্য সাংবাদিক সঞ্জু রায়ের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার মিলন রহমান, দৈনিক ইনকিলাবের বগুড়া ব্যুরো প্রধান মহসিন আলী রাজু, বণিক বার্তার জেলা প্রতিনিধি এইচ আলিম, যমুনা টেলিভিশনের বগুড়া ব্যুরো প্রধান মেহেরুল সুজন, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি খোরশেদ আলম, একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান আলী বাবু, দৈনিক বাংলার জেলা প্রতিনিধি আসাফ-উদ-দৌলা নিওন, সময় টিভির জ্যেষ্ঠ চিত্র সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, ফটো সাংবাদিক মামুনুর রশিদ প্রমুখ।
সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্যে জেলা পর্যায়ে শিশু অধিকার পরিস্থিতির নানা চিত্র তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, একটি জেলায় বছরে কী সংখ্যক শিশু বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে, স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে, কোভিড-১৯ এর পর কতজন শিশু নতুন করে শ্রমের সাথে জড়িয়ে পড়েছে কিংবা তাদের পুনর্বাসনে সরকারি দপ্তরগুলো কি কি ভূমিকা রেখেছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান দপ্তরগুলোতে সহজে পাওয়া যায় না। তথ্যগুলোর সহজীকরণ করতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশু অধিকার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত নানা কমিটি থাকলেও সেগুলোর কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। যে কারণে শিশুরা তাদের অংশগ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন তৈরিতে জোর দিতে বলেন তারা।
এছাড়াও সভায় হাসপাতালগুলোতে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আরো কাজ করতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন সাংবাদিকরা।
চলারপথে রিপোর্ট :
ট্রাক চাপায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মো. দুলাল (৩৫) নামে সিএনজি অটোরিক্সার এক যাত্রী নিহত ও চারজন যাত্রী আহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আজ ৫ ডিসেম্বর সোমবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল এলাকায়। নিহত দুলাল ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়ার ইদ্রিস আলীর ছেলে। আহতরা হলেন, ধোবাউড়ার রুবেল মিয়া (৪০), কুমিল্লা দেবিদ্বারের শরীফ (২৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের রীনা (৪৫) ও তার ছেলে ইমরান (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কাউতলীমুখী একটি সিএনজি অটোরিকশা রামরাইল এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কুমিল্লাগামী একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ চারজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুলালকে মৃত ঘোষণা করে এবং আহতদের মধ্যে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করে।
খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্ঘটনায় নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
অনলাইন ডেস্ক :
পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবেমেরাজ আজ। লাইলাতুন বা শব অর্থ হলো-রাত আর মেরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। শবেমেরাজ বা লাইলাতুল মেরাজের অর্থ দাঁড়ায়-ঊর্ধ্বগমনের রাত। ব্যাপক অর্থে রাসূল সা:- এর বায়তুল্লাহ শরিফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে উপনীত হয়ে সেখান থেকে সপ্তাকাশ এবং আরশে আজিম পৌঁছে আল্লাহর সাথে কথা বলাকেই মেরাজ বলে। রাসূল সা:-এর ৫২ বছর বয়সে অর্থাৎ নবুয়তের ১২তম সনে রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মেরাজের আশ্চর্যতম ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
শবেমেরাজ আল্লাহর অসীম কুদরত। মেরাজের ঘটনা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা বনি ইসরাইলের ১ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেন-‘মহামহিম পরম পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতেরবেলা ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। যাতে আমি তাকে দেখিয়ে দেই, এর চারপাশের নিদর্শনগুলো, যা বরকতময়। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।’
হাদিস সূত্রে জানা যায়, রজব মাসের ২৬ তারিখ রাতে রাসূল সা: এশার নামাজ শেষে হজরত উম্মে হানি রা:-এর ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এ সময় হজরত জিবরাইল আ: আল্লাহ তায়ালার হুকুমে জান্নাত থেকে বোরাক নামের একটি সাওয়ারি আর অসংখ্য ফেরেশতা নিয়ে রাসূল সা:-এর কাছে হাজির হয়ে সালাম দিয়ে বললেন, হুজুর! আপনার প্রতিপালক আপনাকে স্মরণ করেছেন, এ মুহূর্তেই আপনাকে সেখানে যেতে হবে। মুহাম্মদ সা: প্রস্তুত হলে জিবরাইল আ: রাসূল সা:-কে নিয়ে কাবা শরিফের হাতিমে যান। জমজমের পানিতে অজুর পর বোরাক নামক বাহনে জেরুসালেমের বায়তুল মুকাদ্দাসে গিয়ে নামাজ আদায় করেন। সেখান থেকে প্রথম আকাশে পৌঁছান মহানবী সা:। সেখানে হজরত আদম আ:-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এভাবে সাত আকাশ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সাক্ষাৎ করেন হজরত ঈসা আ:, হজরত ইয়াহইয়া আ:, হজরত ইদ্রিস আ:, হজরত হারুন আ:, হজরত মুসা আ: এবং হজরত ইবরাহিম আ:-এর সাথে। সপ্তম আকাশ থেকে হজরত মুহাম্মদ সা:-কে বায়তুল মামুর পরিদর্শনে নেয়া হয়, যেখানে প্রতিদিন (সকাল-সন্ধ্যায়) ৭০ হাজার ফেরেশতা তাওয়াফ করেন ও প্রস্থান করেন; তাঁরা দ্বিতীয়বার আর সেখানে আসার সুযোগ পান না। এরপর তিনি সিদরাতুল মুনতাহার কাছে যান। সেখান থেকে রফরফ নামক বিশেষ বাহনে আরশে আজিম যান। এক ধনুক দূরত্ব থেকে আল্লাহর সাথে কথোপকথন হয়। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন, তাদের মধ্যে ধনুকের দুই মাথার ব্যবধান রইল অথবা আরো নিকটে। তখন আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি প্রত্যাদেশ করলেন যা করার ছিল।
হাদিসের বর্ণনা মতে, শবেমেরাজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয় মহানবী সা:-এর উম্মতদের জন্য। এছাড়া দেখেছেন অনেক নিদর্শন। দেখেছেন জান্নাতের নেয়ামত ও জাহান্নামের শাস্তি। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় উঠে আসা কয়েকটি শাস্তির বিবরণ তুলে ধরা হলো- বেনামাজির শাস্তি: বড় পাথর দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হচ্ছে, আঘাতে মাথা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে, আবার ভালো হয়ে যাচ্ছে, আবার আঘাত করা হচ্ছে। জাকাত না দেয়ার শাস্তি : তাদের সামনে ও পেছনে পাওনাদারেরা থাকবে। তারা পশুর মতো চরবে আর নোংরা আবর্জনা ময়লা ও পুঁজ এবং কাঁটাযুক্ত আঠালো বিষাক্ত ফল খাবে, জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর ভক্ষণ করবে। চোগলখোরের শাস্তি : তাদের পার্শ্বদেশ হতে গোশত কেটে তাদের খাওয়ানো হচ্ছে; আর বলা হচ্ছে, যেভাবে তোমার ভাইয়ের গোশত খেতে, সেভাবে এটা ভক্ষণ করো।
গিবতকারীদের শাস্তি: তাদের অগ্নিময় লোহার নখর দিয়ে তারা তাদের চেহারা ও বক্ষ বিদীর্ণ করছে। এসব দেখে রাসূল সা: বললেন, হে জিবরাইল আলাইহিস সালাম! এরা কারা? তিনি (জিবরাইল) বললেন, এরা হলো সেসব লোক যারা পশ্চাতে মানুষের গোশত খেত (আড়ালে সমালোচনা করত)। সুদখোরের শাস্তি: সুদখোরদের বড় বড় পেট, যার কারণে তারা তাদের অবস্থান থেকে নড়াচড়া করতে পারছে না। তাদের সাথে রয়েছে ফেরাউন সম্প্রদায়, তাদেরকে অগ্নিতে প্রবিষ্ট করানো হচ্ছে। ব্যভিচারী নারী ও পুরুষের শাস্তি: জেনাকার বদকার নারী, যারা ব্যভিচার করেছে এবং ভ্রƒণ ও সন্তান হত্যা করেছে, তাদের পায়ে আংটা লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে; তারা আর্তচিৎকার করছে। এক সম্প্রদায় তাদের সামনে একটি উত্তম পাত্রে উপাদেয় তাজা ভুনা গোশত এবং অন্য নোংরা একটি পাত্রে পচা মাংস। তারা উত্তম পাত্রের উন্নত তাজা সুস্বাদু গোশত রেখে নোংরা পাত্রের পচা মাংস ভক্ষণ করছে। রাসূল সা: বললেন, হে জিবরাইল! আ: এরা কারা? তিনি বললেন, এরা হলো ওই সব পুরুষ যারা স্বীয় বৈধ স্ত্রী রেখে অন্য নারীর কাছে গমন করেছে এবং ওই সব নারী যারা স্বীয় বৈধ স্বামী রেখে পরপুরুষগামিনী হয়েছে।
মেরাজ শেষে পৃথিবীতে ফিরে রাসূল সা: পুরো ঘটনা হজরত আবু বকর রা:-এর কাছে বর্ণনা করেন। তিনি নিঃসংশয়ে তা বিশ্বাস করেন। রাসূল সা: তাকে সিদ্দিক বা বিশ্বাসী খেতাব দেন। মক্কার কাফেররা রাসূলের মেরাজের ঘটনাকে অবিশ্বাস করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন : শবেমেরাজ উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ বাদ জোহর ‘পবিত্র শবেমেরাজ’র ‘গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মহা: বশিরুল আলম। আলোচনা করবেন মিরপুরের জামিয়াহ মোহাম্মাদিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মুফতি খালেদ সাইফুল্লাহ। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিলের সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। আজ ২০ জুলাই বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই আদেশ প্রকাশ করা হয়। এর আগে বুধবার শিক্ষামন্ত্রী এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন।
এদিকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিলের এই আদেশ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারি তরফে ছুটি বাতিলের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে শিখনঘাটতি পূরণের যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু শিক্ষক-অভিভাবকরা বলছেন, ছুটি শুরুর আগের দিন এভাবে ঘোষণা দেওয়া হঠকারিতা এবং স্বেচ্ছাচারিতার শামিল। বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে। তাছাড়া দাবদাহের বিচারে শিক্ষার্থী তথা জনস্বাস্থ্যের দিক মাথায় রেখেই এই ছুটি দেওয়া হয়েছে। তাই এর মাধ্যমে মূল শিক্ষক-অভিভাবক নয়, শিক্ষার্থীদেরকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ছুটি বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে স্বাক্ষর করেন উপসচিব সাইদুর রহমান খান। এতে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে ইতিপূর্বে ঘোষিত ২০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক/দাখিল, উচ্চ মাধ্যমিক/আলিম এবং কারিগরি/সমমান পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করা হলো।
আরো উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার হিজরি নববর্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ২৩ জুলাই রবিবার থেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম যথারীতি চালু থাকবে। বাতিলকৃত গ্রীষ্মকালীন ছুটি আগামী শীতকালীন ছুটির সাথে সমন্বয় করা হবে। এতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠদান ও মূল্যায়নসহ অন্যান্য শ্রেণির পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এদিকে বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে তারা স্তম্ভিত।
তারা সংশ্লিষ্টদের কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই মহামারীর আকার ধারণ করেছে। এমন সময়ে যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা প্রয়োজন সেখানে প্রাপ্য ছুটি থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে।
অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ছুটি বাতিল করা যেতে পারে। কিন্তু সরকারকে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, শিক্ষকদের একটি অংশ ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে আছেন। বাকিদের মধ্যে অনেকেই ক্লাস ফাঁকি দেন।
এ প্রসঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের নেতা শেখ মো. কাওছার বলেন, গ্রীষ্মের ছুটি বাতিল করায় কেবল শিক্ষকরা নন অভিভাবকরাও ক্ষুব্ধ। এই ছুটি বাতিল করা হয়েছে আসলে আন্দোলন থেকে শিক্ষকদের সরাতে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, গ্রীষ্মের ছুটি কিভাবে শীতকালে দিতে পারে। এটা একটা অপকৌশল।
চলারপথে রিপোর্ট :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মামলার অপর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে সব আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে দুই বছর করে স্বশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ ৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা জজ) ফাতেমা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. রুহুল আমিন, মো. হাসান আলী বুলু, মো. সোহেল, স্বপন, ইব্রাহীম খলিল, আবুল হোসেন আবু, মো. সালাউদ্দিন, মো. জসীম উদ্দিন, মো. মুরাদ ও মো. জামাল।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মো. হানিফ, মো. চৌধুরী, মো. বাদশা আলম ওরফে কুড়াইলা বাসু, মোশারফ, মো. মিন্টু ওরফে হেলাল (পলাতক) ও মো. সোহেল।
এর আগে, গত ১৬ জানুয়ারি মামলাটির রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু মামলার রায় লেখার কাজ শেষ না হওয়ায় রায়ের তারিখ পিছিয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. সামছুদ্দিন জানান, গত ২৯ নভেম্বর অধিকতর যুক্তিতর্ক শেষে ১৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু রায় লেখার কাজ শেষ না হওয়ায় সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি। একই দিন (১৬ জানুয়ারি) রায় ঘোষণার পরবর্তী তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে এক নারীকে (৪০) মারধর ও দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের শিকার নারী চার সন্তানের জননী। নির্যাতিত নারীর অভিযোগ ছিল, ভোটকেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের পছন্দের প্রতীকে ভোট না দেওয়ার জের ধরে তাকে মারধর ও ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনাটি তখন দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। ঘটনার পরদিন (৩১ ডিসেম্বর) নির্যাতনের শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে চরজব্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্ত শেষে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিন মেম্বারসহ ১৬ জনের নামে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী কৌঁসুলী ছালেহ আহমদ সোহেল খান জানান, আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ২৩ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে। মামলায় রুহুল আমিন মেম্বারসহ ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মো. মিন্টু হেলাল (২৮) নামে এক আসামি ঘটনার পর থেকে পলাতক। কারাগারে থাকা ১৫ আসামির মধ্যে আটজন নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার মামলাটির রায় হলো।