কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণর হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই কৃতি সন্তান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 2 March 2024, 89 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
সম্প্রতি দুজন ডেপুটি গভর্ণর নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডেপুটি গভর্ণর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ড. মো. হাবিবুর রহমান ও মো. খুরশীদ আলম- দুজনেরই বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তাদের ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরইমধ্যে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেছেন তারা।

২৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের যোগদানের ব্যাপারটি নিশ্চিত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কৃতি সন্তান খুরশীদ আলম বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক-১ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের স্নাতকোত্তর এবং পরে এমবিএ করেন। ১৯৮৮ সালে সহকারী পরিচালক পদে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেন তিনি। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, কৃষিঋণ বিভাগ, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন, এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট, সচিব বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন খুরশীদ আলম। ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলে-মেয়ের বাবা তিনি।

এছাড়া ডেপুটি গভর্ণর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ড. মো. হাবিবুর রহমানও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান। জেলার বিজয়নগর উপজেলায় অবস্থিত খিরাতলায় তার গ্রামের বাড়ি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ড. হাবিবুর রহমান।

হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগ, মনিটারি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইউনিটে (বর্তমানে মনিটারি পলিসি বিভাগ) কাজ করেছেন। পরে তিনি বিশ্বব্যাংকের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রজেক্টের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি অ্যানালাইসিস ইউনিটে সিনিয়র রিসার্চ ইকোনমিস্ট হিসেবে নিয়োজিত হন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে উপমহাব্যবস্থাপক এবং সবশেষ গভর্ণর সচিবালয়ের পলিসি সাপোর্ট উইংয়ে মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন।

ড. হাবিবুর রহমানের সহধর্মিণী ড. সায়েরা ইউনুস বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হাবিবুর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে এক মেয়ে এবং দুই ছেলের জনক।

Leave a Reply

তাপপ্রবাহ : দেশের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখার…

অনলাইন ডেস্ক : তাপপ্রবাহের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সারা দেশের হাসপাতালগুলো Read more

হাইকোর্টে আবারও জামিন আবেদন মিন্নির

অনলাইন ডেস্ক : হাইকোর্টে আবারও জামিন আবেদন করেছেন বরগুনার আলোচিত Read more

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে Read more

কসবা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন…

চলারপথে রিপোর্ট : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিদের Read more

আখাউড়ায় মনোনয়ন দাখিল করলেন ১৪ জন

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৪ Read more

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্যাটারি কমপ্লেক্স উদ্বোধন…

অনলাইন ডেস্ক : চট্টগ্রামের হালিশহর সেনানিবাসে আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলে Read more

নবীনগরে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা : গ্রেপ্তার…

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে বাদশা মিয়া (১৭) নামক Read more
ফাইল ছবি

সময় বাড়ল এইচএসসির ফরম পূরণের

অনলাইন ডেস্ক : এইচএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় বাড়ানো Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার সমাপ্তি

চলারপথে রিপোর্ট : বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সাড়ে Read more

সরাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

চলারপথে রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন Read more

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ২৭ বস্তা…

অনলাইন ডেস্ক : ১৩০ দিন পর আজ খোলা হয়ে‌ছে কিশোরগঞ্জের Read more

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ইটভাটাকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 16 April 2024, 4 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল এলাকায় জেলা প্রশাসন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহযোগিতায় আজ ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

এ সময় মেসার্স এলআরবি ব্রিকস নামক ইট ভাটাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর এলাকায় মেসার্স শিহাব ব্রিকস নামক আরেকটি ইট ভাটাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় ৪টি ইট ভাটাকে প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) আইন মেনে ভাটা পরিচালনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় দায়িত্বরত ছিলেন জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ।

উক্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিসল চক্রবর্ত্তী এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী, আসনার বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিসল চক্রবর্ত্তী জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় এই ধরণের কার্যক্রম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয় কর্তৃক অব্যাহত থাকবে।

চাহিদার চেয়ে ১৯ হাজার কম কোরবানির পশু, বাড়বে দাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 24 June 2023, 319 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
‘এবার প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়েছে। সেই হিসাবে এক মণ মাংসে আট হাজার টাকা অর্থাৎ পাঁচ মণের একটা গরু কিনলে ক্রেতাকে অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা গুনতে হবে। মূলত গরুর খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাংসের দাম বেড়েছে।’ এভাবেই বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খামারিরা।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার প্রায় ১৯ হাজার কোরবানির পশুর ঘাটতিও রয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পশু এ ঘাটতি পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে গরু না এলে খামারিসহ সাধারণ বিক্রেতারাও লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবছর বাড়ছে কোরবানির পশুর চাহিদা।

তবে, নানা সংকটের কারণে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় প্রতিবছরই সংকট তৈরি হচ্ছে পশুর। এবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এতে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় এবার কোরবানির জন্য গরু, মহিষ, ছাগলসহ এক লাখ ৪০ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে।

এর বিপরীতে খামারগুলোতে কোরবানিযোগ্য পশু আছে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার। ফলে ঘাটতি রয়েছে ১৯ হাজার পশুর। যার প্রভাব পড়বে হাটে। এবার অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় ১৪ হাজার ছোট-বড় খামারি পশু লালন-পালন করেছেন।

এবার জেলায় অন্তত ১০০টি পশুর হাট বসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খামারিরা বলছেন, সংকটের চেয়েও পশুর দাম বাড়ার প্রধান কারণ হলো পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি। এ অবস্থায় ভারত থেকে গরু আমদানি হলে তাদের বেশ লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সাইফুদ্দিন খান শুভ্র জানান, এটা একটা শিল্প। এ শিল্পের বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। পশুখাদ্যের দাম কমিয়ে উৎপাদন বাড়ালে বিদেশ থেকে গরু কিংবা মাংস আমদানি করতে হবে না। এতে কোরবানির জন্য ভারতীয় পশুর ওপর নির্ভরতা আর থাকবে না। লাভবান হবেন ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরই পশুর চাহিদা বাড়ছে। সে অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ে না। যে কারণে ঘাটতি থেকেই যায়। তবে কোরবানির পশুর যে ঘাটতি আছে, তা পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে পশু এনে পূরণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদপত্র পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, 13 December 2022, 1209 Views,

স্টাফ রিপোর্টার:
গত সোমবার রাত ৮টায় দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গণের সম্পাদকের অফিস কক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদপত্র পরিষদের এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি মনজুরুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম শাহজাদা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক সরোদ’র সম্পাদক পীযুষ কান্তি আচার্য্য, নির্বাহী সদস্য দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিদিন’র সম্পাদক মোহাম্মদ আরজু, দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্পাদক দেওয়ান ফয়জুন নাহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দৈনিক একুশে আলো’র বার্তা সম্পাদক আশিকুর রহমান মিঠু, অর্থ সম্পাদক দৈনিক প্রজাবন্ধু’র প্রকাশক আবুল হাসনাত সাবেরিন মোঃ লিটন, নির্বাহী সদস্য দৈনিক আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্পাদক মোঃ আবু নাসের রতন।
সভায় সকলের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র তৈরি করার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও সংগঠনের সাধারণ সভা ও সকল সংবাদকর্মীদের সমন্বয়ে একটি সাংবাদিক সম্মিলন অনুষ্ঠিত করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সংবাদপত্র শিল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দৈনিক পত্রিকাগুলোর মূল্য বৃদ্ধির বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রডশিট ৪ (চার) পৃষ্ঠা পত্রিকার জন্য প্রতিটি ৫ (পাঁচ) টাকা ও ট্যাবলয়েড ৪ (চার) পৃষ্ঠা পত্রিকার প্রতিটি ৩ (তিন) টাকা মূল্যমান স্থির করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ হাজার ৬৬৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 26 January 2024, 158 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। মধু আহরণে ফুলে ফুলে নাচানাচি করছে মৌমাছি। তবে অনেক জমিতেই ফুল শেষ হয়ে বীজ দেখা দিয়েছে। বীজগুলো বেশ তরতাজা, যা ভালো ফলনের সম্ভাবনার জানান দিচ্ছে। চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় ১৩৭ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন সকাল-বিকেলে আশপাশে এলাকা থেকে সৌন্দর্য পিপাসুরা দল বেঁধে আসেন এই সরিষা ক্ষেতে ফুল দেখতে। অনেকেই সরিষা ক্ষেতে ঢুকে শখ করে ছবি তুলেন। কেউ সেলফিতে ব্যস্ত কেউবা পরিবারের ছবি তুলতে ব্যস্ত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২০ হাজার ৩৯২ হেক্টর জমি। কিন্তু চাষ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৬৮ হেক্টর জমিতে। তবে গত মৌসুম থেকে চলতি মৌসুমে ১৩৭ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষার চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ২৮৫ হেক্টর, নবীনগর উপজেলায় ৪০৫০ হেক্টর, সরাইল উপজেলায় ১০৯২ হেক্টর, নাসিরনগর উপজেলায় ৬০৫০ হেক্টর, আশুগঞ্জ উপজেলায় ১১২০ হেক্টর, বাঞ্চারামপুর উপজেলায় ১৮৫০ হেক্টর, বিজয়নগর উপজেলায় ৫১০ হেক্টর, কসবা উপজেলায় ২৩৫ হেক্টর এবং আখাউড়া উপজেলায় ৪৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে কৃষকরা তাদের জমিতে উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮, টরি-৭ জাতের সরিষার চাষ করেছে।

সরজমিনে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের সুতিয়ারা, সুহিলপুর ইউনিয়নের সুহিলপুর, মাছিহাতা ইউনিয়নের গাজারিয়া গ্রাম এবং নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিসীমা গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হলুদের সমারোহ। দিগন্ত জোড়া ফসলী মাঠ হলুদ ফুলে শোভিত। বাতাসে দোল খাচ্ছে সরিষার ফুল। প্রতিটি সরিষার জমিতে মৌমাছির গুঞ্জন। সরিষার হলুদ ফুলের হাসিতে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বারি-১৪, ১৭ ও ১৮ সহ অন্যান্য সরিষা বপনের পর ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। সরিষা উত্তোলন করে ফের একই জমিতে বোরো আবাদ করা যায়। সরিষা গাছের পাতা মাটিতে পড়ে জৈব সারে পরিণত হয়। এতে জমির উর্বরতা বাড়ে। সরিষা চাষে উৎপাদন ব্যয়ও কম। সরিষা চাষের পর একই জমিতে ধান চাষ করলে সারও কম দিতে হয়। তাই এখানকার কৃষকরা বর্তমানে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

সরিষা চাষী হক মিয়া, জাবেদ মিয়া ও আব্দুস সামাস জানান, আগে তারা স্থানীয় টরি সেভেন, টিএস সেভেন্টি টু, এসএস সেভেন্টি ফাইভ জাতের সরিষা চাষ করতেন। চলতি মৌসুমে তারা অধিক ফলনশীল বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। এই জাতের সরিষা ৮৫-৯০ দিনে ঘরে তোলা যায়। ফলন হয় বেশি। সরিষা তোলার পর ওই জমিতে আবার ইরি আবাদ করা যায়।

নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের সাদেকপুর গ্রামের সরিষা ক্ষেতে ছবি তোলতে আসা শতাব্দী চক্রবর্তী তমা জানান, রাস্তার পাশে সরিষা ক্ষেত দেখে খুব ভালো লাগলো। সেই ভালো লাগা থেকে গাড়ি থামিয়ে সরিষা ক্ষেতে ছবি তোলতে নেগে গেলাম।

সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের সুহিলপুর গ্রামের কৃষক রজব মিয়া জানান, তিনি গত ৫ বছর ধরে তার ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে আসছেন। চলতি বছর তিনি তার জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করছেন। তিনি জানান, সরিষার চাষ করতে তার বিঘা প্রতি ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জমিতে সরিষার গাছগুলো বেশ সুন্দর হয়েছে। তিনি বলেন, আশা করি এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মুন্সি তোফায়েল আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৩৯২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু চাষ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৬৮ হেক্টর জমিতে। তবে গত মৌসুম থেকে চলতি মৌসুমে ১৩৭ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষার চাষ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে দুটি ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় যদি না হতো তাহলে সরিষা লক্ষ্যমাত্রার থেকে আরও বেশি চাষাবাদ হতো। আমরা কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা করে আসছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চার থানার ওসি ও পাঁচ ইউএনও বদলি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 8 December 2023, 168 Views,

চলারপথে রিপোর্ট :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নিদের্শক্রমে তাদের সম্মতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পাঁচ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও চার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলি করা হয়েছে।

এর মধ্যে ইউএনওদেরকে অন্য জেলায় ও ওসিদের নিজ জেলার অভ্যন্তরে অন্য থানায় বদলি করা হয়। গত দুইদিনে এসব বদলি বিষয়ে পৃথক আদেশ হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদকে রাঙামাটির রাজস্থালী, সরাইলের সরওয়ার উদ্দীনকে নোয়াখালী জেলার কবিরহাট, আখাউড়ার অগ্যংজাই মারমাকে চট্টগ্রামের রাউজান, নাসিরনগরের ফখরুল ইসলামকে কক্সবাজারের চকরিয়ায়, বাঞ্ছারামপুরের একি মিত্রকে চাঁদপুরের মতলবে বদলি করা হয়।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ির ইউএনও রুবাইয়া আফরোজ বিজয়নগরে, নোয়াখালী চাটখিলের মোহাম্মদ ইমরানুল হক নাসিরনগরে, কুমিল্লার মেঘনার রাবেয়া আক্তারকে আখাউড়ায়, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মেজবাহ উল আলমকে সরাইলে ও বান্দরবানের থানচির মুহা. আবুল মনসুরকে বাঞ্ছারামপুরে পদায়ন করা হয়।

এদিকে, চারটি থানার ওসি রদবদল হয়েছে। এর মধ্যে আখাউড়া থানার ওসি মো. আসাদুল ইসলামকে বিজয়নগর থানায়, বিজয়নগর থানার রাজু আহমেদকে কসবা থানায়, কসবার থানার ওসি মো. মহিউদ্দিনকে বাঞ্ছারামপুর থানায়, বাঞ্ছারামপুর থানার নূরে আলমকে আখাউড়া থানায় বদলি করা হয়।