নবীনগরে ডোবা ভরাটের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে লাখ টাকা জরিমানা

নবীনগর, 17 February 2024,

চলারপথে রিপোর্ট :
নবীনগরে অবৈধভাবে ডোবা ভরাটের দায়ে একজনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এই জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা জাহান। তিনি জানান, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় একটি চক্র অবৈধভাবে ফসলি জমি খননযন্ত্র দিয়ে কেটে বালু উত্তোলন করছেন ও খাল-ডোবা ভরাট করছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ সময় বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সরকারি খালের অংশ ও মালিকানাধীন ডোবা অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভরাট করার সময় শফিক মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শফিক মিয়াকে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ড্রেজার মেশিনের পাইপসমূহ জনস্মুখে বিনষ্ট করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পৃথক আরেক অভিযানে উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়নের গোসাইপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে ড্রেজার দিয়ে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়ায় জনসম্মূখে পাইপসমূহ বিনষ্ট করা হয়। ভবিষ্যতে আর যদি কেউ ভরাট কাজ করে তবে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে মামলা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযান পরিচালনার সময় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এস এম রাসেল মাহমুদ ও নবীনগর থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

লেবানন–সিরিয়া সীমান্তে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪

অনলাইন ডেস্ক : লেবাননের সিরিয়া সীমান্তের কাছে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি Read more

নদীর প্লাবনভূমি ও কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগে…

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীর প্লাবনভূমি ও কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু Read more

অপহৃত ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী উদ্ধার, শ্রীপুরে…

জায়েদুল কবির ভাঙ্গি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণীর এক Read more
ফাইল ছবি

মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ

অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সংসদ Read more

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন পরিচয়ে চাঁদা দাবির…

দুলাল মিয়া : বিজয়নগরে র‌্যাব সদস্য পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র দোয়া…

দুলাল মিয়া : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপার্সন ও সাবেক Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যারা এমপি নির্বাচিত হলেন

দুলাল মিয়া : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬টি Read more

হেরে গেলেন যেসব হেভিওয়েট প্রার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাবশালী ও আলোচিত Read more

গাজীপুর জেলার ৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী…

জায়েদুল কবির ভাঙ্গি, গাজীপুর: গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনে চারটিতে Read more

ভোটের দিন ধানের শীষের পক্ষে ভোটার…

দুলাল মিয়া : ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের ধানের শীষ Read more

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে পোলিং কর্মকর্তার মৃত্যু

দুলাল মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনরত Read more

নবীনগরে সীমান্ত অপরাধ দমন সভা অনুষ্ঠিত

নবীনগর, 2 May 2023, 2032 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের মেঘনার তীরবর্তী গ্রাম চরলাপাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জেলা পুলিশ নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যৌথ আয়োজনে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকা গুলোতে অপরাধ দমনে এক মতবিনিময় সভা গত ১ মে বিকালে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন (অপরাধ) অনির্বাণ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম, রায়পুরা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ, রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আজিজ, নবীনগর (প.) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলি আজ্জম নুরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুদ্দিন আনোয়ার। আরো উপস্থিত ছিলেন মাদকমুক্ত নবীনগর চাই সংগঠনের সভাপতি মো. আবু কাওসার, বিট অফিসার এস আই মো. মহিউদ্দিন, ওয়ার্ড মেম্বার সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উক্ত মতবিনিময় সভায় অপরাধীকে সীমান্তবর্তী এলাকার আত্মীয়-স্বজন হলেও আশ্রয় না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয় এবং অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীর নিকট অনুরোধ করা হয়। যদি পুলিশ ও জনগণ সম্মিলিত ভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাজ করে তাহলে অবশ্যই অপরাধ দমন করা সম্ভব হবে বলে মতবিনিময় সবাই মত প্রকাশ করা হয়।

নবীনগরে চার মরদেহ: পুলিশের ধারণা হত্যার পর আত্মহত্যা: পরিবার পরিজন বলছে ভিন্ন কথা

নবীনগর, 29 July 2024, 940 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। গতকাল ২৮ জুলাই রোববার সকালে পৌর এলাকার বিজয়পাড়ার বসতঘর থেকে তাদের মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন, সোহাগ মিয়া (৩৩), তার স্ত্রী জান্নাত বেগম (২৫), কন্যা ফাহিমা আক্তার (৪) ও সাদিয়া আক্তার(২)। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শোকের ছায়া নেমেছে পুরো নবীনগরে। সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্র এই একটি পরিবার কীভাবে শেষ হয়ে গেলো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) সিরাজুল ইসলাম ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের ধারণা স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন সোহাগ। তবে পরিবার ও প্রতিবেশীরা সেটি মানতে নারাজ।

পারিবারিক সূত্র জানায়, নবীনগর পৌর এলাকার বিজয়পাড়ার আমির মিয়ার ছেলে ও নবীনগর নিউ মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়া স্ত্রী ও দুই কন্যা নিয়ে বিজয় পাড়ার নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় ব্যবসায়িক কাজ শেষে স্ত্রী জান্নাতকে নিয়ে নবীনগরের বাইরে রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে বাসায় ফেরেন। রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসতঘরে ঘুমিয়ে পড়েন সোহাগ মিয়া। রোববার সকালে তারা ঘুম থেকে না ওঠায় পরিবারের সদস্যরা তাদের ঘরের দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে তাদের সবার মরদেহ দেখতে পান। এরমধ্যে সোহাগ ও এক কন্যার মরদেহ ঘরের তীরের কাঠে ঝুলছিল। স্ত্রী জান্নাত ও অপর কন্যার মরদেহ খাটে পড়ে ছিল।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক অবস্থায় পুলিশের ধারণা পারিবারিক কলহের জের ধরে বা আর্থিক লেনদেনের কারণে সোহাগ মিয়া তার স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যা শেষে আত্মহত্যা করেছেন।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা জানিয়েছেন সোহাগ অত্যন্ত বিশ্বস্ত একটি ছেলে ছিলেন। তিনি একটি মসজিদের কোষাধ্যক্ষও ছিলেন। তার কাছে টাকা-পয়সা জমা থাকতো। এছাড়াও একটি সমিতির মতো করে আর্থিক লেনদেনের দায়িত্ব ছিল তার কাছে। আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকের সঙ্গেই লেনদেন ছিল তার। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে তিনি লেনদেন নিয়ে ইদানিং চাপে ছিলেন। কিন্তু এই কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। পারিবারিক অশান্তির কারণেও আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত শেষে বলা যাবে এটি আত্মহত্যা না কি হত্যা।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিবি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচিন চাকমা জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পিবিআইয়ের একটি টিম। যেহেতু মরদেহ যে ঘরে ছিল তা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, তাই কেউ হত্যা করে ভিন্ন উপায়ে দরজা-জানালা লাগিয়ে পালিয়ে গিয়েছে কিনা এসব খতিয়ে দেখছেন তারা। কিন্তু তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা যায় সোহাগ তার স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সোহাগের বড় কোনো লেনদেন ছিল না, যার কারণে সে আত্মহত্যা করবে। সোহাগের স্ত্রী জান্নাতের বড় বোন তাসলিমা বেগম বলেন, আমাদের বাড়ি পাশাপাশি। সোহাগ অত্যন্ত ভালো ছেলে ছিল। আমার বোনের সঙ্গে কোনোদিন দেখিনি ঝগড়া বা বকাবকি করতে। তার ব্যবসায়িক কারণে লেনদেন করায় অল্প ঋণ ছিল। তা একেবারে কম। এছাড়া তার সৎ মা এক লাখ টাকা পেতেন। কিন্তু এই কারণে আত্মহত্যা করবে বলে বিশ্বাস করা যায় না। সোহাগের বোন ইয়াছমিন আক্তার বলেন, আমার ভাই ব্যবসা করলে ঋণতো থাকতেই পারে। তার ঋণ ছিল ৪-৫ লাখ টাকা। কিন্তু এই টাকার জন্য এ ধরনের কাজ করতে পারে না।

নবীনগরে ৩ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি উদ্ধার

নবীনগর, 16 March 2024, 1222 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে সরকারি জলাশয় ভরাট করে নির্মিত মার্কেট উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

১৫ মার্চ শুক্রবার দুপুরে নবীনগর পৌর এলাকার নারায়ণপুর এলাকায় নবীনগর ইউএনও তানভীর ফরহাদ শামীমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ঐ সরকারি জায়গা উদ্ধার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নবীনগর ইউএনও তানভীর ফরহাদ শামীম জানান, নবীনগর পৌর এলাকার নারায়ণপুর এলাকায় ১ বিঘা (৩৩ শতক) সরকারি জলাশয় ভরাট করে অবৈধ ভাবে দখল করে দোকান নির্মাণ করে আসছিল একটি প্রভাবশালী মহল। শুক্রবার দুপুরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে নির্মিত ২টি মার্কেট ও ১টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধারকৃত সরকারি জায়গার বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

তিনি আরো জানান, পাশাপাশি আশপাশের সরকারি জায়গায় আর কেউ যেন কোনো দোকান নির্মাণ না করে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করা হয়। সরকারি জমি উদ্ধারে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ সময় নবীনগর থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলো।

নবীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফেরদৌসের মতবিনিময় সভা

নবীনগর, 29 February 2024, 1244 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়াস্থ নবীনগর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আসন্ন নবীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসের পক্ষে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের সুর সম্রাট দ্য আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

নবীনগর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. মিনহাজের সভাপতিত্বে ও জেলা ছাত্রলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুমির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জর্জ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন, কাইতলা (উত্তর) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক দুলাল, আওয়ামী লীগ নেতা খসরু মিয়া, বিশিষ্ট সমাজ সেবক আব্দুর রৌফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আনন্দময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জামাল, নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কবির আহমেদ, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের মুন্সি, প্রফেসার মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. আলাউদ্দিন খান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু কাউছার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিটি কলেজের প্রিন্সিপাল মোস্তফা জামাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বড়াইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ কাউছার, নাটঘর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক নোয়াব মোল্লা, বিদ্যাকুট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দীন, বিদ্যাকুট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন, অত্র সংগঠনের সাবেক সভাপতি মনির মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম মুন্সি।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে ফেরদৌসকে নির্বাচিত করতে হবে। তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে একজন সাহসী মুজিব সেনা হিসেবে পরিচিত। অনেকই নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিন্তু যোগ্য, সৎ ও ত্যাগী এবং মেহনতি মানুষের কল্যাণে কাজ করে এমন একজনকে নির্বাচন করতে হবে। তাই আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসকে নির্বাচন করার আহ্বান জানান।

নবীনগরের নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ দু’জনের নামে মামলা

নবীনগর, 26 May 2023, 1889 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান মোসাম্মাৎ শিউলি আক্তার ও তার স্বামী কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের স্টোর কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। ২৫ মে বৃহস্পতিবার কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাফি মো. নাজমুস্ সাদাৎ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মো. হাবিবুর রহমান উপজেলার চরলাপাংয়ের চিত্রী গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক জানান, মো. হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী শিউলি আক্তার একে অপরের সহযোগিতায় এক কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৬৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, হাবিবুর রহমান ১৯৮৮ সালে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে স্টোরকিপার পদে ও ২০১৫ সালে স্টোর অফিসার পদে পদোন্নতি লাভ করে বর্তমানে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। হাবিবুর রহমানের নামে ৫৫ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৬ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করার তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া তার আয়কর নথিতে প্রদর্শিত পারিবারিক ব্যয় ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫০৮ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৭৪ টাকা। উক্ত সম্পদ অর্জনের বিপরীতে ২০১৭-১৮ কর বর্ষে আয়কর নথি খোলার সময় পূর্বের বছরগুলোতে চাকরির বেতন-ভাতা হতে সঞ্চয় এবং আয়কর নথি খোলার পরের বেতন-ভাতাসহ আয় পাওয়া যায় ৭৮ লাখ ৮৮ হাজার ৫০৮ টাকা। অনুসন্ধানকালে তার নামে অর্জিত সম্পদের চেয়ে আয়ের উৎস ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৬৬ টাকা কম পাওয়া যায়।

অপরদিকে তার স্ত্রী নারী ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি আক্তারের আয়-ব্যয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৯ সাল থেকে নবীনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ২০১৪-১৫ কর বর্ষ হতে ২০২১-২২ কর বর্ষ পর্যন্ত খাত ভিত্তিক আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী দাখিল করে আসছেন। তিনি তার দুই ছেলের নিকট থেকে হেবা ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত স্থাবর সম্পদ ব্যতীত তার নামে এক কোটি ১৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৪৯ লাখ ৩২হাজার ৫১৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি নিজের নামে এক কোটি ৬৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫১৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া যায় ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩৩ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ তার সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৭ টাকা। এ সম্পদ অর্জনের বিপরীতে ২০১৪-১৫ কর বর্ষে আয়কর নথি খোলার পূর্বের বছরগুলোতে বিভিন্ন আয় এবং আয়কর নথি খোলার পরের ব্যবসা, বাড়িভাড়া ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাপ্ত ভাতাসহ তার এক কোটি ১২ লাখ ১১ হাজার ৩৪৯ টাকার আয়ের উৎস পাওয়া যায়। তার নামে অর্জিত সম্পদের চেয়ে ৭৯ লাখ ২৫ হাজার ৯৮ টাকার আয়ের উৎস কম পাওয়া যায়। অনুসন্ধানকালে মো. হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রীর এক কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৬৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।