অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার

জাতীয়, 4 July 2023,

অনলাইন ডেস্ক :
সাভারে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভোর রাতে ছিনতাই করার সময় তাদেরকে গ্রেফতার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আজ ৪ জুলাই ভোর রাতে সাভারের শাহীবাগ এলাকায় কিশোর গ্যাং লিডার শান্তসহ বাকিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছিনতাই করার সময় স্থানীয়রা তাদের ধরে সাভার মডেল থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গ্রেফতার করে।

সাভার মডেল থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, গ্রেফতারকৃতদের নামে সাভার মডেল থানায় আগে থেকে কোন মামলা নেই। তবে আশেপাশে যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেগুলা নিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এই কিশোররা জড়িত কিনা। যদি জড়িত থাকে এই মামলায় তাদেরকে শোন এরেস্ট করা হবে। এই ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a Reply

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল হুদার মৃত্যুবার্ষিকী…

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল হুদার মৃত্যুবার্ষিকী Read more

ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২

দুলাল মিয়া : আশুগঞ্জে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল Read more

টিকিট কালোবাজারিদের হামলার প্রতিবাদ ও ব্লেকারমুক্ত…

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারিদের হামলার প্রতিবাদ Read more

বাসি খাবার পরিবেশনের অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জে রেস্টুরেন্টকে…

চলারপথে রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি রেস্টুরেন্টে বাসি খাবার পরিবেশনের Read more

খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সরাইলে…

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির Read more

খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কালিকচ্ছে…

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নে বাংলাদেশ Read more

বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় দোয়া…

চলারপথে রিপোর্ট : বিএনপির চেয়ারর্পাসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস বিতরণ ও গ্রাহক সেবা…

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা ও গ্রাহক সেবা Read more

বিয়ে বাড়িতে যাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে একজন…

চলারপথে রিপোর্ট : নাসিরনগরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে Read more

আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের দেড় বছরেও সিটিজেন…

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলা ইউএনও অফিসের সামনে Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের নেতা গ্রেফতার

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগরে বিশেষ অভিযানে যুবলীগের নেতা Read more

বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায়…

দুলাল মিয়া : সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত Read more

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে ভাতা নিয়ে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ

জাতীয়, সারাদেশ, 14 December 2025, 162 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা ইউনিয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রতারণা ও অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শ্যামল চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে। ভাতা আবেদন থেকে শুরু করে বিকাশ ও এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় সাধারণ ভাতাভোগীদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কলমা, চন্ডিপুর, সাপান্ত ও হালালপুর গ্রামের একাধিক ভাতাভোগী জানান, বয়স্ক, বিধবা ও গর্ভবতী ভাতার আবেদন করতে গেলে তাদের কাছ থেকে প্রতি আবেদন বাবদ ১ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার কথা রয়েছে।

ভাতাভোগীদের আরো অভিযোগ করে বলেন, ভাতার টাকা উত্তোলনের সুবিধা দেওয়ার কথা বলে উদ্যোক্তার নিজ দোকান থেকে ৫০০ টাকায় সিম কিনতে বাধ্য করা হয়। অন্য দোকানের সিম গ্রহণ না করার হুমকিও দেওয়া হয়। বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ভাতাভোগীর সিম কার্ড উদ্যোক্তার কাছে রেখে দেওয়া হয় এবং পিন নম্বরও তিনিই সেট করেন। ফলে ভাতার টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার পর প্রথমে উদ্যোক্তাই টাকা উত্তোলন করেন। পরে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সিম কার্ড ভাতাভোগীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং সেবাতেও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাতাভোগীরা জানান, এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকার কম ব্যালেন্স থাকলে টাকা উত্তোলন করা যাবে না—এমন শর্ত আরোপ করা হয়। তবে অতিরিক্ত অর্থ দিলে সেই নিয়ম ভেঙে টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে।

ভুক্তভোগী বিকাশ দাস, রামেশ্বর দাস, উজ্জ্বল দাস ও নেতা রানী দাস বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ভাতা পেলে সংসার চলে। কিন্তু আবেদন, সিম কেনা, টাকা তোলা—সব জায়গায় টাকা দিতে হয়। না দিলে কোনো কাজই হয় না।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে উদ্যোক্তা শ্যামল চন্দ্র দাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেন এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে রাজনৈতিক কার্যালয় বলে দাবি করেন। একইসাথে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মোহনতলা বাজার কমিটির সভাপতি কৃষ্ণনন্দ দাস বলেন, এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের এবং সত্য। তিনি দ্রুত উদ্যোক্তা পরিবর্তন ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

কলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ এরশাদ উদ্দিন জানান, এ ধরনের অভিযোগ নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে। আগে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও বদলির কারণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণ দাস বলেন, আমার কাছেও একাধিক ভাতাভোগী মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।

এ ব্যাপারে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধ করে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নইলে সরকারি ভাতার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ইসকন ‘নিষিদ্ধ ও ইমাম গুমে’ রাষ্ট্রীয় নীরবতার নিন্দা, দায়ীদের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ

জাতীয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সারাদেশ, 25 October 2025, 423 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় “ঐক্যবদ্ধ মুসলিম জনতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া” ব্যানারে ইসকন নিষিদ্ধ ঘোষণা, টঙ্গীতে ইমাম গুমের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার, গাজীপুর ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার এবং রাষ্ট্রীয় নীরবতার নিন্দা জানিয়ে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

আজ ২৫ অক্টোবর শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে “ঐক্যবদ্ধ মুসলিম জনতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া” মুসলিম মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ, মুফতি মহিবুল্লাহ মিয়াজিকে নির্যাতন ও গুম করার উদ্দেশ্যে, অপহরণকারী আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ হয়।

বক্তারা ইসকন নিষিদ্ধ ঘোষণা, টঙ্গীতে ইমাম গুমের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার, গাজীপুর ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার এবং রাষ্ট্রীয় নীরবতার নিন্দা জানান। ইসকনের বিরুদ্ধে কথা বলায় এক খতিবকে অপহরণ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় রাষ্ট্র চুপ করে আছে। প্রশাসন অপরাধীদের রক্ষা করছে। সুশীল সমাজ বা রাজনীতিবিদদের কেউই দায়িত্ব নিচ্ছে না।

ইসকন কোনো ধর্মীয় সংগঠন নয়, এটি ইহুদি প্রভাবিত উগ্রবাদী গোষ্ঠী, যারা একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে।

বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস আজ

জাতীয়, 17 April 2025, 434 Views,

অনলাইন ডেস্ক :
বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস ১৭ এপ্রিল। হিমোফিলিয়া রক্তক্ষরণজনিত জন্মগত রোগ, যা বংশানুক্রমে ছেলেদের হয়ে থাকে। শরীরের কোনো জায়গায় আঘাত পেলে বা সামান্য কেটে গেলে স্বাভাবিকভাবে ওই স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু হিমোফিলিয়া রোগীর ক্ষেত্রে সহজে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না অথবা বিলম্বিত হয়।

১৯৮৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হলো রক্ত সংক্রান্ত রোগ হিমোফিলিয়া সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা। এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ হিমোফিলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ফ্রাঙ্ক শ্নাবেলকে স্মরণ করার জন্য তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই দিনটি পালিত হয়। তাই হিমোফিলিয়া কী ও কেন এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

হিমোফিলিয়া কী?
দুটি গ্রিক শব্দ হাইমা এবং ফিলিয়া থেকে হিমোফিলিয়া শব্দটি এসেছে। হাইমা অর্থ রক্ত ও ফিলিয়া অর্থ আকর্ষণ। দেহের কোনো অংশে রক্তপাত শুরু হলে সাধারণত সেখানে রক্ত জমাট বাঁধতে থাকে। মেডিকেলের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে ক্লটিং বলে।

ক্লটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্ত জমাট বেঁধে ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের দেহে কোথাও কোনো ক্ষত তৈরি হলে সেই ক্ষতস্থান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে যাওয়াকেই ক্লটিং বলে। যে পদার্থ রক্তক্ষরণে বাঁধা দেয় তাকে ক্লট বলে। কিন্তু কোনো কারণে ক্ষতস্থানে এই ক্লট তৈরি না হলে সেখান থেকে একাধারে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একজন হিমোফিলিয়া আক্রান্ত রোগীর দেহে এই ক্লট সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক নয়।

ব্যাপারটি আসলে এমন নয় যে, রোগীর দেহ থেকে অঝোরে এবং খুব দ্রুত রক্তক্ষরণ হতে থাকবে। মূলত একজন হিমোফিলিয়াক (যারা হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত) ব্যক্তির দেহ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

অনেকে হয়তো এখন মনে করছেন যে, এই রোগ হলে হাত, পা, হাঁটু ইত্যাদির কোথাও কেটে গেলেই তা থেকে অনবরত রক্ত ঝরতে থাকবে। ব্যাপারটি তা নয়। দেহের বাইরের কোনো ছোটখাটো আঘাত এখানে খুব একটা চিন্তার বিষয় নয়। আসল চিন্তার বিষয় হলো ইন্টারনাল ব্লিডিং বা দেহের অভ্যন্তরীণ কোনো অংশে রক্তক্ষরণ। এই ধরণের রক্তক্ষরণকে হ্যামোরেজ বলে। এটি মূলত দেখা যায় দেহের ভেতরে কোনো সন্ধি যেমন হাঁটু ও গোড়ালিতে। এছাড়া দেহের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন টিস্যু ও পেশীর মিলনস্থলেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। দেহের ভেতরে এমন রক্তক্ষরণ অনেক যন্ত্রণাদায়ক হয় এবং আক্রান্ত অংশ বেশ ফুলতে শুরু করে।

হিমোফিলিয়া কেন হয়
মানবদেহে একটি X ও অন্যটি Y ক্রোমোজম থাকলে সে হয় ছেলে (46,XY) আর যদি দুটিই X ক্রোমোজম থাকে তাহলে সে হয় মেয়ে (46,XX)। X ক্রোমোজমে F8 ও F9 নামক জিন থাকে, যা F-VIII ও F-IX নামক ক্লোটিং প্রোটিন তৈরি করে। এই ক্লোটিং প্রোটিন রক্তের সাদা অংশে পরিমাণমতো থাকে। ফলে আপনাআপনি রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। যাদের রক্তে এই ক্লোটিং প্রোটিন কম থাকে, তাদের রক্ত পড়া বন্ধ হয় না অথবা বিলম্বিত হয়। তারাই হিমোফিলিয়ার রোগী।

ছেলেদের দেহে যেহেতু একটামাত্র X ক্রোমোজম থাকে এবং এই একমাত্র X ক্রোমোজম যদি অসুস্থ/defect থাকে, তাহলে F-VIII/F-IX তৈরি হয় না। ফলে ছেলেরাই হিমোফিলিয়ার রোগী হয়। আর মেয়েদের দেহে যেহেতু দুটি X ক্রোমোজম থাকে, তাই একটি X অসুস্থ/defect হলেও অন্য X সুস্থ থাকায় পর্যাপ্ত F-VIII/F-IX তৈরি হয়। তাই সাধারণত মেয়েরা হিমোফিলিয়ার রোগী হয় না, রোগের বাহক হয়।

তবে ১. Lyonisation/inactivation of healthy X chromosome হলে, ২. বাবা রোগী ও মা বাহক হলে অথবা ৩. Turner syndrome (45,XO) হলে মেয়েরাও রোগী হতে পারে। তাই হিমোফিলিয়ার রোগীর সঙ্গে মামাতো, খালাতো প্রভৃতি বোনের বিয়ে হলে ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই রোগী হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি তিনজন হিমোফিলিয়ার রোগীর মধ্যে অন্তত একজন বংশানুক্রমে সঞ্চারিত না হয়ে নতুনভাবে আক্রান্ত হয়।

হিমোফিলিয়া কত প্রকার?
হিমোফিলিয়া এ এবং বি দুই ধরনের। হিমোফিলিয়া-এ-তে, ফ্যাকফোর-৮ মাত্রা কম বা অনুপস্থিত। হিমোফিলিয়া-বি ফ্যাকফোর-৯ এর ঘাটতি রয়েছে। বেশিরভাগ মানুষেরই হিমোফিলিয়া-এ আছে। এটি শরীরের ক্রোমোজোম সিস্টেমের অবনতির কারণেও হয়। আর চিকিৎসকদের ধারণা, বাংলাদেশে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। আর বিশ্বব্যাপী প্রায় চার লাখ মানুষ হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত।

হিমোফিলিয়ার লক্ষণ :
যদি কোনো সাধারণ আঘাত বা ক্ষত থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ বন্ধ না হয় তাহলে বুঝবেন এটি হিমোফিলিয়ার কারণে হয়েছে। এই রোগের ক্ষেত্রে রক্তে প্লেটলেট কাউন্ট, প্রোথ্রোমবিন, প্লেটলেটের অসুস্থতা ইত্যাদি কমে যেতে পারে। এছাড়াও ক্ষতস্থানে বিলম্বিত রক্তপাত হয়। আর অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা কেটে গেলে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়াটাই হিমোফিলিয়ার মূল লক্ষণ। শিশু বয়সেই এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে রক্তক্ষরণ, শরীরের আঘাত লাগলে সেই জায়গাটি নীলচে হয়ে ফুলে যায় অর্থাৎ চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ; মাংসপেশিতে এবং অস্থিসন্ধিতে রক্তক্ষরণ; হাঁটু, কনুই ও অন্যান্য অস্থি সন্ধি ফুলে যাওয়া; শরীরের কোথাও কেটে গেলে দীর্ঘক্ষণ রক্ত ঝরা; দাঁত তোলার পর বা সুন্নতে খাতনা করার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়া, শিশু হামাগুড়ি দেওয়ার সময় হাঁটুতে কালচে দাগ হওয়া, নবজাতকের নাভি কাটার সময় দীর্ঘক্ষণ রক্তক্ষরণ হওয়া ইত্যাদি।

হিমোফিলিয়ার বংশগতি :
বাবা সুস্থ ও মা বাহক হয় তবে ছেলে সন্তানের রোগী হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% আর মেয়ে সন্তানের বাহক হওয়ার সম্ভাবনা ৫০%। বাবা রোগী এবং মা সুস্থ হয় তবে সব ছেলে সন্তানই সুস্থ হবে এবং সব মেয়ে সন্তানই বাহক হবে। বাবা রোগী এবং মা বাহক হয় তবে ছেলে সন্তানের রোগী হওয়ার সম্ভাবনা ৫০%। আর মেয়ে সন্তানের রোগী হওয়ার সম্ভাবনা ২৫% ও বাহক হওয়ার সম্ভাবনা ২৫%। সুতরাং প্রত্যেক হিমোফিলিয়া পুরুষ রোগী বিয়ে করতে পারবে, তবে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সাধারণত শুধু পুরুষরাই এই রোগে আক্রান্ত হয় এবং নারীরা এই রোগের বাহক। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে নারীরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বাবা রোগী ও মা বাহক হলে মেয়েরাও রোগী হতে পারে। হিমোফিলিয়া রোগীর সঙ্গে আত্মীয় যেমন খালাতো, মামাতো বা ফুপাতো বোনের বিয়ে হলে দুজনেই রোগী হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ-গুরুতর হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত কিছু লোকের মাথায় সামান্য আঘাতের পরে মস্তিষ্কে রক্তপাত হতে পারে। যদিও এটি প্রায়শই ঘটে না, এটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলির মধ্যে একটি যা উঠতে পারে।

কিছু সতর্কতা চিহ্ন এবং উপসর্গ হলো :
* একটি গুরুতর

* চলমান মাথা ব্যাথা

* বারবার বমি হওয়া

* অলসতা বা তন্দ্রা

* দ্বৈত উপলব্ধি

* হঠাৎ আনাড়ি বা দুর্বলতা

* হৃদরোগের আক্রমণ বা কম্পন

পরীক্ষা ও প্রতিরোধ

রক্তের ফ্যাক্টর দুটির পরীক্ষা। রক্তের জমাট বাঁধার ক্ষমতা পরীক্ষা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের genetic testing, genetic counseling I prenatal test (amniocentesis) করে অনাগত সন্তান রোগী না বাহক তা নিশ্চিত হয়ে হিমোফিলিয়ার আক্রান্তের সংখ্যা কমানো যায়। দেশেই এসব পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হিমোফিলিয়া রোগীকে পুরোপুরি সুস্থ করানোর কোনো চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে সম্ভব। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে যেমন নিয়মমাফিক, সঠিক ব্যায়াম করে মোটামুটিভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা গেলেও চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তাই সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করাই উত্তম।

নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে গোপালগঞ্জ সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়, রাজনীতি, 8 December 2023, 1445 Views,

অনলাইন ডেস্ক :
নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে গোপালগঞ্জ জেলায় দুই দিনের ব্যক্তিগত সফর করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা‌ আজ সকালে সরকারি প্রোটোকল না‌ নিয়ে পতাকাবিহীন ব্যক্তিগত গাড়িতে টুঙ্গিপাড়া থেকে কোটালিপাড়া যান। বঙ্গবন্ধুকন্যা গতকাল ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জও এসেছেন সরকারি প্রোটোকল ছাড়া।’

ব্যক্তিগত সফরে গত ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে সড়কপথে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আসেন প্রধানমন্ত্রী।

টুঙ্গিপাড়া ও কোটালিপাড়ায় ব্যক্তিগত সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে সড়কপথে ঢাকায় ফেরেন তিনি।

সফরকালে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি এ দুদিন টুঙ্গিপাড়ার বাড়িতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট নিহত স্বজনদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতিহা পাঠ ও দোয়া করেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যন্ত জাতীয় গৃহায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ : গণপূর্ত মন্ত্রী

জাতীয়, 5 February 2024, 984 Views,

অনলাইন ডেস্ক :
দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষ করে উপজেলা পর্যন্ত জাতীয় গৃহায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পি।

আজ ৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘যত্রতত্র ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট নির্মাণের ফলে একদিকে কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এজন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলার পাশাপাশি প্রান্তিক জনপদের আবাসন পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব হওয়া প্রয়োজন।

মফস্বলে পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত করা প্রয়োজন এবং এজন্য শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
কর্মক্ষেত্র অকারণে কালক্ষেপন না করে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বিদ্যমান আইন মেনে যে কোনো সিদ্ধান্ত দ্রুততার সঙ্গে নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জাগৃক সদস্য (ইঞ্জিনিয়ার) মোসলেহ উদ্দিন গ্রিন বিল্ডিং টেকনোলজি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে প্রাকৃতিক পাথরের মূল্য দেশীয় বাজারে অনেক বেশি।

অন্যদিকে সিমেন্ট শিল্পের স্বার্থে যেসব পাথর আমদানি করা হয় সেসব পাথরের আমদানি শুল্ক কম হওয়ায় বাজারে এর মূল্য অনেক কম। ফলে বেসরকারি নির্মাণ শিল্পে এসব নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের ফলে কম স্থায়িত্বের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ দিন দিন বাড়ছে। এজন্য গণপূর্তের রেট সিডিউলে রেডিমিক্স কংক্রিট ও পরিবেশবান্ধব ব্লকের অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন। তাছাড়া বর্তমানে দেশীয় অনেক ইলেকট্রনিক সামগ্রী প্রস্তুতকারী সংস্থা লিফটসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্র মেকানিক্যাল সামগ্রী প্রস্তুত করে থাকে।

কিন্তু গণপূর্তের রেট সিডিউলে অন্তর্ভুক্ত না থাকার কারণে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে এসব পণ্য ক্রয়ের সুযোগ নেই। রেট সিডিউলে এসব দেশীয় পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রত্যুত্তরে মন্ত্রী এসব প্রস্তাবনা লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য বলেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অর্গানোগ্রাম হালনাগাদ করার দাবি উত্থাপন করলে মন্ত্রী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এমডিসির সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজি ওয়াছি উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।