অনলাইন ডেস্ক :
কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর ঘরের মাঠে দুটো প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল আর্জেন্টিনা। সেখানে আলবেলিস্তেরা খেলেছে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পানামা এবং কিরাসাওয়ের সাথে। দুটোতেই ছিল জয়। এবার ঘরের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
চীনের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সকারুদের দাঁড়াতেই দেয়নি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মেসির জাদুতে বেইজিংয়ে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা।
আজ ১৫ জুন বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের ওয়ার্কাস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজের পাস থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোলটি করেন বিশ্বজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই গোলটি করেই নতুন একটা রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি। ৩৫ বছরে বয়সে এসে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে মেসির দ্রুততম গোল এটিই, ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। এই নিয়ে জাতীয় দলের হয়ে টানা সাত ম্যাচে জালের দেখা পেলেন লিও। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল হলো ১০৩টি।
প্রথমার্ধে আরো একাধিক সুযোগ পায় লাতিন আমেরিকার দেশটি। তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে সকারুদের জালে আর গোল করতে পারেনি মেসিরা। ৬১ শতাংশ বল প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার দখলে ছিল। ৫টি শট অন টার্গেট নেয় ডি মারিয়ারা। যা থেকে একটি গোলে পরিণত হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে আরো আক্রমণাত্নক খেলতে থাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৬৪ মিনিটে মেসিকে ফাউল করেন অস্ট্রেলিয়ার ডেনিস জেনেরু। ফ্রিকিক পেয়ে বক্সের বাইরে থেকেই শট নেন তিনি। কিন্তু সেটি কর্ণারে রুপ নেয়। কর্ণার থেকে ডি পল ও মেসি নিজেদের মধ্যে পাস করেন। একসময় ডি বল ডিবক্সের দিকে উঁচু করে ক্রস দেন। সেই ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন বদলী নামা জার্মান পেজেলা। তার গোলে ২-০ তে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এরপর আরো বেশ কিছু আক্রমণ করে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল না হলে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এর আগে কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ ছিল সকারুদের। তবে মেসি-পেজেলাদের নৈপুন্যে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল অস্ট্রেলিয়ার।
অনলাইন ডেস্ক :
কোটিপতি লিগ হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটে জনপ্রিয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। ফ্র্যাঞ্চাইজি এ টুর্নামেন্টে বিশ্বের তারকা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ।
ক্রিকেট খেলুড়ে দলগুলো তাদের তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তি সই করে থাকে। সেই চুক্তির মতোই এবার বিশ্বের তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তিসই করতে যাচ্ছে আইপিলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা। এ চুক্তি কার্যকর হলে ক্রিকেটাররা বিভিন্ন দেশের লিগেও খেলার সুযোগ পাবেন।
আইপিএলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলে ক্রিকেটাররা নিজ দেশের জাতীয় দলে খেলতে গেলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অনুমতি নিতে হবে।
কারণ সেরা ক্রিকেটারদের ধরে রাখতে বার্ষিক চুক্তির দিকে এগোচ্ছেন আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা।
ইংল্যান্ডের একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, জোফরা আর্চার হতে পারেন এ ধরনের প্রথম ক্রিকেটার। যিনি দেশের আগে পাকাপাকিভাবে বেছে নিতে পারেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাকে ধরে রাখার জন্য বার্ষিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। আর্চার প্রস্তাব মেনে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাকে ইংল্যান্ড দলে রাখতে হলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে।
চোটের জন্য গত বছর আইপিএল খেলতে পারেননি আর্চার। এবারো কনুইয়ের চোটের জন্য প্রতিযোগিতার মাঝপথে দেশে ফিরে গেছেন। গত বছর নিলামে আর্চারকে ৮ কোটি টাকা দিয়ে কিনেও সেই অর্থে লাভ হয়নি মুম্বাইয়ের।
আগামী দিনে যাতে এমন সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই আর্চারের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তির ভাবনা মুম্বাই কর্তৃপক্ষের। তাহলে আর্চার বছরে কতগুলো ম্যাচ দেশের হয়ে খেলবেন, কোন কোন সিরিজে খেলবেন- এসব কিছুই নির্ধারণ করবে মুম্বাই। ফ্র্যাঞ্চাইজির অনুমতি না নিয়ে তাকে খেলাতে পারবে না ইংল্যান্ড।
আর্চার মুম্বাইয়ের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তিতে থাকলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে পারবেন।
ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমটির দাবি, শুধু আর্চার নন ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার রয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজির নজরে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন অ্যালেক্স হেলস। ২০২২ সালের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে কিনলেও আইপিএল থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। তার সঙ্গেও বার্ষিক চুক্তি করতে যাচ্ছে আইপিএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
চলারপথে রিপোর্ট :
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক টি-২০ হুইল চেয়ার ক্রিকেট সিরিজ খেলতে আগামীকাল শনিবার ভারতের কলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে ডিডিএফ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল (ড্রীম ফর ডিসএবিলিটি ফাউন্ডেশন হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল) ৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত ভারতের কলকাতার এন কে ডি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই সিরিজ।
এই উপলক্ষে আজ ৫ মে শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এর প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ড্রীম ফর ডিসএবিলিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোঃ হেদায়েতুল আজিজ মুন্না জানান, আগামী ৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত ভারতের কলকাতার এন কে ডি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক টি-২০ হুইল চেয়ার ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভারতীয় হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশের ডিডিএফ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল (ড্রীম ফর ডিসএবিলিটি ফাউন্ডেশন হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল)। তিনি জানান, গত ২০১৯ সালে ও ভারতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ট্রাই নেশন হুইল চেয়ার ক্রিকেট সিরিজে ভারত ও নেপালকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো ডিডিএফ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি বিগত বছরের মতো এবারো ভারতের মাটিতে লাল-সবুজের বিজয় নিশান উড়াবো। তিনি জানান, সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আমরা পরিবর্তন করতে চাই। আমরা প্রতিবন্ধীরাও পারি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে হুইল চেয়ার ক্রিকেট টিমের উপদেষ্টা, কোচ, অধিনায়কসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। মুন্না বলেন, ২৫ সদস্যের হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলটি শনিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ভারতে যাবে। সিরিজকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়ামে গত কয়েক দিন তারা অনুশীলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লাসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকগণ ও ডিডিএফ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলের উপদেষ্টাগন উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক :
সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। তবে ব্যক্তিগতভাবে নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন দলটির তারকা অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। এবার ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে তিনি একটি বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। রাজা টানা পাঁচ ম্যাচে খেলেছেন অর্ধশত রানের বেশি ইনিংস। কেবল ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও সমান উজ্জ্বল ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা।
আজ ১৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। গত রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে সফরকারী জিম্বাবুয়েকে ৩ উইকেটে হারিয়েছিল লঙ্কানরা। ওই হারের ম্যাচেই জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক রাজা বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। ম্যাচটিতে তিনি খেলেছেন ৪২ বলে ৬২ রানের ইনিংস। পাশাপাশি মাত্র ১৩ রানেই শিকার করেছেন ৩ উইকেট। তবে তার এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সও দলের হার ঠেকাতে পারেনি।
এর আগে খেলা চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও ফিফটি পেয়েছিলেন রাজা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে রুয়ান্ডার বিপক্ষে তিনি প্রথম ফিফটি হাঁকান। ৩৬ বলে ৫৮ রানের পাশাপাশি ৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। পরের ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৩৭ বলে ৬৫ রান এবং ১৩ রানে ২ উইকেট নেন। তৃতীয় ম্যাচে কেনিয়ার বিপক্ষে ৪৮ বলে ৮২ রান এবং ২১ রানে শিকার করেছেন ২ উইকেট। চতুর্থ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বলে ৬৫ রান এবং ২৮ রানে ৩ উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেন।
এর আগে সর্বোচ্চ টানা চার টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি হাঁকানোর রেকর্ড ছিল নিউজিল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের টানা চার ম্যাচে রানের পরিসংখ্যান ছিল এরকম— ৫৯ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ৬১ (অস্ট্রেলিয়া), ৫৬* (ভারত) ও ৬৯* (ভারত)। এভাবে সমান চারটি করে টানা ফিফটি হাঁকানোর রেকর্ড আছে আরও পাঁচ ক্রিকেটারের। তারা হচ্ছেন— উইন্ডিজ কিংবদন্তি ক্রিস গেইল, নামিবিয়ার ক্রেইগ উইলিয়ামস, কানাডার রায়ান পাঠান, ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাককন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রেজা হেনড্রিক্সের। পাঁচটি অর্ধশতরান করে সবার ওপরে ওঠে গেলেন রাজা।
গত প্রায় দুই বছর ধরেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অসাধারণ পারফর্ম করছেন রাজা। কিন্তু জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের জন্য এই সময়টা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দেশের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব দুর্দান্ত শুরু করেও শেষ সময়ে পথ হারিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি তারা। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইয়ে আফ্রিকান অঞ্চলে নামিবিয়া ও উগান্ডার কাছে হেরে ছিটকে পড়ে তারা।
চলারপথে রিপোর্ট :
শেরপুরে প্রতিবছর বারুনী মেলা শেষে ‘বউ মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের গাড়ীদহ নামক স্থানে করতোয়া নদীর পশ্চিম কোল ঘেঁষে এই মেলা বসে। মেলায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই নারী। কোনো পুরুষ আসতে পারে না। তাই বিভিন্ন বয়সী নারীরা প্রাণভরে মেলায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিনেছেন প্রসাধনীসহ নানা পণ্য সামগ্রী। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই মেলা। বিগত কয়েক যুগ ধরে এই অঞ্চলের নারীদের জন্য মেলাটির আয়োজন হয়ে আসছে।
জানা যায়, প্রতি বছর বিশাল মাঠজুড়ে মেলা বসে। মেলায় স্থান পেয়েছে বিভিন্ন ধরনের দোকান। এক পাশে চলছে হুন্ডা ও নাগরদোলা খেলা। নারীরা দলবেঁধে আবার এলোমেলোভাবে দোকানে দোকানে ঘুরছেন। জিনিসপত্র পছন্দ করছেন। দরদাম করে পছন্দের জিনিসটি কিনছেন। আবার অনেকেই ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নানা ধরনের ভাজিপুরি দোকানে যান। সন্তানদের আবদার পুরনে সেগুলো দোকানে বসে বা পাশে দাঁড়িয়ে অনেককে খেতেও দেখা যায়।
এলাকার নিমাই চন্দ্রের স্ত্রী কল্পনা ঘোষ জানান মেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের খেলনা, কসমেটিকস, হাত পাখা, কাঠের সামগ্রী, মিষ্টান্ন সামগ্রী কিনেছেন। ছেলে-মেয়েকে হুন্ডা খেলা দেখিয়েছেন। নাগরদোলায় চড়ে ওরা ব্যাপক আনন্দ করেছে।
মেলায় আসা সালমা আকতার জানান, বাড়ির কাছে মেলা হওয়ায় সকালে একদফা এসেছিলাম। বিকেলেও আরেকদফা মেলায় এসেছি। অনেক কিছু খেয়েছি। মেলা থেকে কিছু সাংসারিক জিনিসপত্র কেনা হয়েছে। পাশাপাশি সন্তানদের জন্য নানা ধরনের খেলনা কিনেছি। বাদ যায়নি মিষ্টি কেনা। বউ মেলাটি ভীষণ আনন্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য আনিছুর রহমান জানান, প্রত্যেক বছর চৈত্রের বারুনী তিথির দ্বিতীয়দিনে এখানে বউ মেলার আয়োজন করা হয়। তবে এবার তিথি অনুযায়ী মেলা হয়নি। রোজার কারণে সেটি করা সম্ভব হয়নি। তাই রোজার ঈদের পরপরই বৈশাখে মাসে এসে ঐতিহ্যবাহী মেলাটি হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বউ মেলায় এসে বিভিন্ন বয়সী নারীরা এসে নানা ধরনের জিনিসপত্র কিনেছেন। এছাড়া এবার মেলা জাকজমকভাবে হওয়ায় সময়সীমা আরও দুই-একদিন বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হিন্দু শাস্ত্রমতে, বারুনী তিথিতে এককালের প্রমত্তাখ্যাত করতোয়া নদীতে স্নানোৎসব করা হতো। এই তিথিতে এখানে স্নান করলে অতীত জীবনের সব পাপ মোচন করে দেন ইশ্বর। ইশ্বরের অপার কৃপা লাভ করা যায়। তাই উপজেলার গাড়ীদহ এলাকায় বহমান করতোয়া নদীতে স্নানোৎসবের আয়োজন করা হতো। যুগ যুগ ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবকে ঘিরে মেলাটি হয়ে আসছে। সেই থেকে এই মেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও সমানভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। মেলা ঘিরে এই অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। স্বজনদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো গাড়ীদগ গ্রাম ও আশেপাশের এলাকা।
এলাবার প্রবীণ ব্যক্তি আজমল হোসেন জানান, কবে থেকে এখানে স্নানোৎসব ও মেলা হয়ে আসছে তা সঠিক করে বলা মুশকিল। তবে অনুষ্ঠানটি যে শতবর্ষী তা ধারণা করা হয়। আর এখানে কয়েক যুগ ধরে বউমেলা হয়ে আসছে বলেও জানান তারা।
ডেস্ক :
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দল। সেই জয় যে অঘটন ছিল না, বাংলাদেশের মেয়েরা সেটি দেখিয়ে দিলো পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে।
বেনোনিতে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে আজ ১৬ জানুয়ারি সোমবার শ্রীলঙ্কাকে ৯ রানে হারিয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেয়েরা। টানা দুই জয়ে বিশ্বকাপের সুপার সিক্স প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের।
ম্যাচে টসভাগ্য সহায় ছিল না বাংলাদেশের মেয়েদের। প্রথমে তাদের ব্যাটিংয়ে পাঠায় শ্রীলঙ্কা। তবে টস হারলেও ব্যাটিংটা দারুণ করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ২ উইকেটেই গড়ে ১৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ।
মিষ্টি সাহাকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৭৫ রান তোলেন আফিয়া প্রত্যাশা। ৪৩ বলে ৫ চার আর ৩ ছক্কায় তিনি দুর্দান্ত এক হাফসেঞ্চুরি তুলে ১২তম ওভারে আউট হন ৫৩ করে।
মিস্টি অবশ্য তার মতো খেলতে পারেননি। ২৪ বলে ১৪ রানের ধীরগতির এক ইনিংস খেলে ওই ওভারেই সাজঘরে ফেরেন। কিছুটা চাপে পড়ে দল।
সেখানে দাঁড়িয়ে দিলারা আক্তার আর স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিং। উইকেটরক্ষক দিলারা আক্তার ২৭ বলে করেন অপরাজিত ৩৬ রান। হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন স্বর্ণা। ২৮ বলে তার ৫০ রানের মারকুটে ইনিংসে ছিল ৩ চার আর ২ ছক্কার মার।
রান তাড়ায় নামা শ্রীলঙ্কার ২৪ রানেই ২ উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই চাপ সামাল দেন অধিনায়ক বিশ্বি গুনারত্নে আর দেওমি ভিহাঙ্গা। একটা সময় মনে হচ্ছিল, তারা হয়তো বাংলাদেশকে হারিয়েই দেবেন।
১৭তম ওভারে দেওমিকে (৪৪ বলে ৫৫) এলবিডব্লিউ করেন মারুফা আক্তার। একটা প্রান্ত ধরে ছিলেন অধিনায়ক বিশ্বি। তবে শেষরক্ষা করতে পারেননি। ৫৪ বলে ৮ চার আর ১ ছক্কায় ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন লঙ্কান অধিনায়ক। ৪ উইকেটে ১৫৫ রানে থামে লঙ্কানদের ইনিংস।
মারুফা আক্তার ৪ ওভারে ১৯ রানে নেন ২টি উইকেট। দিশা বিশ্বাস এক উইকেটে ৪ ওভারে খরচ করেন ৪৪ রান।